মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লিবিয়ার (Libya) প্রয়াত স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার ফেসবুকে দুটি পৃথক পোস্টে ৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির (Saif Al Islam Gaddafi) মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন তাঁর আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অজ্ঞাত পরিচয় চারজন অস্ত্র-সশস্ত্র নিয়ে নজরদারিতে রাখা ক্যামেরাকে প্রথমে নিষ্ক্রিয় করে। এরপর সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বাসভবনে হামলা চালায় এবং তারপর তাঁকে হত্যা করা হয়। এই খবর আল-আহরার টিভি চ্যানেলকে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান আবদুর রহিম।
কমান্ডো ইউনিট এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে (Saif Al Islam Gaddafi)
আল-আহরার টিভি খবর অনুযায়ী, জাইদি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিবিয়ার (Libya) জিনতান শহরে সাইফ গদ্দাফির বাড়িতে চার সদস্যের কমান্ডো ইউনিট এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে। গদ্দাফির (Saif Al Islam Gaddafi) মৃত্যু সম্পর্কিত আর কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আবার বিবিসি অনুসারে জানা গিয়েছে, সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বোন নিজে এই মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলির ভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। একই ভাবে লিবিয়ান টিভিকে বলেছেন, “আলজেরিয়ার কাছে লিবিয়ার সীমান্তের কাছে মারা গেছেন আল-ইসলাম গদ্দাফি।” আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি সংস্থা ত্রিপোলি-ভিত্তিক হাই স্টেট কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রধান খালেদ আল-মিশরি সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির হত্যার প্রয়োজনীয় ও স্বচ্ছ তদন্ত করার দাবি তুলেছেন।
বাবার মৃত্যুর পর ছেলেকেও রাখা হয়েছিল জেলে
২০১১ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (এনটিসি) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফিকে (Saif Al Islam Gaddafi) তাঁর পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কোনও সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না, তবুও তিনি তাঁর পিতার পরে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। লিবিয়াকে নিজের হাতের মুঠোয় রেখেছিলেন মুয়াম্মার গদ্দাফি। ১৯৬৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেছিলেন। সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকে লিবিয়ায় (Libya) গদ্দাফি শাসনের পতন না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমাদের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর, সরকার বিরোধী বিক্ষোভের নৃশংস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগে তাঁকে জিনতানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া প্রায় ছয় বছর ধরে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০১১ সালে বিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চেয়েছিল। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত একই অপরাধের জন্য তাঁকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যেখানে জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকার রায় দেয়। দুই বছর পর টোব্রুক থেকে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। গদ্দাফির পতনের পর থেকে, লিবিয়া বিভিন্ন মিলিশিয়া শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এটি দুটো সরকার পরস্পর বিরোধী। এই অবস্থায় গদ্দাফির ছেলের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগের।
