Tag: Republic Day Parade

Republic Day Parade

  • Bactrian Camels: প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ছিল, সেনার দুই ‘নীরব যোদ্ধা’ গালওয়ান ও নুব্রা, জানেন কারা এরা?

    Bactrian Camels: প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ছিল, সেনার দুই ‘নীরব যোদ্ধা’ গালওয়ান ও নুব্রা, জানেন কারা এরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day Parade) দিল্লির কর্তব্য পথে প্রথমবার কুচকাওয়াজে অংশ গ্রহণ করেছে লাদাখের বিখ্যাত দুই কুঁজবিশিষ্ট ‘ব্যাক্ট্রিয়ান উট’। এবারের প্যারোডে ‘গালওয়ান’ ও ‘নুব্রা’ নামের এই উট (Bactrian Camels) দুটির উপস্থিতি কেবল প্রদর্শনীর জন্য ছিল না, বরং এটি ভারতের সুউচ্চ হিমালয় প্রবর্তের দুর্গম অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় এক নতুন কৌশলগত অধ্যায়ের ইঙ্গিত করেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কীভাবে নিরাপত্তার কাজে সীমান্ত রক্ষীরা অটুট থাকেন সেই চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রাকৃতিক অভিযোজন (Republic Day Parade)

    ব্যাক্ট্রিয়ান উট (Bactrian Camels) লাদাখের অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে বসবাসের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই সক্ষম। যেখানে আধুনিক যুদ্ধের ড্রোন বা শক্তিশালী যানবাহনগুলো তীব্র ঠান্ডা এবং অক্সিজেনের অভাবে বিকল হয়ে পড়ে, সেখানে এই উটগুলো কার্যকর থাকে। এদের শরীরে থাকা বিশেষ লোহিত রক্তকণিকা (RBC) অল্প অক্সিজেনেও এদের টিকে থাকতে সাহায্য করে। ফলে টহলদারির জন্য এই পশু ভীষণভাবে উপযুক্ত। কুচকাওয়াজে (Republic Day Parade) এবার এক জোড়া উটকে প্রদর্শন করানো হয়।

    বিস্ময়কর সহনশীলতা

    এই উটগুলোর (Bactrian Camels) পিঠের দুটি কুঁজ রয়েছে। উটের পিঠে থাকা কুঁজ মূলত চর্বির ভান্ডার। এই জমানো চর্বি থেকে শক্তি নিয়ে ব্যাক্ট্রিয়ান উটরা শীতকালে খাবার ছাড়াই টানা ২-৩ সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি, বরফ খেয়েই এরা নিজেদের জলের অভাব পূরণ করে। মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় এরা অনায়াসে কাজ করতে পারে।

    ভারবহন ক্ষমতা

    ডিআরডিও-ডিআইএইচএআর (DRDO-DIHAR) দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই উটগুলো (Bactrian Camels) ১৫০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। পূর্ব লাদাখের মতো দুর্গম এলএসি (LAC) এলাকায় গোলাবারুদ, খাবার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এরা খচ্চর বা ঘোড়ার চেয়েও বেশি দক্ষ।

    ঐতিহাসিক যোগসূত্র

    ঐতিহাসিকভাবে এই উটগুলো প্রাচীন ‘সিল্ক রুট’-এর মেরুদণ্ড ছিল। চিন, মঙ্গোলিয়া ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যদিও ভারতে মাত্র ৩৬৫টি এই প্রাজতির উট (Bactrian Camels) রয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকার ও সেনাবাহিনী লাদাখের এই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে।

    নিরব যোদ্ধা

    ড্রোন এবং রোবোটিক্সের যুগেও লাদাখের এই ‘মুন্দ্রি’ উটগুলো (স্থানীয় নাম) তাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে। গালওয়ান উপত্যকা এবং নুব্রা উপত্যকার নামাঙ্কিত এই উট (Bactrian Camels) দুটি ভারতের সীমান্ত রক্ষায় ‘সাইলেন্ট ওয়ারিয়র’ বা নীরব যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

  • Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    Republic Day 2026: রাইফেল-মাউন্টেড রোবট, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক! প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধের ভবিষ্যতের এক ঝলক তুলে ধরতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। ২৬ জানুয়ারি (Republic Day 2026) কর্তব্য পথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে রাইফেল-মাউন্টেড রোবট। সাম্প্রতিক মহড়ায় দেখা গিয়েছে এই উন্নত চতুষ্পদ যন্ত্রগুলো। এই ধরনের অস্ত্র ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেই রীতি বদলের সূচনা করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মনির্ভরতার বার্তা দিতে দেশে তৈরি অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। সেই ধারা মেনেই এ বার ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্যপথে সামরিক উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র নতুন কয়েকটি নমুনার সঙ্গে দেশবাসী পরিচিত হবেন।

    যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রোবট

    রাইফেল-মাউন্টেড রোবটগুলি সাধারণত মাল্টি-ইউটিলিটি লেগড ইকুইপমেন্ট (MULEs)। যুদ্ধ সহায়তা ও নজরদারির জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলি অস্ত্র, সেন্সর এবং নজরদারি সরঞ্জাম বহনে সক্ষম। ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই ১০০টি এমন রোবোটিক মডিউল নিজেদের অপারেশনাল ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটিকে স্বয়ংক্রিয়তা ও মানববিহীন যুদ্ধক্ষেত্র সহায়তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই ধরনের চতুষ্পদ রোবট আগে অসামরিক ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছিল— ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট সম্প্রচারে চলমান ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই রোবটগুলি। এবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নজরদারি, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং ভবিষ্যতে সরাসরি যুদ্ধের জন্য অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে সেনাবাহিনী। বিশেষ করে দুর্গম ও শত্রুপ্রবণ এলাকায় এই রোবটের কার্যকারিতা অপরিসীম।

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র

    একসময় যুদ্ধ মানে ছিল সৈন্যের মুখোমুখি লড়াই। যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ভর করত সৈন্যসংখ্যা, শারীরিক শক্তি ও সাহসের ওপর। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু রণাঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে মহাকাশ ও ডিজিটাল জগতে। আজকের যুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র অনেক সময় বন্দুক নয়, বরং ড্রোন, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি। ভারত থেকে পাকিস্তান, ইউক্রেন থেকে গাজা, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র,—সর্বত্র যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে প্রযুক্তির হাতে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো কিংবা পাহারার কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সৈন্যদের সরাসরি জীবনের ঝুঁকি কমে আসে। অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও এই পরিবর্তনের অংশ।

    অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল

    প্রযুক্তির এই প্রদর্শনীকে আরও জোরালো করবে ডিআরডিও-র তৈরি দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (LRAShM)। আগামী ২৬ জানুয়ারি অর্থাৎ, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ভারতের নতুন দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রর নকশা ও প্রস্তুত করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও। অত্যাধুনিক এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর হাইপারসনিক গতি। অর্থাৎ, শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি বেগে উড়তে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। আর সেই কারণেই শত্রুপক্ষের রেডারে ধরা পড়ে না এই মিসাইল। বর্তমানে এই ক্ষেপণাত্র ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে সক্ষম। তবে, আগামীতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যাতে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করছে ডিআরডিও। এই ক্ষেপণাত্র বিভিন্ন ধরনের পেলোড বহন করতে পারে। যাতে এই একই ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের বর্ম ভেদ করতে পারে। এ ছাড়াও এই মিসাইল মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়তে পারে। ফলে আকাশের দিকে লক্ষ্য রাখা বিভিন্ন রেডার এড়িয়ে যেতে পারে। এই মিসাইলের এরোডায়নামিক দক্ষতা একে অনেক দূর পর্যন্ত গ্লাইড করতে বা উড়তে সাহায্য করে। এর প্রদর্শন ভারতের হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অধীনে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    কৌশলগত দিক থেকেও এই মিসাইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মিসাইল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। কারণ, এই মিসাইল সর্বোচ্চ দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ডিআরডিও দুই ধরনের মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। একটি হল হাইপারসনিক ইন্টার কন্টিনেন্টাল গ্লাইড মিসাইল ও হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। লং-রেঞ্জ অ্যান্টি শিপ মিসাইলের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রমাণ করে মিসাইল নিয়ন্ত্রণ কৌশল, মিসাইলের গতিপথের নকশা ও মিসাইল প্রযুক্তি তৈরিতে ভারত এখন গোটা বিশ্বকে টেক্কা দিচ্ছে।

    কর্তব্য পথে আত্মনির্ভর ভারত

    ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এ (Republic Day 2026) ভারত উদযাপন করবে তার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। প্রথা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে থাকে বর্ণাঢ্য সামরিক প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশজুড়ে দেশাত্মবোধক কর্মসূচি। এ বছরের থিম বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে—‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। এই থিম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতীয় সংগীতের ভূমিকা এবং দেশের সামষ্টিক চেতনায় তার চিরস্থায়ী প্রভাবকে শ্রদ্ধা জানায়। সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র। বাড়ছে যুদ্ধ বিমান, যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা। উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি। একদিকে যেমন বিদেশি সংস্থা বিনিয়োগ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা সেক্টরে তেমনই ভারতের ডিআরডিও সহ সংস্থাগুলোও কাজ করে চলেছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতাই হয়ে উঠেছে ভারতের মন্ত্র। এবার তারই ছবি ফুটে উঠবে দিল্লির কর্তব্য পথে।

LinkedIn
Share