Tag: S-400 Missile System

  • S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় শক্তিবৃদ্ধি করে ভারতে পৌঁছল রাশিয়া-নির্মিত এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রন (প্রকারান্তরে রেজিমেন্ট)। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের মধ্যে চতুর্থটি ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সেক্টরে মোতায়েন করা হবে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভারত মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এবার চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমনের মাধ্যমে সেই প্রকল্প আরও এক ধাপ এগোল।

    ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে চতুর্থ স্কোয়াড্রন

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রনটি ধাপে ধাপে এসে পৌঁছচ্ছে। প্রথম ধাপ ৩ জুন ভারতে এসে পৌঁছেছে। তার আগে গত মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) আধিকারিকরা রাশিয়ায় গিয়ে প্রি-ডিসপ্যাচ পরিদর্শন সম্পন্ন করেন। স্কোয়াড্রনের বাকি সরঞ্জাম ও উপাদানগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে আসবে। চলতি মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডেলিভারি শেষ হওয়ার কথা।

    পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা

    সামরিক সূত্রের মতে, নতুন এস-৪০০ ইউনিটটি ভারতের পশ্চিম সীমান্তে, বিশেষত পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এই ব্যবস্থা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এস-৪০০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

    • ● সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
    • ● যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং আকাশে থাকা নজরদারি প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করতে পারে।
    • ● একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
    • ● উন্নত রাডার ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

    একটি স্কোয়াড্রনে কী কী থাকে?

    প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে মোট ১৬টি বিশেষায়িত যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে—

    • ● কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম
    • ● অত্যাধুনিক রাডার ইউনিট
    • ● মোবাইল মিসাইল লঞ্চার
    একটি স্কোয়াড্রন আবার দুটি ব্যাটারিতে বিভক্ত। প্রতিটি ব্যাটারিতে ছয়টি করে লঞ্চার থাকে। ফলে একটি সম্পূর্ণ স্কোয়াড্রন থেকে একযোগে ১২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব। চুক্তি অনুযায়ী ভারত মোট ৬০টি লঞ্চার এবং প্রায় ৬,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, যেগুলি ১২০ কিলোমিটার থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিলম্ব

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সমস্ত এস-৪০০ রেজিমেন্ট সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে এবং ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। তবে রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে বাকি সমস্ত সরঞ্জাম ও পঞ্চম তথা শেষ রেজিমেন্টের ডেলিভারি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হবে।

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ কার্যকারিতার প্রমাণ

    ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই অভিযানে শত্রুপক্ষের একাধিক আকাশপথে আসা হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ভারত সরকার আরও পাঁচটি অতিরিক্ত এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের মোট এস-৪০০ বহর ১০টি ইউনিটে পৌঁছবে।

    ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    এস-৪০০ বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (IACCS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এস-৪০০-এর পাশাপাশি দেশীয়ভাবে নির্মিত ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ভারত-ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘এমআরএসএএম’ (MRSAM)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে, যা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে আসা হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    চতুর্থ এস-৪০০ রেজিমেন্টের আগমনের ফলে ভারতের অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রকল্প সমাপ্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছল। পঞ্চম ও শেষ রেজিমেন্ট হাতে পাওয়ার পর দেশের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং বেসামরিক সম্পদের সুরক্ষা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এস-৪০০ শুধু একটি অস্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আকাশযুদ্ধ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
  • Defence Procurement: আরও এস-৪০০ থেকে নতুন পরিবহণ বিমান— ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের

    Defence Procurement: আরও এস-৪০০ থেকে নতুন পরিবহণ বিমান— ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে একযোগে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ ক্রয় সংস্থা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা, স্থলসেনা ও কোস্ট গার্ডের জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ব্যাচের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (S-400 Air Defence System), মাঝারি ক্ষমতার পরিবহণ বিমান (MTA), আধুনিক আর্টিলারি গান ও নজরদারি ব্যবস্থা (AEW&C) এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত মানবহীন বিমান (RPA)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এটি সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বৃহত্তম একদিনে অনুমোদিত প্রতিরক্ষা প্রকল্প।

    বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে ৬০টি নতুন পরিবহণ বিমান

    বায়ুসেনার জন্য ৬০টি মাঝারি পরিবহণ বিমান কেনার প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল। এগুলি পুরনো সোভিয়েত আমলের এএন-৩২ (AN-32) ও আইএল-৭৬ (IL-76) বিমানের জায়গা নেবে। নতুন বিমানগুলির বহন ক্ষমতা ১৮ থেকে ৩০ টনের মধ্যে হবে, যা কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল এয়ারলিফ্ট ক্ষমতা বাড়াবে। সূত্রের খবর, ১২টি বিমান সরাসরি বিদেশ থেকে কেনা হবে এবং বাকি ৪৮টি ভারতে তৈরি করা হবে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও জোরদার করবে। এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin) নির্মিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস (C-130J Super Hercules), এমব্রেয়ার (Embraer) নির্মিত সি-৩৯০ মিলেনিয়াম (C-390 Millennium) এবং এয়ারবাস ডিফেন্স নির্মিত (Airbus Defence and Space) নির্মিত এ-৪০০এম অ্যাটলাস (A-400M Atlas)।

    এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও ৫টি ইউনিট

    এর পাশাপাশি, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও পাঁচটি ইউনিট কেনার অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। ২০১৮ সালে ভারত ৫টি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি স্কোয়াড্রন হাতে এসেছে। গত বছরের ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেই নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ঘাতক ইউসিএভি-র চারটি রেজিমেন্ট গঠন

    রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফ্ট (RPA) কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল, যা আক্রমণাত্মক ও নজরদারি অভিযানে ব্যবহৃত হবে। সূত্রের খবর, ডিআরডিও-র তৈরি ঘাতক ড্রোনের (Ghatak UCAV) চারটি স্কোয়াড্রন গড়ে তোলার সবুজ সঙ্কেত মিলেছে কেন্দ্রের তরফে। দূরনিয়ন্ত্রিত আক্রমণাত্মক ঘাতক মানবহীন বিমানটি আক্রমণাত্মক প্রতিরোধমূলক ও সমন্বিত আকাশ অভিযানে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও গোপনে পরিদর্শন (ISR) কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি সুখোই-৩০এমকেআই (Sukhoi Su-30MKI) যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের কার্যক্ষমতা ও পরিষেবা জীবন বাড়ে।

    সেনাবাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি

    স্থলসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ছাড়পত্র মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম, হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে সিস্টেম, ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী (আর্মার পিয়ার্সিং) গোলাবারুদ এবং আকাশে নজরদারি ব্যবস্থা। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ধনুষ আর্টিলারি গান (Dhanush artillery gun) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে তৈরি ১৫৫ মিমি x ৪৫-ক্যালিবার টোড আর্টিলারি গান বোফর্স প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই সিস্টেমে ডিজিটাল কন্ট্রোল, উন্নত টার্গেটিং ও ন্যাভিগেশন রয়েছে এবং এটি প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।

    উপকূলরক্ষীদের জন্য হাই-স্পিড হোভারক্রাফ্ট

    ভারতীয় কোস্ট গার্ড বা উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য হেভি ডিউটি এয়ার কুশন ভেহিকল (হোভারক্রাফ্ট) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলি উপকূলীয় নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও দ্রুত লজিস্টিক সাপোর্টে ব্যবহৃত হবে।

    রেকর্ড পরিমাণ প্রতিরক্ষা অনুমোদন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ডিএসি মোট ৫৫টি প্রস্তাবে ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ে ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকার ৫০৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। কর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলি দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, স্বনির্ভরতা এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও মজবুত করার দিকেই বড় পদক্ষেপ।

  • S-400 Missile System: অপারেশন সিদুঁর-এর প্রথম বর্ষপূর্তির সময়েই ভারতের হাতে আসছে চতুর্থ এস-৪০০!

    S-400 Missile System: অপারেশন সিদুঁর-এর প্রথম বর্ষপূর্তির সময়েই ভারতের হাতে আসছে চতুর্থ এস-৪০০!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা (Air Defence) শক্তিকে আরও মজবুত করতে আগামী মে মাসেই দেশে পৌঁছতে চলেছে অত্যাধুনিক এস-৪০০ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (S-400 Missile System) চতুর্থ স্কোয়াড্রন। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এই ডেলিভারির সময়সূচি ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তির (Operation Sindoor Anniversary) সঙ্গে মিলতে পারে—যে অভিযানে এস-৪০০ (ভারতে সুদর্শন নামে পরিচিত) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

    সূত্রের খবর, রাশিয়ার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, পঞ্চম ও শেষ স্কোয়াড্রনটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে পৌঁছবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সেট ভারতের হাতে চলে আসবে। ২০১৮ সালে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার চুক্তি করে ভারত। ইতিমধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন দেশে এসে অপারেশনাল হয়েছে, যা ভারতের বহুস্তরীয় এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের (Multi-Layered Air Defence Network) গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

    কৌশলগত মোতায়েন

    বর্তমানে মোতায়েন হওয়া এস-৪০০ (S-400 Missile System) ইউনিটগুলি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে স্থাপন করা হয়েছে। একটি স্কোয়াড্রন শিলিগুড়ি করিডরে মোতায়েন রয়েছে, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ রক্ষা করে। অন্য একটি স্কোয়াড্রন পঠানকোট অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা জম্মু ও কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের আকাশসীমায় নজরদারি জোরদার করেছে। তৃতীয় স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে পশ্চিম সীমান্তে—রাজস্থান ও গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে।

    অপারেশন সিদুঁর-এ কার্যকারিতা

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ সিস্টেমের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে সামনে আসে। দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এটি শত্রুপক্ষের আকাশপথে আসা হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এই অভিযান ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের বর্ষপূর্তির (Operation Sindoor Anniversary) সময় নতুন স্কোয়াড্রনের আগমন কেবল প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    চিনের সঙ্গে উত্তেজনার পর গতি পায় আধুনিকীকরণ

    ২০২০ সালের লাদাখ সংঘাত ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা স্পষ্ট করে দেয় যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এয়ার সুপিরিয়রিটি ও মিসাইল ডিফেন্স অপরিহার্য উপাদান। চিনের সঙ্গে সংঘাতের পর থেকেই ভারত তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে বিশেষ জোর দেয়। সেই প্রেক্ষিতে এস-৪০০-এর (S-400 Missile System) দ্রুত মোতায়েন ও কার্যকরীকরণ গুরুত্ব পায়।

    এস-৪০০: কী এর বিশেষত্ব

    এস-৪০০ একটি অত্যাধুনিক দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই সিস্টেম একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্য—ফাইটার জেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন—ট্র্যাক ও ধ্বংস করতে পারে। প্রতিটি স্কোয়াড্রনে প্রায় ১৬টি যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে মিসাইল লঞ্চার, উন্নত রেডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল ইউনিট এবং সহায়ক ব্যবস্থা।

    সম্পূর্ণ হলে কী বদলাবে

    সব পাঁচটি এস-৪০০ (S-400 Missile System) স্কোয়াড্রন যুক্ত হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। দেশীয় ‘আকাশ’ মিসাইলসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এটি একটি শক্তিশালী বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের আগ্রাসন অনেকটাই নিরুৎসাহিত হবে। চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমন (Operation Sindoor Anniversary) ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির পথে আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো সিস্টেম চালু হলে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

LinkedIn
Share