Tag: Sandhi Puja

Sandhi Puja

  • Durga Puja 2024: ১১৪ বছর ধরে একই রীতি! একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো

    Durga Puja 2024: ১১৪ বছর ধরে একই রীতি! একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো। ১১৪ বছর ধরে একই রীতিতে বৈষ্ণব নিয়মে পূজিত চৌধুরী বাড়ির দেবী দুর্গা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল বালুরঘাটের নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বইদুল গ্রামের চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024)। চৌধুরী বাড়ি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী পরিবারে দুর্গাপুজোর শুভারম্ভ হয় ১৯১১ সালে পান্নালাল চৌধুরী-র হাত ধরে। পান্নালাল চৌধুরী মারা যাওয়ার পরে তাঁর ছয় ছেলে পালাক্রমে এই দুর্গাপুজো চালিয়ে আসেন। বংশানুক্রমে চলে আসা বইদুল গ্রামের চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো আশপাশের গ্রামের মানুষদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

    মঙ্গলচণ্ডীর গানের আসর (Durga Puja 2024)

    কালক্রমে পুজোর জৌলুস বাড়লেও রীতিতে হয়নি কোনও বদল। ষষ্ঠী থেকে নবমী অবধি দেবী দুর্গাকে এখানে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় ফল ও মিষ্টি। দশমীতে অন্নভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে ষষ্ঠী থেকে দশমী অবধি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে বসে মঙ্গলচণ্ডীর গানের আসর। যে গান শুনতে ভিড় জমান আশপাশের গ্রামের মানুষ। চৌধুরী বাড়ির পুজোকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন গোটা গ্রামের বাসিন্দারা। পুজোর পাঁচ দিন গ্রামের সবাই এক সঙ্গে পুজোর (Durga Puja 2024) আচার অনুষ্ঠান করে থাকেন। এক গ্রামবাসী বলেন, আমাদের গ্রামের চৌধুরী বাড়ির পুজো দীর্ঘদিনের পুরনো পুজো। এই পুজো শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে পান্নালাল চৌধুরী-র হাত ধরে। আজও সেই নিয়ম মত করে পুজো হয়ে যাচ্ছে।

    ধুনুচি নাচের আসর

    চৌধুরী পরিবারের দুই সদস্য বাপ্পাদিত্য চৌধুরী এবং বিশ্বদেব চৌধুরী জানিয়েছেন, পুজোতে (Durga Puja 2024) পরিবারের ৬৫ জন ছেলের নামেই দেবীর উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করা হয়। ১১৪ বছর ধরে একই রীতিতে বৈষ্ণব নিয়মে পূজিত আমাদের বাড়ির দেবী দুর্গার পুজো। অষ্টমীর দিন একনলা বন্দুকের গুলি ছুড়ে শুরু হয় সন্ধি পুজো (Sandhi Puja)। পুজোর দিনগুলিতে প্রতিদিনই প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে মন্দির প্রাঙ্গণে বসে ধুনুচি নাচের আসর। সব মিলিয়ে চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো ঘিরে পুজোর দিনগুলিতে আনন্দে মেতে উঠেন বইদুল সহ আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: জমিদার তাঁর বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুড়লেই শুরু হত সন্ধিপুজো

    Durga Puja 2024: জমিদার তাঁর বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুড়লেই শুরু হত সন্ধিপুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় পরম্পরার বিচারে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও কম যায় না। এখানেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন পুজো, যেগুলি জমিদার আমল থেকে বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। কোথাও হয়তো জাঁকজমক বা আতিশয্য কম। কিন্তু আন্তরিকতায় কেউ কম যায় না। উত্তরবঙ্গের এমনই এক জেলা হল দক্ষিণ দিনাজপুর। এই জেলার গঙ্গারামপুরের ফুলবাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে উদয় গ্রাম। বসতি থাকলেও গ্রামটি নিরিবিলি। গ্রামের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জমিদার হৃষিকেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। শোনা যায়, সন্ধিপুজো শুরুর আগে জমিদার তাঁর বন্দুক থেকে শূন্যে গুলি ছুড়তেন। তার পর শুরু হত মায়ের পুজো (Durga Puja 2024)। জমিদার এখন নেই। নেই জমিদারি প্রথাও। তাই এখন আর সন্ধিপুজোর আগে শূন্যে ছোড়া গুলির শব্দও শোনা যায় না। তবে জমিদারের বংশধররা বছরের পর বছর নিয়মনিষ্ঠা ধরে রেখেছেন।

    পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠিত করে দুর্গাপুজো শুরু (Durga Puja 2024)

    আরও শোনা যায়, প্রজাদের মঙ্গল কামনায় জমিদার হৃষিকেশ বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গারামপুরের উদয় গ্রামে পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠিত করে দুর্গাপুজো শুরু করেন। মা দুর্গার আসনটি পঞ্চমুণ্ডির আসন হওয়ায় এক সময় মহিষ বলি দেওয়া হত। পুজোর পাঁচদিন পাত পেড়ে প্রজাদের খাওয়ানো হত। দুঃস্থদের হাতে তুলে দেওয়া হত নতুন বস্ত্র। পুজোমণ্ডপ চত্বরে বসত যাত্রাগান ও মঙ্গলচণ্ডী গানের আসর। বসত মেলাও। জমিদারের পুজো ঘিরে কয়েকটা দিন উদয় গ্রাম জমজমাট থাকত (Sandhipujo)। তবে এখনও জমিদারের পুজোয় ১০৮টি বেলপাতা দিয়ে যজ্ঞ হয়। জমিদার হৃষিকেশ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হওয়ার পর পুজোর দায়িত্বভার একে একে কাঁধে তুলে নেন তাঁর বংশধররা। এবারে পুজোর (Durga Puja 2024) দায়িত্বে রয়েছেন জমিদারের অষ্ঠম পুরুষ স্বপন শর্মা রায়, বাবুন শর্মা রায়, দেবাশিস শর্মা রায় ও সমীর শর্মা রায়রা।

    পুজোর চারদিন সারাক্ষণ যজ্ঞের আগুন জ্বলে

    এবিষয়ে জমিদার বাড়ির বংশধররা বলেন, পুজোর (Durga Puja 2024) পুরনো রীতি আমরা এখনও ধরে রেখেছি। পুজোর চারদিন সারাক্ষণ আমাদের যজ্ঞের আগুন জ্বলে। বাবুন শর্মা রায় বলেন, ‘বাপঠাকুরদার মুখে শুনেছি আমাদের এই পুজো বহু পুরনো। তাঁর স্মৃতি হিসেবে বলি দেওয়ার খড়্গ, কাঁসার বাসনপত্র সহ বেশ কিছু জিনিস রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: দুর্গাপুজোয় কেন হয় বলিদান? সন্ধিপুজোর সঙ্গে এর কি কোনও সম্পর্ক আছে?

    Durga Puja 2024: দুর্গাপুজোয় কেন হয় বলিদান? সন্ধিপুজোর সঙ্গে এর কি কোনও সম্পর্ক আছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সময় বনেদি বাড়িতে পশু বলি দেওয়ার প্রথা ছিল। বিশেষ করে অধিকাংশ জমিদার বাড়িতে এক মসয় এই প্রথা ছিল। এমনিতেই শুধু দুর্গা পুজো নয়, হিন্দু ধর্মে বহু পুজোতেই পশুবলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে। কালের বিবর্তনে সেই নিয়ম এখন অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার অনেকে পশু হত্যাকে সমর্থন করেন না। তাই ছাগ বলির পরিবর্তে আখ, চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয় পুজোয়। সন্ধি পুজোতেও (Sandhi Puja) বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে।

    বলি শব্দের অর্থ কী? (Durga Puja 2024)

    প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ‘বলি’ শব্দটির অর্থ। যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত সব কিছুকেই বলি বলা হয়। আগেকার দিনে যজ্ঞের আগুনে ঝলসে দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, পরে তা প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করতেন মুনি-ঋষিরা। পশু থেকে ফল, সব কিছুই হতে পারে বলির উপাদান। তবে সাধারণ মানুষ পশুবলিকেই একমাত্র বলি হিসেবে জানেন। দেব-দেবীর (Durga Puja 2024) উদ্দেশে এই উৎসর্গ আদতে প্রতীকী। সন্ধি পুজোতেও প্রতীকী হিসেবেই বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে।

    সন্ধি পুজোর সঙ্গে বলির কী সম্পর্ক? (Durga Puja 2024)

    পৌরাণিক কাহিনি সূত্রে জানা গিয়েছে, অষ্টমী (Durga Puja 2024) এবং নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে স্বর্ণ ভূষণে সজ্জিতা হন দেবী দুর্গা। স্বর্ণ বর্ণ ধারণ করেন। মহিষাসুর বধের প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। তবে মহিষাসুর দেবীর লক্ষ্য পূরণে বাধা দিতে তার দুই অনুচর চণ্ড এবং মুণ্ডকে দেবীকে আক্রমণ করতে পাঠান। আকস্মিক পিছন থেকে তাঁরা দেবীকে আক্রমণ করেন। সে সময় দেবী ক্রোধে রক্তবর্ণা হয়ে ওঠেন। ধারণ করেন চামুণ্ডা রূপ। খড়েগর কোপে চণ্ড ও মুণ্ডের মুণ্ডচ্ছেদ করেন দেবী। এর সঙ্গেই অশুভ শক্তির বিনাশ হয়। সে কারণেই চণ্ড-মুণ্ডের প্রতীক হিসেবে মনের অশুভ চিন্তা, খারাপ প্রবৃত্তিকে দেবীর সামনে যজ্ঞের পবিত্র আগুনে ভস্ম করতেই বলি দেওয়া হয়। মহিষাসুরের প্রতীক হিসেবে বেশিরভাগ যজ্ঞের আগে মোষ বলি দেওয়ার রীতি ছিল। পরবর্তীতে তা অনেক ক্ষেত্রে পাঁঠাবলিতে রূপান্তরিত হয়। প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ হওয়ার পর এখনও বহু বনেদি বাড়িতে চালকুমড়ো, আখ ইত্যাদি বলি দেওয়ার চল রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: মহাষ্টমী ও নবমীর সংযোগ মুহূর্তে কেন হয় সন্ধি পুজো? কী ফল মেলে?

    Durga Puja 2024: মহাষ্টমী ও নবমীর সংযোগ মুহূর্তে কেন হয় সন্ধি পুজো? কী ফল মেলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাষ্টমীর (Durga Puja 2024) শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট, এই মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হয় সন্ধিপুজো। অষ্টমী থেকে নবমীর সংযোগ মুহূর্তে কোনও এক উদ্যোক্তা ‘জয় মা’ ধ্বনি তোলেন। বাড়ি থেকে পাড়ার পুজো সবেতেই কমবেশি এই রীতি দেখা যায়।

    কেন হয় সন্ধিপুজো? (Durga Puja 2024)

    ১০৮টি পদ্ম এবং ১০৮টি মাটির প্রদীপ সহযোগে সম্পন্ন হয় সন্ধি পুজো। প্রথা অনুযায়ী সন্ধি পুজোয় (Sandhi Puja) দেবী দুর্গাকে পুজো করা হয় চামুণ্ডা রূপে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, যখন মহিষাসুরের (Durga Puja 2024) সঙ্গে দেবী যুদ্ধ করছিলেন, সেই সময় চণ্ড ও মুণ্ড দেবীকে আক্রমণ করেছিল। চণ্ড ও মুণ্ড ছিল মহিষাসুরের দুই সেনাপতি। তাদের দেবী দুর্গা বধ করেছিলেন। সেই থেকে দেবীর নাম হয় চামুণ্ডা। ভক্তদের বিশ্বাস, চণ্ড ও মুণ্ডকে যে সন্ধিক্ষণে দেবী বধ করেছিলেন, সেই ক্ষণেই সন্ধি পুজোর আয়োজন করা হয়।

    আবার অন্য একটি পৌরাণিক (Durga Puja 2024) মতে, এই সন্ধিপুজোর সন্ধিক্ষণে দেবী কালিকার জন্ম হয়েছিল মাতা অম্বিকার তৃতীয় নয়ন থেকে। পরাক্রমশালী অসুর রক্তবীজের প্রতিটি রক্তবিন্দু থেকে নতুন অসুরের জন্ম হত। রক্তবীজের সমস্ত রক্ত দেবী কালিকা পান করেছিলেন বলে পৌরাণিক কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে। এই সন্ধিক্ষণে ক্ষণিকের জন্য হলেও দেবীর অন্তরের সমস্ত স্নেহ-মমতার অবসান ঘটে বলে মনে করা হয়। এজন্য সন্ধিপুজো চলাকালীন দেবীর দৃষ্টির সামনে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। দৃষ্টিপথ পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সন্ধিপুজোয় (Sandhi Puja) কী ফল মেলে জানেন?

    প্রথা অনুযায়ী সন্ধিপুজোয় পুজোর শেষ ধাপ (Durga Puja 2024) অর্থাৎ শেষ ২৪ মিনিটে বলিদান সম্পন্ন হয়। সাধারণত ছাগলের পাশাপাশি কোনও কোনও জায়গায় আখ, কলা, চালকুমড়ো ইত্যাদিও দেবীকে বলি দেওয়া হয়ে থাকে। কথিত আছে, সংযমী হয়ে ভক্তি ভরে নিষ্ঠার সঙ্গে উপবাসী থেকে সন্ধিপুজো করলে যমের হাত থেকেও মুক্তি মেলে। অর্থাৎ মৃত্যুর সময় দেবীর কৃপায় যমের স্পর্শও রোখা যায়। আবার বলা হয়, নিষ্ঠা এবং ভক্তির সঙ্গে সন্ধিপুজো করলে যে ফল পাওয়া যায়, তা সারা বছর পুজোয় ফললাভের সমকক্ষ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2022: জানেন মহাষ্টমীর দিন “সন্ধিক্ষণের পুজো” কেন হয় ? 

    Durga Puja 2022: জানেন মহাষ্টমীর দিন “সন্ধিক্ষণের পুজো” কেন হয় ? 

    শুভ্র চট্টোপাধ্য়ায়: মহাষ্টমীর (Mahastami) দিনে ঐ বিশেষ পুজোর কথা সবাই জানি। যে পুজোর কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকেনা, কখনো ভোরে, কখনো বা মাঝরাতে , কোনো কোনো বছর বিকেলে সম্পন্ন হয়। বিশেষ ঐ পুজো সমাপ্ত হয়েছে বোঝা যায় যখন একজন পুরোহিত দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ব্যাপক জোরে “জয় মা” ধ্বনি তোলেন। সাথে সাথেই শুরু হয় মাতার আরতি অনুষ্ঠান। পুজো মন্ডপের বাচ্চারা তখন পটকা ফাটাতে থাকে। প্রচলিত ভাষায় এই বিশেষ পুজোকে বলে ক্ষণের পুজো । বর্ণ বিপর্যয় হতে হতে এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে “ক্ষ্যানের” পুজো। ঐ পুজোর হলো আসল নাম হলো “সন্ধিপূজা” (Sandhi Puja)।  অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট থেকে নবমী শুরুর প্রথম ২৪ মিনিট ধরে চলে ঐ পুজো। এই সময়টাই সন্ধিক্ষণ।  কিন্তু সন্ধিপূজা করতে হয় কেন? এর তাৎপর্য বা মাহাত্ম্য কি রয়েছে ? এর উত্তর আছে আমাদের পৌরাণিক আখ্যান গুলিতে ।
    সন্ধিপূজা আসলে দৈত্য দলনী দেবী দুর্গার আর এক ভীষণ দর্শনা রূপের পূজা । সেই দেবীর নাম ‘চামুণ্ডা’ । অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী –  শুম্ভ নিশুম্ভ নামক দুই অসুর রাজা, চণ্ড ও মুন্ড নামের দুই দৈত্য কে পাঠিয়েছিল দেবীর সাথে যুদ্ধ করতে । চন্ড ও মুণ্ড বহু সেনা , অশ্ব , রথ , হাতি নিয়ে যুদ্ধে এলো‌ তারা হিমালয়ের চূড়ায় হাস্যরত দেবী অম্বিকা কে দেখতে পেল । দেবী চন্ডিকা তাদের দেখে ভীষণ ক্রুদ্ধা হলেন । ক্রোধে তাঁর মুখ মণ্ডল কৃষ্ণবর্ণা হল ।তখন দেবীর কপাল থেকে এক ভীষণ দর্শনা দেবী প্রকট হলেন । ভয়ঙ্করী , কোটর গতা , আরক্ত চক্ষু বিশিষ্টা। সেই ভয়ংকরা দেবী ভীষণ হুঙ্কার দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন । কত গুলি অসুরকে দেবী তার চরণ ভারে পিষে বধ করলেন । কোন কোন অসুর দেবীর খড়গের আঘাতে মারা গেল । যুদ্ধক্ষেত্রে এই ভাবে দেবী অসুর দের ধ্বংস করে ফেললেন । এরপর দেবী তার খড়গ তুলে ‘হং’ শব্দ করে চন্ডের দিকে ধেয়ে গেল । দেবী চন্ডের চুলের মুঠি ধরে খড়গ দ্বারা এক কোপে চণ্ডের শিরোচ্ছেদ করে ফেললেন । চন্ড অসুর বধ হল। চন্ড নিহত হয়েছে দেখে ক্রোধে মুন্ড দেবীর দিকে ধেয়ে গেলো । দেবী তার রক্তাক্ত খড়গ দিয়ে আর এক কোপে মুন্ড এর শিরোচ্ছেদ করলেন । এভাবে মুণ্ড বধ হল। চন্ড মুন্ড বধ হতে দেখেই  দেবতারা আনন্দে দেবীর জয়ধ্বনি দিতে থাকলেন‌। চন্ড ও মুন্ড কে বধ করেছিলেন বলেই দেবী “চামুণ্ডা” নামে প্রসিদ্ধ হন। অষ্টমী ও নবমী তিথির এই সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডার-ই আরাধনা করা হয়। এই বিশেষ মুহুর্তে দেবী চন্ড ও মুন্ড কে বধ করেছিলেন বলে জানা যায় ।
    এই পুজোতে ১০৮ টি পদ্ম অর্পণ করা হয় মায়ের চরণে। এটা নিয়েও দুটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। 
    ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করার জন্য সন্ধিপূজার শেষে শ্রীরামচন্দ্র দেবীর পায়ে ১০৮টি পদ্ম উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন । তাই ভক্ত হনুমানকে পাঠিয়েছিলেন দেবীদহে । কিন্তু দেবীদহ থেকে ১০৭ টি পদ্ম নিয়ে ফিরেছিলেন পবনপুত্র । কারণ দেবীদহে আর পদ্ম ছিল না । সুতরাং মায়ের পায়ে দেওয়ার জন্য একটি পদ্ম কম পড়েছিল । সন্ধিক্ষণ সমাপ্ত হওয়ার  উপক্রম হলে শ্রীরামচন্দ্র ধনুর্বাণ দিয়ে নিজের নীল পদ্মের ন্যায় চোখ দুটির মধ্যে একটি তুলে মায়ের পায়ে অর্পণ করতে চেয়েছিলেন ১০৮ তম পদ্ম হিসেবে । চোখ উপড়ে ফেলার মুহূর্তে অবতীর্ণ হয়েছিলেন দেবী দুর্গা । মায়ের বরে বলীয়ান শ্রীরামচন্দ্র এই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণেই রাবণ বধ করেছিলেন বলে ভক্তদের ধারণা । অন্য একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, অসুর নিধনকালে দেবী দুর্গার সারা অঙ্গ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ১০৮টি ক্ষত । ক্ষতগুলির যন্ত্রণা কমানোর জন্য ভগবান শিব মা দুর্গাকে দেবীদহে স্নান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন । দেবীদহে স্নান করার পর মায়ের শরীরের সেই ১০৭টি ক্ষত থেকে সৃষ্টি হয়েছিল ১০৭টি পদ্ম । কিন্তু একটি ক্ষত তখনও অবশিষ্ট ছিল । দেবী দুর্গা ১০৮ তম ক্ষতের জ্বালায় খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। এটা দেখে মহাদেবের চোখ থেকে নির্গত হয়েছিল এক ফোঁটা অশ্রু । অশ্রুকণাটি গিয়ে পড়েছিল মায়ের ১০৮ তম ক্ষতে । এতে মা দুর্গার শরীরের অবশিষ্ট ক্ষতটিও সেরে উঠেছিল । দেবীদহে থেকে গিয়েছিল ১০৭ টি পদ্ম।
    সন্ধিপুজা তে মহাফল লাভ হয় বলেই ভক্তদের ধারণা। মাতাকে প্রসন্ন করতে এই পুজোতে লাল জবা ফুল এবং নৈবেদ্য তে লাল যে কোন ফল অর্পণ করা হয়।

  • Durga Puja: সন্ধি পুজো করলে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে যাবে আপনার জীবন! আর কী কী ফল পাবেন?

    Durga Puja: সন্ধি পুজো করলে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে যাবে আপনার জীবন! আর কী কী ফল পাবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির সবচেয়ে বড় উত্‍সব হল দুর্গা পূজা (Durga Puja 2022)। পুজোর পাঁচটি দিনের জন্য সারাবছর মানুষ অপেক্ষায় বসে থাকেন। ষষ্ঠী থেকে দশমী, শারদীয়া দুর্গোত্‍সবের এই পাঁচটি দিনে মেতে ওঠেন ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে আপামর বাঙালি। আর এই দুর্গাপুজো- কে ঘিরেই রয়েছে একাধিক রীতি-নিয়ম। কোন রীতির কী কারণ তার ফলে কী হয়, এমন অনেক কিছুই জানেন না অনেকেই। যেমন- সন্ধি পুজোর কথা সবাই জানেন, তবে জানেন কী এই পুজো করলে কী কী ফল পাওয়া যায়? তবে আজ সন্ধি পূজা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

    সন্ধি পুজো (Sandhi Puja) হল অষ্টমী (Ashtami) ও নবমী (Nabami) তিথির মিলনের সময়। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির শুরুর ২৪ মিনিট, মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হয় এই সন্ধি পুজো। পুরাণ মতে, মহিষাসুরের সঙ্গে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে ব্যস্ত থাকাকালীন অসুরের দুই বন্ধু চন্ড ও মুন্ড পিছন থেকে দেবীকে আক্রমণ করেন। ফলে তিনি রেগে গিয়ে দেবী ত্রিনয়নী চামুন্ডা রূপ ধারন করেন। এই চামুন্ডা রূপেই মা দুর্গা চন্ড ও মুন্ডের মাথা কেটে নেন। দেবীর এই চামুন্ডা রূপেরই আরাধনা করা হয় সন্ধি পুজোর মাধ্যমে। এই  ঘটনাটিকে স্মরণ করার জন্যই প্রতি বছর অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে এই সন্ধি পুজো করা হয়।

    তবে সন্ধি পূজার সময়ে দুটি জিনিস নিবেদন করতে হয়, নয়তো এই পুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেটি হল ১০৮ টি পদ্মফুল ও ১০৮ টি প্রদীপ। ফলে মা দুর্গার সন্ধি পুজোয় ১০৮টি পদ্মফুল এবং ১০৮টি প্রদীপ উৎসর্গ করা এই পুজোর প্রধান নিয়ম। আর এই সন্ধি পুজো যদি নিষ্ঠাভরে, ভালোভাবে করা যায়, তা হলে জীবনে নানা ভালো ফল পাওয়া যায়। সেগুলি হল-

    • সন্ধি পুজোর পরই মাকে প্রণাম করে যদি কোনও কাজ শুরু করা হয়, তা হলে সেই কাজে আপনি কখনও অসফল হবেন না।  
    • এই পুজোর সময় যদি এক মনে দুর্গা মন্ত্র জপ করা হয়, তা হলে মা খুব খশি হন এর ফলে মনের জোর বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক অবসাদও কমে যায়।
    • সন্ধি পুজোর সময় একমনে মায়ের আরাধনা করলে শুধুমাত্র মা নন, তাঁর সন্তানরাও খুশি হন।
    • ১০৮টি পদ্ম ফুল দিয়ে মায়ের পুজো করলে সংসারে ঝগড়া বিবাদ কমে যায়। জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে যায়।
    • সন্ধি পুজো করলে গ্রহ দোষ কেটে যায় এবং খারাপ স্বপ্ন দেখার আশঙ্কাও কমে যায়।
    • মনে করা হয়, এই পুজোর মাধ্যমে মনের ছোট থেকে বড়, সকল ইচ্ছা পূরণ হয়।
    • সন্ধি পুজোর সন্ধিক্ষণ মুহূর্তে মায়ের নাম নিতে থাকলে রোগ ব্যাধি আপনার ধারের কাছেও আসতে পারবে না।
  • Durga Puja 2022: সন্ধি পুজোর সঙ্গে বলির কী সম্পর্ক? জেনে নিন

    Durga Puja 2022: সন্ধি পুজোর সঙ্গে বলির কী সম্পর্ক? জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে বহু পুজোতেই পশুবলি (Animal Sacrifice) দেওয়ার রেওয়াজ আছে। আবার অনেকে পশু হত্যাকে সমর্থন করেন না। তাই তাঁরা পরিবর্তে আখ, চালকুমড়ো বলি দেন পুজোয়। সন্ধি পুজোতেও বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। সন্ধি পুজোর (Sandhi Puja) সঙ্গে বলির কী সম্পর্ক? চলুন জেনে নেওয়া যাক।  

    প্রথমে জেনে নেওয়া যাক ‘বলি’ শব্দটির অর্থ। যজ্ঞে দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত সব কিছুকেই বলি বলা হয়। আগেকার দিনে যজ্ঞের আগুনে ঝলসে দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, পরে তা প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করতেন মুণি-ঋষিরা। পশু থেকে ফল, সব কিছুই হতে পারে বলির উপাদান। তবে সাধারণ মানুষ পশুবলিকেই একমাত্র বলি হিসেবে জানেন। দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে এই উৎসর্গ আদতে প্রতীকী। সন্ধি পুজোতেও প্রতীকী হিসাবেই বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত আছে এক পৌরাণিক কাহিনী।   

    অষ্টমী এবং নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে স্বর্ণ ভূষণে সজ্জিতা হন দেবী দুর্গা। স্বর্ণ বর্ণ ধারণ করেন। মহিষাসুর বধের প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। তবে মহিষাসুর দেবীর লক্ষ্য পূরণে বাধা দিতে তার দুই অনুচর চণ্ড এবং মুণ্ডকে  দেবীকে আক্রমণ করতে পাঠান। আকস্মিক পিছন থেকে তারা দেবীকে আক্রমণ করেন। সে সময় দেবী ক্রোধে রক্তবর্ণা হয়ে ওঠেন। ধারণ করেন চামুণ্ডা রূপ। খড়্গের কোপে চণ্ড ও মুণ্ডের মুণ্ডচ্ছেদ করেন দেবী। এর সঙ্গেই অশুভ শক্তির বিনাশ হয়। 

    সে কারণেই চণ্ড-মুণ্ডের প্রতীক হিসাবে মনের অশুভ চিন্তা, খারাপ প্রবৃত্তিকে দেবীর সামনে যজ্ঞের পবিত্র আগুনে ভস্ম করতেই বলি দেওয়া হয়। মহিষাসুরের প্রতীক হিসাবে বেশিরভাগ যজ্ঞে আগে মোষ বলি দেওয়ার রীতি ছিল। পরবর্তীতে তা অনেক ক্ষেত্রে পাঁঠাবলিতে রূপান্তরিত হয়। প্রাণী হত্যা অনেকেই পছন্দ করেন না। তাই চালকুমড়ো, আখ ইত্যাদি বলি দেওয়া হয় আজকাল। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।      

LinkedIn
Share