Tag: Religious harmony

  • Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। ফের ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল শ্রীনগরের হাব্বা কদল এলাকার ঐতিহাসিক (Kashmir) শীতলনাথ মন্দির। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ হয়ে পড়েছিল প্রাচীন এই মন্দির। সংস্কারের পর মন্দিরটি ফের চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুজো দিতে আসেন বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত। তাঁদের স্বাগত জানান স্থানীয় কাশ্মীরি মুসলিমরাও। মন্দির পুনরায় (Sheetalnath Mandir) চালু হওয়ার দিন ঘণ্টাধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত এই ধর্মস্থানে ফিরে আসেন বহু কাশ্মীরি হিন্দু। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিমদের উপস্থিতি কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

    অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের পুনর্নির্মাণ (Kashmir)

    ১৯৯০ সালে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিপুলসংখ্যক কাশ্মীরি পণ্ডিতের চলে যাওয়ার পর শীতলনাথ মন্দিরে নিয়মিত পুজো বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অযত্নে পড়ে থাকা মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপত্যকায় অশান্তির সময় অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও মন্দির চত্বরের ক্ষতি হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের সংস্কৃতি দফতরের সহযোগিতায় মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব নেয় শ্রীনগর স্মার্ট সিটি লিমিটেড (SSCL)। সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং যজ্ঞশালার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাঠামোগত পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মন্দিরটি আবার ভক্তদের প্রবেশ ও পুজোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২১ সালের বসন্ত পঞ্চমীতে মন্দিরে পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় মন্দিরের কাঠামো অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় নিয়মিত দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

    কাশ্মীরি শৈবধর্মের প্রাচীন উপাসনাস্থল

    কাশ্মীরের ধর্মীয় ইতিহাসে শীতলনাথ মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কাশ্মীরি শৈবধর্মের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দিরকে প্রাচীন অষ্টভৈরবের অন্যতম বলে মনে করা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীনগরের রক্ষাকর্তা আট দেবতার মধ্যে শীতলনাথ অন্যতম (Kashmir)। স্থানীয় লোককথায় ঋষি কশ্যপ এবং সতীসর সংক্রান্ত পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গেও এই মন্দিরের সম্পর্ক রয়েছে।

    একই চত্বরে পড়াশোনা করত হিন্দু ও মুসলিম শিশুরা

    ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি শ্রীনগরের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেও শীতলনাথ মন্দিরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০ সালের আগে মন্দির চত্বরে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। সেখানে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের শিশুরা একসঙ্গে পড়াশোনা করত। বিংশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল এই মন্দির চত্বর। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো জাতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য

    উপত্যকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির কাছে শীতলনাথ মন্দিরের পুনরায় চালু হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর তাঁদের পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, শীতলনাথ মন্দিরের সংস্কার জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলি সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। দীর্ঘ অশান্তির সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা অবহেলিত হয়ে পড়া মন্দিরের (Sheetalnath Mandir) পাশাপাশি সুফি দরগা, গুরুদ্বার ও মসজিদের সংস্কারও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর শীতলনাথ মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ায় শ্রীনগরের একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আবার জনজীবনের অংশ হয়ে উঠল (Kashmir)।

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ চলছেই, দেখে নেওয়া যাক এই সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ চলছেই, দেখে নেওয়া যাক এই সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) অব্যাহত। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন এক রূপ নিচ্ছে, যা ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া গণহত্যার মতো মনে (Roundup Week) হচ্ছে। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যা আদতে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতিত্বের ফল (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমিদখল, উৎসবে-অনুষ্ঠানে হামলা, মন্দির-মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ বিপন্ন।

    সাপ্তাহিক ছবি (Hindus Under Attack)

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, গত ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ছবিটা। বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন, তাই এহেন তথ্য প্রকাশ। দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটাই। রামনবমী উদযাপনের আগে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে উদ্ধার হয় নির্মীয়মান রামের একটি মূর্তি। ২২ মার্চ সকালে মাথা কাটা অবস্থায় মেলে প্রতিমাটি। মূর্তির মাথা কেটে নিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অঞ্চলে ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি নন্দীগ্রাম ব্লক ২-এর ভেটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের, যেখানে মৃৎশিল্পীরা মূর্তি তৈরি করছিলেন (Hindus Under Attack)।

    ভাঙা হল রামের মূর্তি

    তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলিতে ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজত্বে রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের দ্বারা নির্মিত বিনায়গর মন্দির ভেঙে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় রাজ্যের হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কর্তারা একে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের তকমা দিলেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের দাবি—মন্দিরটি বহু পুরানো। মন্দিরে নিয়মিত পুজো-পাঠ, ও উৎসব অনুষ্ঠিত হতো (Roundup Week)।উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পাক মদতপুষ্ট একটি গুপ্তচর চক্রের হদিশ মিলেছে। এরা হিন্দু পরিচয়, ধর্মীয় প্রতীক এবং তথাকথিত “লাভ জেহাদ” কৌশল প্রয়োগ করে কাজ চালাত। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে একাধিক সংস্থা।

    বিদেশি নাগরিকের কীর্তি

    বেঙ্গালুরুর ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (FRRO) একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিক পাস্টর শন ফয়েখটের বিরুদ্ধে ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় দায়ের হয়েছে মামলা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করলেও, ধর্মীয় প্রচার ও ধর্মান্তর কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, যা পর্যটক ভিসাধারীদের জন্য নিষিদ্ধ। এটি ভিসা নিয়মের প্রতি অবহেলার ইঙ্গিত (Hindus Under Attack)। মুম্বইয়ের ধারাভির গোপীনাথ কলোনিতে একটি পাবলিক টয়লেটের কাছে (Roundup Week) অশ্বিন নাদারকে আশিক আসিম আখতার খান খুন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, অভিযুক্ত বারবার নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাদারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার দিনই নাদারের মা স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করেন।

    লাভ জেহাদ

    উত্তরপ্রদেশের বদাউন জেলার এক হিন্দু তরুণীর অভিযোগ, তাকে “লাভ জিহাদে”র ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেল করেছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করার জন্য তাকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। অভিযোগ, অভিযুক্ত আরশাদ প্রথমে প্রেমের সম্পর্কের ভান করে হিন্দু তরুণীদের বিশ্বাস অর্জন করত। পরে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তাকে হুমকি দিত (Hindus Under Attack)। নেলামাঙ্গালার সিদ্ধার্থ মেডিক্যাল কলেজে এক ইসলামপন্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল্লার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে এক ছাত্রীর প্রতি অশ্লীল আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে (Roundup Week)।

    হিন্দু-বিরোধী মনোভাব

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধ কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দু-বিরোধী মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত। ইসলামিক দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে আরও সূক্ষ্ম এক ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব দেখা যায়, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের পরিবেশ তৈরি করে (Hindus Under Attack)। এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না আইন ও সামাজিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজির ওপর ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা জারি, আপাতভাবে দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং যুক্তির অভাব লক্ষ্য করলে দ্বৈত মানদণ্ড জলের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়।

     

LinkedIn
Share