Tag: RCB

RCB

  • RCB Wins IPL 2026: একটা ট্রফির জন্য ১৮ বছর, তারপর টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন! আইপিএলে আরসিবির অবিশ্বাস্য উত্থান

    RCB Wins IPL 2026: একটা ট্রফির জন্য ১৮ বছর, তারপর টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন! আইপিএলে আরসিবির অবিশ্বাস্য উত্থান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আঠারো বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য ব্যর্থতা, হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত আর ট্রোলের পাহাড় পেরিয়ে ২০২৫ সালে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জিতেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। আর সেই সাফল্য যে কেবল একবারের বিস্ময় ছিল না, তা প্রমাণ করে দিল তারা ২০২৬ সালেও। টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফেলল বিরাট কোহলি-রজত পাটিদারদের দল। এর আগে কেবল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসই আইপিএলে টানা দু’বার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরসিবির নাম। শুধু শিরোপা জয় নয়, গোটা মরশুমে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষদের কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে বেঙ্গালুরু।

    শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে আরসিবি

    লিগ পর্বে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থানে শেষ করেছিল আরসিবি। এরপর কোয়ালিফায়ার ১-এ গুজরাট টাইটান্সকে ৯২ রানে বিধ্বস্ত করে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। ফাইনালেও সেই একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একতরফা জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অবসর নিয়েছেন, দলে এসেছে একাধিক পরিবর্তন। কিন্তু মাঠে তার কোনও প্রভাবই দেখা যায়নি। যেন গত বছরের সফল অভিযানের ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছে তারা।

    আহমেদাবাদে গুজরাতের মাঠেও ছিল আরসিবির রাজত্ব

    নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ছিল গুজরাট টাইটান্সের ‘হোম গ্রাউন্ড’। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাচের আগের দিন থেকেই হাজার হাজার আরসিবি সমর্থক লাল জার্সি পরে আহমেদাবাদে ভিড় জমাতে শুরু করেন। ফাইনালের দিন প্রায় এক লক্ষ দর্শকের মধ্যে সিংহভাগই ছিল আরসিবির সমর্থক। স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে ধ্বনিত হচ্ছিল “আরসিবি, আরসিবি” স্লোগান। কার্যত নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছিল রজত পাটিদারের দল। আরসিবি ফাইনালের কয়েকদিন আগেই আহমেদাবাদে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তীব্র গরমে অনুশীলন, উইকেট পর্যবেক্ষণ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজ তারা নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে।

    বল হাতে গুজরাটকে শ্বাসরুদ্ধ করল বেঙ্গালুরু

    টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আরসিবি। রোদে পুড়ে শক্ত হয়ে যাওয়া উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না। সেই সুযোগই পুরোপুরি কাজে লাগান বেঙ্গালুরুর বোলাররা। মরশুমে ৭০০-র বেশি রান করা গুজরাটের দুই ওপেনারকে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় তারা। চলতি মরশুমে তৃতীয়বারের মতো শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনকে দ্রুত আউট করতে সক্ষম হয় আরসিবি। জশ হ্যাজেলউড বড় ম্যাচে নিজের অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। ভুবনেশ্বর কুমার নিখুঁত পরিকল্পনায় সাই সুদর্শনকে বাউন্সারে ফাঁদে ফেলেন। অন্যদিকে রাসিখ সালাম দার, যাঁকে অনেকেই গুরুত্ব দেননি, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। মাত্র ৩.৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। জস বাটলারও পাল্টা আক্রমণের সাহস দেখাতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দর একবার জীবনদান পেলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। শেষদিকে অরশাদ খানের ছোট্ট ঝোড়ো ইনিংস কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রানেই থেমে যায়।

    রান তাড়ায় কোহলির রাজকীয় ইনিংস

    ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় আরসিবিকে। ফিল সল্টের অনুপস্থিতিতে ওপেন করতে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলি পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচকে একতরফা করে দেন। মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যেই দলীয় স্কোর ৬০ পেরিয়ে যায়। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান। ভেঙ্কটেশ আইয়ার দ্রুত আউট হলেও কোহলি থামেননি। কাগিসো রাবাদার এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন তিনি। রশিদ খান নবম ওভারে রজত পাটিদার এবং ক্রুনাল পাণ্ডিয়াকে ফিরিয়ে সামান্য উত্তেজনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটুকুই। কোহলির সঙ্গে টিম ডেভিডের ৪১ রানের জুটি গুজরাটের শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেয়। ২৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন কোহলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের ফাইনালের পর এবারই প্রথম আইপিএল প্লে-অফে অর্ধশতরান পেলেন তিনি।

    শেষ বলেও কোহলির ছক্কা

    ম্যাচের একমাত্র উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত আসে ১৬তম ওভারে। কোহলির একটি ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন শুভমান গিল। তৃতীয় আম্পায়ারের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় ‘নট আউট’। এরপর আর কোনও বাধা ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন কোহলি। আরসিবির ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তিও হয় তাঁর ব্যাট থেকেই। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান আসে একটি বিশাল ছক্কায়।

    নতুন যুগের সূচনা

    ২০২৫ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটি হয়ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া একবারের সাফল্য। কিন্তু ২০২৬ সালের অভিযান স্পষ্ট করে দিল, আরসিবি এখন কেবল জনপ্রিয় দল নয়, তারা এক শক্তিশালী ক্রিকেট সাম্রাজ্য। ১৮ বছর অপেক্ষা করে প্রথম ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু। এরপর মাত্র ১২ মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় শিরোপা। টানা দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে রজত পাটিদার, বিরাট কোহলি, জশ হ্যাজেলউড, ভুবনেশ্বর কুমারদের এই দল জানিয়ে দিল— ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক শক্তির উত্থান হয়েছে। আর সেই সাম্রাজ্যের রং নিঃসন্দেহে লাল।

  • IPl 2026: অপেক্ষার অবসান! বাইশ গজে ফিরছেন কিং কোহলি, আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি আরসিবি বনাম এসআরএইচ

    IPl 2026: অপেক্ষার অবসান! বাইশ গজে ফিরছেন কিং কোহলি, আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি আরসিবি বনাম এসআরএইচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল ২০২৬-এর ১৯তম মরশুম (IPl 2026)। প্রথম ম্যাচেই নামছে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) এবং ঈশান কিশনের হায়দরাবাদ (SunRisers Hyderabad)। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া কোহলিকে আবার সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে দেখা যাবে। গত আইপিএলে আরসিবির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন বিরাট। ৬৫৭। যা আঠারো বছরের খরা কাটিয়ে আরসিবিকে তাদের প্রথম আইপিএল ট্রফি জিতিয়ে দেয়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এবারও কোহলির সেই রুদ্ররূপ প্রত্যাশা করছেন। তবে, গত জানুয়ারি মাসের পর আর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি বিরাটকে। কিন্তু তাতে কী? তিনি তো কিং কোহলি।

    কিছুক্ষণ পরই শুরু আইপিএল

    মঞ্চ তৈরি। আর কিছুক্ষণ পরই শুরু আইপিএল (IPl 2026)। এই মরশুমের শুরুটা কিছুটা ব্যতিক্রমী। গত বছরের ট্র্যাজেডির কথা মাথায় রেখে কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়নি। গতবার আরসিবি-র বিজয় উদযাপনের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ১১ জন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের স্মৃতিতে আরসিবি ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামে ১১টি আসন খালি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সবসময় থাকে। ম্যাচ চলাকালীন প্রায়শই বৃষ্টি হয়। কিন্তু বেশিক্ষণ না। তবে শনিবারের আবহাওয়া ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। আকাশ পরিষ্কার থাকবে। ম্যাচের সময় তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। বাতাসে আর্দ্রতা ৬০ শতাংশ। এদিন ম্যাচ বৃষ্টিতে বিঘ্নিত যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলা যায়। দীর্ঘদিন পর আবার ক্রিকেট ফিরছে বেঙ্গালুরুর স্টেডিয়ামে। একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকবে সবাই।

    হাই-স্কোরিং ম্যাচের ইঙ্গিত

    আরসিবি বনাম এসআরএইচ ম্যাচ মানেই বড় রান—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই দলের লড়াইয়ে রানের বন্যা দেখা গেছে। এবারের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে দুই দলের বোলিং আক্রমণ কিছুটা দুর্বল হওয়ায় ব্যাটারদের দাপট দেখার আশা করা হচ্ছে। দেখতে গেলে, শক্তি বিচারে দু’টো টিমের ব্যাটিং প্রায় সমানে-সমানে। আরসিবিতে ফিল সল্ট, রজত পাতিদার, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, উইল জ্যাকস, বিরাট কোহলিরা রয়েছে। হায়দরাবাদে আবার রয়েছেন অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, ট্রাভিস হেড, হেনরিক ক্লাসেনরা। আরসিবি ব্যাটিং লাইন-আপে প্রচুর বিকল্প থাকলেও বোলিংয়ে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে এসআরএইচ-ও তাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স-কে প্রথমদিকে পাচ্ছে না, যা তাদের বোলিং শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই মরশুমের প্রথম ভাগে এসআরএইচ-কে নেতৃত্ব দেবেন ঈশান কিষাণ। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটমহলে। যদিও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে আইপিএল-এর চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

  • IPL 2026: বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস ও আরসিবি, টাকার অঙ্কে বৈভবের দলকে টেক্কা কোহলিদের

    IPL 2026: বিক্রি হয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস ও আরসিবি, টাকার অঙ্কে বৈভবের দলকে টেক্কা কোহলিদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্রি হয়ে গেল প্রথম বারের আইপিএল (IPL 2026) চ্যাম্পিয়ন দল রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals)। বৈভবদের টেক্কা দিল গতবারের বিজয়ী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। বিরাট কোহলি, স্মৃতি মন্ধানাদের দল কিনে নিল ভারতের আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম। ১৭৮ কোটি ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে আরসিবির ১০০ শতাংশ মালিকানা। অন্যদিকে, আমেরিকার ব্যবসায়ী কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম রাজস্থানের ১০০ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছে। ১৬৩ কোটি ডলারে বিক্রি হল রাজস্থান।

    কত টাকায় বিক্রি হল রাজস্থান

    গত বছর আইপিএলের (IPL 2026) পর দল বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বর্তমান মালিক গোষ্ঠী। দল বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়। বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রাজস্থান কিনতে আগ্রহী ছিল। একাধিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন রাজস্থানের বর্তমান মালিকেরা। ভারতীয় মূল্যে প্রায় ১৫ হাজার ২৮৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়ামে রয়েছেন আমেরিকার আরও দুই ব্যবসায়ী। ওয়ালমার্টের কর্ণধার রব ওয়ালটন এবং ফোর্ডের কর্ণধার হ্যাম্প পরিবার।

    আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর হাতে আরসিবি

    রাজস্থান রয়্যালসের (RR) পর বিক্রি হয়ে গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও ( Royal Challengers Bengaluru)। দামে রাজস্থান রয়্যালসকে টেক্কা দিয়েছে বেঙ্গালুরু। গত বছর প্রথম বার আইপিএল (IPL 2026) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আরসিবি। সূত্রের খবর, আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম কোহলির দলকে কিনে নিয়েছে। এই সংস্থায় রয়েছে আমেরিকার ক্রীড়া বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, আমেরিকার সংস্থা ব্ল্যাকস্টোন এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া গোষ্ঠী। আরসিবি বিক্রির সরকারি ঘোষণা অবশ্য হয়নি। মনে করা হচ্ছে, বর্তমান মালিক পক্ষের সঙ্গে সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে গেলে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হবে। দলের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ডিরেক্টর আর্যমান বিক্রম বিড়লা। ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন টাইমস অফ ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সত্যেন গজওয়ানি। ২০২৬ সালের আইপিএলের পর তাঁরা দায়িত্ব নেবেন। এত দিন বেঙ্গালুরুর মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি দিয়াজিও পিএলসি। ইন্ডিয়ান আর্ম ইউনাইটেড স্পিরিট লিমিটেডের মাধ্যমে আরসিবি’র কর্মকাণ্ড সামলাতো দিয়াজিও। আরসিবি কেনার লড়াইয়ে ছিল সুইডেনের সংস্থা ইকিউটি এবং মণিপাল হাসপাতাল গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টয়াম। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসর্টিয়াম শেষ দিকে এই লড়াইয়ে ঢোকে। তবে, শেষ হাসি তারাই হাসল।

  • IPL Auction 2026: রাসেলকে ছাড়ল কেকেআর! আইপিএল নিলামের আগে কোন কোন দল কাকে-কাকে রাখল?

    IPL Auction 2026: রাসেলকে ছাড়ল কেকেআর! আইপিএল নিলামের আগে কোন কোন দল কাকে-কাকে রাখল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১১ বছরের সম্পর্কে ছেদ। আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলের ১০টি দল সব মিলিয়ে ৮২ জন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিল। তার মধ্যে ৭৪ জনের দল থাকল না ২০২৬ সালের আইপিএলের আগে। তাঁদের আবার নিলামে নামতে হবে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে এই তালিকায় রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, ফ্যাফ ডুপ্লেসি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, রাচিন রবীন্দ্র, রবি বিষ্ণোইয়ের মতো ক্রিকেটার। কেকেআর ছেড়ে দিয়েছে ৯ জন ক্রিকেটারকে। তাঁরা হলেন আন্দ্রে রাসেল, বেঙ্কটেশ আয়ার, কুইন্টন ডি কক, মইন আলি, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, স্পেন্সার জনসন, চেতন সাকারিয়া, লাভনিথ সিসোদিয়া এবং অনরিখ নোখিয়া। এ ছাড়া ময়াঙ্ক মার্কন্ডকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে। ফলে আগামী আইপিএলের আগে ৯ জনেরই কোনও দল থাকল না।

    রাসেলকে কেন ছাড়ল কেকেআর

    হাতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আগামী মাসেই ২০২৬ আইপিএল (IPL 2026) টুর্নামেন্টের নিলাম অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে এই নিলাম অনুষ্ঠানের আগে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে রিটেনশন তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, কোন কোন ক্রিকেটারকে তারা ধরে রাখতে চায়। আর কাদেরই বা দিতে চায় ছেড়ে! এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা হাতে থাকলে নিলাম অনুষ্ঠানও সুষ্ঠভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা দেখে সমর্থকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে। আন্দ্রে রাসেল (১২ কোটি), ভেঙ্কটেশ আইয়ার (২৩.৭৫ কোটি), কুইন্টন ডি কক (৩.৬ কোটি), মঈন আলি (২ কোটি) এবং অনরিখ নোর্খিয়া (৬.৫ কোটি)।তবে এই তালিকায় যে নামটা সবাইকে হতবাক করেছে, তিনি হলেন আন্দ্রে রাসেল। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। গত বছর মেগা অকশনের ঠিক আগে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁকে রিটেনও করেছিল নাইট ব্রিগেড। কিন্তু, গত আইপিএল মরশুমে রাসেল প্রত্যাশা অনুসারে পারফরম্য়ান্স করতে পারেননি। সেকারণে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে শেষপর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    কেকেআর-এর নতুন বোলিং কোচ

    ২০২৬ সালের আগে পুরো কোচিং স্টাফ বদলে ফেলল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রধান কোচ, সহকারি কোচের পর এ বার নতুন বোলিং কোচের নাম ঘোষণা করল। KKR-এর প্রাক্তন তারকা ও কিউয়ি কিংবদন্তি টিম সাউদিকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ করল। গত বার কেকেআর আইপিএল-এ সপ্তম স্থানে শেষ করে। এর নেপথ্যে ছিল খারাপ বোলিং। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বছরেই এই ছবির পর দলে আমূল বদল আনা হয়। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, ভরত অরুণ সরে দাঁড়ান। মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভো অবশ্য দায়িত্বে রয়েছেন। অভিষেক নায়ারকে প্রথমে কোচ হিসেবে আনা হয়। এর পর সহকারি কোচ হন শেন ওয়াটসন আর এবার বোলিং কোচ করা হলো টিম সাউদিকে।

    কে কাকে ছাড়ল

    চেন্নাই সুপার কিংস: সিএসকে ছেড়ে দিয়েছে ১২ জনকে। রবীন্দ্র জাডেজা এবং সাম কারেনকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে। বাকি ১০ জনের দল থাকল না। তাঁরা হলেন রাহুল ত্রিপাঠি, বংশ বেদি, আন্দ্রে সিদ্ধার্থ, রাচিন রবীন্দ্র, ডেভন কনওয়ে, বিজয় শঙ্কর, দীপক হুডা, শেখ রশিদ, কমলেশ নাগরকোটি, মাথিশা পাতিরানা।

    মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: এমআই ছেড়ে দিয়েছে ন’জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে অর্জুন তেন্ডুলকরকে বিক্রি করা হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। দল থাকল না মুম্বইয়ের আট ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন সত্যনারায়ণ রাজু, রিসি টোপলে, কেএল শ্রীজিৎ, কর্ম শর্মা, বেভন জ্যাকবস, মুজির উর রহমান, লিজ়াড উইলিয়ামস এবং ভিগনেশ পুথুর।

    রাজস্থান রয়্যালস: রাজস্থান ছেড়ে দিয়েছে ন’জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসনকে বিক্রি করা হয়েছে চেন্নাইয়ের কাছে। নীতীশ রানাকে বিক্রি করা হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে। এ ছাড়া হয়েছে ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গ, মাহিশ থিকশানা, ফজ়লহক ফারুকি, আকাশ মাধওয়াল, অশোক শর্মা, কুনাল রাঠোর এবং কুমার কার্তিকেয়। দল থাকল না সাত ক্রিকেটারের।

    পাঞ্জাব কিংস: পাঞ্জাব ছেড়ে দিয়েছে পাঁচ ক্রিকেটারকে। কাউকেই কোনও দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি। ফলে পাঁচ জনেরই দল থাকল না ২০২৬ আইপিএলের আগে। তাঁরা হলেন জশ ইংলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যারন হার্ডি, কুলদীপ সেন, প্রবীণ দুবে।

    রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: আরসিবি ছেড়ে দিয়েছে আট জনকে। কাউকেই বিক্রি করা হয়নি। ফলে কারও দল থাকল না। গত বারের চ্যাম্পিয়ন দল থেকে বাদ পড়লেন স্বস্তিক চিকারা, ময়ঙ্ক আগরওয়াল, টিম সেইফার্ট, লিয়াম লিভিংস্টোন, মনোজ ভানদাগে, লুঙ্গি এনগিডি, ব্লেসিং মুজ়ারাবানি এবং মোহিত রাঠি।

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: হায়দ্রাবাদ ছেড়ে দিয়েছে আট জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ শামিকে বিক্রি করা হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। দল থাকল না সাত জনের। তাঁরা হলেন অভিনব মনোহর, অথর্ব তাইদে, সচিন বেবি, উইয়ান মুলডার, সিমরজিৎ সিংহ, রাহুল চাহার এবং অ্যাডাম জ়াম্পা।

    দিল্লি ক্যাপিটালস: দিল্লি ছেড়ে দিয়েছে সাত জন ক্রিকেটারকে। কাউকেই বিক্রি করা হয়নি। ফলে কারও দল থাক না ২০২৬ সালের আইপিএলে। নিলামে নাম লেখাতে হবে ফ্যাফ ডুপ্লেসি, জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক, ডনোভান ফেরেরা, সেদিকুল্লাহ অটল, মন্বন্ত কুমার, মোহিত শর্মা এবং দর্শন নালকান্দে।

    গুজরাট টাইটান্স: শুভমন গিলের ছ’জন সতীর্থকে ছেড়ে দিয়েছেন গুজরাত কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে শেরফান রাদারফোর্ডকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বইয়ের কাছে। ফলে দল থাকছে না পাঁচ ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন মাহিপাল লোমরোর, করিম জনত, দাসুন শনাকা, জেরাল্ড কোয়েৎজে এবং কুলওয়ান্ত খেজরোলিয়া।

    লখনউ সুপার জায়ান্টস: কলকাতার শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল ছেড়ে দিল ডেভিড মিলার-সহ আট ক্রিকেটারকে। শার্দূল ঠাকুরকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বইয়ের কাছে। সব মিলিয়ে এলএসজির সাত ক্রিকেটারের দল থাকল না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার আকাশ দীপও। এ ছাড়া রয়েছেন রবি বিশ্নোই, আরিয়ান জুয়াল, যুবরাজ চৌধুরী, রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারকর এবং শামার জোসেফ।

LinkedIn
Share