মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ও হিন্দু ধর্মীয় (Hindus Under Attack) প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, হিংসা ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই সময়কালের ঘটনাগুলিকে ঘিরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Weekly Roundup) এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে থাকা অভিযোগগুলির সবক’টির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
বিনায়ক চতুর্থীর আয়োজন নিয়ে বিতর্ক (Hindus Under Attack)
তামিলনাড়ুতে বিনায়ক চতুর্থী উপলক্ষে মূর্তি স্থাপন ও উৎসব আয়োজনের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এ বছরও বিভিন্ন জায়গায় অনুমতি এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। তবে সরকারি নির্দেশিকায় পরিবেশ রক্ষা এবং নির্দিষ্ট জায়গায় মূর্তি বিসর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার মাটি দিয়ে তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব মূর্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশাসন নির্ধারিত জায়গায় বিসর্জনের নির্দেশিকা প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে উৎসবের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং মূর্তি আটক করা হয়েছে।
খাবারের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক
তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলিতে একটি বিরিয়ানি দোকানের বিজ্ঞাপনী ব্যানারে ভগবান গণেশকে বিরিয়ানি খেতে দেখা যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দোকানের মালিককে গ্রেফতার করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা সামনে আসে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেরলে বিষু উৎসবের সময় কয়েকটি রেস্তরাঁর বিজ্ঞাপনে শ্রীকৃষ্ণের ছবির সঙ্গে মুরগির মাংস, বিরিয়ানি-সহ আমিষ খাবারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবি
চেন্নাইয়ের নুঙ্গামবাক্কমে অবস্থিত অখিলাণ্ডেশ্বরী সমেত অঘতীশ্বরের মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবি তুলেছেন কয়েকজন ভক্ত এবং জাতীয় হিন্দু মন্দির ফেডারেশন (Hindus Under Attack)। ভক্তদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে মন্দিরের বিপুল পরিমাণ জমি ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়েছে।
ফেডারেশনের দাবি, প্রায় ৪১৫ গ্রাউন্ড জমি উদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে এবং মোট ৪৫০-এর বেশি গ্রাউন্ড জমি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক গ্রাউন্ড জমি ২,৪০০ বর্গফুটের সমান। প্রতিবেদনে প্রাক্তন ট্রাস্টি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কিছু আধিকারিকের ভূমিকা থাকার অভিযোগও করা হয়েছে (Weekly Roundup)।
গুলিতে জখম ১
মধ্যপ্রদেশের সিরোঞ্জ কৃষি বাজারের কাছে শ্রমিকদের কাজের তদারকির দায়িত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, আমির মাভিয়া নামে এক ব্যক্তি বিক্রম আহিরওয়ার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেন। আহত বিক্রমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদিশায় পাঠানো হয়।উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জনেশ্বর মিশ্র পার্কের কাছে এক মহিলাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে শাহনওয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহিলা গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এরপর গাড়িটি চলতে শুরু করলে তিনি গাড়ির বনেটে ধরে থাকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।
বাংলাদেশ
বাংলাদেশে হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল ও অন্যান্য হিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি। তাদের হিসাবে, এর মধ্যে ৪৪টি মৃত্যুর ঘটনা, উপাসনালয়ে ৬২টি হামলা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৪৭টি হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা রয়েছে (Hindus Under Attack)।
ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে যুবক আটক
নীলফামারীর বছর বাইশের হিন্দু যুবক দেবাশিস রায়কে আটক করেছে রংপুরের পুলিশ। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করায় আটক করা হয়েছে তাঁকে। শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর জুম্মার নমাজের পর স্থানীয় মুসলিম তৌহিদ জনতার ব্যানারে একটি মিছিল ও সমাবেশ হয় এবং দেবাশিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। তার পরেই আটক করা হয় (Weekly Roundup) তাঁকে। হিন্দুদের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদপ্রতিবেদনে তাঁর একটি পূর্বাভাস উদ্ধৃত করা হয়েছে যে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা অত্যন্ত কমে যেতে পারে, এমনকি শূন্যের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারে (Hindus Under Attack)।
ধর্মীয় বৈষম্য ও উৎসব নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন
প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় বিদ্বেষের পাশাপাশি আইন, প্রশাসন ও সামাজিক পরিসরে সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুদের জন্য সমস্যার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দীপাবলিতে বাজি ব্যবহারে বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার ক্ষেত্রে পরিবেশদূষণ, বায়ুর গুণমান এবং জনস্বাস্থ্যের মতো কারণও সরকারি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কোনও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধকে ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নির্দেশিকা এবং তার প্রয়োগের ধরন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের বিনায়ক চতুর্থী নির্দেশিকাতেও (Weekly Roundup) পরিবেশ সুরক্ষাকে বিধিনিষেধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

