Tag: Revenue Leakage

  • Suvendu Adhikari: তিন মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ১৮%, কর না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর দাবি রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: তিন মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ১৮%, কর না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর দাবি রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার বদলের পর রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তিন মাসের হিসাবেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন কোনও কর চাপানো হয়নি, অথচ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এর আগে (Suvendu Adhikari) প্রথম এক মাসেই অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধিকে (Revenue Collection) তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে বিপুল ঋণের দায়, অন্যদিকে সামাজিক প্রকল্প, সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন, মহার্ঘ ভাতা এবং পরিকাঠামো খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়—সব মিলিয়ে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানো এখন অর্থ ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

    নজর কর ফাঁকি ও রাজস্ব ফাঁক বন্ধে (Suvendu Adhikari)

    রাজ্য সরকারের বক্তব্য, করের হার বাড়িয়ে নয়, আদায়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেই এই সাফল্য এসেছে। স্টেট জিএসটি, আবগারি, স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি, মোটর ভেহিকল ট্যাক্স, বিদ্যুৎ শুল্ক এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উপর ভ্যাট—রাজ্যের নিজস্ব কর-রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    খনি, পাথর খাদান ও বালি-সহ প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য অর্থ নিশ্চিত করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়্যালটি আদায়, খনিজ পরিবহণের বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা এবং করযোগ্য লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    জেলাভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথায় প্রত্যাশার তুলনায় সরকারি আয় কম হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, নিয়মিত করদাতাদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কর সংগ্রহের পরিধি এবং দক্ষতা বাড়ানো।

    তিন মাসেও ঊর্ধ্বমুখী রাজস্ব

    সরকারের প্রথম মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান সামনে এসেছিল। পরে আড়াই মাসের হিসাবেও রাজস্ব বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছনোর কথা জানানো হয়। তিন মাসের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর সেই হার আরও বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। অর্থ দফতরের কর্তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রথম মাসের সাময়িক সাফল্য পরের দু’মাসেও ধরে রাখা গিয়েছে।

    রেভিনিউ লিকেজ’ বন্ধে জোর

    সরকারি মহলের একটি বড় অংশের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল এতদিনের ফাঁকফোকর বন্ধ করা। বিশেষ করে খনি, খাদান, বালি ও পাথরের ব্যবসায় সরকারের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি কোষাগারে পৌঁছচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রশাসনের দাবি, বৈধ নথি ছাড়া খনিজ পরিবহণ, রয়্যালটি ফাঁকি কিংবা করযোগ্য লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব সরকারি ব্যবস্থার বাইরে থেকে গেলে রাজস্বের বড় অংশ হারিয়ে যায়। সেই ধরনের অনিয়ম রুখতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের আশা, এই ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে (Suvendu Adhikari)।

    তবে এই সাফল্যের স্থায়িত্ব নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন। একটি আর্থিক বছরের কয়েক মাসে রাজস্ব বাড়লেই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় না। বছরের শেষ পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ধরে রাখা সম্ভব হয় কি না, সেটাই হতে চলেছে সরকারের সামনে পরবর্তী পরীক্ষা।

    বিপুল ঋণের মধ্যে বাড়তি রাজস্বের গুরুত্ব

    রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যেই সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, কর্মীদের বেতন-পেনশন, মহার্ঘ ভাতা এবং উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো খরচ।

    এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো গেলে সরকারের উপর অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প বা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির জন্য আর্থিক পরিসরও বাড়তে পারে।

    সরকারের অবস্থান, করের হার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের উপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়ানো এবং ফাঁকি রোখাই আপাতত বেশি কার্যকরী পথ। প্রথম মাসে অতিরিক্ত রাজস্ব এবং তিন মাসে প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে সেই নীতির প্রাথমিক ফল হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।

    দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য শিল্প ও বিনিয়োগ জরুরি

    অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, শুধু কর ফাঁকি বন্ধ করা বা প্রশাসনিক নজরদারি বাড়িয়ে দীর্ঘদিন রাজস্ব বৃদ্ধির একই হার ধরে রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন, ব্যবসার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার প্রয়োজন। শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকে তাই রাজস্ব বৃদ্ধির স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার (Suvendu Adhikari)। প্রথম তিন মাসের পরিসংখ্যান আপাতত রাজ্য প্রশাসনকে স্বস্তি দিয়েছে। তবে এই গতি আগামী মাসগুলিতেও অব্যাহত থাকে কি না, আর রাজস্ব বৃদ্ধির (Revenue Collection) সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা গতি পায়— আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

     

LinkedIn
Share