Tag: Republic of Balochistan

  • Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করল বালুচিস্তান (Balochistan Independence Day)। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করল বালুচরা। বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ জানান বালুচিস্তান, পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের মধ্যেই এক বার্তায় রাষ্ট্রসংঘ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই দাবি জানান তিনি। এরপরই দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। বালুচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়, বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

    আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থনের আহ্বান

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত বার্তায় মীর ইয়ার বালুচ বলেন, বালুচিস্তানকে আর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ না করে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন। বালুচ নেতার বার্তায় পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়। বালুচিস্তানের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক ‘নৈতিক সমর্থন’ অব্যাহত রাখার আবেদনও জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ

    বালুচিস্তান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মীর ইয়ার বালুচ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের প্রচারের ফলে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বালুচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীন বালুচিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে নিজস্ব পাসপোর্ট, মুদ্রা, সংবাদমাধ্যম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কূটনীতির দায়িত্বও স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ১১ অগাস্টের ঐতিহাসিক দাবিকে সামনে রেখে প্রচার

    মীর ইয়ার বালুচের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের স্বাধীনতার দাবি ১৯৪৭ সালের ১১ অগাস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের আগে ওই দিন বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এবার সেই ঐতিহাসিক দাবির স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দিকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বালুচিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সংঘাত তৈরি হয় এবং ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি বাহিনী কালাত দখল করে। অন্যদিকে, বালুচিস্তানে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঠেকাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বালুচ গোষ্ঠীর দাবি, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও বালুচিস্তানের একাধিক এলাকায় সমর্থকেরা ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালন করেছেন। তাঁরা ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

    দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ

    তবে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বালুচিস্তানকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। প্রদেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবি নিয়ে ইসলামাবাদ ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে ১১ অগাস্ট ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনকে ঘিরে বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা দিনটিকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তথাকথিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-কে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বালুচ নেতাদের দাবি, পাকিস্তানি প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নজরদারি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কোয়েটা, নৌশকি, কালাত, গওয়াদর, তুরবত ও খুজদারসহ একাধিক এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বালুচ মানবাধিকারকর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ব্যাহত করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু এলাকায় ভারী নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসমাবেশ ও মিছিলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখারও অভিযোগ উঠেছে। তবে বালুচ নেতৃত্বের দাবি, এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বাধীনতার দাবিতে কর্মসূচি থামেনি। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের একাংশ স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

    ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর দাবি

    সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ নামে একটি নথি প্রকাশ করে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি আরও জোরদার করেছেন। ওই ঘোষণায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ‘বালুচি ফালুস’ নামে নতুন মুদ্রা চালুর দাবিও করা হয়েছে। মীর ইয়ার বালুচের পক্ষ থেকে বালুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বালুচ নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বালুচিস্তানকে না দেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বালুচ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বালুচিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত। ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর স্বাধীনতার ঘোষণা মূলত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি; এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বালুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ১১ আগস্টের কর্মসূচি সেই দীর্ঘস্থায়ী স্বাধীনতার আন্দোলনকে ফের আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

  • Balochistan: স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে উত্তাল বালোচিস্তান, ফের প্রচারের আলোয় হিংলাজ মাতার মন্দির

    Balochistan: স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে উত্তাল বালোচিস্তান, ফের প্রচারের আলোয় হিংলাজ মাতার মন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে উত্তাল হয়েছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান (Balochistan)। এই আবহে ফের একবার প্রচারের আলোয় উঠে এসেছে হিংলাজ মাতার মন্দির এবং কাটাস রাজ মন্দির। বালোচিস্তানের বিদ্রোহীরা তাঁদের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে একপ্রকার পাকিস্তানের সেনা ও সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন বালোচিস্তানের হাজার হাজার মানুষ। বালোচিস্তানের এই দুই প্রাচীন মন্দিরের সঙ্গেই ভারতের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক এক পুরনো সম্পর্ক রয়েছে।

    বালোচিস্তানের লাসবেলা জেলায় অবস্থিত হল হিংলাজ মাতার মন্দির

    পাকিস্তানের বালোচিস্তানের (Balochistan) লাসবেলা জেলায় অবস্থিত হল হিংলাজ মাতার মন্দির। এই মন্দির হিন্দুদের একান্ন শক্তি পীঠের অন্যতম বলে মানা হয়। হিংলাজ মাতার মন্দির হিংলাজ শক্তিপীঠ নামে পরিচিত। হিন্দু ধর্ম অনুসারে বালোচিস্তানের এই শক্তি পীঠেই মাতা সতীর মস্তক পড়েছিল। এমনটাই ভক্তদের বিশ্বাস। হিঙ্গল নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান। এই মন্দির সিন্ধি এবং বালোচিস্তানে বসবাসরত হিন্দু সমাজের কাছে অত্যন্ত ভক্তির জায়গা। শুধু তাই নয়, বালোচিস্তানে (Balochistan) বসবাসরত মুসলমানদের একাংশের কাছেও হিংলাজ মাতার মন্দির নানি পীর বলে পরিচিত।

    পাঞ্জাব প্রদেশের চকোয়ালে অবস্থিত হল কাটাস রাজ শিব মন্দির

    একইভাবে পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাব প্রদেশের চকোয়ালে অবস্থিত হল কাটাস রাজ শিব মন্দির। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলে পরিচিত এই মন্দির ফের একবার প্রচারের আলো উঠে এসেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দির ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। এখানেই সতীদাহের সময় ভগবান শিবের অশ্রু পড়েছিল। এই স্থানে রয়েছে একটি পবিত্র জলাশয়। শুধু তাই নয়, কাটাস রাজ শিব মন্দিরের অন্য গুরুত্বও রয়েছে বলে জানাচ্ছেন ঐতিহাসিকরা। প্রাচীন ভারতবর্ষে এই মন্দিরই হিন্দু ধর্মের শিক্ষা এবং দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বিশ্বাস করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, পাণ্ডবরা তাঁদের অজ্ঞাতবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, আদি গুরু শংকরাচার্য এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। কাটাস রাজ শিব মন্দিরের গঠনে হিন্দু এবং বৌদ্ধ রীতির মিশ্রণ দেখা যায়। পাকিস্তানে হিন্দুদের (Balochistan) জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে আজও রয়ে গিয়েছে। যদিও দেশভাগের পরবর্তীকালে এই মন্দিরে পুজো না করতে দেওয়ার অনেক অভিযোগ সামনে এসেছে।

  • Balochistan: বালোচিস্তানে গণবিদ্রোহ! ভারতকে রক্তাক্ত করার নীতিই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে পাকিস্তানে

    Balochistan: বালোচিস্তানে গণবিদ্রোহ! ভারতকে রক্তাক্ত করার নীতিই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে পাকিস্তানে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিজের পাপের ফল ভোগ করছে পাকিস্তান (Pakistan)! বিগত কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানের একটাই নীতি, সেটা হল ভারতকে আঘাত করা এবং রক্তাক্ত করা। পাকিস্তান এই নীতিকে বাস্তবায়িত করতে সন্ত্রাসকে তোষণ করছে। জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে। সে দেশে প্রকাশ্যেই সদর দফতর খুলে বসে আছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। তাও সেনাবাহিনীর নাকের ডগায়। বিগত কয়েক দশক ধরেই এই জঙ্গিদের ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান। ভারতের দুই সীমান্তবর্তী রাজ্য জম্মু-কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবে ধর্মীয় তথা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উস্কানি দেওয়ার লক্ষ্যে এই কাজ করে আসছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসের মদতদাতা পাকিস্তান যখন ভারতে আঘাত হানার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন তারা কখনও ফিরে দেখেনি তাদের নিজের বাড়ির উঠোনেই বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুন জ্বলে উঠছে। আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হল বালোচিস্তান। এই প্রদেশের গণবিদ্রোহে বর্তমানে পাকিস্তানের সেনা ও সরকার একেবারে বিপর্যস্ত। সে দেশের সরকারের কাছে এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বালোচিস্তানের গণবিদ্রোহ (Balochistan)।

    ১৯৪৮ সালে জোর করে বালোচিস্তান (Balochistan) দখল করে পাকিস্তান

    ১৯৪৮ সালের বালোচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হয়ে ওঠে। একপ্রকার জোর করে বালোচিস্তানকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে সময়ে বালোচিস্তান প্রদেশের বেশ কিছু প্রভাবশালী উপজাতি নেতা ছিলেন, যাঁরা তাদের এই প্রদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চেয়েছিলেন। তবে, তাঁদের সেই চাওয়া এবং দাবিকে কোনও মূল্যই দেয়নি পাকিস্তানের (Pakistan) তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা। এক প্রকার জোর করে বালোচিস্তানের ওপরে নিজেদের কর্তৃত্ব চাপায় পাকিস্তান সরকার। বালোচিস্তান (Balochistan) যেন প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এক ভূমি। কী নেই এখানে! গ্যাস, কয়লা, তামা, সোনা সমস্ত কিছুই। প্রদেশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পাকিস্তান কখনও এই প্রদেশকে তার প্রাপ্যটুকু দেয়নি। তার মূল্য দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চনা করা হয়েছে প্রদেশের মানুষদের সঙ্গে। তাঁরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গিয়েছে বালোচিস্তান। কোনও উন্নয়ন পৌঁছায়নি প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এই প্রদেশে।

    পাকিস্তানি সেনার করুণ অবস্থা সামনে এসেছে গণবিদ্রোহে (Balochistan)

    খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধশালী এই অঞ্চলের জনগণের ক্ষোভ তাই পুঞ্জীভূত হতে থাকে। পাকিস্তান সম্পদ সমৃদ্ধ বালোচিস্তানকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা করায় সেখানকার মানুষজন হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়। তাঁরা বলতে থাকেন, ইসলামাবাদ বিগত কয়েক দশক ধরে যে গৃহীত নীতি অনুসরণ করে চলেছে তা বালোচিস্তানের বিরুদ্ধে গিয়েছে। তার বিরুদ্ধেই তারা এই অস্ত্র হাতে নিয়েছে। ভারতকে রক্তাক্ত করতে গিয়ে পাকিস্তান এখন নিজের দেশেই পিছু হঠছে। বালোচ বিদ্রোহীদের হাতে পাকিস্তানের সেনাকেও যেন অসহায় লাগছে। পাকিস্তানি সেনার কনভয়গুলিতে লাগাতার আক্রমণ, বোমা হামলা, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা, অতর্কিত হামলা- এই সমস্ত কিছুতেই অসহায় হতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানকে। কড়া হাতে বিদ্রোহ দমন করতে চেয়েছে ইসলামাবাদ। তবে উলটে বালোচ বিদ্রোহীরা যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি, বালোচিস্তানের প্রায় ৫১ জায়গায় পাক সেনার উপরে ৭১টি হামলা চালিয়েছে তারা। বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির সঙ্গে রয়েছে গোটা প্রদেশের জনসমর্থন। অনেক চেষ্টা করেও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিদ্রোহীদের।

    ২০০০ সাল থেকে বালোচ বিদ্রোহীরা সেনা ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে থাকে

    দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার বালোচিস্তানের মানুষদের প্রতি পাকিস্তান সরকারের এমন বঞ্চনা, বিদ্রোহে পরিণত হয় ২০০০ সালে। ওই বছরেই বালোচিস্তানের বিদ্রোহীরা তাদের নিকটবর্তী স্থানগুলির সেনাঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায়। এরপর ২০০৬ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বালোচিস্তান উপজাতি গোষ্ঠীর নবাব আকবর বুগদিকে হত্যা করে। এতেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে শুরু করে। বিদ্রোহ দমনের নামে তারপর থেকেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী শয়ে শয়ে যোদ্ধাকে হত্যা করতে থাকে। তাঁদেরকে নির্যাতন করতে থাকে। বিদ্রোহীদের অপহরণ করতে থাকে পাকিস্তানি সেনা। সেনাবাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডে বালোচিস্তান মানুষদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালে যা ভয়ঙ্কর জায়গায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বালোচিস্তান।

    প্রতীকী স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন বালোচ নেতারা, সমাজমাধ্যমে ভাইরাল জাতীয় পতাকা

    পাকিস্তান সরকারের এমন সন্ত্রাসের অভিযোগে বালোচিস্তান নেতারা বিগত কয়েক দশক ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাটি উল্লেখ করে আসছেন। তাঁরা বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চের দৃষ্টিও আকর্ষণ করছেন। পাকিস্তান থেকে ইতিমধ্যে স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করেছেন তাঁরা। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁদের প্রস্তাবিত জাতীয় পতাকা। এর পাশাপাশি স্বাধীন বালোচিস্তান রাষ্ট্রের মানচিত্রও দেখা গিয়েছে। বালোচিস্তান প্রজাতন্ত্র নামে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি। এ নিয়ে বালোচিস্তানের অন্যতম নেতা তথা লেখক মীর ইয়ার বালুচ বলেন, ‘‘পাকিস্তান অধিকৃত বালোচিস্তানের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। বালোচিস্তান (Balochistan) পাকিস্তানের অংশ নয়।’’ নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্টে মীর ইয়ার বালুচ রাষ্ট্রসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার জন্য। ১৯৪৮ সালের পাকিস্তান জোর করে বালোচিস্তান দখল করার পর থেকেই এই সমস্যা চলছে বলেও জানিয়েছেন মীর ইয়ার বালুচ। তাঁর মতে, ‘‘এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাস-খনিজ এই সমস্ত কিছুই ইসলামাবাদ লুট করছে। বালোচিস্তানের স্থানীয় জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ওই কারণে পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে বালোচিস্তান।’’ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বালোচিস্তানের পতাকা ও মানচিত্র হাতে সাধারণ মানুষের ছবিও পোস্ট করতে দেখা গিয়েছে মীর ইয়ার বালুচকে।

    বালোচিস্তানের জনগণ চালাচ্ছে একটি Government in Exile! সরকারের মহিলা প্রধানমন্ত্রী নাইলা কাদরি

    সাবেক বালোচিস্তানের একটা বড় অংশ যেমন পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত, আরও দুটি অংশ ঢুকে আছে, আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে! তবে এখন পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশের নাম বালোচিস্তান, পাকিস্তানের মোট আয়তনের ৪৩ শতাংশ। এক লাখ একত্রিশ হাজার ৫৪৫ বর্গ মাইল! ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বালোচিস্তানের পার্লামেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করে! কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বালোচিস্তান জবরদখল করে! তবে অনেক বছর ধরেই বালোচিস্তানের জনগণ চালাচ্ছে একটি Government in Exile! সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন মহিলা! তাঁর নাম নাইলা কাদরি! যাঁকে ইতিমধ্যেই বিতারিত করা হয়েছে দেশ থেকে! এই বালোচ নেত্রী পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনও চেয়েছেন। পেশায় অধ্যাপিকা নইলা কাদরি বিশ্বাস করেন, একমাত্র সনাতনী ভারতের সঙ্গে পুরান সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আছে বালোচবাসীর! বালোচবাসীর মধ্যে হিন্দু আছেন শিখ আছেন মুসলিম আছেন, সকলে বালোচ পরিচয়ে আছেন! ধর্মের পরিচয়ে নেই! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বালোচিস্তান, যা একসময় একটি স্বাধীন দেশ ছিল, তা এখন পাকিস্তানের অবৈধ দখলে রয়েছে!

LinkedIn
Share