Tag: RSS

RSS

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী নভেম্বরে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আরএসএস (RSS)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক। সেখানে সঙ্ঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন কার্যকর করা হবে। শতবর্ষ উদযাপনের অগ্রগতি, সংগঠনের প্রসার এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) নিয়ে (Indore Meet) বিরোধীদের সমালোচনা এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ (RSS)

    তিনদিনের এই বৈঠক, যা ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ নামে পরিচিত, শুরু হবে ২ নভেম্বর। প্রতি বছর এই বৈঠক হলেও এবারের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী বছরের মার্চে অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় সাংগঠনিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার মাস আগে এই বৈঠক হচ্ছে। প্রতিনিধি সভাই আরএসএসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী মঞ্চ এবং প্রতি তিন বছর অন্তর সেখানে নির্বাচন হয়।

    সঙ্ঘের এক পদাধিকারী জানিয়েছেন, “শতবর্ষ উদযাপন এবং সেই উপলক্ষে নেওয়া জনসংযোগ কর্মসূচির প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করব। তবে প্রতিনিধি সভা এবং নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচনের আগে এই বৈঠকে সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।”

    আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে আরএসএস ‘প্রান্ত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক কাঠামো চালু করছে। এর ফলে প্রান্ত প্রচারকদের বদলে সম্ভাগ প্রচারক নিয়োগ করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় প্রচারকের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৮৫ হবে। এদিকে, রাজ্যস্তরের কেন্দ্রের সংখ্যা ১১ থেকে কমে ৯ করা হবে।

    নভেম্বরের বৈঠকের পর রাজ্যস্তরে নতুন কার্যকারিণী, সম্ভাগ সঙ্ঘচালক এবং ক্ষেত্র সঙ্ঘচালকদের নির্বাচন হবে। তাঁরাই পরবর্তীতে নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচন করবেন। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন দত্তাত্রেয় হোসেবল দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার্যবাহ নির্বাচিত হন। প্রতিটি মেয়াদ তিন বছরের এবং একজন ব্যক্তি কতবার এই পদে থাকতে পারবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন জনসংখ্যা নীতি এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পক্ষে সওয়াল করে আসছে (RSS)।

    মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের প্রচার বিভাগের প্রধান সুনীল আম্বেকর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির মতো ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি সমাজে এমন আইন থাকতে পারে না, যেখানে এক শ্রেণির মানুষ চারটি বিয়ে করতে পারবেন, অথচ একই কাজের জন্য অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এসআইআর নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে আম্বেকর বলেন, “যদি নির্বাচনী তালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও নাম থাকে, তবে আইনসম্মত উপায়ে সেই অসঙ্গতি দূর করার ব্যবস্থা থাকতে হবে (Indore Meet)।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার পথ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যদি ভুল ব্যক্তিদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তা সঠিক নয়।”

    উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না। আবার বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত নয়। এই আবহেই আরএসএসের (RSS) আসন্ন বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

     

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা আরও জোরদার করতে ৮ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংঘ সূত্রের খবর, বর্ধমানে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা তাঁর। রাজ্যে সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন, শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আগামী এক (Mohan Bhagwat) বছরের কর্মসূচি নির্ধারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় সংগঠন বিস্তারে নতুন করে জোর দিয়েছে আরএসএস। সেই আবহেই সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এতদিন রাজ্যে ‘প্রান্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চললেও এবার সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোন অঞ্চলে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোথায় সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে সংগঠনের অগ্রাধিকার কী হবে, ভাগবতের বৈঠকে সেই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য (RSS)

    আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য, বর্তমানে বাংলায় তিনটি প্রান্ত রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই কাঠামো ভেঙে পাঁচটি সম্ভাগে সংগঠন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান ও মেদিনীপুরকে কেন্দ্র করে নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের কথা সামনে এসেছে। চার-পাঁচটি জেলা নিয়ে একটি করে সাংগঠনিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। সংঘ সূত্রের দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তৃণমূল স্তরে সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে প্রান্তের সংখ্যা ৪৪ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১১০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলার সাংগঠনিক বিন্যাসে।

    কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যে শাখা বিস্তারেও (RSS) বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংঘ। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বাংলায় প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে স্বয়ংসেবক হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সংগঠনের পরিধি বাড়াতে সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও পৌঁছতে চাইছে আরএসএস। সেই লক্ষ্যে জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, ২ ও ৩ অক্টোবর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘মাইনরিটি সিটিজেন্স ফোরাম’-এর উদ্যোগে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

    কলকাতায় নতুন পরিকাঠামো

    এদিকে, বাংলায় সংগঠনের কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নতুন পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে আরএসএস। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা ‘কেশব স্মৃতি ভবন’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল। নতুন ভবনে রয়েছে সভাকক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ, সংঘের পদাধিকারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পরিকাঠামো।

    এতদিন মানিকতলার কেশব ভবন থেকেই বাংলায় সংঘের মূল সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হত। নতুন ভবনটি অতিরিক্ত সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ও থাকার ক্ষেত্রেও এই ভবন কাজে আসবে (Mohan Bhagwat) বলে খবর।

    ইতিমধ্যেই ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবতের (RSS) সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর করা, দায়িত্ব বণ্টন, শাখা বিস্তার এবং আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ওই সফরে। রাজ্যের আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও স্বয়ংসেবকদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানিকতলার কেশব ভবন থেকে নিউ টাউনের নবনির্মিত কেশব স্মৃতি ভবনে আরএসএসের কার্যালয় স্থানান্তরকে বাংলায় হিন্দু সমাজ ও চেতনার জাগরণের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করলেন সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল (Hosabale)। শনিবার নতুন কার্যালয়ের (Keshav Smriti Bhavan) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ভবন নির্মাণকে কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর জাগরণের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন কার্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হোসেবল বলেন, “কার্যালয় বসবাসের জায়গা নয়। সংঘের প্রচারকরা কার্যকর্তাদের বাড়িতে থাকবেন।” তাঁর বক্তব্য, কোনও ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে না। সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনযাপন, আচরণ, নিষ্ঠা ও আদর্শই সেই ভবনকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্রে পরিণত করে। সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য তুলে ধরতে তামিলনাড়ুর একটি ঘটনার উল্লেখ করেন হোসেবল। তিনি জানান, বোমা হামলায় তামিলনাড়ুতে সংঘের একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজ্য সরকার সেটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্বয়ংসেবকরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা আগের চেয়ে বড় একটি ভবন নির্মাণ করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় সাংগঠনিক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

    কেশব রাও দীক্ষিতের স্মৃতিতে নতুন ভবন (Keshav Smriti Bhavan)

    মানিকতলার পুরনো কেশব ভবনটি নির্মিত হয়েছিল আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিতে। নিউ টাউনের নতুন ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রবীণ সংঘ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিতের স্মরণে। সাংগঠনিক কাজের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন এবং এই রাজ্যেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

    অনুষ্ঠানে কেশব রাও দীক্ষিত এবং পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা প্রয়াত সংঘ প্রচারক শ্যামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করেন হোসবালে। তিনি বলেন, তাঁদের জীবন এবং কাজ আজও সংঘের স্বয়ংসেবকদের অনুপ্রাণিত করে। কোনও পদ বা দায়িত্বের কারণে নয়, বরং সংগঠন ও সমাজের প্রতি আজীবন নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেই তাঁরা মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

    সংঘের সাংগঠনিক সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন সরকার্যবাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে সংঘের শাখা, স্বয়ংসেবক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সামাজিক উদ্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। সাংগঠনিক কাজের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। তবে কার্যালয় নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    প্রত্যাশা নয়, লক্ষ্য সমাজসেবা

    হোসেবল বলেন, সংঘের কোনও প্রচারক পদ, স্বীকৃতি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাংগঠনিক কাজে যোগ দেন না। তাঁর কথায়, “একজন স্বয়ংসেবক বা প্রচারক কখনও ভাবেন না, তিনি কোন দায়িত্ব বা পদ পাবেন। তিনি এই ভাবনা নিয়েই কাজ করেন যে, তিনি কয়েক দিন থাকুন বা না থাকুন, দেশের উন্নতি হওয়া উচিত।”

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারকদের পাঠানোর ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রচারকরা নিজেদের কর্মস্থলকেই কর্মভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই তাঁরা সমাজের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।

    সংঘের কার্যালয়গুলি সম্পর্কে হোসবালে বলেন, সেগুলিকে কেবল প্রচারকদের আবাসস্থল হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কার্যালয় শুধু প্রচারকদের বসবাসের জন্য নয়। এটি (Keshav Smriti Bhavan) কাজের জায়গা।”

    তিনি জানান, সেখানে কর্মরত স্বয়ংসেবকদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও সাধনার মাধ্যমেই একটি কার্যালয় অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘের কার্যালয়গুলির ইতিহাস সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং স্বয়ংসেবকদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, “কোনও কার্যালয় বা ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণা দেয় না। সেখানে যাঁরা থাকেন, কাজ করেন এবং আসেন, সেই স্বয়ংসেবক ও কার্যকর্তারাই ভবনটিকে শক্তি ও প্রাণশক্তি জোগান।”

    সংঘের কাজের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা

    আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা ও নিষ্ঠা বলে মন্তব্য করেন হোসবালে। তিনি জানান, সংগঠনের স্বয়ংসেবকরা কোনও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেন।

    “তন সমর্পিত, মন সমর্পিত অউর ইয়ে জীবন সমর্পিত”—অর্থাৎ মাতৃভূমির জন্য শরীর, মন ও জীবন উৎসর্গ করার আদর্শই সংঘের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকরা গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

    হোসেবলের বক্তব্য, স্বয়ংসেবকদের অবদান কেবল কার্যালয় নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের নিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজসেবা, সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে।

    গত এক শতাব্দীতে সংঘের দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বীকার করেন, এখনও বহু সমস্যা ও প্রতিকূলতা রয়েছে। তাঁর কথায়, “সব প্রশ্নের সমাধান হয়নি এবং সব সমস্যাও দূর হয়ে যায়নি। এখনও নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকট রয়েছে (Keshav Smriti Bhavan)।”

    তবে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করলে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোসেবলের কথায়, “সংকল্প যত বড় হয়, সমস্যা তত ছোট হয়ে যায় (Hosabale)।”

    বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, কেশব স্মৃতি ভবনকে এমন একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে, যা স্বয়ংসেবক ও সমাজকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করবে। ডাঃ হেডগেওয়ার এবং কয়েক প্রজন্মের নিবেদিতপ্রাণ স্বয়ংসেবকদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী শতাব্দীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংঘের কাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার উপর গুরুত্ব দেন।

    রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান অনুষ্ঠানে হোসেবল

    এদিন কলকাতার আলিপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে রাম-শরদ কোঠারি স্মৃতি সংঘ আয়োজিত ‘রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান ২০২৬’ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন দত্তাত্রেয় হোসেবলে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কলকাতার বাসিন্দা দুই ভাই রামকুমার ও শরদকুমার কোঠারি ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় রামমন্দির আন্দোলনের সময় নিহত হন। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাজের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

    এবারের অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ার বিদ্যাসাগর শিশু শিক্ষা নিকেতনের (Hosabale) প্রধান শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র হেমব্রম, ওড়িশার পরিবেশকর্মী রমেশচন্দ্র মিশ্র এবং ঝাড়খণ্ডের ধ্যান ফাউন্ডেশনকে সমাজে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় (Keshav Smriti Bhavan)।

     

  • RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি হতে চলেছে দিল্লিতে। ২৯ নভেম্বর রাজধানীতে এক বিরাট সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে আরএসএস। সেখানে ভাষণ দেবেন (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সমাবেশে ‘গণবেশ’ পরে যোগ দেবেন প্রায় এক লাখ স্বয়ংসেবক। সমাজের বিভিন্ন স্তরের আরও ৫০ হাজার আমন্ত্রিত ব্যক্তিও উপস্থিত থাকবেন। যদিও অনুষ্ঠানের জায়গা এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Mohan Bhagwat)। এর আগে ২০ অক্টোবর নাগপুরের রেশিমবাগে অনুষ্ঠিত হবে সংঘের বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসব। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক জাগরণের প্রধান সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্ত। উৎসবে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত। ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরএসএস। ২০২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। চলতি বছরের বিজয়া দশমী উৎসব সেই শতবর্ষ উদ্‌যাপনের পরবর্তী বছরের বার্ষিক আয়োজন। সংঘ সূত্রের খবর, দিল্লির সমাবেশের মধ্যে দিয়েই দেশজুড়ে চলা স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির ইতি টানা হবে। সেখানে সংগঠনের একশো বছরের যাত্রাপথের পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় ও সামাজিক বিষয়গুলি নিয়ে ভাগবত বক্তব্য রাখতে পারেন।

    শতবর্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি (RSS)

    শতবর্ষ উপলক্ষে স্বয়ংসেবকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল আরএসএস। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন। চিকিৎসক, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে সংঘের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া গৃহসম্পর্ক অভিযানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সংগঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র বিলির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গ্রাম ও শহরে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছিল সংঘ। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সংঘের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর জানিয়েছিলেন, সংগঠনের কাঠামো অনুযায়ী দেশের ৫৮ হাজার ৯৬৪টি মণ্ডল এবং ৪৪ হাজার ৫৫টি বস্তিতে হিন্দু সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১ হাজার ৩৬০টি ব্লক ও শহরে সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠক এবং সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত ৯২৪টি জেলায় বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র উপর। সামাজিক সম্প্রীতি, কুটুম্ব প্রবোধন বা পারিবারিক সচেতনতা, নাগরিক কর্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বদেশি তথা আত্মনির্ভরতা—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে বিভিন্ন স্তরে কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। জাতপাতের বিভাজন কমানোর লক্ষ্যেও সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    দেশে-বিদেশে ভাগবতের জনসংযোগ

    শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মোহন ভাগবত। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো সফর করেছেন (RSS) তিনি। ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ অগাস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তিন দিনের বক্তৃতামালার আয়োজন করেছিলেন ভাগবত। সেখানে সংঘের একশো বছরের ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রকাশ্য বক্তৃতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৬ আগস্ট মুম্বইয়ে জেন জি পড়ুয়াদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ভাগবত। দিল্লির যন্তরমন্তরে তরুণদের বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরেই ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল। তবে সংঘ সূত্রের দাবি, মুম্বইয়ের কর্মসূচি কয়েক মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। দিল্লি বা অন্য শহরের তরুণদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

    সংঘের বিজয়া দশমী উদযাপন

    সংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগপুরের বিজয়া দশমী উৎসবের পর নভেম্বরের শেষ দিকে দিল্লির সমাবেশের মধ্য দিয়ে শতবর্ষের কর্মসূচি শেষ হবে (Mohan Bhagwat)। সংগঠনের সূত্রের দাবি, সারা বছর ধরে বিভিন্ন শহরে আয়োজিত স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির শেষ পর্ব হিসেবেই দিল্লির সভাকে দেখা হচ্ছে (RSS)। প্রসঙ্গত, বাংলায় বিজয়া দশমী হলে, উৎসবটি তামাম ভারতে পরিচিক দশেরা নামে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব। প্রতি বছর নবরাত্রির শেষে পালিত হয় এই উৎসব। যেহেতু আরএসএসের প্রতিষ্ঠাদিবস এটি, তাই বিজয়া দশমীই হল তাদের অন্যতম প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর এই দিনটিতে নাগপুরের রেশিমবাগ মাঠে জাঁকজমক সহকারে বিজয়া দশমী পালন করে আরএসএস। অনুষ্ঠানে সংঘচালক স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। পুজো করা হয় অস্ত্র এবং শাস্ত্র। স্বয়ংসেবকরা পূর্ণ গণবেশে রুট মার্চে অংশ নেন। গত বছর বিজয়া দশমীতে সংঘ পা দিয়েছে শতবর্ষে। সেই উপলক্ষেই বছরভর পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

     

  • ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড়সড় পালাবদল। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ছাত্র সংসদে প্রভাব ধরে রেখেছিল এসএফআই। তাদের সরিয়ে এ বার সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিল এবিভিপি (ABVP)। নির্বাচনে ছ’টি প্রধান পদেই জয়ী হয়েছে এবিভিপি। কলেজটি (Kerala Tripunithura College) দীর্ঘদিন ধরেই এসএফআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

    জানা গিয়েছে, চেয়ারপার্সন পদে জয়ী হয়েছেন স্নিগ্ধা এম হরি। ভাইস চেয়ারপার্সন হয়েছেন আদিত্য টি এ। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিগ্নেশ ভট্ট। ম্যাগাজিন সম্পাদক হয়েছেন বিগ্নেশ ডি এবং আর্টস ক্লাব সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন অঞ্জলি টি। বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন নিবেদ্যা কে এন। দ্বিতীয় স্নাতক প্রতিনিধি এবং দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর প্রতিনিধি পদে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে শিবানি আর এবং অবনী সি বি।

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজটিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের প্রভাব ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বার সেই দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এবিভিপির এই ফলাফল ত্রিপুনিথুরার ছাত্র রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে।

    জয়ী এবিভিপি (ABVP)

    ফল প্রকাশের পর এবিভিপির তরফে এই জয়কে এসএফআইয়ের কথিত “ছাত্রবিরোধী নীতির” বিরুদ্ধে ছাত্রদের রায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংগঠনের এক প্রতিনিধির দাবি, ত্রিপুনিথুরার এই ফল কেরলের অন্যান্য কলেজে এবিভিপির সংগঠনগুলিকেও উৎসাহিত করবে।

    এবিভিপির আরও অভিযোগ, আগের এসএফআই-নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদগুলি সংস্কৃত ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। ছাত্রদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এসএফআইয়ের কার্যকালে পর্যাপ্ত ছাত্রকল্যাণমূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে এবিভিপি।

    পুরসভায়ও পালাবদল

    ত্রিপুনিথুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এই ফলকে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রিপুনিথুরা পুরসভার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিজেপি। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপি ২১টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়; বাম গণতান্ত্রিক জোট পেয়েছিল ২০টি এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১২টি আসন। পরে পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদও দখল করে (ABVP) বিজেপি।

    তবে পুরসভা নির্বাচন এবং কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন পৃথক বিষয়। তাই কলেজের এই ফলকে বৃহত্তর জনমতের সরাসরি প্রতিফলন বলা বোধহয় ঠিক হবে না। সরকারি সংস্কৃত কলেজটি মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হয় (Kerala Tripunithura College)।

    ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজে দীর্ঘদিনের এসএফআই-প্রভাবের পর এবিভিপির এই জয় কেরলের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রাজনৈতিক পরিসর দখলের প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিল (ABVP) বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

     

  • Dattatreya Hosabale: “অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, পরিবর্তন শুরু হোক ঘর থেকেই”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, পরিবর্তন শুরু হোক ঘর থেকেই”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক।” এমনই মন্তব্য করলেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)। তাঁর বক্তব্য, আইন বা শুধুমাত্র বক্তৃতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়; পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে ব্যক্তিগত আচরণ ও পরিবার থেকেই (Harmony)।

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার ভোপালের রেড প্যারেড ময়দানে আয়োজিত হয় বিরাট স্বয়ংসেবক সমাবেশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও, একাধিক প্রতিবেদনে প্রায় ৩০ হাজার স্বয়ংসেবকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন হোসাবলে। সামাজিক সম্প্রীতি, সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পারিবারিক মূল্যবোধ, আত্মসচেতনতা ও নাগরিক কর্তব্য—সঙ্ঘের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ ভাবনার বিভিন্ন দিকও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

    আত্মসমীক্ষার বার্তা (Dattatreya Hosabale)

    হোসাবলে বলেন, জন্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা হিন্দু সংস্কৃতির অংশ নয়। জাতি, সম্প্রদায়, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভাজন সমাজের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিভেদের নামে দুর্ব্যবহার এবং অস্পৃশ্যতার অবসান ঘটাতে হলে প্রত্যেককে নিজের আচরণের দিকে নজর দিতে হবে।তিনি বলেন, “জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক। এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে হবে।” হোসাবলের বক্তব্যে সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নটি শুধু বাইরের সমালোচনার জবাব দেওয়ার বিষয় হিসেবে নয়, সমাজের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার বিষয় হিসেবেও উঠে আসে। জন্মের কারণে কাউকে নিকৃষ্ট মনে করা, কোনও পেশা বা শ্রমকে ছোট করে দেখা কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দূর করার উপর জোর দেন তিনি। ভারতের সাধক-সন্তদের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত রবিদাস, কবীর, তুকারাম, নারায়ণ গুরুর মতো ব্যক্তিত্বদের ভাবনায় সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বারবার মানুষের মধ্যে সমতার চেতনা জাগানোর কথা উঠে এসেছে। সন্ত রবিদাসের ‘বেগমপুরা’ ধারণাকেও বৈষম্য, ভয় ও সামাজিক স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

    বিভাজনের বদলে ভ্রাতৃত্বের উপর জোর

    সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে সঙ্ঘের বক্তব্যে বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সমস্ত হিন্দু পরস্পরের ভাই-বোন—এই ভাবনাকেও সামাজিক ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    এই দৃষ্টিভঙ্গিতে হিন্দুত্বকে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় বা উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক ঐক্য ও সভ্যতাগত সংযোগের ধারণা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। সঙ্ঘের বক্তব্য, সমাজের শক্তি শুধু মানুষের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না; পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতিও তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    সমাজের মধ্যে কাজ করার আহ্বান

    হোসাবলের বক্তব্যে স্বয়ংসেবকের সামাজিক ভূমিকার উপরও জোর দেওয়া হয়। দেশপ্রেমকে শুধু স্লোগান বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজসেবা ও কর্তব্যবোধের মাধ্যমে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়।

    সমাজে দারিদ্র্য থাকলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কোনও শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে তাকে সাহায্য করা, কোনও পরিবার সংকটে পড়লে সহযোগিতা করা কিংবা পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে অংশ নেওয়ার মতো কাজকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    এই সূত্রেই ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র অধীনে সামাজিক (Dattatreya Hosabale) সম্প্রীতি, পরিবার সচেতনতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মসচেতনতা ও নাগরিক কর্তব্যকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। সঙ্ঘের শতবর্ষের কর্মসূচিতে এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শ্রমের মর্যাদাই সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম ভিত্তি

    সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে শ্রমের মর্যাদাকেও যুক্ত করা হয়েছে। ভোপালে সন্ত রবিদাস জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘শ্রম সাধক সঙ্গমে’র প্রসঙ্গেও হোসাবলে শ্রমের মর্যাদা ও সামাজিক ভ্রাতৃত্বের কথা তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোনও ব্যক্তির পেশার কারণে তাঁকে নিকৃষ্ট মনে করার প্রবণতার বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কৃষক, কারিগর, শ্রমিক, সেনাকর্মী, শিক্ষক কিংবা বিজ্ঞানী—প্রত্যেকের শ্রমই সমাজ ও দেশ গঠনে পৃথক ভূমিকা (Harmony) পালন করে।

    সামাজিক সম্প্রীতি তাই কেবল একসঙ্গে বসা বা আনুষ্ঠানিক মিলন নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে একে অপরকে গ্রহণ করার মানসিকতাও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    দেশপ্রেমের অর্থ

    দেশপ্রেমকে শুধু পতাকা, গান বা স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করাকে দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে স্বয়ংসেবকের কাছে একটি আত্মসমীক্ষার প্রশ্নও উঠে আসে—দেশের জন্য তিনি কী বলেছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, দেশের জন্য তিনি কী করেছেন।

    তাঁর কাজের ফলে সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি কতটা বৃদ্ধি পেল, সেই প্রশ্নও বিবেচনার বিষয় বলে তুলে ধরা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করার বার্তা

    হোসাবলের বক্তব্যে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার বিরোধিতা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও জাতিকে নিকৃষ্ট বা হীন মনে করার মানসিকতাকেও সমানভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মন্দির থেকে পাড়া, গ্রাম থেকে মহানগর এবং শ্রমজীবী থেকে বিদ্বান—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যেন সমানভাবে নিজেদের এই বৃহত্তর সামাজিক পরিসরের অংশ বলে মনে করেন (Dattatreya Hosabale), সেই প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    এই দৃষ্টিতে সামাজিক সম্প্রীতি শুধুমাত্র কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়; বৃহত্তর সামাজিক প্রয়োজন হিসেবেও বিষয়টি সামনে আসে।

    সমাজসেবা থেকে সংগঠন, সংগঠন থেকে জাতীয় শক্তি

    সঙ্ঘের শতবর্ষের কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সমাজসেবা, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমকে পরস্পর সম্পর্কিত মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। শৃঙ্খলা, সততা, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকদের সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    একটি সংগঠনের সামাজিক ভূমিকা শেষ পর্যন্ত সমাজে তার বাস্তব অবদানের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়—এই ধারণাকেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, সচেতনতা বৃদ্ধি কিংবা সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাজের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে (Harmony)।

    “প্রথমে নিজেদের সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে”

    ভোপালের বক্তব্যকে বৃহত্তর অর্থে হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার আহ্বান হিসেবেও দেখা যেতে পারে। জাতিগত অহংকার থেকে বেরিয়ে আসা, অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক কুপ্রথা দূর করা, শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, পরিবারকে মূল্যবোধ ও সংস্কারের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক দায়িত্বকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধারার মূল বক্তব্য হল, সমাজের কোনও মানুষ যেন নিজের সমাজেই নিজেকে বহিরাগত বলে মনে না করেন।

    হিন্দুত্বকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের ধারণা হিসেবে দেখা (Dattatreya Hosabale) হলে, সেই ধারণার বাস্তব প্রকাশ কীভাবে ঘটবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় আসে। জাতিগত পরিচয়ের আগে মানুষের মানবিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া, সামাজিক দূরত্ব কমানো এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বাড়ানোকে তার একটি সম্ভাব্য প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    হোসাবলের ভোপাল-বার্তার সারকথা হল, জাতিভেদের ঊর্ধ্বে সম্প্রীতি, বিভাজনের ঊর্ধ্বে ভ্রাতৃত্ব, অধিকারবোধের ঊর্ধ্বে কর্তব্য এবং শুধু চিন্তার বদলে সমাজসেবায় সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাঁর বক্তব্য, বৈচিত্র্যকে বিভাজনের কারণ না করে (Harmony) সম্মিলিত শক্তি ও সভ্যতাগত ঐক্যের ভিত্তিতে পরিণত করাই সামাজিক সংহতির অন্যতম লক্ষ্য (Dattatreya Hosabale)।

     

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    ‘সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা’

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।

    গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

    কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ

    তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ

    ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।

    বাংলাদেশ

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

    নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

    ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।

     

LinkedIn
Share