Tag: RSS

RSS

  • Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগাল্যান্ডের (Nagaland) ডিমাপুরে হয়ে গেল বিশাল হিন্দু সম্মেলন (Hindu Sammelan)। ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ডিমাপুর হিন্দু সোসাইটির উদ্যোগে ডিডিএসসি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ওই সম্মেলনের। এই সম্মেলনে যোগ দেন নাগাল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসা হাজার পাঁচেক মানুষ। এই সম্মেলন রাষ্ট্রীয় স্বার্থ (রাষ্ট্রীয়ত)-কে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় দায়িত্ব নিয়ে ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব (Hindu Sammelan)

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আরএসএসের অখিল ভারতীয় কার্যকরিণী সদস্য মনমোহন বৈদ্য, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির অখিল ভারতীয় সহ-সারকার্যবাহিকা সুনীতা হালদেকর, রমেশ কুমার মুনি এবং প্রখ্যাত সমাজচিন্তক থুনবাই। তাঁদের উপস্থিতি সম্মেলনকে বৌদ্ধিক গভীরতা ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা সাংস্কৃতিক আত্মসচেতনতা, সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রেক্ষাপটে। বক্তৃতায় বলা হয়, সনাতন মূল্যবোধ ভারতের সভ্যতাগত চেতনাকে শক্তিশালী করতে এবং বহুবিধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Hindu Sammelan)।

    ভারতের প্রকৃত শক্তি

    বক্তব্যে বৈদ্য বলেন, “ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও সমষ্টিগত চেতনায়।” তিনি সমাজ বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, “জাতি গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং আদিবাসী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি।” সম্মেলনে সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জাতীয় দায়িত্ব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানের শেষে সামাজিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং একটি শক্তিশালী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভারত গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখার যৌথ সংকল্প গ্রহণ করা হয় (Nagaland)।

    ডিমাপুরে অনুষ্ঠিত এই হিন্দু সম্মেলন জাতীয় সংহতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের আদর্শকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই বিবেচিত হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলে। এটি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতে’র বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (Hindu Sammelan)।

     

  • Mohan Bhagwat: “জাতীয় ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিন্দু সমাজের ঐক্যই মূল চাবিকাঠি,” বললেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতীয় ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিন্দু সমাজের ঐক্যই মূল চাবিকাঠি,” বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতকে এগিয়ে যেতে হবে এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল হলেও চ্যালেঞ্জও কম নয়। ভারতের অগ্রগতিতে কিছু দেশ অস্বস্তি বোধ করছে, কারণ তারা ভয় পাচ্ছে যে এতে তাদের নিজেদের ‘দোকান’ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা ভারতের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।” মুজাফফরপুরে ‘সামাজিক সদ্ভাব গোষ্ঠী’-তে ভাষণ দেওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসংঘ চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) এই কথাগুলি বলেন। তাই তাঁর কথায়, “ভয় জয় করতে স্বনির্ভরতা অপরিহার্য এবং স্বনির্ভরতার মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”

    সামাজিক সম্প্রীতি (Mohan Bhagwat)

    সংঘের (RSS) সর সংঘ চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বে সামাজিক সম্প্রীতি অত্যন্ত প্রয়োজন। সম্প্রীতি না থাকলে মানুষ একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ধ্বংস করে ফেলবে। কোনও বিদেশি শক্তি কেবল গায়ের জোরে ভারতকে পরাধীন করতে পারেনি। তারা সফল হয়েছিল আমাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ নিয়ে। যখন সমাজে সম্প্রীতি বজায় থাকে, তখন মানুষ একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয় এবং অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়ে যায়।”

    সমাজের জাগরণ

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) সমাজ জাগরণ প্রসঙ্গে বলেন, “সমাজ এখন জাগ্রত হচ্ছে এবং দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য ব্লক বা মহকুমা স্তরের নেতাদের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। সমাজ নিজেই এখন উদ্যোগ নিতে পারে।”

    সিস্টেম বনাম সমাজ

    সিস্টেম সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সমস্যা কেবল ব্যবস্থার (System) মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। সমস্যার হাত থেকে মুক্তি তখনই আসবে যখন সমাজ একসঙ্গে বসে আলোচনা করবে। সংঘ সমাজকে জাগিয়ে তোলার কাজ করছে। ব্লক স্তরে যারা সামাজিক ও জাতিগত সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের উচিত সমাজের বস্তুগত ও নৈতিক উন্নতির কথা ভাবা।

    সেবা ও ঐক্য

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “কেবল বিত্তবানরাই যে সমাজের সেবা করেন তা নয়। যাঁদের মধ্যে সম্প্রীতির ভাব গড়ে ওঠে, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে আর্ত ও বঞ্চিতদের সেবা করতে পারেন। গ্রাম ও ব্লক স্তরে সংঘ বৈঠকের আয়োজন করবে যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এক হয়ে বসে আলোচনা করতে পারে। যখন সবাই একসঙ্গে বসে সমস্যা নিয়ে ভাববে, তখন কোনও বিদেশি শক্তি হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করতে পারবে না।

    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও হিন্দু রাষ্ট্র

    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু সমাজকে তিনটি সন্তান নিতে কেউ বাধা দেয়নি, যদিও সরকার ২.১ প্রতিস্থাপন হারের (replacement rate) সুপারিশ করে। ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ (RSS) ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ইতিমধ্যেই একটি হিন্দু রাষ্ট্র।

    বিভাজন দূরীকরণ

    সামাজিক বিভাজন নিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ব্রিটিশরা বিভাজন বাড়িয়ে রাজত্ব করেছিল। এখন সেই বিভাজনগুলো দূর করে হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের চেয়ে হিন্দু সমাজের ঐক্য (RSS) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সমৃদ্ধির জন্য এই ঐক্য অপরিহার্য।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক ও জাতিগত সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় বিভিন্ন সেবাধর্মী সংস্থা কাজ করেছে। দরিদ্র কন্যাদের বিবাহ দেওয়া, শিশুদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বিষয়ে একাধিক সংগঠন কাজ করেছে। তাই বিভাজন দূরকরে সকলের পাশে দাঁড়িয়ে সকলের সঙ্গে ভাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

  • Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতীয় স্বার্থ কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের একচেটিয়া বিষয় হতে পারে না। এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। জাতির স্বার্থে যাঁরা কাজ করেন, সংঘ তাঁদের সবার সঙ্গেই রয়েছে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এদিন তিনি সৌরাষ্ট্র–কচ্ছ অঞ্চলের রাজকোটে অনুষ্ঠিত ‘প্রমুখজন বিচার গোষ্ঠী’তে ভাষণ দেন। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    সংঘের কার্যপ্রণালী (Mohan Bhagwat)

    ভাগবত বলেন, “অবহেলা, বিরোধিতা ও বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, আরএসএস যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা একমাত্র হিন্দু সমাজের আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। যাঁরা জাতির জন্য কাজ করেন, তাঁরা সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকুন বা না থাকুন, আরএসএস তাঁদের নিজেদের স্বয়ংসেবক হিসেবেই মনে করে।” সংঘের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করে ভাগবত বলেন, “আরএসএস কাউকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালনা করে না। সংঘের কাজের ভিত্তি হল সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক স্নেহ ও আত্মীয়তার অনুভূতি। শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্যবোধ সঞ্চার করা হয় এবং স্বয়ংসেবকদের প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীকালে তাঁরা নিজেদের বিবেক ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে সমাজকল্যাণের সিদ্ধান্ত নেন।”

    হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা

    হিন্দুত্বের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা। সংঘ ভারতের সংবিধানের সঙ্গে একই দার্শনিক ভিত্তিতে কাজ করে। ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, এই কারণেই এখানে সব পথ, সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যকে স্বাগত জানানো হয় এবং সম্মান করা হয়।” সরসংঘ চালক বলেন, “‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, এই ভারতীয় নীতি সত্যিকারের বিশ্বায়নের প্রতীক। অন্য দেশগুলি বিশ্বকে বাজার হিসেবে দেখে (RSS), আর আমরা বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখি (Mohan Bhagwat)।” প্রশ্নোত্তর পর্বে সরসংঘচালক বলেন, “জেন-জেড প্রজন্মের তরুণরা ‘সাদা খাতা’র মতো এবং তারা গভীরভাবে সৎ। সমাজকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল রপ্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভু হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষের প্রভু না হয়ে ওঠে, এবং তা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে।”

    মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তির প্রয়োজন

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতিবেশী এক দেশে হিন্দু–মুসলিম বিদ্বেষ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, এমন বিভাজনমূলক চিন্তা ভারতে ছড়াতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “দুর্নীতি ব্যবস্থার চেয়ে মানুষের মনে বেশি বিদ্যমান, আর মূল্যবোধনির্ভর ব্যক্তি গড়ে উঠলেই দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।” রাজকোটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ পরিবেশবান্ধব কলম ব্যবহার করা হয়, ব্যবহার শেষে সেগুলি টবে রোপণ করা হলে মাটিতে মিশে গিয়ে উদ্ভিদে পরিণত হয়। এই উপলক্ষে পশ্চিম ক্ষেত্র সংঘচালক জয়ন্তিভাই ভাদেশিয়া, সৌরাষ্ট্র প্রান্ত সংঘচালক মুকেশভাই মালাকান-সহ (RSS) শিল্পপতি, চিকিৎসক, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন (Mohan Bhagwat)।

  • RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    RSS Swayamsevak: ফের খবরে বীরভূমের নানুর, এবার আরএসএসের স্বয়ংসেবককে অপহরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আতঙ্কের মেঘে ঢেকে গিয়েছে বীরভূমের নানুরের আকাশ। এই সেই জায়গা, যেখানে নৃশংসভাবে সিপিএমের হার্মাদদের হাতে খুন হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন কৃষক (Mamata Govt)। সেই নানুরই ফের চলে এল খবরের শিরোনামে। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বীরভূম জেলার আঙ্গোরা গ্রামের বাসিন্দা, আরএসএসের স্বয়ংসেবক রিন্টু পাল (RSS Swayamsevak)। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সমালোচকেরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ (RSS Swayamsevak)

    স্থানীয় বাসিন্দা এবং আরএসএস কর্মীদের অভিযোগ, রিন্টুকে তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে জোরপূর্বক একটি দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভয় দেখানো হয়, করা হয় অপমান। হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রিন্টুর একমাত্র ‘অপরাধ’ আরএসএসের সঙ্গে তাঁর আদর্শগত সম্পর্ক। এটি ভারতের সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত। জানা গিয়েছে, রিন্টুকে যেসব হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট ও ভয়াবহ। অভিযোগ, রিন্টুকে জনতার হাতে মারধর খাওয়ানো এবং ভয়ঙ্কর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যদি তিনি আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। প্রাণভয়ের আশঙ্কায় তাঁকে জোর করে আরএসএস থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তবে (Mamata Govt) তা এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতাকে সামনে আনে—পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে এখন আদর্শগত পরিচয়ই নিপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে (RSS Swayamsevak)।

    নানুর রয়েছে নানুরেই

    নানুরের বহু মানুষের কাছে এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দলের সমর্থক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন আদর্শগত সংগঠন অভিযোগ করে আসছে যে, স্থানীয় তৃণমূল ক্যাডাররা কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতার সম্প্রসারিত হাত হিসেবে কাজ করছে এবং ভয়ের মাধ্যমে আনুগত্য চাপিয়ে দিচ্ছে। সামাজিক বয়কট থেকে শুরু করে শারীরিক হুমকি পর্যন্ত, ভিন্নমতকে অভিযোগ অনুযায়ী ব্যালট বাক্সে পৌঁছানোর অনেক আগেই দমন করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ বারবার সামনে আসা সত্ত্বেও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অস্বীকার, নীরবতা বা নির্বাচনী পদক্ষেপের অভিযোগ উঠছে। সমালোচকদের মতে, এই নীরবতাই স্থানীয় দাপুটে নেতাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে রাজনৈতিক সুরক্ষা তাদের সমস্ত পরিণতি থেকে রক্ষা করবে।

    আরএসএস নেতৃত্বের বক্তব্য

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে প্রায়ই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। কিন্তু নানুরের মতো ঘটনা কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। বিশ্বাসের জন্য যদি কোনও নাগরিককে অপহরণ করা হয়, তবে স্বাধীনতার অর্থ কী? আর গণতন্ত্রই বা কী, যখন রাজনৈতিক আনুগত্য নির্ধারিত হয় ভয়ের দ্বারা, পছন্দের (RSS Swayamsevak) দ্বারা নয়? জনরোষ আরও বেড়েছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, শাসক দলের স্বার্থ জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী (Mamata Govt) বাহিনী দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে চায় না। প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার এই কথিত অবক্ষয় নানুরকে শাসনব্যবস্থার এক সতর্কতামূলক উদাহরণে পরিণত করেছে, যেখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে ক্ষমতার প্রাধান্যই বেশি। আরএসএস নেতৃত্ব জানিয়েছেন, প্রশাসনিক উদাসীনতা আর সহ্য করা হবে না। ন্যায়বিচার না মিললে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। গণআন্দোলনের ডাক ক্রমশ জোরালো হলেও, দায়িত্বশীল মহল মনে করছে, পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের ওপরেই বর্তায় (RSS Swayamsevak)।

  • BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। সোমবার রাতেই তাতে পড়ল সিলমোহর। বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে বিজেপির কনিষ্ঠতম সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জেপি নাড্ডার পর বিজেপির এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন নিতিন।

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP)

    সোমবারই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময়সীমা পেরনোর পর দেখা যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন।  এদিন নির্বাচিত হওয়ার আগেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন। সোমবার রাতেই তিনি বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, সুনীল বনসল, মঙ্গল পান্ডে এবং অমিত মালব্যর সঙ্গে।

    বাংলায় আসতে পারেন নিতিন

    সূত্রের খবর, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসেই বাংলায় আসতে পারেন নিতিন। তখনই তিনি বৈঠক করবেন রাজ্য সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে। সোমবার রাতের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চান নিতিন। তাঁর বাবা প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহা। এবিভিপির হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। জয়ীও হন বিহারের বাঁকিপুর আসনে। তারপর থেকে এই কেন্দ্রেই ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছেন নিতিন (Nitin Nabin)।  দেশের রাজনীতিতে নবীন মুখ হলেও, বিহারে নিতিন খুবই পরিচিত। তাঁর জন্ম পাটনায়। বাবা বিজেপি (BJP) নেতা হওয়ায়, শৈশব থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেই বেড়ে উঠেছেন নিতিন। গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন নিতিন। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁর ঠাঁই হয় নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায়।

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন নিতিন। নাড্ডার জায়গায় নিতিনকে বসানোর মূল কারণ হল বিজেপির পাশাপাশি আরএসএসেরও ভরসা রয়েছে নিতিনের ওপর। নিতিন নির্বাচনটাও বোঝেন ভালো। এই সব কারণেই অনায়াস হয় নিতিনের পদ প্রাপ্তি। শোনা যায়, নিতিন আরএসএস ঘনিষ্ঠ। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সমন্বয় রক্ষা করেছিলেন বিজেপি এবং জেডিইউয়ের। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকেও বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন নিতিন। ছত্তিশগড় বিধানসভায় তিনি কাজ করেছেন বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে। ঝুলিতে এতসব অভিজ্ঞতা থাকায় নিতিনকে বেছে নেওয়া হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে।

    নিতিন নবীন আমার বস

    বিশ্বের সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় নিতিনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা যায় নিতিনের ভূয়সী প্রশংসা। তিনি বলেন, “নিতিন নবীনকে এতদিনে যা যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নিতিন সেই প্রজন্মের মানুষ, যিনি ছেলেবেলায় রেডিও দেখেছেন, আর বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন।” এর পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পঞ্চাশ বছরের কম বয়সে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন (BJP)। এসব একটা জায়গায় রয়েছে। কিন্তু এর থেকেও বড় পরিচয় হল আমি বিজেপির একজন কর্মী। দলের ক্ষেত্রে আমি কর্মকর্তা, আর নিতিন নবীন আমার বস।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি (BJP) এক সংস্কার, এক পরিবার। এই দলে মেম্বারশিপের চেয়েও বেশি রিলেশনশিপ রয়েছে। নেতৃত্ব বদলায়, কিন্তু দিশা বদলায় না (Nitin Nabin)।”

     

  • BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিজেপির (BJP) সদর দফতরে তৎপরতা তুঙ্গে। দলটি তাদের পরবর্তী জাতীয় সভাপতিকে নির্বাচনের (Election Process) প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদে মনোনয়ন জমা পড়বে ১৯ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান কার্যনির্বাহী সভাপতি নীতীন নাবিন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদায়ী সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা তাঁর নাম প্রস্তাব করবেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্য কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফল কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে, দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী কতটা গণতান্ত্রিক।

    বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (BJP)

    নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত ভোটের মতো নয় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন। এটি পুরোপুরি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কোনও ভূমিকা থাকে না। দল একে একটি বেসরকারি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখে, যেমন কোনও সমিতি বা সংগঠন তাদের পদাধিকারী নির্বাচন করে। নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিজেপির সদস্যসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি হলেও সাধারণ কর্মী বা সমর্থকরা সরাসরি জাতীয় সভাপতির জন্য ভোট দেন না। নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে হয়, যাকে বিজেপি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেই মনে করে। বিজেপির সংবিধানে নীচ থেকে ওপরের দিকে নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। বুথ বা স্থানীয় স্তর থেকে শুরু করে গ্রাম বা শহর, মণ্ডল, জেলা, রাজ্য এবং শেষে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এই সাংগঠনিক নির্বাচন (BJP) সম্পন্ন হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দলের অন্দরে “সংগঠন পর্ব” নামে পরিচিত এবং এটি ছ’বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সংগঠন পর্ব শুরু হয়েছে ২০২৪–২৫ সালে এবং এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    প্রক্রিয়া শুরু

    এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান দিয়ে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যিনি দলের মানবতাবাদ এবং আদর্শ মেনে (Election Process) নেন, তিনি প্রাথমিক সদস্য হতে পারেন। সদস্যপদের মেয়াদ ছ’বছর এবং তা নবীকরণযোগ্য।এর মধ্য থেকে ‘সক্রিয় সদস্য’ বাছাই করা হয়। সক্রিয় সদস্য হতে গেলে অন্তত তিন বছর দলীয় কাজ করতে হয়, পার্টি ফান্ডে ১০০ টাকা অনুদান দিতে হয়, আন্দোলন বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় এবং দলীয় প্রকাশনার গ্রাহক হতে হয়। শুধুমাত্র সক্রিয় সদস্যরাই সাংগঠনিক নির্বাচনে ভোট দিতে বা উচ্চপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিজেপির সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন একটি বিশেষ ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে। এই কলেজে জাতীয় পরিষদ ও রাজ্য পরিষদের সদস্যরা থাকেন। লোকসভা আসনের সংখ্যার অনুপাতে রাজ্য থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, পাশাপাশি সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন (BJP)।

    রাজ্য পরিষদের সদস্য

    রাজ্য পরিষদের সদস্যরা জেলা ইউনিট থেকে নির্বাচিত হন এবং বিধায়ক ও সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকেন। এবার ইলেক্টোরাল কলেজে প্রায় ৫,৭০০ জন সদস্য রয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত অর্ধেক রাজ্যে (প্রায় ১৯টি রাজ্য) সাংগঠনিক নির্বাচন শেষ না হলে জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করা যায় না। সেই শর্ত এবার পূরণ হয়েছে। বিজেপির সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি হতে গেলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রার্থীকে অন্তত ১৫ বছর প্রাথমিক সদস্য এবং অন্তত চার মেয়াদ ধরে সক্রিয় সদস্য থাকতে হয়, যা সাধারণত প্রায় ১২ বছরের সাংগঠনিক কাজের সমান। মনোনয়ন জমা দিতে হলে ইলেক্টোরাল কলেজের অন্তত ২০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, যাঁরা কমপক্ষে পাঁচটি ভিন্ন রাজ্য থেকে হতে হবে, যেসব রাজ্যে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীকে লিখিত সম্মতিও দিতে হয় (Election Process)।

    ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা

    এই নির্বাচনের জন্য ১৬ জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে এবং সেদিনই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। যদি একাধিক বৈধ মনোনয়ন থাকে, তবে ২০ জানুয়ারি গোপন ব্যালটে ভোট হবে এবং সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে। তবে যদি একজন প্রার্থীই থাকেন, তবে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, এবার যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি (BJP)।বিজেপির ৪৫ বছরের ইতিহাসে কখনও জাতীয় সভাপতি পদে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়নি। প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সর্বসম্মতি ক্রমে। দলীয় সূত্রের মতে, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য ও সমন্বয়ের সংস্কৃতির ফল।

    আরএসএস

    বিজেপি সংবিধানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নাম উল্লেখ না থাকলেও, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকে। আরএসএসের শীর্ষ নেতারা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নাম চূড়ান্ত করার আগে আলোচনা করে নেন। সংগঠনের মহাসচিব, যিনি সাধারণত আরএসএস থেকে আসেন, তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়, কারণ জাতীয় সভাপতি শুধুই প্রতীকী পদ নয়। তিনি দলের সাংগঠনিক দিশা নির্ধারণ করেন, নির্বাচনী কৌশল দেখাশোনা করেন এবং দল ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন। প্রকাশ্য লড়াই দলকে দুর্বল করতে পারে, যা বিজেপি এড়িয়ে চলতে চায় (BJP)।

    জাতীয় সভাপতির মেয়াদ

    বিজেপির সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি টানা দুই মেয়াদ, অর্থাৎ মোট ছ’বছর দায়িত্বে থাকতে পারেন। এরপর বিরতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও বাস্তবে মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে (Election Process)। জেপি নাড্ডা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সভাপতি হন। তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে, কিন্তু মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে রাখা হয়। বর্তমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশেষে ২০২৬ সালে নতুন সভাপতির দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এঁরা হলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী (১৯৮০–১৯৮৬), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৮৬–১৯৯১), মুরলী মনোহর যোশী (১৯৯১–১৯৯৩), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৯৩–১৯৯৮), কুশাভাউ ঠাকরে (১৯৯৮–২০০০),

    বাঙ্গারু লক্ষ্মণ (২০০০–২০০১), কে জনা কৃষ্ণমূর্তি (২০০১–২০০২), এম বেঙ্কাইয়া নাইডু (২০০২–২০০৪), লালকৃষ্ণ আডবানি (২০০৪–২০০৫), রাজনাথ সিং (২০০৬–২০০৯), নীতীন গডকরি (২০০৯–২০১৩), রাজনাথ সিং (২০১৩–২০১৪), অমিত শাহ (২০১৪–২০২০), জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (২০২০–২০২৬)।

    অমিত শাহের মেয়াদ

    এর মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অমিত শাহের মেয়াদ ছিল দীর্ঘতম ও সবচেয়ে নির্বাচনী সাফল্যপূর্ণ, যখন বিজেপি লোকসভায় ৩০০-এরও বেশি আসন পায়। জেপি নাড্ডার মেয়াদে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখা হয়। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতি দলটির কেন্দ্রীভূত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ চরিত্র স্পষ্ট করে। সিদ্ধান্ত শীর্ষস্তরে নেওয়া হয় এবং তা নির্বিঘ্নে সংগঠনের সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হয়। এতে অভ্যন্তরীণ সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং ঐক্যের বার্তা দেওয়া যায় (Election Process)। তবে একই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্নও থেকে যায়, দল যত বড় হচ্ছে, ভবিষ্যতে কি কখনও শীর্ষ সাংগঠনিক পদে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে? আপাতত বিজেপি তাদের ঐতিহ্যগত সর্বসম্মতির পথেই অবিচল, এবং আসন্ন জাতীয় সভাপতি (BJP) নির্বাচনও সেই পরিচিত পথেই এগোচ্ছে।

     

  • RSS: “সংঘের পরিবর্তন হচ্ছে না, ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করছে”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “সংঘের পরিবর্তন হচ্ছে না, ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করছে”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সংঘ বিকশিত হচ্ছে এবং নতুন রূপে নিজেকে প্রকাশ করছে, আর একেই জনসমাজ মনে করে যে সংঘ পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে, সংঘ পরিবর্তিত হচ্ছে না, এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন রূপে নিজেকে প্রকাশ করছে। ঠিক একটি বীজ থেকে গাছ হওয়ার প্রক্রিয়ার মতো।” রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক ড. মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) দিল্লিতে কেশব কুঞ্জ, ঝাণ্ডেওয়ালায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে “১০০ ইয়ার্স অফ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ–শতক” সিনেমাকে ঘিরে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। এই সিনেমার দুটি গান—“ভারত মা কে বাচ্চে” এবং “ভগওয়া হ্যায় মেরি পেহচান” প্রকাশিত হয়। এই গানগুলিতে কণ্ঠ দিয়েছেন গায়ক সুখবিন্দর সিং।

    জন্ম থেকেই দেশপ্রেমিক ছিলেন ডাক্তারজি (Mohan Bhagwat)

    “শতবর্ষ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ” অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ড. মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)  বলেন, “সংঘ এবং ডাক্তার সাহেব সমার্থক। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের মনস্তত্ত্ব গবেষণা ও অধ্যয়নের বিষয়। যখন ডাক্তার সাহেবের বাবা-মা একই দিনে, এক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। এত অল্প বয়সে, এমন একটি মারাত্মক ধাক্কা সাধারণত মানসিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে চলে যায়। তবে, এই আঘাত ডাক্তারজীর মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেনি। তিনি নিশ্চয়ই অপরিমেয় দুঃখ অনুভব করেছিলেন, যা কল্পনাও করা যায় না, কিন্তু তাঁর প্রকৃতি বা ব্যক্তিত্বের উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ডাক্তারজি জন্ম থেকেই দেশপ্রেমিক ছিলেন। মনকে বিচলিত না হতে দিয়ে বড় আঘাতগুলিও সহ্য করার ক্ষমতা তাঁর সহজাত ভাবেই হয়তো ছিল। তিনি একজন শক্তিশালী এবং সুস্থ মনের প্রতিবিম্ব।”

    অটল দেশপ্রেম এবং শক্তি প্রদর্শন

    ড. মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) আরও বলেন, “ডাক্তার হেডগেওয়ারের জীবন আরএসএস-এর চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছিলেন। তাঁর কাছে সংকল্প ছিল সর্বদা ভারত প্রথমে। ‘শতক’ সিনেমা এবং এর গান ‘ভগওয়া হ্যায় আপনি পেহচান’ অটল দেশপ্রেম এবং শক্তি প্রদর্শন করে। আরএসএস পরিবর্তিত হচ্ছে না; এটি বিকশিত হচ্ছে, তার মূলে অখণ্ড সনাতন সত্য রয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি না বলা গল্পগুলিকে প্রকাশিত করেছে। ড. হেডগেওয়ার মানুষকে একত্রিত করার এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলিকে শান্তভাবে সামলানোর জন্য ক্ষমতাকে কীভাবে অর্জন করতে হবে সেই কথা বলেন। তাই আজকের এই প্রভাবশালী উদ্যোগের জন্য আমার পক্ষ থেকে দলের প্রতি শুভ কামনা রইল।”

    দেশসেবার সমতুল্য

    অনুষ্ঠানে যোগদান করে গায়ক সুখবিন্দর সিং বলেন, “মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)  জির হাত ধরে আমার গান ‘ভগওয়া হ্যায় আপনি পেহচান’ প্রকাশ হওয়ায় আমি অভিভূত। তাঁর উপস্থিতি একটি আশীর্বাদ এবং তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের অনুপ্রাণিত করে সবসময়। আমি পরিচালকের ভাবনাকে পছন্দ করেছি। সরলতা কিন্তু প্রভাব রয়েছে। ইতিহাসকে ফিরে দেখে সিদ্ধান্তগুলিকে মূল্যায়ন করা উচিত। এই গানটি কেবল একটি পেশাগত কারণে গান নয়, সম্পূর্ণ ভাবে দেশসেবার সমতুল্য। আমি এতে আমার হৃদয় ঢেলে দিয়েছি, আশা করি এটি সবার কাছে পৌঁছাবে। এই গানটি হিন্দুস্তানের আসল চেতনাকে তুলে ধরে।”

    “১০০ ইয়ার্স অফ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ–শতক” চলচ্চিত্রটি বীর কাপুর এবং আশীষ মাল পরিচালনা করেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে আরএসএস অখিল ভারতীয় কার্যকারিনি সদস্য সুরেশ জোশী, গায়ক সুখবিন্দর সিং এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • Mohan Bhagwat: লাভ জেহাদ আটকাতে তিন উপায় বাতলে দিলেন ভাগবত, জানেন কী কী?

    Mohan Bhagwat: লাভ জেহাদ আটকাতে তিন উপায় বাতলে দিলেন ভাগবত, জানেন কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, “লাভ জিহাদের মতো সমস্যাগুলি তখনই বন্ধ করা সম্ভব যখন পরিবারগুলি একে অপরের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে শুরু করবে। মানুষকে সৎভাবে ভাবতে হবে তাদের নিজের বাড়ির মেয়েরা কীভাবে একজন অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন। কীভাবে সম্পর্ক গড়বেন। এটাই লাভ জেহাদ এবং ধর্মান্তকরণ থেকে রক্ষার উপায়। এই ধরণের ঘটনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল পরিবারের মধ্যে যোগাযোগের অভাব।”

    লাভ জেহাদ মোকাবেলার তিনটি ধাপ (Mohan Bhagwat)

    ৩ জানুয়ারী ভোপালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) আয়োজিত “স্ত্রী শক্তি সংবাদ” অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “তিনটি স্তরে প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রথমত, পরিবারের মধ্যে নিয়মিত এবং খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, মেয়েদের সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হতে শেখানো উচিত। তৃতীয়ত, যারা এই ধরনের অপরাধ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সামাজিক সংগঠনগুলিকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সমগ্র সমাজকে এক সঙ্গে  রুখে দাঁড়াতে হবে। কেবলমাত্র সম্মিলিত প্রতিরোধই প্রকৃত সমাধান আনতে পারে।”

    নারীরা ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষা করে

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সমাজ ব্যবস্থা রক্ষায় নারীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে সময় নারীদের কেবল নিরাপত্তার জন্য ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হত, সেই সময় অনেক আগেই চলে গিয়েছে। আজ, পুরুষ এবং মহিলারা পরিবার এবং সমাজের অগ্রগতির জন্য এক সঙ্গে কাজ করেন, তাই সচেতনতা এবং দায়িত্ব উভয়ের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নারীর ক্ষমতায়নই মূল চাবিকাঠি

    আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat) নারীদের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “মেয়েদের আরও সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক শক্তি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, কারণ নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এটি এখনও আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। ভারতীয় ঐতিহ্য কীভাবে মাতৃত্বের মাধ্যমে নারীদের মূল্য দেয়, পশ্চিমী সমাজগুলি সম্পূর্ণ বিপরীতে, যেখানে প্রায়শই বিয়ের পরেই একজন মহিলাকে মান্যতা দেওয়া হয়।”

    অন্ধ পাশ্চাত্য প্রভাবের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ

    পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাব সম্পর্কে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আধুনিকতার নামে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া পশ্চিমি সংস্কৃতি এখন একটি অন্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে যে মূল্যবোধগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান। ভারতীয় ঐতিহ্য নারীদের দুর্বল করে না বরং তাদের শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের মতো উদাহরণ ভারতীয় নারীরা প্রতিটি যুগে সাহস ও শক্তি প্রদর্শন করেছেন।”

    ঐক্য, জাতি এবং সামাজিক সম্প্রীতি

    সামাজিক সম্প্রীতি (RSS) সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু কেবল একটি শব্দ নয়, বরং জীবনযাপনের একটি উপায়। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন হিন্দু থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতি টিকে থাকে এবং সমাজ একটি সুস্থ দেহের মতো কাজ করে যেখানে প্রতিটি অংশ অন্যজনকে সমর্থন করে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই ভারতের পরিচয়। যদিও মানুষ দেখতে ভিন্ন হতে পারে, জাতি, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের স্তরে, সবাই এক। সদিচ্ছা কেবল সংকটের সময় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য নিয়মিত সভা, সংলাপ এবং একে অপরের কাজ বোঝা জরুরি। তিনি প্রতি বছর জেলা, ব্লক এবং গ্রাম পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি সভা করা একান্ত প্রয়োজন।

  • RSS: “উইকিপিডিয়ায় নয়, আরএসএসকে বুঝতে হলে শাখায় আসুন”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “উইকিপিডিয়ায় নয়, আরএসএসকে বুঝতে হলে শাখায় আসুন”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অর্থাৎ আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শুক্রবার ভূপালে জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বিদ্যা ভারতীর মতো সংগঠনগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে সংঘ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। বিজেপি বা ভিএইচপির মাধ্যমে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করবেন না; তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং সংঘের নির্দেশে চলে না। যারা আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলির মাধ্যমে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁরা একটি মৌলিক ভুল করছেন। সংঘকে বুঝতে গেলে সংঘের প্রত্যক্ষ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

    কাউকে সংঘ নিয়ন্ত্রণ করে না (RSS)

    সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “যদিও সংঘ স্বয়ংসেবকদের নির্মাণ করে, তবুও তাদের কখনই রিমোট কন্ট্রোল করে রাখে না। আরএসএস (RSS) স্বয়ংসেবকদের বিকাশ করে এবং ভারতের পরম বৈভব বা কল্যাণের জন্য কাজ করে থাকে। মানুষের মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা এবং লক্ষ্যগুলিকেও যথা সম্ভব এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংঘের স্বয়ংসেবকরা সংঘ দ্বারা দূরবর্তী ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত হন না। আমাদের স্বয়ংসেবকদের দ্বারা পরিচালিত বিজেপি, ভিএইচপি এবং বিদ্যা ভারতী একটি স্বাধীন পরিচয় নিয়ে এবং তাদের সংবিধান অনুসারে কাজ করে। তবে ভারত মাতার কল্যাণ এবং ভারতের গৌরব বৃদ্ধির জন্য সকলের দৃষ্টিভঙ্গি সমান।”

    ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে চলেছে

    ভোপালে বিশিষ্ট নাগরিকদের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “এই সংগঠনগুলি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং বিভিন্ন পটভূমির সামাজের মানুষের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করে। ৪০ বছর আগে যখন আমরা লোকেদের এই কথাগুলি বলেছিলাম, তখন তারা আমাদের উপহাস করেছিল, বলেছিল যে আমরা কথার খেলায় লিপ্ত, কিন্তু এখন মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে আমরা আসলে কী বলতে চাইছিলাম। আমরা আমাদের ভাবনার জায়গায় একেবারে স্থির। আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভুল তথ্য এবং ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে চলেছে। শুরু থেকে এবং এখন পর্যন্ত, আরএসএস (RSS) সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনার মুখোমুখি হতে হয়েছে, কেবল যারা এর বিরোধী তাদের কাছ থেকে নয়, যারা সমালোচনা করেন না তাদের কাছ থেকেও। সমগ্র বিশ্ব আরএসএস সম্পর্কে শুনেছে কিন্তু খুব কম লোকই এটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জানে। তাই সংঘকে আরও ভালো করে জানা বোঝা দরকার।

    আধাসামরিক সংগঠন নয়

    বিশ্বব্যাপী আরএসএসের (RSS) কোনও তুলনা নেই উল্লেখ করে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বিশ্বের অন্য কোনও সংগঠনের সাথে আরএসএসের কোনও তুলনা করা যায় না। এর কার্যকারিতা অনন্য, তবে স্বীকার করতে হবে যে সংঘ তথাগত গৌতম বুদ্ধ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। আরএসএসকে অনেকে একটি আধাসামরিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষপাতী। কিন্তু এই ভাবনা সম্পূর্ণ ভাবে ভুল। যেহেতু আমরা পথ পরিচালনা করি এবং লাঠি দিয়ে কাজ করি, তাই আরএসএসকে কখনই আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। কেবল সামাজিক কাজই সংঘকে সংজ্ঞায়িত করে না। সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে এর ফলে কেউ বিশ্বাস করবে না যে সংঘ কেবল একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন।”

    ইউকিপিডিয়ায় নয়, শাখায় গিয়ে জনাতে হবে সংঘকে

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আরএসএসকে (RSS) বোঝার জন্য আপনাকে উইকিপিডিয়ায় আরএসএস সম্পর্কে অনুসন্ধান করার পরিবর্তে শাখায় আসতে হবে। কাজকে মাঠে মায়দানে নেমে দেখতে হবে। আরএসএস সচেতনভাবে কোনও রকম চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরং এর লক্ষ্য ছিল হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা। আরএসএস পূর্বেও বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১০০ বছরের যাত্রায়, আরএসএসকে এমন বিরোধিতা এবং অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনও সংগঠনের মুখোমুখি হয়নি। আমরা কেবল আমাদের হিন্দু রাষ্ট্রের পরম গৌরবের একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করি। আরএসএসের বিরোধিতা ব্রিটিশ শাসনামলে শুরু হয়েছিল এবং স্বাধীনতার পরেও অব্যাহত ছিল। প্রথমে ব্রিটিশ সরকারই আরএসএসের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পরেও, সংঘকে চরম বিরোধিতা, চাপ, আক্রমণ এবং এমনকি হত্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে আমাদের ওপর নানা ভাবে এখনও হয়রানি করার ঘটনা ঘটে থাকে। যদিও পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে।

    ভারতের সমস্ত ভাষাই জাতীয় ভাষা

    ভাষা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে মন্তব্য করে, ভাগবত (Mohan Bhagwat) নাগরিকদের ভারতীয় ভাষাগুলিতে গর্ব করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঘরে থাকাকালীন, আপনার মাতৃভাষায় কথা বলুন। তবে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাসকারী প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা জানার পাশাপাশি সেই রাজ্যের বিশেষ ভাষা জানা এবং বোঝা উচিত।  ভারতের সমস্ত ভাষাই জাতীয় ভাষা। আমি যদি বাংলায় থাকি, আমার মাতৃভাষা যাই হোক না কেন, আমার বাংলাও জানা উচিত।” একই ভাবে তিনি সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের উপরও জোর দিয়ে বলেন, “আপনার বাড়িতে বাচ্চাদের সঙ্গে যখন আপনি নিজের ভজন পরিবেশন করবেন তখনই কেউ আপনার সন্তানের ঘাড়ে ক্রুশ চাপানোর চেষ্টা করবে না। তাই নিজের ধর্ম (RSS) সম্পর্কে সকলকে সচেতন হতে হবে।”

    আত্মনির্ভর হতে হবে

    স্বদেশী এবং আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য আপনার আত্মগৌরব থাকা প্রয়োজন। আপনার জমিতে উৎপাদিত জিনিসপত্রই কেবল কিনুন এবং ব্যবহার করুন। আপনার দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় এমন স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহার করুন। তবে স্বদেশী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবেন। কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- ওষুধ আমদানি করবেন যা ভারতে উৎপাদিত হয় না। আবার এটাও ঠিক যে বাণিজ্য কখনই কোনও চাপ বা শুল্কের ভয়ে করা উচিত নয়। এটি কেবল আমাদের নিজস্ব শর্তে হওয়া উচিত।”

    দেশজুড়ে আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ-সম্পর্কিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভাগবত দুই দিনের ভোপাল সফরে আছেন। শনিবার দুটি পৃথক অধিবেশনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ভাষণ দেবেন এবং তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

  • RSS: জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের

    RSS: জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশবাসীর কাছে জাতপাত, ভাষা ও সম্পদের ভিত্তিতে বিভাজনের মানসিকতা ছেড়ে ঐক্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, গোটা দেশটাই সবার, এবং এই ভাবনাই প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি। ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার সোনপাইরি গ্রামে আয়োজিত এক হিন্দু সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, সমাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, প্রকৃত সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হল মানুষের মন থেকে বৈষম্যের বোধ দূর করা। দেশকে দেখতে হবে ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে। মন্দির, জলাশয় ও শ্মশানঘাটের মতো জনসাধারণের পরিকাঠামো সব হিন্দুর জন্যই উন্মুক্ত থাকা উচিত।

    এই দেশ সবার (RSS)

    ভাগবত বলেন, “এই দেশ সবার। এই অনুভূতিই প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতি। কাউকে জাত, সম্পদ, অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়।” তিনি সবাইকে একে অপরকে নিজের লোক হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি ‘সামাজিক সমরসতা’ (Samajik Samrasta) বলে অভিহিত করেন। পারিবারিক বন্ধন পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সরসংঘচালকের মতে,  প্রতিটি পরিবারে অন্তত সপ্তাহে এক দিন সবাইর একসঙ্গে সময় কাটানো উচিত। এক সঙ্গে খাবেন, প্রার্থনা করবেন ও অর্থপূর্ণ আলোচনাও করবেন। এই ধরনের আলোচনাকে তিনি ‘মঙ্গল সংলাপ’ (Mangal Samvad) বলে উল্লেখ করেন।আধুনিক জীবনে একাকীত্বের ক্রমবর্ধমান সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভাগবত বলেন, পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে মানুষ ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “মানুষ যখন একা (RSS) অনুভব করে, তখনই অনেক সময় কু-অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও যোগাযোগ এই প্রবণতা রোধ করতে পারে।”

    ‘কুটুম্ব প্রবোধন’

    ‘কুটুম্ব প্রবোধনে’র (Kutumb Prabodhan) উল্লেখ করে প্রত্যেক নাগরিককে আত্মসমালোচনার আহ্বানও জানান ভাগবত। প্রতিদিন কে, কতটা সমাজ ও দেশের জন্য সময় ও শ্রম দিচ্ছেন, তা ভেবে দেখার অনুরোধও করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। ভাগবত বলেন, পারস্পরিক সংলাপ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যের নামে কখনও সংঘাত বা বিবাদ হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরএসএস প্রধান সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত স্তর থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ শুরু করার আহ্বান জানান (RSS)। তিনি জল সংরক্ষণ, বৃষ্টির জল সংগ্রহ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো এবং আরও বেশি গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। ঘরে মাতৃভাষার ব্যবহার, ভারতীয় পোশাকের প্রতি সম্মান এবং ওষুধের মতো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে স্বদেশিকে সমর্থন করার কথাও বলেন সরসংঘচালক।

    কী বললেন ভাগবত

    নাগরিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে ভাগবত বলেন, সংবিধান মেনে চলা, প্রস্তাবনা (প্রিঅ্যাম্বল), মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়মিত পাঠ করা জরুরি। এই মূল্যবোধগুলিকে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা ও বিপন্নদের সাহায্য করার মতো ঐতিহ্যবাহী সামাজিক আচরণের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার আহ্বানও জানান তিনি। আরএসএসের যাত্রাপথের কথা উল্লেখ করে ভাগবত জানান, নাগপুরে একটি ছোট শাখা হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগঠন আজ সারা ভারতে বিস্তৃত। তিনি বলেন, “আজ কাশ্মীর, মিজোরাম, আন্দামান, সিকিম, কচ্ছ থেকে শুরু করে ভারতের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—সব জায়গায়ই আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি রয়েছে।” এই বিস্তারের কৃতিত্ব তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারকে দেন এবং তাঁর আজীবন ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। ভাগবতের মতে, ১০০ বছর পূর্ণ হওয়াটা (RSS) বড় সাফল্য নয়, বরং সারা দেশে সংঘের কাজ পৌঁছে যাওয়াই আসল অর্জন (Mohan Bhagwat)।

LinkedIn
Share