Tag: RSS

RSS

  • RSS In Bengal: শিকড়ে ফিরতে চাইছে মানুষ, বাংলায় আরএসএসের সম্প্রসারণ, জোর হিন্দু ঐক্যে

    RSS In Bengal: শিকড়ে ফিরতে চাইছে মানুষ, বাংলায় আরএসএসের সম্প্রসারণ, জোর হিন্দু ঐক্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বাড়ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর (RSS In Bengal) প্রভাব। গত এক বছরে বাংলায় আরএসএস-এর শাখা বেড়েছে ৫৮৩টি। সংঘের সদ্য সমাপ্ত ২ দিনের সম্বন্বয় বৈঠকে বলা হয়েছে গত ১৩ বছরে রাজ্যে আরএসএস-এর শাখা বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় পৌনে ৩ হাজার। মমতা সরকারের তোষণ নীতির ফলে মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে। নিজ অস্তিত্ব বজায় রাখতেই মানুষ ঝুঁকছে সংঘের দিকে।

    আরএসএস-এর প্রভাব বৃদ্ধি

    ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছে খোদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের রাজ্য শাখা। রাজ্যে আরএসএসের (RSS In Bengal) গ্রাসরুট স্তরের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংগঠনটি ৫০০ নতুন শাখা প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশেষত, মধ্য বাংলা প্রান্ত শাখার সংখ্যা ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ১,৩২০ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১,৮২৩-এ পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে আরএসএস পরিচালিত স্কুলের সংখ্যাও। এই মুহূর্তে এরাজ্যে ৩৩৬টি স্কুল পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। বঙ্গবাসীর মধ্যে আরএসএস কর্মসূচির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এর ফলে সংগঠনের বিস্তৃতি সম্ভব হয়েছে।

    বাংলায় আরএসএস-এর শাখা

    আরএসএসের (RSS In Bengal) পশ্চিমবঙ্গের তিনটি অঞ্চলভিত্তিক প্রান্ত রয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে উত্তর বাংলা প্রান্ত, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, এবং পুরুলিয়া নিয়ে মধ্য বাংলা প্রান্ত, দক্ষিণ বঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে দক্ষিণ বাংলা প্রান্ত গঠিত হয়েছে। উত্তর বাংলা প্রান্তে ২০২৩ সালে শাখা, মিলন (সাপ্তাহিক জমায়েত) এবং মণ্ডলী (আলোচনা ফোরাম) মিলিয়ে মোট সংখ্যা ছিল ১,০৩৪, যা ২০২৫ সালে ১,১৫৩-এ পৌঁছেছে। একইভাবে, দক্ষিণ বাংলা প্রান্তেও ২০২৩ সালে ১,২০৬ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১,৫৬৪ হয়েছে।

    আরএসএস-প্রধানের ভরসা

    রাজ্যে (RSS In Bengal) সংগঠনের প্রসারের কথা স্বীকার করে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর ১১ দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় বর্ধমানে একটি জনসভা করেন। এই জনসভায় হাজার হাজার স্বয়ংসেবক অংশ নেন। সেখানেই তিনি শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কথা বলেছিলেন। তাঁর কথায়, সংঘ সকলকে আহ্বান জানায়। ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে শত্রুকে বুঝিয়ে মিত্র বানানোর কথা বলেন। সংঘকে বুঝতে গেলে সংঘে যোগ দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মন সায় দিলে আসবেন। কোনও টাকা-পয়সা লাগবে না। এখানে স্বার্থ রক্ষা হবে না। এখানে এলে কিছু পাওয়া যাবে না। দূর থেকে দেখলে হবে না। অনুভব করতে হবে। অনুমান করে কিছু হবে না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংগঠন এটা। তবুও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সংগঠনের আরও প্রসার ঘটাতে হবে।”

    গ্রাসরুট পর্যায়ে কাজের উপর জোর

    মধ্য বাংলা প্রান্তের প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু এই বৃদ্ধির জন্য গ্রাসরুট পর্যায়ে কাজের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মধ্য বাংলার শাখা নেটওয়ার্ক মানুষের সঙ্গে ছোট গ্রুপ বৈঠক এবং সমাবেশের মাধ্যমে যুক্ত হতে কাজ করেছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ফল দিচ্ছে।” বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে জনগণের ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জিষ্ণু বসু বলেন, “বঙ্গের পরিবর্তিত জনসংখ্যা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। আমাদের লক্ষ্য হিন্দুদের রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা।”

    শিকড়ে ফেরার চেষ্টা

    মধ্য বাংলা (RSS In Bengal) প্রান্তের প্রচার প্রধান সুশোভন মুখোপাধ্যায় বলেন, “এখনকার পরিবেশ মানুষকে তাঁদের শিকড়ে ফিরে যেতে এবং হিন্দুত্বকে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এই কারণেই আরও মানুষ শাখায় যোগ দিচ্ছেন।” বেঙ্গালুরুর প্রতিনিধি সভায়, আরএসএস বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। সংগঠনটি এই বিষয়ে তার প্রচারণা তীব্র করার পরিকল্পনা নিয়েছে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে, যেখানে এই বিষয়টির ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে।

    কেন আরএসএস-এর প্রতি আস্থা

    রাজ্যে আরএসএস-এর (RSS In Bengal) সংখ্যাবৃদ্ধি, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সাফল্য এনে দেবে, বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ একথা সর্বজনবিদিত যে, আরএসএস-ই বিজেপিকে পরিচালনা করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই আরএসএসের কর্মীরা ভোটের ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তাই নয়, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যে আরএসএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলেও মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ। এবার এই রাজ্যের পালা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংঘের যে সংগঠনের যে নকশা রয়েছে, তা-ও এই মুহূর্তে দেশে কারও নেই। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সংঘের ১০০ বছর। শতবর্ষে পা রাখতে চলা সংঘ তাদের অনেকগুলি ঈপ্সিত চাহিদাই মিটিয়ে ফেলতে পেরেছে। তার মধ্যে অন্যতম জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার, তিন তালাক প্রথার বিলোপ। ‘এক দেশ, এক ভোট’-এর প্রস্তাবও পাশ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রের। ফলে শতবর্ষে সংঘ তাদের চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে পেরেছে। তাই সংঘের আদর্শ এবং কার্যক্রমের উপর মানুষের ভরসা বাড়ছে।

  • PM Modi: আরএসএসের সদর দফতরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, কেন জানেন?

    PM Modi: আরএসএসের সদর দফতরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন নাগপুরে, আরএসএসের (RSS) সদর দফতরে। অথচ, স্বাধীনতার পর তিন-তিনবার নিষিদ্ধ সংগঠনের তকমা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে আরএসএসের গায়ে। তথাকথিত উদারপন্থীদের কাছে এখনও অচ্ছুত এই সংগঠন। পাছে ভোটব্যাংকে ধস নামে, তাই আরএসএসের সংস্রব এড়িয়ে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা।

    আরএসএসের সদর দফতরে যাচ্ছেন মোদি (PM Modi)

    আগামী ৩০ মার্চ সেখানে পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেবি হেডগেওয়ারের স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন। স্থাপন করবেন মাধব নেত্রালয় প্রিমিয়াম সেন্টারের সম্প্রসারণ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর। হেডগেওয়ার এবং আরএসএসের দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক এমএস গোলওয়ালকারের স্মৃতিসৌধগুলি নাগপুরের রেশিমবাগ এলাকায় ডঃ হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দিরে অবস্থিত। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র বিজেপির প্রধান চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে জানান, প্রধানমন্ত্রী ৩০ মার্চ এই স্মৃতিসৌধগুলি পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রী মাধব নেত্রালয় প্রিমিয়াম সেন্টারের সম্প্রসারণ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।

    গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়

    আরএসএসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নাড়ির টান। তিনি দীর্ঘদিন আরএসএসের প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একবারও যাননি সঙ্ঘের সদর দফতরে। তবে আরএসএসের সদর দফতরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তা নিয়ে আগে-পরে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল কংগ্রেসের অন্দরে। সেসব উপেক্ষা করেই প্রণব গিয়েছিলেন নাগপুরে। এবার যাবেন মোদি।

    এ বছর সঙ্ঘের শতবর্ষ। সেই উপলক্ষে বছরভর নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আরএসএস। প্রধানমন্ত্রী যে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানে থাকবেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতও। ২০১৪ সালের পর এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রকাশ্যে মঞ্চ শেয়ার করবেন গেরুয়া শিবিরের দুই ‘মহীরুহ’। আরএসএস ইতিহাসের এক স্কলার বলেন, “এটি প্রথমবার যে একজন সক্রিয় প্রধানমন্ত্রী ডঃ হেডগেওয়ার স্মৃতি মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন।” তিনি বলেন, “প্রয়াত বিজেপি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী ২০০৭ সালে এই স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। মোদি এর আগে একজন প্রচারক হিসাবে এই স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এটি তার প্রথম দর্শন।” জানা গিয়েছে, ওই দিন প্রধানমন্ত্রী ‘দীক্ষাভূমি’ও পরিদর্শন করবেন, যেখানে সংবিধান প্রণেতা বিআর আম্বেডকর ১৯৫৬ সালে হাজারো অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন (PM Modi)।

    প্রসঙ্গত, এই নাগপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিজেপির নীতীন গডকরী। আরএসএসের সদর দফতরটি যে এলাকায় রয়েছে (RSS), সেখানকার বিধায়ক বিজেপিরই দেবেন্দ্র ফড়নবীশ (PM Modi)।

  • Aurangzeb: ‘ভারতের আইকন নন ঔরঙ্গজেব, এমন প্রচারকে প্রতিহত করা দরকার’, বলল আরএসএস

    Aurangzeb: ‘ভারতের আইকন নন ঔরঙ্গজেব, এমন প্রচারকে প্রতিহত করা দরকার’, বলল আরএসএস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঔরঙ্গজেবের (Aurangzeb) সমাধি অপসারণের দাবিতে উত্তাল হয়েছে মহারাষ্ট্র। নাগপুরে ছড়িয়েছে হিংসা। এবার বেঙ্গালুরুতে আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় উঠে এল ঔরঙ্গজেব প্রসঙ্গ। আরএসএস (RSS) জানাল, ঔরঙ্গজেব কখনই একজন যোগ্য আইকন নন এবং যাঁরা এ ধরনের বিকৃত তথ্য দিচ্ছেন তাঁদের রোখা উচিত। রবিবারই বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে। তিনি বলেন, ‘‘১৯৪৭ সালে আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু মানসিকভাবে এখনও অনেক কিছুতে ঔপনিবেশিকতার ছাপ রয়ে গেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদেরকে বৌদ্ধিকভাবে স্বাধীন হতে হবে।’’

    প্রসঙ্গ ঔরঙ্গজেব (Aurangzeb)

    আরএসএসের (RSS) দত্তাত্রেয় হোসাবলের মতে, ‘‘যদি কোনও ব্যক্তি এমন একজন আক্রমণকারীর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে চায়, যিনি আমাদের জাতীয় নীতি এবং সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেছিলেন, তাহলে তাঁকে আমরা আক্রমণকারী হিসেবেই দেখব। তিনি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।’’ আরএসএস-এর নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলে আরও বলেন, ‘‘ভারতে যাঁরা আক্রমণ করেছিলেন সেই সমস্ত মানসিকতার লোকেরাই ঔরঙ্গজেবকে (Aurangzeb) গৌরবান্বিত করে। কিন্তু কখনও তাঁকে একজন আইকন বলে মানা যায় না।’’

    ঔরঙ্গজেবের ভাইয়ের উদাহরণ দিলেন আরএসএস নেতা (RSS)

    রবিবার বেঙ্গালুরুতে আরএসএস-র প্রতিনিধি সভায় সাংবাদিকদের দত্তাত্রেয় হোসাবলে আরও বলেন, ‘‘ঔরঙ্গজেবকে (Aurangzeb) নিয়ে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁরা তাঁর ভাই দারা শিকোহকে কখনও সামনে আনার চেষ্টা করেনি। কিন্তু তিনিই ছিলেন যিনি এই ভারতের নীতি-নৈতিকতাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন।’’ এ প্রসঙ্গে দত্তাত্রেয় হোসাবলে উদাহরণ দেন ভগিনী নিবেদিতার। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের নীতি-নৈতিকতাকে কারা আঁকড়ে ধরবে, সেটা বিদেশি বা স্থানীয় হওয়ার বিষয় নয়! ভগিনী নিবেদিতা তিনি একজন খ্রিস্টান ছিলেন। তিনি এ দেশের নীতি-নৈতিকতাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘গুরু গোবিন্দ সিংয়ের পুত্ররা শহিদ হয়েছিলেন। কারণ তাঁরা নিপীড়নের কাছে মাথা নত করতে চাননি। আমরা তাঁদের আত্মত্যাগ থেকে অনুপ্রেরণা পায়।’’ দত্তাত্রেয় আরও বলেন, ‘‘আমরা বলি যে আমরা সকলেই হিন্দু। এই দেশে জন্মগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই হিন্দু। কারণ তাঁদের পূর্বপুরুষরা হিন্দু ছিলেন।’’

  • RSS: শতবর্ষে আরএসএস, ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সারাদেশে ১ লাখ শাখা চালানোর লক্ষ্যমাত্রা

    RSS: শতবর্ষে আরএসএস, ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সারাদেশে ১ লাখ শাখা চালানোর লক্ষ্যমাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ছিল বেঙ্গালুরুতে আরএসএস-এর (RSS) অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার (ABPS 2025) তৃতীয় দিন। এদিন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের সর্ব ভারতীয় প্রচার প্রমুখ শ্রী সুনীল আম্বেকর। এই বৈঠকে দত্তাত্রেয় হোসাবলে জানান যে রবিবার শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে দেশের জন্য শহিদ হওয়া তিন বীরের উদ্দেশে। এঁরা হলেন ভগৎ সিং, সুখদেব এবং রাজগুরু।

    ২ অক্টোবর সারাদেশে চলবে একলাখ শাখা

    চলতি বছরে ২ অক্টোবর পড়েছে বিজয়া দশমীর তিথি। প্রসঙ্গত, বিজয়া দশমীই হচ্ছে আরএসএস-এর (RSS) প্রতিষ্ঠা তিথি। ওই দিন সারা দেশে এক লাখ শাখা চলবে বলে জানিয়েছেন আরএসএস-র দত্তাত্রেয়। স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে ওই দিন বার্তা দেবেন সর সংঘচালক মোহন ভাগবত। শতবর্ষের আবহে প্রতিটা মণ্ডল স্তরে সামাজিক সম্মেলন এবং হিন্দু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি সামাজিক শ্রদ্ধা বৈঠকও অনুষ্ঠিত করবে আরএসএস। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সম্মেলনও করবে আরএসএস। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত দেশে শাখা বিস্তারের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

    প্রত্যাশিত কর্মী কত ছিলেন? তারমধ্যে কত হাজির হলেন?

    এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে দত্তাত্রেয় বলেন, ‘‘অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় মোট প্রত্যাশিত প্রতিনিধি ছিলেন ১,৪৮২ জন। এঁদের মধ্যে হাজির হয়েছেন ১,৪৪৩ জন। অর্থাৎ মোট উপস্থিত হয়েছেন ৯৩.৭ শতাংশ। প্রতিনিধি সভায় সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্বয়ংসেবকরা হাজির হয়েছেন। স্বয়ংসেবরা এসেছেন মণিপুর, জম্মু কাশ্মীর ও কন্যাকুমারী থেকেও। আগত প্রতিনিধিরা সংঘের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।’’

    দেশের প্রতি কাজ মন্থন করবে আরএসএস (RSS)

    সংঘের শতবর্ষ নিয়ে দত্তাত্রেয় হোসাবলে বলেন, ‘‘আরএসএস (RSS) কখনও তার রজত জয়ন্তী অথবা স্বর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেনি। আরএসএস সর্বদাই মননিবেশ করেছে তার কাজের প্রতি। কিন্তু চলতি বছরের সংঘ ১০০ বছরে পা দিচ্ছে। এই উপলক্ষে আমাদের কাছে একটা সুযোগ রয়েছে যে আমরা মন্থন করব দেশের জন্য আমরা কী কী করতে পারলাম।’’

    বিশ্ব কল্যাণের কাজে লেগে রয়েছে আরএসএস

    তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রাচীন সময় ধরেই হিন্দু সমাজ সামাজিক ঐক্য মানুষে-মানুষে বন্ধন এবং বিশ্ব কল্যাণের কাজে লেগে রয়েছে। সাধু মহাত্মাদের আশীর্বাদেই হিন্দু সমাজ এগিয়ে চলেছে। দেশের সমৃদ্ধি হয়েছে। ১৯২৫ সালের ডাক্তার কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে স্থাপন করেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। তিনি চেয়েছিলেন যে জাতির জীবন থেকে দুর্বলতা চিহ্নগুলি মুছে যাক। ভারত আবারও পরম বৈভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হোক।’’

  • RSS: স্বাধীনতা সংগ্রামী উল্লালের মহারানি আব্বাক্কাকে শ্রদ্ধা আরএসএসের সরকার্যবাহকের

    RSS: স্বাধীনতা সংগ্রামী উল্লালের মহারানি আব্বাক্কাকে শ্রদ্ধা আরএসএসের সরকার্যবাহকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহীয়সী নারী স্বাধীনতা সংগ্রামী উল্লালের মহারানি আব্বাক্কা ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক, অপরাজেয় কৌশলবিদ এবং অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ শাসক। তিনি দক্ষিণ কন্নড় জেলার (বর্তমানে উপকূলীয় কর্ণাটক) উল্লাল সামস্থান সফলভাবে শাসন করেছিলেন। বীর রানি আব্বাক্কার ৫০০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) (RSS)।

    পর্তুগিজ হানাদারদের পরাজিত করেছিলেন রানি (RSS)

    শাসনকালে আব্বাক্কা পর্তুগিজ হানাদারদের একাধিকবার পরাজিত করেছিলেন। এই পর্তুগিজরা তখন বিশ্বের সবচেয়ে অপরাজেয় সামরিক শক্তিগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হত। কূটনৈতিক দক্ষতা ও কৌশলগত মিত্রতার (উত্তর কেরলের সামুথিরি রাজার সঙ্গে) সাহায্যে তিনি রক্ষা করেছিলেন তাঁর রাজ্যের স্বাধীনতা।  , তাঁর কৌশল, বীরত্ব এবং নির্ভীক নেতৃত্ব তাঁকে ইতিহাসের পাতায় “অভয়রানি” বা নির্ভীক রানির সম্মান এনে দিয়েছিল।

    মহারানি আব্বাক্কা

    মহারানি আব্বাক্কা ছিলেন ধার্মিক। তিনি বহু শিব মন্দির এবং তীর্থস্থান প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করে ভারতের সমন্বয়মূলক ঐতিহ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। শাসন কালে রানি নিশ্চিত করেছিলেন যাতে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সমান সম্মান দেওয়া হয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সামগ্রিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা হয়। এই সম্মান এবং ঐক্যের উত্তরাধিকার কর্নাটকে আজও প্রতিধ্বনিত হয়। রানির অমর কীর্তিগুলি যক্ষগান, লোকগীতি এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে আজও বেঁচে রয়েছে।

    তাঁর অদম্য সাহস, জাতি ও ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা এবং কার্যকর শাসনের স্বীকৃতি স্বরূপ, ভারত সরকার ২০০৩ সালে তাঁর স্মরণে তাঁর নামে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এভাবে তাঁর বীরত্বের গল্প জাতির মনে গেঁথে রয়েছে যুগ যুগ ধরে। ২০০৯ সালে রানি আব্বাক্কার নামে একটি পেট্রোল ভেসেলের নামকরণ করা হয়। এটি তাঁর নৌ কমান্ডের উত্তরাধিকারের একটি অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে কাজ করে (RSS)।

    আরএসএসের (RSS) তরফে জারি করা বিবৃতিতে সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল বলেন, “মহারানি আব্বাক্কার জীবন সমগ্র জাতির জন্য একটি গভীর অনুপ্রেরণা স্বরূপ। তাঁর ৫০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আরএসএস এই অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানায়। তাঁর গৌরবময় জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে চলমান জাতি-গঠনের মিশনে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার জন্য সমগ্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানায়।”

  • RSS: বাংলাদেশি হিন্দুদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান, পাশ প্রস্তাব আরএসএসের, রাষ্ট্রসংঘেরও হস্তক্ষেপ দাবি

    RSS: বাংলাদেশি হিন্দুদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান, পাশ প্রস্তাব আরএসএসের, রাষ্ট্রসংঘেরও হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় পাশ হল বাংলাদেশ (Bangladesh) ইস্যুতে প্রস্তাব। এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ওই প্রস্তাবে সাফ বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া আক্রমণগুলিকে রাজনৈতিক হামলা বলে চালিয়ে দিলে হবে না। যদি এমনটা হয় সেক্ষেত্রে তা হামলার ধর্মীয় দিকটিকে অস্বীকার করা হয় ও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।’’ আরএসএসের মতে, ‘‘অশান্ত বাংলাদেশে হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।’’ তাই এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মনে করেছে আরএসএস। এবিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপেরও দাবিও জানিয়েছে আরএসএস।

    বাংলাদেশের হিংসা হিন্দু বিরোধী নয়, ভারত বিরোধীও বটে

    আরএসএস (RSS) নিজেদের প্রস্তাবে আরও জানিয়েছে, কেবল সরকারকে স্মারকলিপি দিলেই এক্ষেত্রে কাজ মিটবে না। সংঘ সর্বদা সমাজের শক্তিতে বিশ্বাস করে। সমাজে যখনই কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তখন সমগ্র সমাজের উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর সমাধান খুঁজে বের করা। সংঘের ওই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশে যে ধরনের হিংসা চলছে তা কেবল হিন্দু-বিরোধী নয় বরং ভারত-বিরোধীও বটে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি বাংলাদেশে হিন্দু ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’’

    হিন্দু মঠ-মন্দিরে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ (RSS)

    আরএসএসের (RSS) ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘‘অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশে (Bangladesh) উগ্র ইসলামপন্থীদের হাতে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই ধরনের হামলায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মঠ, মন্দির, দুর্গাপুজো প্যান্ডেল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ, দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুর, হিন্দুদের সম্পত্তি লুটপাট, নারীদের অপহরণ, শ্লীলতাহানি এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার মতো অনেক ঘটনা সামনে এসেছে। এগুলি রাজনৈতিক হামলা বলে চালিয়ে দিলে হবে না। যদি এমনটা হয় সেক্ষেত্রে তা হামলার ধর্মীয় দিকটিকে অস্বীকার করা হয় ও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।’’

    হিন্দুদের অস্তিত্ব বিপন্ন বাংলাদেশে, বলছে পরিসংখ্যান

    সংঘের (RSS) ওই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘‘বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে তফশিলি জাতি এবং তফশিলি উপজাতিদের উপর এমন নির্যাতন নতুন কিছু নয়।’’ এপ্রসঙ্গে সংঘের দাবি, ‘‘বাংলাদেশে ১৯৫১ সালে যেখানে ছিল ২২ শতাংশ হিন্দু, সেখানে আজ তা ৭.৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে।’’ সংঘের মতে, ‘‘এই ক্রমহ্রাসমান হিন্দু জনসংখ্যাই বলে দিচ্ছে, সনাতনীরা সেদেশে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন।’’

    সংঘের প্রস্তাবে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি

    সংঘের তরফ থেকে বাংলাদেশ ইস্যুতে জাতি সংঘের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। আরএসএসের ওই প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, ‘‘রাষ্ট্রসংঘ সমেত বিশ্বজুড়ে থাকা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির উচিত বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া অত্যাচারের ঘটনাগুলিতে গুরুত্ব সহকারে দেখা।’’ এর পাশাপাশি, হিংসা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেওয়া উচিত বলেও মনে করছে সংঘ। একই সঙ্গে আরএসএস বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেও আহ্বান জানিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক চক্র অস্থির করতে চাইছে ভারতকে

    সংঘের (RSS) প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘‘বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চক্র ভারতে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য চক্রান্ত করছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অবিশ্বাস ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আরএসএস মনে করে, ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং সামাজিক বন্ধন রয়েছে প্রতিবেশী দেশের। এই কারণে যেকোনও অস্থিরতা সমগ্র অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি করছে।’’

    বাংলাদেশ (Bangladesh) ইস্যুতে পদক্ষেপ করেছে মোদি সরকার

    আরএসএসের মতে, ‘‘বাংলাদেশের হিন্দু সমাজ সাহসিকতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, সম্মিলিত এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে হিংসার প্রতিবাদ করছে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ঘটনা।’’ আরএসএসের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ইস্যুতে মোদি সরকারের যে ভূমিকা, তার ভূয়সী প্রশংসাও করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বাংলাদেশের হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে। ভারত সরকার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বিষয়টি উত্থাপন করেছে। অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা ভারত সরকারকে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

  • RSS: মাতৃভাষা প্রধান, এ ছাড়া আরও কোন দুই ধরনের ভাষা শিখতে বলছে আরএসএস?

    RSS: মাতৃভাষা প্রধান, এ ছাড়া আরও কোন দুই ধরনের ভাষা শিখতে বলছে আরএসএস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে চলছে আরএসএসের (RSS) তিন দিনের প্রতিনিধি সভা। গতকালই এর উদ্বোধন হয়। অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা বা এবিপিএস-এর প্রথম দিনে (Akhil Bhartiya Pratinidhi Sabha) সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন আরএসএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুন্দ সিআর। তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ তিনভাষা নীতির প্রণয়ন করেনি। তবে সংঘ সর্বদা মাতৃভাষা এবং মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে একটি বহুভাষিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে।’’

    শিশুর শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হল মাতৃভাষা (RSS)

    আরএসএসের মতে, প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে স্বাভাবিকভাবেই তিনটি মূল ভাষার প্রয়োজন হয়। এনিয়ে মুকুন্দ সিআর বলেন, ‘‘শিশুর শিক্ষার জন্য মাতৃভাষা খুব প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে, মাতৃভাষাই প্রধান ভাষা হওয়া উচিত। এটিই শিশুর বাড়ির ভাষা। মাতৃভাষার মাধ্যমেই শিশুর চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। মাতৃভাষার মাধ্যমে চরিত্র এবং বোধগম্যতা তৈরি হয়।’’

    স্থানীয় ভাষা শেখার গুরুত্ব

    একইসঙ্গে মুকুন্দ সিআর আঞ্চলিক বা স্থানীয় ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও কথা বলেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয় অঞ্চলভিত্তিক ভাষা শেখাও প্রয়োজন (RSS)। এটি যে কোনও ব্যক্তিকে তাঁর চারপাশের সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি জনজীবনে সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহণ করতে পারে।’’

    শিখতে হবে কেরিয়ারের ভাষা (RSS)

    এর পাশাপাশি মুকুন্দ সিআর আরও একপ্রকার ভাষা শেখার কথা বলেন। তা হল, ‘কেরিয়ার ভাষা’। তিনি বলেন, ‘‘কেরিয়ার ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একজন শিশুর ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্যে ইংরেজিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পেশাদার হওয়ার ক্ষেত্রে। যে কোনও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়তা বাড়াতে এবং আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতার জন্য অপরিহার্য হল কেরিয়ার ভাষা।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, সংঘের দৃষ্টিভঙ্গি এখানেই থেমে থাকে না। এই তিনটির বাইরেও ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্যকে আরএসএস সম্মান করে বলে জানিয়েছেন সিআর মুকুন্দ। তাঁর ব্যাখ্যা, মাতৃভাষায় লালন-পালন করতে হবে চিন্তাভাবনা। আঞ্চলিক ভাষায় সম্প্রদায়গুলিকে সংযুক্ত করতে হবে এবং কেরিয়ারের ভাষা বিশ্বব্যাপী দরজা খুলে দেবে।

  • Akhil Bharatiya Pratinidhi Sabha: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বিগ্ন আরএসএস

    Akhil Bharatiya Pratinidhi Sabha: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বিগ্ন আরএসএস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস-এর (RSS) সভার শুরুতেই চমক। মনমোহন সিং, জাকির হোসেনকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তা-ও আবার সাধারণ কোনও সভায় নয়, অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (Akhil Bharatiya Pratinidhi Sabha)। বেঙ্গালুরুর সেই অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও (Mohan Bhagwat) ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, তবলা বাদক জাকির হুসেন, চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, বিবেক দেবরায়, প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেন্দ্র প্রধান এবং কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণ প্রমুখ ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। এঁরা প্রত্যেকেই সম্প্রতি পরলোক গমন করেছেন। আর সেই কারণেই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। আরএসসকে চরম হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্ট করে কংগ্রেস, তৃণমূলের মত বিরোধী দলগুলি। অথচ কংগ্রেসের নেতা মনমোহন সিং এবং ভারতের গর্ব মুসলমান পরিবারের সন্তান জাকির হোসেনকে শ্রদ্ধা জানানোয় আরএসএস (RSS) কী ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন হওয়ার দিকে পা এগিয়ে দিচ্ছে, সেই প্রশ্ন আজ সামাজিক মাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে।

    ভারত মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উদ্বোধন

    এদিন আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত এবং সহকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে ভারত মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (Akhil Bharatiya Pratinidhi Sabha) ২০২৫ এর উদ্বোধন করলেন। তিন-দিন ব্যাপী অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার বৈঠক শুরু হওয়ার প্রাক্কালে, শুক্রবার সকালে ভারত মাতার ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত ও সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে। এরপর বৈঠকের শুভারম্ভ হয়। এই বছরের অক্টোবর মাসে আরএসএস ১০০ বছর (RSS 100 Years) পূর্ণ করবে। তাই আরএসএস-এর শতবর্ষ সম্পর্কিত সমস্ত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে এই বৈঠকে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হবে।

    সংঘের গত বছরের (২০২৪-২৫) বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং তা নিয়ে আলোচনা করা হবে বৈঠকে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, আরএসএস সহ-সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংঘ এবং বিবিধ ক্ষেত্রের মোট ১,৪৮২ জন প্রতিনিধি এই সভায় অংশগ্রহণ করছেন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে সম্পাদিত কাজের প্রতিবেদন তাঁরা উপস্থাপন করবেন। এতে উদ্যোগের বিবরণ, বিশেষ কর্মসূচি এবং গৃহীত কাজের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন

    প্রসঙ্গত বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ক্রমাগত হামলা, নিপীড়ন এবং খুন-ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বিগ্ন আরএসএস। এবার সংঘের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সভা অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় (Akhil Bharatiya Pratinidhi Sabha) বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। প্রসঙ্গত এবছর অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার ৩ দিনের বৈঠক বসছে বেঙ্গালুরুতে। আরএসএস-এর (RSS) মুখপাত্র সুনীল আম্বেকর সাংবাদিকদের জানান আসন্ন বৈঠকে দুটি প্রস্তাবের উপর আলোচনার পর মতামত নেওয়া হবে। প্রথম প্রস্তাবে থাকছে বাংলাদেশে হিন্দু এবং সংখ্যালঘুদের উপরে হামলা, নির্যাতন নিয়ে বিশদে আলোচনা। আর দ্বিতীয় প্রস্তাবে থাকছে আরআসএস-এর শতবর্ষ পালন কী করে হবে তা নিয়ে আলোচনা।

    ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে বিধানসভা ভোট। তার আগে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই দুই রাজ্যে সংগঠন জোরদার করতে পাখির চোখ করেছে আরএসএস। অতীতে বাংলাদেশ ইস্যুতে কেন্দ্রের মোদী সরকারের কাছে একাধিকবার দরবার করেছে আরএসএস। এবার পদ্মা পারে হিন্দু নিপীড়ন প্রশ্নে পথে নামতে চলেছে তারা।

    আরএসএস-এর (RSS) মুখপাত্র সুনীল অম্বেকর জানিয়েছেন, “বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, হামলা, হুমকি, নিপীড়ন বন্ধ করতে আমাদের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে বিশদে আলোচনার পর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে কোর কমিটির কাছে তা পেশ করা হবে।” প্রেস ব্রিফিংয়ে আরএসএসের সহ-সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ জানিয়েছেন, এই বৈঠকে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তপ্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে৷ সেই সঙ্গে এই সব জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, এবিপিএস-এর বৈঠকে (Akhil Bharatiya Pratinidhi Sabha) আরএসএসের ৩২টি সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকছেন, যাদের মধ্যে দেশের নানা স্থানে কার্যরত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

  • RSS: আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা হবে বেঙ্গালুরুতে, জানুন বিশদে

    RSS: আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা হবে বেঙ্গালুরুতে, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা (এবিপিএস), ২০২৫ সালের ২১ থেকে ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru)। অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা সংঘের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থা এবং এটি প্রতি বছর আয়োজিত হয়। এবারের এবিপিএস বেঙ্গালুরু শহরের কাছে চান্নেনাহল্লিতে অবস্থিত জনসেবা বিদ্যা কেন্দ্র প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।

    সংঘের বার্ষিক প্রতিবেদন (RSS)

    গত বছর সংঘের বার্ষিক প্রতিবেদন (কার্যবৃত্ত) এই বৈঠকে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে। এর বিশ্লেষণের পাশাপাশি, সংঘের বিভিন্ন প্রান্ত ও শাখার দ্বারা গত বছরের বিশেষ উদ্যোগগুলির প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হবে। ১৯ মার্চ, বেঙ্গালুরুতে জনসেবা বিদ্যা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে, আরএসএসের (RSS) অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানান, বৈঠকটি ২১ মার্চ সকাল ৯টায় শুরু হয়ে ২৩ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। তিনি বলেন, “আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সংঘের সর কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে গত বছরের কাজের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, যেখানে শাখা কার্যক্রম, বিশেষ কর্মসূচি এবং উদ্যোগগুলির বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা তাদের নানা প্রান্তে হয়ে যাওয়া কাজের রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন, যার মধ্যে উদ্যোগ, বিশেষ কর্মসূচি এবং মাঠ পর্যায়ের কাজের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে (Bengaluru)।”

    কী বললেন সুনীল অম্বেকার?

    সুনীল আম্বেকার বলেন, “২০২৫ সালে বিজয়া দশমীতে আরএসএসের একশো বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শাখা সম্প্রসারণ এবং লক্ষ্যগুলির পর্যালোচনা করা হবে। ২০২৫-২০২৬ সালটি আরএসএসের (RSS) শতবার্ষিকী বছর হিসেবে পালিত হবে। এই সভায় সেই সময়কালে আয়োজিত কর্মসূচিগুলি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই বছর, সংঘ চিন্তা ও কাজের প্রসার এবং এতে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চালানো হবে।” তিনি বলেন, “পঞ্চ পরিবর্তন, সামাজিক পরিবর্তনের পাঁচটি মূল বিষয়, যথা সামাজিক সমরসতা (সামাজিক সম্প্রীতি), কুটুম্ব প্রবোধন, পরিবেশ সচেতনতা, ‘স্ব’ এর ওপর জোর এবং নাগরিকদের দায়িত্বগুলিও আলোচনা করা হবে।”

    দুটি প্রস্তাব

    সুনীল আম্বেকর জানান, বিভিন্ন প্রান্তের কার্যকর্তারা জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা, অন্তর্দৃষ্টি এবং চিন্তাভাবনা শেয়ার করবেন। তিনি বলেন, এই সভায় দুটি প্রস্তাব গৃহীত হবে- প্রথম প্রস্তাবটি বাংলাদেশে ঘটে চলা উদ্বেগজনক ঘটনাবলী, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এবং ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ নিয়ে হবে। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হবে আরএসএসের গত ১০০ বছরের যাত্রা, শতবর্ষ উদযাপনকালীন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। প্রতিনিধি সভায় রানি আবাক্কার ৫০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর অবদান নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

    প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

    আরএসএসের (RSS) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে সুনীল আম্বেকর জানান, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে স্বয়ংসেবকদের জন্য ৯৫টি প্রথম বর্গ ও দ্বিতীয় বর্গ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৭২টি বর্গ ৪০ বছরের কম বয়সীদের জন্য এবং ২৩টি বর্গ ৪০ বছর ও তার বেশি বয়সিদের জন্য হবে। প্রতিনিধি সভায় সর সংঘচালক মোহন ভাগবতজির জাতীয় পর্যায়ের প্রবাস পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। ২৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টায় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন এবং প্রতিনিধি সভায় আলোচিত বিষয়গুলি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করবেন (Bengaluru)।

    শতবর্ষ উদযাপন

    গত কয়েক বছরের কাজ সম্পর্কে সুনীল আম্বেকর বলেন, “গত চার বছর ধরে, আমাদের শতবর্ষ উদযাপনের প্রেক্ষিতে, আমাদের স্বয়ংসেবকরা দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছেছেন, শাখার সংখ্যা বাড়িয়েছেন এবং আরএসএসের কার্যক্রম প্রসারিত করেছেন। আমাদের ওয়েবসাইটে ‘Join RSS’ লিংকের মাধ্যমে প্রতি বছর ১.২ লক্ষ ব্যক্তি আমাদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।” হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশে নয়, আরএসএস বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের গর্ব ও নিরাপত্তার জন্য গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষত যেখানে হিন্দুরা অত্যাচারের শিকার হয়।”

    হিংসার নিন্দা

    সুনীল আম্বেকর নাগপুরের হিংসারও নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “যে কোনও ধরনের হিংসা সমাজের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। আমি মনে করি পুলিশ এই ঘটনাটি লক্ষ্য করেছে এবং বিস্তারিত তদন্ত করবে।” ঔরঙ্গজেবের প্রাসঙ্গিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি (ঔরঙ্গজেব) আজকের দিনে প্রাসঙ্গিক নন।” জানা গিয়েছে, আরএসএসের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে সহ বাকি ছয় সহ-সরকার্যবাহ এবং নির্বাহী সমিতির সকল সদস্য এই সভায় উপস্থিত থাকবেন। মোট ১,৫০০ কর্মী, মূলত প্রান্ত ও ক্ষেত্র পর্যায় থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, এই সভায় অংশগ্রহণ করবেন। ৩২টি আরএসএস প্রভাবিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠন সম্পাদকও উপস্থিত থাকবেন (Bengaluru)।

  • Nagpur: ১৯২৭ সালে নাগপুরে মৌলবাদীদের তাণ্ডব রুখে দেয় আরএসএস

    Nagpur: ১৯২৭ সালে নাগপুরে মৌলবাদীদের তাণ্ডব রুখে দেয় আরএসএস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯২৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নাগপুরের (Nagpur) ঘটনা নিয়েই এই প্রতিবেদন। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মধ্যপ্রদেশ এবং বেরারের অংশ ছিল নাগপুর, বর্তমানে যা মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছে। জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর মহালক্ষ্মী পুজোর একটি বিশাল শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সে সময় হিন্দুদের শোভাযাত্রা যখন নাগপুরের বিভিন্ন রাস্তার ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই মৌলবাদীরা এতে অতর্কিত হামলা চালায়। ১৯২৭ সালে ৪ সেপ্টেম্বরের সেই সন্ধ্যায় মৌলবাদী আক্রমণের দৃশ্য অনেকটা ফুটে উঠেছে লেখক এমজি চিকারার লেখা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ – এক জাতীয় উত্থান বইতে। এই বইতে লেখক লিখছেন, ‘‘লক্ষ্মী পুজোর দিন দুপুরে প্রসাদ গ্রহণ করার পরে হিন্দুরা বিশ্রাম নিতে শুরু করে। কারণ সারাদিন ধরে তাঁরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। এরপরেই ঠিক বিকেলে শোভাযাত্রা বের হয়। তখনই প্রাণঘাতী অস্ত্র হাতে নিয়ে পাল্টা মিছিল করতে দেখা যায় মৌলবাদীদের। এই মিছিল অতর্কিত আক্রমণ চালায়। নাগপুরের হিন্দু পরিবারগুলিকে আক্রমণও করা হয়। তাদের ঘরবাড়ি লুট করা হয়।’’

    সাম্প্রদায়িক হিংসার খবর প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক টাইমসে

    প্রসঙ্গত, ১৯২৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে নাগপুরে (Nagpur), তা ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ বোঝাই যায়, এই ঘটনা সেসময় আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রেও খবরের শিরোনামে চলে আসে। নাগপুরের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়ে ওঠে এক আন্তর্জাতিক ইস্যু। লেখক এমজি চিকারা তাঁর বইতে আরও লিখছেন, ‘‘মৌলবাদীরা হামলা শুরু করলে পাল্টা প্রতিরোধ করেন স্থানীয় হিন্দু যুবকরা। তখনই প্রমাণ হয় যে হিন্দুরাও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে।’’

    সিপি ভিসিকর নিজের বইতে কী লিখেছিলেন?

    আর একজন লেখক সিপি ভিসিকর ১৯৭৯ সালে একটি বই লেখেন। যার নাম “কেশব: সংঘ নির্মাতা”। এই বইয়ের ৪৩ এবং ৪৪ পাতায় তিনি নাগপুরের (Nagpur) ওই ঘটনা উল্লেখ করেন। সিপি ভিসিকর তাঁর বইতে লিখছেন, ‘‘মৌলবাদীরা ৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৭ সালে একটি বিশাল মিছিল বের করে এবং সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিকল্পনা শুরু করে। তারা বিকেলের সময়ে মিছিলটি আয়োজন করেছিল। কারণ তারা জানত যে হিন্দুরা দুপুরে খাবারের পরে বিশ্রাম নেবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীরা সেই পরিকল্পনা বুঝতে পেরেছিলেন। স্বয়ংসেবকরা জানতেন, ওই মিছিল থেকে হিংসা ছড়াবে। সংঘ প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার হেডগেওয়ার সেদিন ব্যক্তিগত কাজে নাগপুরের বাইরে ছিলেন। মৌলবাদীদের ওই মিছিল নাগপুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এলাকাগুলি দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। যে পথ দিয়ে ওই মিছিল যাচ্ছিল, তার আশেপাশে অনেক সরু গলি ছিল। মৌলবাদীদের হাতে লাঠি ,বর্শা, ছুরি – এই সমস্ত কিছুই ছিল। এই আবহে তারা একটি হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ করার উদ্দেশে জড়ো হয়, কিন্তু সেখানে ঢোকার মুহূর্তেই তাদেরকে প্রতিহত করা হয়।’’

    আরএসএস প্রচারক বসন্তরাও ওকের বিবৃতি

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বরিষ্ঠ প্রচারক বসন্তরাও ওক ওই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নিয়ে যা মন্তব্য করেছিলেন, তা লিপিবদ্ধ আছে এমজি চিকারার লেখা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও জাতীয় উত্থান বইয়ের ২৪৯ নম্বর পৃষ্ঠায়। বসন্তরাও ওকের বিবৃতি অনুযায়ী, ১৯২৭ সালে নাগপুরে ভয়ঙ্কর সম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছিল এবং হিন্দুরা মৌলবাদীদের প্রতিহত করতে সমর্থ হয়েছিল।

    কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের ভূমিকা

    প্রসঙ্গত, ১৯২০র দশক থেকেই মৌলবাদীরা নাগপুরের (Nagpur) রাস্তাঘাটে ব্যাপক তাণ্ডব চালাত। এই সময় থেকেই ডাক্তার কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার উপলব্ধি করেছিলেন, কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতি, ভারতে খিলাফত আন্দোলন – এসব কিছুই যেন হিন্দুদের দুর্বল করার জন্য। হিন্দুরা ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে উদ্যোগী হন হেডগেওয়ার। এই সময় কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের কাছে মৌলবাদীরা বিভিন্ন হুমকির চিঠিও পাঠাতে থাকে। এমনকি তাঁর ওপর একাধিক হামলারও প্রচেষ্টা করা হয়। তবে নাগপুরে (Nagpur) শহরে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের নেতৃত্বে আরএসএস গোটা হিন্দু সমাজকে এক করতে সমর্থ হয়। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগপুরে ১৯২৭ সালের পরে গোটা বিংশ শতাব্দীজুড়ে কোনও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

LinkedIn
Share