Tag: rare earth magnet

  • Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    সুশান্ত দাস

    ভারতের বিরল মাটি খনিজ (Rare Earth Elements) শিল্পে বড়সড় অগ্রগতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় উন্নত উপকরণ প্রস্তুতকারী সংস্থা প্রোটেরিয়াল (Proterial) অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ২৫০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnet) উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিরল মাটি-ভিত্তিক চুম্বকের (Rare Earth Magnets) উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চিনের ওপর আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের অনাকাপল্লি জেলার আচ্যুতাপুরম (Achutapuram) এলাকায় এই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাজ্যের স্টেট ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিলেছে। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বছরে ১২০০ টন বিরল মাটি চুম্বক উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত কারখানায় ‘সিন্টার্ড’ (গুঁড়ো ধাতুকে উচ্চ তাপ ও উচ্চ চাপের মধ্য দিয়ে কঠিন পদার্থে পরিণত করা) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিওডিমিয়াম-আয়রন-বোরন (NdFeB) স্থায়ী চুম্বক উৎপাদন করা হবে। কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.২ কিলোটন বা ১,২০০ টন। বিশ্বজুড়ে নিওডিমিয়াম চুম্বককে (Rare Earth Magnets) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নত বিরল খনিজ চুম্বকগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই চুম্বকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানে পরিণত হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্য

    নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহু শিল্পে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর ব্যবহার দেখা যায়—

    • ● বৈদ্যুতিক যানবাহন(EV)
    • ● বায়ুশক্তি বা উইন্ড টারবাইন
    • ● শিল্প কারখানার মোটর
    • ● দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট
    • ● মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি
    • ● প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

    এই চুম্বকের শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষমতা উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলে। বিশ্বজুড়ে যখন শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতায়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে, তখন নিওডিমিয়াম চুম্বকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

    বিরল মাটি চুম্বক আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    বর্তমানে বিরল মাটি চুম্বকের (Rare Earth Magnets) ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ চিন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় বিরল মাটি শিল্পের উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। খনিজ আহরণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ এবং চুম্বক উৎপাদন— পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে দেশীয়ভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।

    কেন্দ্রের নতুন প্রণোদনা প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয়ভাবে সিন্টার্ড বিরল মাটি স্থায়ী চুম্বক (Rare Earth Magnets) উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশে উৎপাদন করা। প্রোটেরিয়ালের বিনিয়োগ সেই নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কে এই প্রোটেরিয়াল?

    প্রোটেরিয়াল বিশ্বব্যাপী উন্নত চৌম্বকীয় উপকরণ এবং বিশেষায়িত ধাতব প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নাম ছিল ‘হিটাচি মেটালস’ (Hitachi Metals)। নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক প্রযুক্তির পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন দক্ষতার মাধ্যমে সংস্থাটি বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থার একত্রিত আয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ছিল বলে জানা গেছে।

    কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশে এই বৃহৎ বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহকারী, প্রযুক্তি সংস্থা এবং সহায়ক শিল্পগুলিও উপকৃত হবে। ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বিরল মাটি চুম্বকের চাহিদা আগামী বছরগুলিতে আরও বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    বিশ্বব্যাপী বিরল মাটি সরবরাহ: ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হবে

    বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসারের ফলে বিরল মাটি চুম্বক (Rare Earth Magnets) এখন কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটেরিয়ালের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার ভারতমুখী বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্বও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু আমদানি কমাতেই সক্ষম হবে না, ভবিষ্যতে বিরল মাটি-ভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • China: উঠে গেল স্থগিতাদেশ, ভারতে ভারী রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট রফতানি শুরু করল চিন

    China: উঠে গেল স্থগিতাদেশ, ভারতে ভারী রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট রফতানি শুরু করল চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছ’মাসের স্থগিতাদেশের পর ফের ভারতে (India) ভারী রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট রফতানি শুরু করেছে চিন (China)। এতে বৈদ্যুতিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স খাতে কর্মরত ভারতীয় নির্মাতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। কারণ এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপর তাঁদের ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। তবে রফতানি আবারও শুরু হলেও কিছু শর্তও যুক্ত হয়েছে।

    চিনের বক্তব্য (China)

    বেজিং সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ম্যাগনেটগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফের রফতানি করা যাবে না, ব্যবহার করা যাবে না সামরিক কাজেও। চিন-ভারত সম্পর্কের এই ঝলক এমন একটা সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বসে বাণিজ্য উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, হিতাচি, কন্টিনেন্টাল, জে উশিন এবং ডি ই ডায়মন্ডস এই চারটি ভারতীয় কোম্পানি চিনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ম্যাগনেট আমদানির অনুমোদন পেয়েছে। এক প্রবীণ শিল্প আধিকারিক বলেন, “সরবরাহের (ম্যাগনেট) ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। চারটি কোম্পানি রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট আমদানির অনুমোদন পেয়েছে।” এদিকে, কলকাতা ও গুয়াংঝুর মধ্যে সরাসরি উড়ানও ফের চালু হয়েছে, যার জেরে আরও অনায়াস হবে ভারত-চিন বাণিজ্য।

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানান, এই আমদানির জন্য লাইসেন্স দিয়েছে চিন। তিনি বলেন, “আমাদের দেখতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–চিন আলোচনার প্রভাব আমাদের ওপর কীভাবে পড়ে (China)।” প্রসঙ্গত, বিশ্বের মোট রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশেরই নিয়ন্ত্রণকারী চিন। গত ৪ এপ্রিল জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলে, মার্কিন শুল্ক হারের প্রতিক্রিয়ায় নতুন রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে চিন। এই পদক্ষেপের ফলে রফতানিকারীদের বিশেষ লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

    ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত (India) ৮৭০ টন রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট আমদানি করেছে। এর মূল্য ছিল ৩০৬ কোটি টাকা। এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ক্রিটিক্যাল রেয়ার আর্থ উপকরণ সরবরাহের জন্য চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক বছরের একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন (China)।

LinkedIn
Share