Tag: Randhir Jaiswal

  • India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ৫ অগাস্টের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক (India)। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে করা কোনও মন্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। এতে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। ওই মঞ্চে যা বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে করা মন্তব্যগুলিকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।” ৫ আগস্ট হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার নয়, একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছিল।

    কী বললেন হাসিনা (India)

    বুধবারের ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা জানান, জেলবন্দি হওয়া কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর কথায়, দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। তার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা। শুধু অডিওর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁর বক্তব্য শুনতে পান। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে পাঠাতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। কিন্তু আমি আমার মানুষের সঙ্গে থাকতে দেশে ফিরব।”

    পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ

    তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা নয়। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ পুনরুদ্ধার করাই তাঁর লক্ষ্য (India)। হাসিনার কথায়, “আমার জন্য যে পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছেন, তখন আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পারি না।” বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও গোপন আলোচনা বা পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    ভারত মহান বন্ধু

    ভারতকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, “কঠিন সময়ে নয়াদিল্লি সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।” গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়নের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের যে আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি ওই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছিল।বাংলাদেশে জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষত নিরাময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, যারা অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড

    ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে তাঁর সরকারের দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য (Sheikh Hasina) রাখেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং ভারতের (India) পূর্ব সীমান্তে দেশটি আরও একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের অভিযোগ, ভারতের মাটি ব্যবহার করে হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়েছেন। ঢাকার দাবি, এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও, নয়াদিল্লির (India) কাছ থেকে এখনও কোনও জবাব না পাওয়ায় দুঃখপ্রকাশও করেছে বাংলাদেশ।

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর সঙ্গেই স্বদেশে (Bangladesh) ফিরবেন নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্তমানে ভারতে রয়েছেন হাসিনা। তিনি জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও, বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।সংবাদসংস্থাকে দেওয়া ঘণ্টাখানেকের টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে আশি ছুঁইছুঁই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরব। আমায় গ্রেফতার করা হতে পারে। হত্যা করা হলেও, আমি ফিরব।”

    ‘যদি মৃত্যুই আসে…'(Sheikh Hasina)

    তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” এটাই প্রথমবার, যখন হাসিনা প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা জানালেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামি লিগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। হাসিনার পাশাপাশি এঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে টানা কয়েক সপ্তাহের হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশ (Bangladesh) ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেনাপ্রধানের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে দেশ ছাড়েন বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল। এরপর থেকে হাসিনা রয়েছেন ভারতেই।

    মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হাসিনা

    গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগে দেশে না থাকা অবস্থায়ও হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। যদিও প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন পড়শি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বারবার হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরাতে ভারতের কাছে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।” তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তাই এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’’ ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আবেদন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

    তাঁর বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে হাসিনা বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থার ওপর (Bangladesh) বিশ্বাস রাখি। আদালতে মামলা শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবেন এই বিচার কতটা প্রহসনের।” তিনি বলেন,  ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন। তাই আমি বলেছি, এ বার আমি ঘরে ফিরছি। এক দিন আপনাদের সকলকেই ফিরতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের প্রহসনমূলক চরিত্র প্রকাশিত হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই।’’ মহম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামি লিগ। হাসিনা চান, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের জনগণ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন।

    কারাবাসের ভয় নেই

    তিনি জানান (Sheikh Hasina), কারাবাসের ভয় তাঁর নেই। অতীতেও একাধিকবার তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। অবশ্য তাঁর কারাবাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো হাসিনা। হাসিনা এও জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠন করতে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত নয়।

    আত্মসমালোচনা হাসিনার

    দীর্ঘ ২০ বছরের রাজপাট নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি (Sheikh Hasina)।” আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। হাসিনা ভারত ছেড়ে নিজের দেশে না ফেরায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরেই তিনি যে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরবেন, তা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বার নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরেই তিনি ফিরছেন বাংলাদেশে (Sheikh Hasina)।

     

  • Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনথিভুক্ত (Financial Times) বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের। প্রতিবেদনে (Bangladesh Pushback Policy) ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, পাল্টা মতামতে প্রশ্ন উঠেছে—নিজেদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রহণে বাংলাদেশ দেরি করলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কী? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

    প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক (Financial Times)

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে কিছু মানুষকে সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ পৌঁছে দিচ্ছেন। এক আধিকারিক বলেন, “ওরা (ভারত) অন্ধকার নামার অপেক্ষা করে, তারপর সীমান্তের গেট খুলে মানুষকে ঠেলে দেয়।” আর এক কর্তার দাবি, “সেখানে নারী এবং শিশুরাও থাকে। অনেক সময় তারা মাঝখানে আটকে পড়ে।” সংবাদপত্রটির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ বহু মানুষ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশ। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিকের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদে’র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার

    প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারকে বাংলাদেশে ফেলে আসছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। মুসলিমদের প্রতি এই বৈরিতা বন্ধ হওয়া উচিত।” প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও (Financial Times)। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং আরও প্রায় ১,৮০০ জনের বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া চলছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে (Bangladesh Pushback Policy)।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, অতীতে গৌহাটি হাইকোর্ট অনুপ্রবেশকে অসমের জনবিন্যাসের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে (Financial Times)। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ইতিমধ্যেই ২,৬৮০টিরও বেশি ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

    আলোচনার ফোকাস পয়েন্ট

    এক প্রবীণ ভারতীয় আধিকারিকের  বক্তব্যও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের জন্য গন্তব্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সেই সহযোগিতা প্রায় কখনওই পাওয়া যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “সেই কারণেই আমাদের সামনে অন্য কোনও উপায় ছিল না।” এই ঘটনাকে ঘিরে (Bangladesh Pushback Policy) আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Financial Times)।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Trump Hellhole Comment: ট্রাম্পের ‘হেলহোল’ মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের, ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টায় আমেরিকা

    Trump Hellhole Comment: ট্রাম্পের ‘হেলহোল’ মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের, ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টায় আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘পৃথিবীর নরক’ বা ‘হেলহোল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি। তারপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় ব্যস্ত আমেরিকা। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অশোভন এবং রুচিহীন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা ওই মন্তব্য এবং তার পরবর্তী সময়ে মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা— দুটোই দেখেছি। এই মন্তব্যগুলি স্পষ্টতই ভিত্তিহীন, অশোভন এবং রুচিহীন। এগুলি ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। এই সম্পর্ক বহুদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’ এরপর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে মার্কিন দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ভারত একটি মহান দেশ এবং সেখানে আমার এক ভালো বন্ধু নেতৃত্বে রয়েছেন।’”

    কীভাবে শুরু বিতর্ক

    এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন রেডিও উপস্থাপক মাইকেল শাভেজের একটি বক্তব্য শেয়ার করেন। সেখানে শাভেজ আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ভারত ও চিন-সহ একাধিক দেশকে ‘পৃথিবীর নরক’ (Trump hellhole comment) বলে উল্লেখ করেন। স্যাভেজ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, আমেরিকায় জন্মালে একজন শিশু নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। পরে সেই নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিদেশ থেকে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর কথায়, ‘এখানে জন্ম নেওয়া একটি শিশু সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়, আর তারপর তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনও তথাকথিত নরক থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’ এই মন্তব্যকে সমর্থন করে ট্রাম্প সেই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে ভারতীয়দের সম্পর্কে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

    ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সোশ্যাল মিডিয়া রিপোস্ট ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয় ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। যার জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মন্তব্যগুলি তথ্যভিত্তিক নয়। এগুলি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভাবাবেগে আঘাত করে।” ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবে সরব হয়েছে ইরান (Iran)। হায়দরাবাদে ইরানের দূতাবাস এক পোস্টে ভারত ও চিনকে ‘সভ্যতার আঁতুড়ঘর’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, যে দেশ অন্য দেশকে ‘নরক’ বলছে, সেই দেশই আবার যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক শান্তির পক্ষে বিপজ্জনক।

    মার্কিন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্ষোভ

    এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের একটি বড় আইনি লড়াই। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে, যাতে অবৈধ বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিভাবকদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে একাধিক আদালত এই আদেশে স্থগিতাদেশ দেয় এবং অন্তত একজন বিচারপতি এটিকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার সকালেই ট্রাম্প ফের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সরব হন (US birthright citizenship row)। একটি পোস্ট শেয়ার করেন যেখানে ভারত, চিন-সহ একাধিক দেশকে ‘নরকের মতো’ বলে উল্লেখ করা ছিল। এই ইস্যুতে আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালত বা আইনজীবীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার। তিনি একটি সোশ্যাল মিডিয়া জরিপের উল্লেখ করে দাবি করেন, বেশিরভাগ মানুষ এই নিয়মে পরিবর্তন চান।

    মার্কিন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্মীদের আধিপত্য

    মার্কিন রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি খাতে ভারত ও চিনের কর্মীদের আধিপত্য নিয়ে অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এর পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি তিনি। ভারতীয় ও চিনা অভিবাসীদের “ল্যাপটপসহ গ্যাংস্টার” বলেও উল্লেখ করা হয় ওই অনুষ্ঠানে। স্যাভেজকে সমর্থন করে অভিবাসন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে করদাতাদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। কিছু রাজ্যে ভাতা সংক্রান্ত অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সংবিধানের ব্যাখ্যা অনেক সময় খাপ খায় না। আধুনিক সময়ে ভ্রমণ ও অভিবাসনের ধরন বদলে যাওয়ায় এই বিষয় নতুন করে ভাবা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

    দেশের মর্যাদা নিয়ে আপস নয়

    ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারত সংযত অবস্থান নিলেও দিল্লির তরফে স্পষ্ট বার্তা— এই ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সম্মান এবং দেশের মানুষের মর্যাদা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা— সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই ধরনের মন্তব্য সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করলেও, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি এখনও দৃঢ় বলেই কূটনৈতিক মহলের মত।

  • Earthquake: ফের ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, পাশে থাকার আশ্বাস ভারতের

    Earthquake: ফের ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান, পাশে থাকার আশ্বাস ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পের জেরে বুধবার কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি হয়েছিল মাটির ১৪০ কিলোমিটার গভীরে। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টেই এ খবর জানিয়েছে এনসিএস। গত ১২ এপ্রিলও ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল আফগানিস্তান। সেদিনও কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। তার উৎসস্থল ছিল ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে ৬ এপ্রিল, ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারত বন্যা ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানকে মানবিক সাহায্য দিয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Earthquake)

    এক্স হ্যান্ডেলে আর একটি পোস্টে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারত মানবিক সাহায্য ও দুর্যোগ ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে ছিল রান্নার সেট, স্বাস্থ্যবিধি কিট, প্লাস্টিক শিট, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ এবং আরও অন্যান্য সামগ্রী।” তিনি বলেন, “ভারত আফগানিস্তানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” টোলো (TOLO) নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুদিনে আফগানিস্তানের ২৫টি প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫-এ। জখম হয়েছেন ৫২ জন। রেড ক্রসের মতে, আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, বিশেষ করে হিন্দুকুশ অঞ্চলে, যা অত্যন্ত সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলের অন্তর্গত।

    আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা

    আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা এর অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ এটি রয়েছে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে। এছাড়া, একটি প্রধান ফল্ট লাইন দেশের বিভিন্ন অংশ দিয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে হেরাত অঞ্চলও রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (UNOCHA) জানিয়েছে, আফগানিস্তান এখনও ভূমিকম্প, ভূমিধস এবং বন্যা-সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বারবার কম্পন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে, বিশেষ করে সেইসব সম্প্রদায়ের জন্য যারা বহু বছরের সংঘাত ও সীমিত উন্নয়নের কারণে ইতিমধ্যেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

     

  • India: আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল ভারত, পাঠানো হল জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী

    India: আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল ভারত, পাঠানো হল জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল নরেন্দ্র মোদির ভারত (India)। ১৬ মার্চ পাকিস্তানের হামলায় যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা এবং তাঁরা যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাই কাবুলে ২.৫ টন জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর (Medical Aid) একটি চালান পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    ১৬ মার্চের ওই নৃশংস হামলায় বহু মানুষ জখম হন। তার জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মতে, এই চালানে জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, যা আপৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করতে পাঠানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “১৬ মার্চের নৃশংস হামলায় আহতদের চিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্যের সহায়তায় ভারত কাবুলে ২.৫ টন জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট এবং যন্ত্রপাতি পাঠিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “ভারত (India) আফগান জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে সব ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”

    মোদি সরকারের মানবিক মুখ

    এই প্রথম নয়, মোদি সরকারের মানবিক মুখ আগেও দেখেছেন আফগানরা। গত সেপ্টেম্বরে ভূমিকম্পের জেরে বস্তুত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান। তার পরে পরেই ভারত আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছিল কমবেশি ১৪০০ জনের। এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশও করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানকে সর্বতোভাবে মানবিক সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত। পরে নয়াদিল্লি কাবুলে পাঠিয়েছিল চালের বস্তা, তাঁবু এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বোঝাই ট্রাক। সেই সময় জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত কাবুলে হাজারটি পরিবারের জন্য তাঁবু পাঠিয়েছে। খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে ১৫ টন।

    প্রসঙ্গত, সোমবারই পাক বিমানবাহিনী হামলা চালায় কাবুলের একটি বড় রিহ্যাব হাসপাতালে। আফগানিস্তানের দাবি, ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ৪০০জন। জখম হয়েছেন ২৫০ জন। পাক হামলার (Medical Aid) সময় হাসপাতালটি ভর্তি ছিল রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীতে (India)। তা সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল বলেই দাবি কাবুলের।

     

LinkedIn
Share