Tag: Ranchi Protest

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • Hemant Soren: চাকরির আন্দোলনে টালমাটাল ঝাড়খণ্ড! জোটের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি, হেমন্ত সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস?

    Hemant Soren: চাকরির আন্দোলনে টালমাটাল ঝাড়খণ্ড! জোটের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি, হেমন্ত সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরির আশায় দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হাজার হাজার যুবক-যুবতীর ক্ষোভ এখন রাজপথে। যত দিন গড়াচ্ছে রাঁচিতে ততই সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ক্রমশ ঝাঁঝ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের (Jharkhand Job Protest)। আর সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক অভিঘাত এবার পড়তে শুরু করেছে ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের অন্দরেও। একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রকে লাগাতার আক্রমণ করছে কংগ্রেস, অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে তাদেরই জোট সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে একই ধরনের অভিযোগ। ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেসও। আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সঙ্গে বৈঠকে ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল।

    মুখ্যমন্ত্রী সোরেনের সঙ্গে বৈঠক

    চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের (Jharkhand Job Protest) ঝাঁঝ বাড়ার সঙ্গেই বেড়েছে দলের অন্দরে ফাটলও। সূত্রের খবর, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সঙ্গে বৈঠকে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির ঝাড়খণ্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত কে রাজুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারের কংগ্রেসের মন্ত্রীরাও। কংগ্রেসের লক্ষ্য এখন আন্দোলনকারীদের ‘যৌক্তিক উদ্বেগ’ দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করা। তাঁরা চাইছে ছাত্র-যুব সমাজের কাছে এই বার্তা পৌঁছাক যে চাকরিপ্রার্থীদের দাবিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    কী নিয়ে আন্দোলন?

    রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ (Jharkhand Job Protest) চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলিতে একাধিক অনিয়ম হয়েছে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দিয়ে করানো হোক। তবে পরে তাঁরা সেই দাবি পরিবর্তন করে ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    কেন চাপে কংগ্রেস (Congress)?

    এই আন্দোলনের সময়টাই কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে গত কয়েক মাস ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী শিবির। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন, পুলিশের পদক্ষেপ এবং সেই ইস্যুতে সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ- সব মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডে নিজেদের জোট সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও যদি কংগ্রেস নীরব থাকে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে বিরূপ বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছে দলের নেতৃত্ব। সেই কারণেই জাতীয় নেতৃত্ব যুব কংগ্রেস ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদেরও আন্দোলনস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরেই নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সরব। আগামী দিনেও তিনি এই ইস্যুতে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কর্মসূচি করবেন। তাই ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি না দেখালে দলের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

    নীরবতা ভেঙে আশ্বাস হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren)

    আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। তিনি জানান, “আন্দোলনকারীদের সব দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।” সেই সিদ্ধান্তে আন্দোলনকারীরা আশ্বস্ত হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)।

    আগেও ছিল জোটে টানাপোড়েন

    তবে, জোটের অন্দরে ফাটলের বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক গত এক বছর ধরেই নানা কারণে চাপে রয়েছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনেও প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। জেএমএম চাইছিল জোটের দুই আসনেই তাদের প্রার্থী লড়ুক। কিন্তু কংগ্রেস আলাদা করে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ক্রস ভোটিংয়ের কারণে কংগ্রেসের প্রার্থী পরাজিত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই শরিকের সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব 

    ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির বিষয়টি বরাবরই সংবেদনশীল। সেরাজ্যে বেকারত্ব, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তাই বর্তমান আন্দোলনকে শুধুমাত্র একটি নিয়োগ পরীক্ষার বিতর্ক হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, এই আন্দোলন সরকারের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শাসক জোটের ঐক্যেরও বড় পরীক্ষা। এখন দেখার, আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়? কারণ, এই ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপ শুধু চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

LinkedIn
Share