Tag: s jaishankar

s jaishankar

  • PM Modi: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ সহযোগিতা

    PM Modi: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠক, আলোচনায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ সহযোগিতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতার এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে (BRICKS Summit)। নিরাপত্তা, মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাস দমন, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার পাশাপাশি রাশিয়ার অত্যাধুনিক সু-৫৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শনিবার ও রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে পুতিনের পাশাপাশি উপস্থিত থাকার কথা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার। সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠককে তাই কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ফের মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি-পুতিন (PM Modi)

    গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি ও পুতিন। এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি জানিয়েছিলেন, “এখন সময় এসেছে অন্তহীন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর।” ফলে আসন্ন বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনও আলোচনা হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ জানিয়েছেন, শুক্রবারের বৈঠকে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি মাদক পাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। সেই সম্পর্কের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বৈঠকে খতিয়ে দেখা হতে পারে (PM Modi)।

    বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে সু-৫৭ যুদ্ধবিমান। পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি আলোচনার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত যে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তা নিয়েও রাশিয়া আলোচনা করতে প্রস্তুত। ফলে বৈঠক থেকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয় কি না, তা নিয়েও জন্ম হয়েছে (BRICKS Summit) প্রত্যাশার।

    জোটে পরিণত হয়েছে ব্রিকস

    এদিকে আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে ব্রিকসের বর্তমান ভূমিকা নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পেসকভ। তাঁর দাবি, ব্রিকস এখন আর শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, বরং কার্যত একটি জোটে পরিণত হয়েছে। ভারতের সভাপতিত্বে এই জোটের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা গড়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পেসকভ বলেন, “এই ধারণাগুলির সঙ্গে অনেক দেশই (PM Modi) একমত। একমেরু ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছে। একমেরু ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আঘাত করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ব্রিকসে প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্বের বৃহত্তর অংশ এমন একটি ভিন্ন কাঠামো চায়, যেখানে প্রতিটি দেশ অন্য দেশের সমান মর্যাদা পাবে।”

    মোদি-পুতিন বৈঠক এবং ব্রিকস সম্মেলনের আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়া সফরের সময় জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত এমন কোনও ধারণা বা প্রস্তাব খুঁজে দেখতে চাইছে, যা সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের পথ তৈরি করতে পারে।

    যুদ্ধের অবসানে…

    তিনি বলেছিলেন, “আমরা দেখার চেষ্টা করছি, এমন কোনও ধারণা ও প্রস্তাব রয়েছে কি না, যা কোনওভাবে বাস্তবায়িত হয়ে সংঘাতের তীব্রতা কমাতে এবং আদর্শভাবে সংঘাতের অবসানে সাহায্য করতে পারে।” যুদ্ধের অবসানে ভারত “যে কোনও উপায়ে যে কোনও ধরনের সাহায্য” করতে (BRICKS Summit) প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।

    এদিকে পুতিনের আসন্ন ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে (PM Modi) নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেটার নয়ডার জেওয়ার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার তিনটি সামরিক বিমান অবতরণ করে। সদ্য চালু হওয়া এই বিমানবন্দরে বিদেশি বিমানের এটিই প্রথম অবতরণ। রাশিয়ার সামরিক পরিবহণ বিমান আইএল-৭৬-সহ তিনটি বিমান ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামে।

    রাশিয়ার একটি দল এবং সামরিক আধিকারিকরা ওই বিমানগুলিতে ভারতে পৌঁছেছেন। পুতিনের ভারত সফর এবং দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই বিমানগুলির আগমন বলে মনে করা হচ্ছে।

    নয়া বিমানবন্দরে অবতরণ রাশিয়ার বিমানের

    বুধবারও তিনটি রাশিয়ার সামরিক বিমান বিমানবন্দরের রানওয়েতে দাঁড়িয়ে ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও বিমানগুলির নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এতদিন ভারতে আসা বিদেশি সামরিক বিমানগুলি সাধারণত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করত। সেই জায়গায় জেওয়ার বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের অবতরণ নতুন বিমানবন্দরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (PM Modi)।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আসর। একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা। পুতিনও সম্মেলনে অংশ নেবেন। তাঁর সফর এবং সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেওয়ার বিমানবন্দরে রাশিয়ার সামরিক বিমানের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অতিথিদের যাতায়াত ও কূটনৈতিক প্রোটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে (BRICKS Summit)।

    শুক্রবারের মোদি-পুতিন বৈঠক তাই শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিরিখেই নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে ভারত ও রাশিয়ার অবস্থান আগামী দিনের কূটনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সে (PM Modi) দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

  • Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের জবাব দিল নয়াদিল্লি। ইউক্রেন সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar-Zelensky Meet) স্পষ্ট করে জানালেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহার (Andrii Sybiha) সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে মূলত যুদ্ধের অবসান, শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine War) অবসান ঘটাতে ভারত সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।

    রুশ তেল কেনে ভারত, ব্যাখ্যা জয়শঙ্করের

    রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সামনে রয়েছে বিপুল জ্বালানি চাহিদা। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।’’ ইউক্রেনের অবস্থান ভারত বুঝতে পারছে বলেও জানান বিদেশমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ ও উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

    ‘তেল কেনা বন্ধ করলেই যুদ্ধ শেষ হবে না’

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুদ্ধের সমাধানের সঙ্গে এক করে দেখতে নারাজ নয়াদিল্লি। তাঁর কথায়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান শুধুমাত্র কেউ তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কিনছে কি না—তার উপর নির্ভর করবে না। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সংঘাত ইতিমধ্যেই পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। তাই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাধান হবে—এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।’’রুশ তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের আপত্তির মধ্যেই জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ফের স্পষ্ট করে দিল—রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান স্বাধীন এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নয়াদিল্লি তার বিদেশনীতি পরিচালনা করবে।

    আলোচনাই সমাধানের পথ, বার্তা ভারতের

    ভারতের (India Ukraine Relation) দীর্ঘদিনের অবস্থান ফের তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এই সংঘাতের সমাধান হবে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই। আর সেই কারণেই আমরা এই পথকে উৎসাহিত করতে চাই।’’ অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনাকেই ভারত সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেদিন আলোচনার আশা জাগালেন, ঠিক সেই দিনেই দিল্লির এই অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

    যুদ্ধ নয়, শান্তিই একমাত্র নীতি ভারতের

    বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে যে এটি যুদ্ধের যুগ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্থায়ী কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে না।” সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে বিশকেকে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “সংঘাতের প্রতিটি দিন মানেই আরও মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ। স্বাভাবিকভাবেই, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকেই নিজেদের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে; তবে সেই প্রক্রিয়ায় ভারত যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারে, আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান করার বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত ওই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আর, বৃহস্পতিবারই প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি চুক্তির সম্ভবনা আছে বলেও জানিয়েছেন পুতিন।

    ভারতকে ধন্যবাদ জেলেনস্কির

    এদিকে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রতিশ্রুতির জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটি যুদ্ধের সময় নয়। শান্তি প্রয়োজন। এটাই ভারতের স্পষ্ট অবস্থান।’’ একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত থামিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অন্য দেশগুলিও ভারতের মতো এমন স্পষ্ট ও গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবে। তবে জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময় রাশিয়ার হামলা নিয়েও দাবি করেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় প্রতিনিধিদল কিয়েভে থাকাকালীন রাশিয়া জেট-চালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। যদিও ইউক্রেনের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোনকে আটকে দেয় এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদল নিরাপদেই ছিল।

    ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সহায়তা

    যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা ওষুধ, খাদ্য, কৃষি, সার, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন। কূটনীতি ও ব্যবসার এই মেলবন্ধন প্রমাণ করে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের সাথে ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগের সমীকরণ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

  • China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে কয়েক দিন আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও একই দুর্যোগে চিনের তিব্বত অঞ্চলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। তিব্বত থেকে পাওয়া তথ্যের উপর চিনা (China) সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এই পরিস্থিতি বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা ও বিশালাকার পাথর ভেসে এসে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে (Flood Damage Assessment)। তবে নেপাল সীমান্তবর্তী চিনা অংশের গ্রামগুলিতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    চিনের ক্ষতি কত (China)

    দুর্যোগের পর নেপালের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলের দিকে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তাঁরা যতটা সম্ভব দুর্গত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিকেরা। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে।অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মূলত উদ্ধারকাজ নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঠিক কী কী ধ্বংস হয়েছে বা কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাঁর পিছনে বসে থাকা কোনও মানুষের সঙ্গেই কথা বলেননি।”

    সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক

    তিব্বত চিনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে তিব্বতিদের বিক্ষোভের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মদাহের ঘটনাও রয়েছে। চিনা সরকারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ সফর ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তিব্বতে সহজে প্রবেশ করাও কঠিন। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে সফলভাবে একটি পাইপ ঢোকানোর পর তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে (China)।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ছোট ওই খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে।” তবে বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও ১০০-র বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ এবং ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেই উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

    রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, “হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।”

    এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের আরও একটি বিমান আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমান নেপালে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে। বিমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর (Flood Damage Assessment) মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (China)।

     

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    Narendra Modi: মোদির ডাকে সংসদে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক, উপস্থিত ডোভাল-রাজনাথ-জয়শঙ্কর-নির্মলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেই বসে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির বৈঠক (CCS Meeting)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী।

    কারা ছিলেন বৈঠকে?

    প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, পীযূষ গয়াল, হরদীপ সিং পুরী, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্রও বৈঠকে যোগ দেন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠক?

    এই বৈঠক ঘিরে জল্পনা বাড়িয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। একদিকে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক তরজা, অন্যদিকে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি- দু’দিকেই নজর রয়েছে কেন্দ্রের। ফলে এই সময়ের CCS বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    কী এই সিসিএস মিটিং?

    ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS Meeting) হল কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত পরিস্থিতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বিদেশনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কমিটিতেই পর্যালোচনা করা হয়। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সাধারণত এই কমিটির মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    সরকারিভাবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। অর্থমন্ত্রী ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর উপস্থিতি থেকে মনে করা হচ্ছে, নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপে

    বৈঠক শেষে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র যে নিবিড় নজর রাখছে, তা স্পষ্ট। আগামী কয়েকদিনে সরকারের তরফে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    India: ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় (India) নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্দর পলিশচুককে (Ukraine Ambassador) তলব করে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজকে টার্গেট করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    ভারতের বিবৃতি (India)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওডেসার কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে হামলার জেরে এক ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে সাউথ ব্লকে তলব করা হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ-পরিবহণের নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌ-পরিবহণ, অবাধ নৌ-চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।” ভারত আরও জানায়, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি ভারতের এই উদ্বেগ এবং কড়া বার্তা দ্রুত ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং নিরীহ অসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আগেও

    ঘটনাটি ঘটেছে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের অদূরে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে। সেখানে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ওমোরফি’তে মোট চার জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, চার জনের মধ্যে দু’জন নিরাপদে রয়েছেন। তবে বাকি দু’জনের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে (Ukraine Ambassador)। এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছে না নয়াদিল্লি। কারণ চলতি মাসেই একই ধরনের আর একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল (India)। গত ১৯ জুলাই ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল। সেই ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, গুরুতর জখম হয়েছিলেন একজন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের ওপর ঘটে যাওয়া পরপর দু’টি প্রাণঘাতী ঘটনায় উদ্বেগ অনেকটাই বেড়েছে।

    ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

    পরপর এই হামলার জেরে ভারত সরকার কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত অসংখ্য অসামরিক জাহাজ যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে কোনও পরিস্থিতিতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাসও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দূতাবাসের তরফে জারি করা বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের পরিবারের প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। যদিও হামলার দায় বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিকেই এই ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    ইউক্রেনের বক্তব্য

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি বৈঠক বা টেলিফোনে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে খুব শীঘ্রই আলোচনা হবে বলে আমরা আশা করছি। সেই আলোচনায় কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।” কূটনৈতিকমহলের মতে, এই ঘটনা ভারত-ইউক্রেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছে, তবুও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নয়াদিল্লি কোনও আপস করতে রাজি নয়। বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাই এই তলবের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর সামুদ্রিক অঞ্চল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপরই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্যশস্য পরিবহণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাকি ভারতীয় নাবিকদের খোঁজ (Ukraine Ambassador) নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি (India) সূত্রের খবর।

     

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

  • Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ সৈয়দ আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের অনুষ্ঠান প্রথমে মার্চ মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান-ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে একাধিক অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করে।

    খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিতে আমন্ত্রণ ভারতের (Iran)

    অনুষ্ঠানের সূচনা হবে ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে। সেখানে খামেনেইর মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দেশজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকানুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে বিশাল শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে দাফন দেওয়া হবে। মাশহাদই ছিল খামেনেইর জন্মস্থান। সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে লক্ষাধিক নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা ইরানি প্রশাসনের (Iran)।

    ভারত-ইরান সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটকালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। একই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি।

    সম্প্রতি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও (Iran)। ইরানের এই (PM Modi) রাষ্ট্রীয় শোকের অনুষ্ঠানে ইরাক, পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন-সহ একাধিক আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকতে পারে বলেও খবর।

     

  • India Russian Oil Imports: রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের পাশে ফিনল্যান্ড, কী বললেন মন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন?

    India Russian Oil Imports: রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের পাশে ফিনল্যান্ড, কী বললেন মন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের অবস্থানের পক্ষে অপ্রত্যাশিত সমর্থন জানাল (India Russian Oil Imports) ফিনল্যান্ড। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন সাফ জানিয়ে দেন (Finland), পশ্চিমী দেশগুলির নির্ধারিত তেলের মূল্যসীমা (Oil Price Cap) মেনেই ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেছে এবং সেটাই ছিল ওই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

    ভারতের পাশে ফিনল্যান্ড (India Russian Oil Imports)

    ফিনল্যান্ডের ‘কুলতারান্তা টকস’-এ আয়োজিত এক আলোচনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ অংশ নেন। সেখানে ভালতোনেন জানান, কখনওই বিশ্বকে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত রাখা পশ্চিমী দেশগুলির আরোপিত মূল্যসীমার লক্ষ্য ছিল না। তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই, ভারত মূল্যসীমার আওতায় থেকেই তেল কিনেছে। আমরা যখন এই মূল্যসীমা চালু করি, তখন বিশ্বের অন্যান্য দেশকে রাশিয়ার তেল কেনা থেকে নিষিদ্ধ করিনি। উদ্দেশ্য ছিল, তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার অতিরিক্ত মুনাফা সীমিত করা।”

    জয়শঙ্করের সাফ কথা

    এদিকে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে সমালোচনার জবাবে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ভারতের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নয়, বরং মূল্য ও প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে (India Russian Oil Imports)। জয়শঙ্কর বলেন, “আমি তেল কিনি দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছিল। সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল কিনতে শুরু করায় ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতির কারণেই রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, সেই সময় বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি বলেন, “এখানে কোনও বড় নীতিগত প্রশ্ন জড়িত আছে বলে ভান করার প্রয়োজন নেই।”

    কড়া জবাব ভারতের

    ইউরোপের সমালোচনারও কড়া জবাব দেন জয়শঙ্কর। তিনি (India Russian Oil Imports) বলেন, “ইউরোপের অনেক দেশ এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে, যা বহু বছর ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। তার জেরে ভারত কখনওই ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেনি। বিষয়টি মনে রাখা উচিত।” তিনি এও জানান, বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া হলেও, সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী আমেরিকা (Finland)। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এটা ছিল কাতার। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধু জ্বালানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও জানিয়ে দেন জয়শঙ্কর।

    বিশ্লেষকদের মতে, ফিনল্যান্ডের এই মন্তব্য ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। কারণ, নয়াদিল্লি বরাবর দাবি করে আসছে, তারা পশ্চিমী দেশগুলির নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই রাশিয়ার তেল কিনেছে (Finland) এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য রক্ষায়ও সেই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে (India Russian Oil Imports)।

     

LinkedIn
Share