Tag: Religious Persecution

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল এবং বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই (Roundup Week) করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটির দাবি, হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের মধ্যে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যৌন হিংসার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    মুর্শিদাবাদে যুবক খুনের অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুর্শিদাবাদের সুজিত মণ্ডলকে খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে জানি শেখ, সামাউল হক এবং তাজকিরা বিবির বিরুদ্ধে। পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে অর্থনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাক্কার বাসিন্দা সামাউল একটি পোশাকের দোকান চালান এবং এর আগে একটি বিড়ি কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই সুজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ, সুজিত সামাউলকে কয়েক হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ

    স্বঘোষিত নারীবাদী চিন্ময়ী শ্রীপাদার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বরলক্ষ্মী ব্রতের সময় তিনি হিন্দু মহিলাদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    এর পর জন্মাষ্টমীর সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি জানান, তারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    নেপালে বন্যাত্রাণে ধর্মভিত্তিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    নেপালের বন্যাকবলিতদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ত্রাণ ক্যাথলিক ত্রাণ পরিষেবা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী কারিতাস নেপালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই ত্রাণ বণ্টনের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেই সাহায্য শুধুই মানবিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও তা ব্যবহৃত হতে পারে।

    ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই

    বছর তিয়াত্তরের ভক্ত বাসাই জয়রামনের কয়েক দশকের আন্দোলনের পর একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    জয়রামনের বক্তব্য, গত ৪৫ বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বহুবার আবেদন করেও এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

    সুক্র তীর্থম নামে পরিচিত ওই জলাধারটি এলাকার প্রায় ১,৪৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই জলাধারে স্নান করে দেবতার পুজো করলে মানসিক অসুস্থতা নিরাময় হয়।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার বলুরওয়া গ্রামে একটি মাঠে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেন।

    খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। তাঁদের আসার পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভিঠা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।

    ধর্মান্তরের চাপে মৃত্যুর অভিযোগ

    অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় নূকরাজু পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বছর আটত্রিশের সৌজন্যার নামে লেখা পাঁচ পাতার একটি আত্মহত্যার নোট প্রকাশ্যে আসার পর দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তাঁর ছেলেকে হুমকি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌজন্যা, তাঁর বাবা নূকরাজু, মা মীনা এবং নাতি রিয়ানশ রাজামহেন্দ্রবরমের সড়ক-রেল সেতু থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।

    কর্নাটকে মহিলার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

    কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার চক্কাহল্লি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চৈত্রা নামে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন চৈত্রা এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। তাঁর সঙ্গে সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নন্দী হিলস থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের দানস্বরূপ ঘণ্টা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    একটি মন্দিরের দানস্বরূপ পাওয়া ঘণ্টা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে পরিবহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় মন্দিরের ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হলেও, ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যত থেমে গিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নথিতে উল্লিখিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আবু বকর নামে এক দরদাতার মাধ্যমে ঘণ্টাগুলি পরিবহণ ও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত থেকে আবু বকরের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে প্রতিবেদনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে গণহামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সাময়িক মুক্তি

    বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাঁর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর কারাগারে থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি আবেগঘন ভিডিওর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম করার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পিছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দু উৎসব নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত কিছু দেশেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায়।

    এই ধরনের বৈষম্য আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, উপরিতলে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে (Roundup Week) অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে অনুরূপ বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োগ করা হয়, সেই তুলনামূলক ছবি বিবেচনা করলে উঠতে পারে বৈষম্যের প্রশ্ন।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।

    গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

    কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ

    তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ

    ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।

    বাংলাদেশ

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

    নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

    ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা (Hindus Under Attack), ধর্মীয় বিদ্বেষ, মন্দির অপবিত্র করা, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত (Roundup Week)। ১৬ থেকে ২২ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের প্রবণতা ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    মন্দিরের জমিতে গির্জা নির্মাণ! (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রায়চূরের বিচালি ক্যাম্প এলাকায় অঞ্জনেয় মন্দিরের জন্য নির্ধারিত একটি জমিতে গির্জা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ১২ অগাস্ট একটি গির্জার কাছে অঞ্জনেয়ের মূর্তি স্থাপনের পর সংঘর্ষের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

    স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জমি কীভাবে অন্য ধর্মীয় স্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা জমির মূল নথি ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। সংঘর্ষে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনায় দু’জন জখম হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচালি ও বিচালি ক্যাম্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    উত্তরপ্রদেশে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলার গ্যাসড়ি থানার ঠাকুরপুর গ্রামে পেশায় শ্রমিক রাম সানেহিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জনৈক আকবর আলি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

    পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে রামকে ধরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মূল অভিযুক্ত আকবর ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রাম সানেহিকে লাঠি দিয়ে মারতে দেখা যায়।

    সাংলিতে দম্পতির ওপর হামলা, মহিলার মৃত্যু

    মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার এমআইডিসি কুপওয়াড় এলাকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। চাণক্য চকের কাছে বিঘ্নহর্তা শান্তি কলোনিতে হামলার ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় বছর আটত্রিশের মনীষা মোহন কেশরকরের। তাঁর স্বামী মোহন নাগাপ্পা কেশরকর গুরুতর জখম হন। হামলায় অভিযুক্ত জনৈক ফরিদ আবদুল শেখ।

    মুরুগনকে ঘিরে ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

    তামিল সমাজে মুরুগন-উপাসনার ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুরুগন-উপাসনার প্রাচীন ধারায় বৈদিক আচার ও স্থানীয় গ্রামীণ ধর্মাচরণ পাশাপাশি চলেছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এই দুই ধারার মধ্যে বিরোধ ছিল না।

    তবে তামিল সমাজে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এমন একটি মত প্রচলিত রয়েছে যে মুরুগন মূলত দ্রাবিড় লোকদেবতা বা কোনও ঐতিহাসিক পূর্বপুরুষের স্মৃতি থেকে উদ্ভূত এবং পরে তাঁকে সংস্কৃতভিত্তিক কার্তিকেয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। প্রতিবেদনে এই মতের প্রমাণযোগ্য ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মুরুগনকে খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরের উপযোগী একটি চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সঙ্গে এই ব্যাখ্যার সম্পর্ক রয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান

    কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি বিকে হরিপ্রসাদ জানিয়েছেন, সরকারি কোনও আইনি বিধান চালু হলেও দলীয় কর্মসূচিতে কংগ্রেস ঐতিহ্য অনুযায়ী বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে।

    প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১৮৯৬ সাল থেকে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বন্দে মাতরমের দুই স্তবক গাওয়ার রীতি চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। তিনি বলেছেন, “ওরা আমাদের জেলে পাঠাক বা ফাঁসি দিক, আমরা বন্দে মাতরমের ওই দুই অনুচ্ছেদই গাইব।”

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবীদের উদ্দেশে প্রার্থনা থাকায় কংগ্রেসের একটি অংশ তা নিয়ে আপত্তি জানায়।

    বন্দে মাতরম নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য

    অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরও বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসীদের কাছে তা গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।

    এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এড়ানোর জন্য কেন হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও অভিব্যক্তিকে বারবার পরিবর্তন করার দাবি ওঠে।

    চট্টগ্রাম সম্মেলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

    লখনউভিত্তিক অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক মুখপাত্র চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ও আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থীদের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সেখানে ইসলামিকরণ, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি হিন্দুদের উৎখাতের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও এই গুরুতর দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কর্নাটকে মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করার অভিযোগ

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার শিগগাঁও শহরে অঞ্জনেয় মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করে এক ব্যক্তি (Roundup Week)। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনায় পুলিশ শনাক্ত করে মহম্মদ জাফর নামে একজনকে।

    ঘটনাটি ২০ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটে বলে পুলিশের বক্তব্য। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    বিদ্যারত্ন স্লোগান নিয়ে কলেজে বিতর্ক

    কর্নাটকের বিদার জেলার শাহীন পিইউ কলেজে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পর “ভারত মাতা কি জয়” এবং “বন্দে মাতরম” স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রদের থামিয়ে সতর্ক করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

    ছাত্র সাগর গৌলির বাবা হিরোবা গৌলির অভিযোগের ভিত্তিতে চিটগুপ্পা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মীয় অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসের পদ্ধতি ও বর্তমান তথ্যের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন (Roundup Week)।

    ভারত প্রবেশ ও ধর্মান্তর নিয়ে প্রচারের অভিযোগ

    বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ধর্মীয় বক্তা মো আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতে প্রবেশ, শিলিগুড়ি-দার্জিলিং অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে হিন্দুদের ধর্মান্তর এবং অসম ও ত্রিপুরার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংগঠিত যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরির ইচ্ছা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    সীমান্ত থেকে ভারতীয় কৃষককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ভারতীয় চা-চাষিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    নিহত বা নিখোঁজ নন, ওই কৃষক দীপঙ্কর গোপরকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ আটক করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির সঙ্গে তামিজ উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মুক্তির দাবিকে যুক্ত করা হয়েছে। তামিজ উদ্দিন সীমান্তের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয় এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ।

    বিষয়টি নিয়ে তিন দফা ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে,হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। কিছু ইসলামপ্রধান দেশে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম ধরনের বৈষম্য দেখা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার নীতিকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের মতে, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত।

    বস্তুত, প্রতিবেদনে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগগুলিকে নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত (Roundup Week), তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু-বিদ্বেষ, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু-বিদ্বেষ, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে (Roundup Week)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন ধীরে ধীরে আমাদের চোখের সামনেই এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দুবিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য, সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষ। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ধরনের অপরাধগুলির একটি ছবি দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে। তাতে অন্তত বিশ্বজুড়ে আরও বেশি করে মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হবেন।

    হিন্দুফোবিয়া (Hindus Under Attack)

    বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দুফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার একটি গভীর উদ্বেগজনক প্রবণতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রবণতার প্রভাবকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এর বহিঃপ্রকাশ ঘটছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার মাধ্যমে। বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চির প্রধান ও ইন্ডি (INDI) জোটের সাংসদ তিরুমাভালাভান সম্প্রতি এক জনসভায় চোল, পান্ড্য, চের ও পল্লব-সহ প্রাচীন তামিল রাজাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি তামিল সভ্যতার সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অবক্ষয়ের জন্য এই রাজাদের দায়ী করেন এবং তাঁদের প্রতি প্রচলিত শ্রদ্ধা দেখাতে চাননি (Hindus Under Attack)। উত্তরপ্রদেশের অমরোহা জেলার গজরৌলা এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, সে নিজের মুসলিম পরিচয় গোপন করে ইনস্টাগ্রামে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে এক তরুণী হিন্দু মহিলাকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন নির্যাতন করে, যার ফলস্বরূপ গর্ভধারণ ও পরে গর্ভপাত ঘটে। অভিযুক্তের নাম সাহিল (Roundup Week)।

    জোরপূর্বক ধর্মান্তর

    উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে হিন্দু নারী ও নাবালিকাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জেনেছে, স্থানীয় জিমের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছিল। দুই মহিলার অভিযোগ, জিম প্রশিক্ষকরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছিল। মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার দামজিপুরা এলাকায় একটি ভাইরাল ভিডিওতে গরুকে ধর্ষণের অভিযোগে দোকান মালিক আবু খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্নাটকের ইয়াদগিরি জেলার গুরমাটকাল তালুকের পুটপাক গ্রামে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও হিন্দুবিরোধী হিংসার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কেশরী ধ্বজের ছবি পোস্ট করায় এক যুবক ও তাঁর মাকে কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী যুবকদের একটি দল আক্রমণ করে। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার ভগবান নগর কলোনিতে প্রায় ৪০টি হিন্দু পরিবার একযোগে বাড়িতে ‘বিক্রয়ের জন্য’ পোস্টার লাগিয়ে দেয়। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় মুসলিমদের দ্বারা ধারাবাহিক হয়রানি ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জেরেই বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র চলে যেতে চাইছেন তাঁরা। এই অভূতপূর্ব ঘটনার ফলে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে (Roundup Week)। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার ডোড্ডাবল্লাপুরার শান্তি নগরে একটি মন্দিরে সকালের সুপ্রভাত স্তোত্র বাজানো নিয়ে এক ইসলামপন্থী যুবকের আপত্তিকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    এ তো গেল দেশের কথা, এবার দেখে নেওয়া যাক বিদেশের ছবিটাও। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ নিরবচ্ছিন্ন এবং ধীরে ধীরে দেশটি থেকে এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, নারী নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য – এ সবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার কৌশল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী এক হিন্দু ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা গোটা বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বলে মনে করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসে একটি মন্দির উদ্বোধন করেন। প্রস্তাবিত মন্দির স্থলে শৌচাগার নির্মাণের প্রতিবাদে সারাদিনব্যাপী আন্দোলনের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    হিন্দু-অধ্যুষিত গ্রামে মধ্যরাতে সেনা অভিযান

    কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার ধানপুর ইউনিয়নের একটি হিন্দু-অধ্যুষিত গ্রামে মধ্যরাতে সেনা অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ৩১ জানুয়ারি রাত প্রায় ১টায় সেনাবাহিনী বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর শারীরিক নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে (Roundup Week)। বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের মূলে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক স্তরে এক সূক্ষ্ম হিন্দুবিরোধী মনোভাব কাজ করে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এই দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। দীপাবলিতে বাজি নিষেধাজ্ঞা তার একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবের ওপর একতরফা বিধিনিষেধ ও যুক্তির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

LinkedIn
Share