Tag: RSS Centenary

  • RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি হতে চলেছে দিল্লিতে। ২৯ নভেম্বর রাজধানীতে এক বিরাট সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে আরএসএস। সেখানে ভাষণ দেবেন (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সমাবেশে ‘গণবেশ’ পরে যোগ দেবেন প্রায় এক লাখ স্বয়ংসেবক। সমাজের বিভিন্ন স্তরের আরও ৫০ হাজার আমন্ত্রিত ব্যক্তিও উপস্থিত থাকবেন। যদিও অনুষ্ঠানের জায়গা এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Mohan Bhagwat)। এর আগে ২০ অক্টোবর নাগপুরের রেশিমবাগে অনুষ্ঠিত হবে সংঘের বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসব। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক জাগরণের প্রধান সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্ত। উৎসবে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত। ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরএসএস। ২০২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। চলতি বছরের বিজয়া দশমী উৎসব সেই শতবর্ষ উদ্‌যাপনের পরবর্তী বছরের বার্ষিক আয়োজন। সংঘ সূত্রের খবর, দিল্লির সমাবেশের মধ্যে দিয়েই দেশজুড়ে চলা স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির ইতি টানা হবে। সেখানে সংগঠনের একশো বছরের যাত্রাপথের পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় ও সামাজিক বিষয়গুলি নিয়ে ভাগবত বক্তব্য রাখতে পারেন।

    শতবর্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি (RSS)

    শতবর্ষ উপলক্ষে স্বয়ংসেবকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল আরএসএস। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন। চিকিৎসক, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে সংঘের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া গৃহসম্পর্ক অভিযানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সংগঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র বিলির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গ্রাম ও শহরে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছিল সংঘ। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সংঘের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর জানিয়েছিলেন, সংগঠনের কাঠামো অনুযায়ী দেশের ৫৮ হাজার ৯৬৪টি মণ্ডল এবং ৪৪ হাজার ৫৫টি বস্তিতে হিন্দু সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১ হাজার ৩৬০টি ব্লক ও শহরে সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠক এবং সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত ৯২৪টি জেলায় বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র উপর। সামাজিক সম্প্রীতি, কুটুম্ব প্রবোধন বা পারিবারিক সচেতনতা, নাগরিক কর্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বদেশি তথা আত্মনির্ভরতা—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে বিভিন্ন স্তরে কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। জাতপাতের বিভাজন কমানোর লক্ষ্যেও সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    দেশে-বিদেশে ভাগবতের জনসংযোগ

    শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মোহন ভাগবত। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো সফর করেছেন (RSS) তিনি। ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ অগাস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তিন দিনের বক্তৃতামালার আয়োজন করেছিলেন ভাগবত। সেখানে সংঘের একশো বছরের ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রকাশ্য বক্তৃতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৬ আগস্ট মুম্বইয়ে জেন জি পড়ুয়াদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ভাগবত। দিল্লির যন্তরমন্তরে তরুণদের বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরেই ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল। তবে সংঘ সূত্রের দাবি, মুম্বইয়ের কর্মসূচি কয়েক মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। দিল্লি বা অন্য শহরের তরুণদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

    সংঘের বিজয়া দশমী উদযাপন

    সংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগপুরের বিজয়া দশমী উৎসবের পর নভেম্বরের শেষ দিকে দিল্লির সমাবেশের মধ্য দিয়ে শতবর্ষের কর্মসূচি শেষ হবে (Mohan Bhagwat)। সংগঠনের সূত্রের দাবি, সারা বছর ধরে বিভিন্ন শহরে আয়োজিত স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির শেষ পর্ব হিসেবেই দিল্লির সভাকে দেখা হচ্ছে (RSS)। প্রসঙ্গত, বাংলায় বিজয়া দশমী হলে, উৎসবটি তামাম ভারতে পরিচিক দশেরা নামে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব। প্রতি বছর নবরাত্রির শেষে পালিত হয় এই উৎসব। যেহেতু আরএসএসের প্রতিষ্ঠাদিবস এটি, তাই বিজয়া দশমীই হল তাদের অন্যতম প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর এই দিনটিতে নাগপুরের রেশিমবাগ মাঠে জাঁকজমক সহকারে বিজয়া দশমী পালন করে আরএসএস। অনুষ্ঠানে সংঘচালক স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। পুজো করা হয় অস্ত্র এবং শাস্ত্র। স্বয়ংসেবকরা পূর্ণ গণবেশে রুট মার্চে অংশ নেন। গত বছর বিজয়া দশমীতে সংঘ পা দিয়েছে শতবর্ষে। সেই উপলক্ষেই বছরভর পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

     

  • RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়ে গেল আরএসএসের (RSS) বার্ষিক সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক।তিনদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (Belagavi Meet) দেশজুড়ে শাখা সম্প্রসারণের গতি বাড়ানো, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আগামী এক বছরের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে উপস্থিত মোহন ভাগবত (RSS)

    বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ, সর্বভারতীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ক্ষেত্র প্রচারক, সহ-ক্ষেত্র প্রচারক, দেশের ৪৬টি প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক ও সহ-প্রচারক এবং সংঘ-অনুপ্রাণিত বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক মন্ত্রীরা। বৈঠকে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের পর দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরের রিপোর্ট বেলগাভির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি শাখা স্তরে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।

    আলোচ্য সূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী যে শাখা সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কীভাবে শাখার বিস্তার ঘটানো যায়, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়াদশমী পর্যন্ত নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলির পরিকল্পনাও এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। বিজয়াদশমীর দিনই বছরব্যাপী শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি হবে। বৈঠকে মোহন ভাগবতের ২০২৬-২৭ সালের দেশব্যাপী সফরসূচি এবং সংঘের অন্যান্য সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে (RSS)। এদিকে, কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বেলগাভিতে অনুষ্ঠিত আরএসএসের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বেলগাভিতে কেন এই বৈঠক হচ্ছে, তা আমি জানি না। কী ধরনের বিপর্যয় ঘটে, তা দেখা যাক। তারপর আমি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেব।” অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার জেরে (Belagavi Meet) কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে (RSS)।”

     

  • RSS: “সংঘের কাজই দেশের কাজ”, বললেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    RSS: “সংঘের কাজই দেশের কাজ”, বললেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সঙ্ঘের (RSS) শতবর্ষে সংস্কারধনী জবলপুরে এই সভা আয়োজনের মাধ্যমে এই শহরের নাম স্থায়ীভাবে সংঘের লিখিত ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে রইল।” শনিবার আরএসএসের অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডল বৈঠকের শেষ দিনে কথাগুলি বললেন সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে। কাচনার শহরে আয়োজিত ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সরকার্যবাহ। তখনই সঙ্ঘের সভা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন তিনি। তুলে ধরেন বিজয়াদশমীর দিন সারা দেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির বিবরণও (Swayamsevaks)।

    আরএসএসের বিজয়া দশমী (RSS)

    বিজয়া দশমী উপলক্ষে নাগপুর-সহ সারা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় বলে জানান হোসাবলে। এদিন গ্রামীণ ভারতের ৫৯ হাজার ৩৪৩টি মণ্ডলের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৫০টিতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পার্শ্ববর্তী মণ্ডলের স্বয়ংসেবকদের অংশগ্রহণ-সহ মোট ৫০ হাজার ৯৬ মণ্ডল এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। শহারাঞ্চলের ৪৪ হাজার ৬৮৬টি বস্তির মধ্যে ৪০ হাজার ২২০টিতে কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও, ৬ হাজার ৭০০টি স্বতন্ত্র বিজয়াদশমী কর্মসূচি আয়োজিত হয়। সব মিলিয়ে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট ৬২ হাজার ৫৫৫টি বিজয়াদশমীর অনুষ্ঠান। এই কর্মসূচিগুলিতে ৩২ লাখ ৪৫ হাজার ১৪১ জন স্বয়ংসেবক ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত ছিলেন। ২৫ হাজার জায়গায় পথসঞ্চালন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিফর্ম পরে অংশ নেন ২৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ জন স্বয়ংসেবক। তিনি জানান, এই কর্মসূচিগুলি প্রমাণ করে যে, ভারতের কোনও অঞ্চলই সংঘের কার্যক্রমের বাইরে নেই। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ থেকে লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড পর্যন্ত সঙ্ঘের নজরকাড়া উপস্থিতি রয়েছে।

    “সংঘের কাজই দেশের কাজ”

    হোসাবলে জানান, গত বছরের (Swayamsevaks) অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত শেষ বৈঠকের পর থেকে সংঘ ১০ হাজার নতুন জায়গায় কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে ৫৫ হাজার ৫২টি জায়গায় প্রতিদিন ৮৭ হাজার ৩৯৮টি শাখা পরিচালিত হচ্ছে। ৩২ হাজার ৩৬২টি সাপ্তাহিক মিলনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট কর্মসূচি-কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪১৪টি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিবিড় চেষ্টার ফলে সংঘের কার্যক্রম আদিবাসী অঞ্চল-সহ শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রছাত্রী, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যেও বিস্তৃত হয়েছে। তিনি জানান, এদিনের বৈঠকে সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আসন্ন কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে। সরকার্যবাহ বলেন, “সংঘের (RSS) কাজই দেশের কাজ।”

    হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন

    তিনি জানান, আগামী মাসগুলিতে বস্তি ও মণ্ডল পর্যায়ে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। এই সম্মেলনগুলির মাধ্যমে পঞ্চ পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে তৃণমূলস্তর পর্যন্ত, যাতে এই নীতিগুলি সমাজের আচরণ এবং দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ হাজার গ্রামীণ এবং ৩৫ হাজার শহুরে এলাকায় হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন হবে বলে আশা সংঘের। এছাড়াও ব্লক এবং শহরেও সামাজিক সদ্ভাব বৈঠক এবং জেলা সদরগুলিতে প্রবুদ্ধ নাগরিক গোষ্ঠী আলোচনা  অনুষ্ঠিত হবে। এই সব কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হল আরও বেশি মানুষের সঙ্গে জাতীয় সেবার যোগসূত্র তৈরি করা (Swayamsevaks)। হোসাবলে বলেন, “সকলের শাখায় যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রত্যেকেরই উচিত নিজের কর্মক্ষেত্রে সমাজের ঐক্য, সম্প্রীতি এবং জাতীয় উন্নতির জন্য কাজ করা।” তিনি জানান, শতবর্ষের কর্মসূচির উদ্দেশ্য সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং সমাজের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করা। সচেতনতা, ঐক্য এবং জাতীয় নিবেদনের প্রেরণা জাগিয়ে তোলা।

    গুরু তেগ বাহাদুরের শাহাদতের ৩৫০তম বর্ষ

    ২৪ নভেম্বর ছিল নবম শিখ গুরু গুরু তেগ বাহাদুরের শাহাদতের ৩৫০তম বর্ষ। বৈঠকে ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজের ঐক্য রক্ষার জন্য তিনি যে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তা নিয়েও আলোচনা হয়। জানা গিয়েছে, দেশব্যাপী সংঘের কর্মীরা তাঁর স্মৃতিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সংঘের বক্তব্য, “গুরু তেগ বাহাদুরের জীবন সকলের জন্য প্রেরণা। ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অটল অবস্থান আজকের যুবসম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।” এ বছর বিরসা মুন্ডার সার্ধ শতবার্ষিকীও। বিরসা কেবল একজন সম্মানিত জনজাতি নেতাই ছিলেন না, যিনি শুধু ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তিনি ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছিলেন এবং আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে কাজ করেছেন। এদিনের বৈঠকে তাঁকেও স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে। তাঁর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় যাতে উদযাপন করা হয়, তার ডাকও দিয়েছে সংঘ। সংঘ তাঁকে প্রাতঃ স্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের  মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে (RSS)।

    ‘বন্দে মাতরম’ রচনার দেড়শো বছর

    এবছর ‘বন্দে মাতরম’ রচনারও দেড়শো বছর। ১৯৭৫ সালে শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু জরুরি অবস্থার কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় (Swayamsevaks)। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় “বন্দে মাতরম” ছিল উদ্দীপনা, সাহস ও আত্মমর্যাদার গান।সরকার্যবাহ বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে এর অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস জানতে হবে। বন্দে মাতরম শুধু একটি গান নয়, এটি ভারতের আত্মার মন্ত্র। এতে ভারতের পরিচয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।” তিনি জানান, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়ে মাওবাদীরা অস্ত্র ছেড়ে ফিরছে সমাজের মূলস্রোতে। মণিপুর প্রসঙ্গে হোসাবলে বলেন,  “সেখানে শীঘ্রই ভালো সময় আসবে।”

    তিনি যুবসমাজে বাড়তে থাকা মাদকাসক্তির সমস্যা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই প্রবণতা রুখতে সরকারকে সমাজ, ধর্মীয় সংগঠন, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কুটুম্ব প্রবোধন এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (RSS)।

LinkedIn
Share