মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির বিপুল জয় নিয়ে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিরোধী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামেদের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই (CM Suvendu Adhikari)। রেজিনগরে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ (Nandigram Rejinagar By-Polls) এবার ভোট দিতে না আসায় গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তা সত্ত্বেও ওই কেন্দ্রে ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে বলেই দাবি তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রাম তো ২০২১ সাল থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছে। রেজিনগরে তৃণমূল বা বামেদের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। সিপিএম পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে নোটার নীচেও থাকতে পারে।”
সংখ্যালঘু ভোটে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব (CM Suvendu Adhikari)
সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বয়স্ক সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ কংগ্রেস অথবা হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু সংখ্যালঘু মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে দাবি তাঁর। বিরোধীদের দাবি খারিজ করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা বা আবাস যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ করা হয়নি। তাঁর দাবি, “এক কোটি ৫৮ লাখ অন্নপূর্ণা প্রাপকের মধ্যে ২৪ লাখ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। আমার বিশ্বাস ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”
আবাস যোজনার ১৭ হাজার বাড়ির তালিকাতেও ১০ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার এবং ৬-৭ হাজার সনাতনী পরিবার রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রভাবেই রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হবেন। নন্দীগ্রামেও গতবারের তুলনায় পাঁচ-ছ’গুণ বেশি ব্যবধানে বিজেপি জিতবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন (CM Suvendu Adhikari) শুভেন্দু।
সেলিমকে নিশানা শুভেন্দুর
বামেদের ভোটপ্রাপ্তি এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ভোটে কারচুপির অভিযোগ নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সেলিমের রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে রায়গঞ্জ, ২০২১ সালে চণ্ডীতলা এবং ২০২৪ সালে মুর্শিদাবাদে পরাজিত হয়েছেন সেলিম।
শুভেন্দু বলেন, “যেখানে মুসলমান ভোট বেশি আছে, বেছে বেছে সেখানে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। অথচ মুখে বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পার্টি!”
সেলিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি ওঁকে বলব কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়তে। যদি জমানত রাখতে পারেন, তাহলে বুঝব উনি একটা বিরাট মাপের নেতা হয়েছেন।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বার্তা
অন্যদিকে, আইনি লড়াই নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলার ঘটনায় নির্দিষ্টভাবে মানহানি ও অপরাধমূলক মামলা করা হয়েছে।
আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারি মাসে (Nandigram Rejinagar By-Polls) মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের সব পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা তৈরি হচ্ছে।
ভোটযন্ত্রের ঘাটতি বা নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। রাজ্য সরকার শুধুমাত্র পরিকাঠামোগত সহায়তা (CM Suvendu Adhikari) করে। নির্বাচন পরিচালনায় মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কোনও ভূমিকা থাকে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।




