Tag: Respiratory Disease

  • Hantavirus: হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম কী? কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগ? কারা আক্রান্ত হতে পারেন?

    Hantavirus: হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম কী? কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগ? কারা আক্রান্ত হতে পারেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই শরীরের উত্তাপ বাড়তে থাকে। সঙ্গে মাথার যন্ত্রণা! কয়েক দিনের এই উপসর্গের পরেই দেখা দেয়, বমি, তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা জরুরি। না হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারে! সম্প্রতি, হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম (HPS) নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সম্প্রতি দুজন ভারতীয় এই বিরল ভাইরাস (Hantavirus) ঘটিত অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অযথা বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সতর্কতা জরুরি। না হলেই সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।

    হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম কী?

    হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম একটি ভাইরাস ঘটিত অসুখ। এটা মূলত ফুসফুসে হয়। হান্টা ভাইরাস থেকে ফুসফুসের সংক্রমণ ঘটে। এই রোগ ইঁদুরের থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়।

    কীভাবে এই রোগ সংক্রামিত হতে পারে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ইঁদুরের থেকেই মানুষের শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ইঁদুরের লালা, মল কিংবা মূত্র থেকেই এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে‌। এমনকি ইঁদুর কামড়ালেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আক্রান্তের শরীর থেকে আরেকজনের দেহে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    কীভাবে এই রোগ চিহ্নিত করা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম সনাক্ত করা সম্ভব। তবে, তার আগে এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রচন্ড জ্বর, মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যার মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেয়। এরপরে বমি এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কাশিও হয়। এছাড়া বুকের মধ্যে ভারি কিছু জমে থাকার অনুভূতি হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই আক্রান্ত চিহ্নিত করা সম্ভব। তবে অনেক সময় সিটি স্ক্যান এবং বুকের এক্স রে করার প্রয়োজন হয়। রোগী দ্রুত চিহ্নিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

    কাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম ইঁদুর থেকে হয়। তাই গ্রামাঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি হতে পারে। বিশেষত যাঁরা গম ও চালের গুদামে কাজ করেন। তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি বিদেশের একটি ক্রুজ জাহাজে ভ্রমণকালে দুই ভারতীয়র শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। তাই শুধু গ্রামীণ এলাকার মানুষ নন, শহুরে ভারতীয়দের ও সতর্ক থাকা জরুরি।

    এই ভাইরাস কেন উদ্বেগ বাড়াতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম প্রাণঘাতী একটি ভাইরাসজনিত অসুখ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের একাধিক দেশের তথ্য অনুযায়ী, ১০ জন হান্টা পালমোনারি সিনড্রোম আক্রান্তের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়। এই রোগে আক্রান্তের মৃত্যু হার অনেকটাই বেশি। শ্বাসকষ্ট জনিত এই অসুখে বড় জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জটিলতা বেশি দেখা যায়। যাদের ফুসফুসের অসুখ রয়েছে, এই রোগ তাদের জন্য বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ এই ভাইরাস ফুসফুসকের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ভারতে স্বাস্থ্য বিপর্যয় হয়নি। তবে আগাম সচেতনতা জরুরি। তবেই বড় বিপদ আটকানো‌ যাবে।

LinkedIn
Share