Tag: Ritabrata Banerjee

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিলেন দলের প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Baraik)। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে মতামত দিয়েছেন, তা (BJP) মেনে নিয়েই আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে এটি তৃণমূলের তৃতীয় রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ। এর আগে ৮ জুন পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তার ঠিক দুদিন পরে, ১০ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। এবার সেই তালিকায় উঠে গেল প্রকাশের নাম।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে প্রকাশ (Prakash Baraik)

    এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন প্রকাশ। এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে প্রকাশ চলে যান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে। সেখানে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ বলেন, “সময়ই সব বলবে। এখনই কিছু বলতে চাই না। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী করব, তা সময়ই ঠিক করবে।” তিনি জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন প্রকাশ। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনমত বিজেপির পক্ষেই ছিল। আমার নিজের এলাকায়ও তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। উত্তরবঙ্গের ফলও আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণেই আমি মনে করেছি, এই পদে আমার থাকা আর নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই আমি সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই থেকেই ইস্তফা দিয়েছি।”

    ক্রমেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল

    এদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন (Prakash Baraik), বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের সংযুক্তির প্রশ্নই নেই এবং গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঋতব্রতের দাবি, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা আগের ৫৮ জনের তুলনায় বেশি। খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে (Prakash Baraik) সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসে ধারাবাহিক পদত্যাগ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তায় বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (BJP) নয়া মোড় নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

     

  • Ritabrata Banerjee: দু’টুকরো হয়ে গেল মমতার সাধের তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

    Ritabrata Banerjee: দু’টুকরো হয়ে গেল মমতার সাধের তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর এক মাসও কাটেনি, ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের তৃণমূল। একদিকে রয়েছেন মমতা এবং হাতে গোণা কয়েকজন বিধায়ক, আর অন্যদিকে রয়েছেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন তিনিই (Opposition Leader)। নয়া বিরোধী দলনেতার জন্য বুধবারই খুলে দেওয়া হল বিধানসভার ঘর। তাঁর হাতে চাবি তুলে দেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

    ঋতব্রতর দাবি (Ritabrata Banerjee)

    ঋতব্রতর দাবি, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী দুই-তৃতীয়াংশই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক বিজেপির চোখে চোখ রেখে লড়াই করবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘আপাতত ৫৮ জন। আরও দু’জন আছেন। তাঁরা এখন রাজ্যের বাইরে। তাঁদের সম্মতি রয়েছে। তাঁদের সমর্থন এলে এই সংখ্যা ৬০ হবে।’’ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আবেদনও জানান ঋতব্রত। তিনি জানান, বিধানসভায় মুখ্যসচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার করা হয়েছে চার জনকে— জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহাকে। তাঁদের সমর্থনের চিঠি বিধানসভার স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ঋতব্রতর

    ঋতব্রত বলেন, ‘‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ যে, বিরোধীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। আমরা কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বিরোধী বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। আমরা দায়িত্বশীল, সদর্থক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। সরকারের চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। তাদের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসাও করব।’’ তিনি (Ritabrata Banerjee) বলেন, ‘‘বাংলার মাটিতে মানুষ রায় দিয়েছেন আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি ‘বস্’ নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আমরা আলোচনা করে নেব।’’

    বিরোধী দলনেতার ঘর বরাদ্দ ঋতব্রতকে

    প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল গোহারা হারতেই প্রকাশ্যে চলে আসে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। ‘আইপ্যাক এবং ভাইপো কালচারে’র কারণেই যে পদ্মফুলের কাছে ঘাসফুল ধরাশায়ী হয়েছে, তা নিয়েও সোচ্চার হন অনেকে। বিজেপি সরকার গঠনের দিন কয়েক পর কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছিলেন মমতা। সেখানেও বিধায়কদের সিংহভাগকেই দেখা যায়নি। পরে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার কান্ডারি মমতা। সেই বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে হাজির ছিলেন মাত্রই ১৯ জন। ক্ষোভে বৈঠক বাতিল করে দেন মমতা। পরে সইকাণ্ডের জেরে আরও চওড়া হয় তৃণমূলের ফাটল। যার জেরে বহিষ্কার করা হয় ঋতব্রতকে। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করেন তিনি। ঋতব্রতর দাবিকে (Opposition Leader) মান্যতা দিয়ে এদিন বিধানসভায় খুলে দেওয়া হয় বিরোধী দলনেতার ঘর (Ritabrata Banerjee)।

     

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে। যার জেরে ভেঙে দু’টুকরো ঘাসফুল!

    তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট

    ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কার্যত দলীয় ভাঙনের রূপ নিয়েছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। পরে আরও ছ’জন এসে সই করবেন বলে জানানো হল ‘নতুন’ তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের বৃহত্তর অংশ এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে অবস্থান করছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি এবং তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী।

    কী রয়েছে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে?

    বুধবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের হাতে ছিল ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শুধু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদনই নয়, বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের নতুন কাঠামোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে—

    • ● বিরোধী দলনেতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● উপদলনেতা: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা
    • ● মুখ্য সচেতক: আখরুজ্জামান

    তবে স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার চিঠি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিলেই ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।

    কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

    এই রাজনৈতিক নাটকের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে সহায়তা করতে নামে সিআইডিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিআইডি অন্তত ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বহিষ্কারের পরই বাড়ে বিদ্রোহ

    স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এরপর একের পর এক বিধায়ক প্রকাশ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে তৃণমূল।

    ‘আদি’ বনাম ‘নব’ তৃণমূল?

    বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন করছেন না। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবে মানেন। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার নাম সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধানসভার সংখ্যার হিসাব বলছে, বিদ্রোহী শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্যদিকে শোভনদেবকে সমর্থনকারী শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতীক নিয়ে জল্পনা

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে— দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনও আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে কি? যদিও এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়করা আলাদা দল গঠনের কোনও ঘোষণা করেননি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

    পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    তাঁর বক্তব্য, যারা আজ এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন এবং তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থে বা প্ররোচনায় কাজ করেন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও মানুষ তার বিচার করবেন। কুণাল আরও বলেন, ‘‘কারা কী জন্য কী করেছেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। আইনি পথে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এভাবে চোরা-গোপ্তা কাজ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’

    এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তে

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ৫৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র গ্রহণ করে তিনি যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মধ্যে এধরনের বিভাজন ঘটেছিল। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রস্তাবও এখনও আলোচনায় রয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। রাজ্যের রাজনীতিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

LinkedIn
Share