Tag: Ranji Trophy

Ranji Trophy

  • Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় ক্রিকেট খেলাকে ভবিষ্যৎহীন পেশা মনে করতেন বাবা। ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই ছেলের জেদ, পরিশ্রম আর প্রতিভাই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেটের দরজায়। জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লার আকিব নবি গড়লেন ইতিহাস। ছোটবেলায় ক্রিকেট তারকা আকিব নবিকে (Auqib Nabi) তাঁর ভাইপো বিলাল আহমদ দার একদিন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘এত ক্রিকেট তারকার সঙ্গে খেলো, তাঁদের সঙ্গে সেলফি তোলো না কেন?’’ আকিবের উত্তর ছিল, ‘‘একদিন এমন জায়গায় পৌঁছব, যখন ওরাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইবে।’’ বছর কয়েক পর সেই কথাই সত্যি হয়েছে।

    কাশ্মীর থেকে প্রথম টেস্টে ডাক (India Test Team)

    বছর ঊনত্রিশের অলরাউন্ডার আকিব নবি (Auqib Nabi) হলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ভারতীয় টেস্ট দলে (India Test Team) ডাক পেলেন। জসপ্রীত বুমরাহর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সিরিজ শুরু ১৫ অগাস্ট। সংঘাত, দীর্ঘ শীত, তুষারপাত এবং সীমিত পরিকাঠামোর কারণে জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেটের পথ বরাবরই কঠিন। ১৯৫৭ সালে BCCI-র সঙ্গে যুক্ত হলেও বর্তমানে গোটা অঞ্চলে মাত্র দু’টি বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে, দুটিরই সুযোগ-সুবিধা সীমিত।

    ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন বাবা

    বারামুল্লা জেলার একটি ছোট গ্রামে বড় হয়েছেন আকিব (Auqib Nabi)। তাঁর বাবা গুলাম নবি দার পেশায় স্কুল শিক্ষক। শুরুতে তিনি ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করতেন এবং ছেলেকে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে বলতেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি আকিবের অদম্য আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত বাবা মত বদলান। তিনি বুঝতে পারেন, নিজের পছন্দের পথে ছেলেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    অনুশীলনের জন্য পাড়ি ৭০ কিমি

    ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট পরিকাঠামোর অভাবে আকিবকে (Auqib Nabi) প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরে নিয়মিত অনুশীলন করতে যেতে হতো। প্রথম ক্রিকেট ট্রায়ালে যাওয়ার সময় তাঁর নিজের একজোড়া স্পাইক জুতোটুকুও ছিল না। শৈশবের বন্ধু জুনেইদ দার জানান, তাঁদের এলাকায় পেশাদার ক্রিকেটের ধারণাই প্রায় ছিল না। পরিকাঠামোও ছিল অপ্রতুল। কিন্তু আকিব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট নিয়ে ভীষণ একাগ্র ছিলেন। ভাইপো বিলালের কথায়, আকিব প্রতিদিন ভোরে জিমে যেতেন এবং তারপর সারাদিন অনুশীলন করতেন। প্রায় ১০ বছর ধরে এই রুটিন বজায় রেখেছিলেন তিনি।

    রঞ্জিতে শুরু সাফল্য

    ২০২০ সালে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় আকিবের। অভিষেকেই ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ২০২৪-২৫ মরশুমে ৪৪টি উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা পেসার হন। তবে এত সাফল্যের পরেও জাতীয় স্তরে তাঁর পরিচিতি সেভাবে তৈরি হয়নি। বাবা গুলাম নবি বলেন, ভালো খেলেও স্বীকৃতি না পাওয়াটা কষ্টের ছিল। তবুও তিনি ছেলের সময় আসবে বলেই বিশ্বাস রেখেছিলেন।

    ৬০ উইকেটে বদলে গেল ভাগ্য

    পরের মরশুমে আকিব (Auqib Nabi) করেন তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। মাত্র ১০ ম্যাচে ৬০টি উইকেট নিয়ে রঞ্জি ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জম্মু-কাশ্মীর ৬৭ বছর পরে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতে। এই পারফরম্যান্সের পর ৮.৪ কোটি টাকার আইপিএল চুক্তি পান দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে। আইপিএলে সুযোগ খুব বেশি না পেলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসে।

    পারভেজের গর্ব

    জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তথা আকিবের (Auqib Nabi) দীর্ঘদিনের অধিনায়ক পারভেজ রসুল বলেন, আকিবের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা। রসুলের নিজেরও টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল। তাই আকিবের টেস্ট ডাককে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীরের বহু ক্রিকেটারের যে স্বপ্ন ছিল, নবির হাত ধরে তা বাস্তব হয়েছে।

    নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা

    রসুলের কথায়, অন্য জায়গার তুলনায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে ভারতীয় দলে পৌঁছনোর চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সীমিত পরিকাঠামো, কম সুযোগ, দীর্ঘ শীত ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আকিব নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। তাঁর এই সাফল্য কাশ্মীরের নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করেন রসুল। তাঁর মতে, কোথা থেকে এসেছেন বা কী বাধার মুখে পড়েছেন, তা নয়- পরিশ্রম, মানসিক শক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব।

    বাবার গর্ব

    আজ বারামুল্লায় গুলাম নবি যেখানেই যান, মানুষ তাঁকে চিনে ফেলেন। অনেকে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘‘ইনি আকিবের বাবা।’’ যে বাবা একসময় ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করে ছেলেকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন, আজ সেই ছেলের ইতিহাস গড়ার সাক্ষী হয়ে তাঁর একটাই অনুভূতি- অপরিসীম গর্ব।

  • Mann Ki Baat: প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাতেও উঠে এল পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির প্রসঙ্গ

    Mann Ki Baat: প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাতেও উঠে এল পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির প্রসঙ্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) ‘মন কি বাতে’ও উঠে এল পশ্চিম এশিয়ায় দিনের পর দিন বেড়ে চলা অস্থিরতা এবং তার জেরে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের প্রসঙ্গ। ২৯ মার্চ, রবিবার সম্প্রচারিত হল প্রধানমন্ত্রীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর (Mann Ki Baat) ১৩২তম পর্ব। এই পর্বেই তিনি ফোকাস করেন পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির ওপর।

    মন কি বাতে কোভিড প্রসঙ্গ (Mann Ki Baat)

    কোভিড-১৯ অতিমারির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব আশা করেছিল যে এই বৈশ্বিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন সংঘাত দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মনে করতে পারি যে কোভিডের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো বিশ্ব নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। আমরা সবাই আশা করেছিলাম যে করোনা সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার পর বিশ্ব নতুন করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি।” সঙ্কটের সময় উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসরত এক কোটিরও বেশি ভারতীয়কে সাহায্য করার জন্য ওই দেশগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গ জ্বালানি সঙ্কট

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে প্রভাব পড়েছে, তাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ভারতের জ্বালানির একটি বড় অংশই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ চলছে, সেটি আমাদের জ্বালানি চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে (Mann Ki Baat)।” তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার ফলে ভারত এই জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা করতে পেরেছে। ভারতবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কঠিন সময়ে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে। গুজবেও যেন বিশ্বাস না করে। তিনি বলেন, “আমি আবারও আমার দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাই—আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তারা দেশের বড় ক্ষতি করছে। আমি সকল নাগরিককে সতর্ক থাকার এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি। শুধু সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন (PM Modi)।”

    টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ে খুব খুশি প্রধানমন্ত্রী

    আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “যেভাবে আমরা অতীতে ১৪০ কোটি মানুষের শক্তিতে বিভিন্ন সঙ্কট পেরিয়ে এসেছি, তেমনি এবারও আমরা সবাই মিলে এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব।” প্রধানমন্ত্রী ‘জ্ঞান ভারতম সার্ভে’ উদ্যোগ সম্পর্কেও বলেন। এর লক্ষ্য হল, দেশজুড়ে বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করা। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষও জ্ঞান ভারতম অ্যাপের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন—পাণ্ডুলিপির ছবি বা সংশ্লিষ্ট তথ্য আপলোড করে।” ‘মাই ভারত (MY Bharat)’ উদ্যোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর লক্ষ্য দেশের যুবসমাজকে বাজেট প্রক্রিয়া ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা। এই উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত কুইজে প্রায় ১২ লাখ যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেছিল (Mann Ki Baat)। কুইজের পর ১ লাখ ৬০ হাজারের কাছাকাছি অংশগ্রহণকারীকে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ে তিনি যে যারপরনাই খুশি, তা গোপন করেননি প্রধানমন্ত্রী। প্রায় সাত দশক পর রঞ্জি ট্রফি জয়ের জন্য জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দলকেও অভিনন্দন জানান তিনি (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share