Tag: Saraswati Puja

Saraswati Puja

  • Saraswati Puja: সরস্বতী পুজোর পৌরাণিক গল্পগুলি জানেন?

    Saraswati Puja: সরস্বতী পুজোর পৌরাণিক গল্পগুলি জানেন?

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) গুরুত্ব বর্তমানে দেবী আরাধনার মধ্যেই আটকে নেই। পুজো পুজো ভাব প্রায় ১ মাস আগেই শুরু হয়ে যায়, বালক বা বালিকারা এইসময় মনে করে সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) দিনই কুল খাওয়া শুরু করতে হয়। এর আগে কুল খেলে পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে। যেমনটা আমরা সবাই ছেলেবেলায় বা মেয়েবেলায় ভাবতাম। বয়ঃসন্ধিকালে এই পুজোর দিন মনে প্রেমভাব জাগ্রত হয়না এমন কিশোর কিশোরী খুঁজে পাওয়া যায়না। স্কুল কলেজে আলপনা, চিত্রপ্রদর্শনী, পুষ্পাঞ্জলি, পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে সরস্বতী পুজো।

    সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনীগুলি জানব

     গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত‍্যের “নবরত্ন” সভার কথা নিশ্চয় সবাই শুনেছি। এখানে অন‍্যতম শ্রেষ্ঠরত্ন ছিলেন মহাকবি কালিদাস। ঋক বৈদিক যুগ থেকেই সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) প্রচলন শুরু হলেও, দেবী সরস্বতীর পৌরাণিক আখ্যান মূলত কালিদাসের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু কীভাবে ? আসুন জেনে নিই। 
    প্রথম জীবনে খুবই বোকা ছিলেন কালিদাস। বিভিন্ন কাহিনী অনুযায়ী তিনি থাকতেন উজ্জ্বয়িনীতে শিপ্রা নদীর তীরে। কথিত আছে উজ্জ্বয়িনীর রাজকন্যার কাছে তর্কে পরাস্ত হয়ে তাঁকে জব্দ করতে চাইছিলেন পরাজিত পণ্ডিতদের দল। পণ্ডিতরা ভাবলেন রাজকন্যার সঙ্গে একজন বোকার বিয়ে যেভাবেই হোক দিতে হবে। এতেই জব্দ করা যাবে রাজকন্যাকে।
    পথে যেতে যেতে এক জায়গায় পণ্ডিতরা দেখলেন, একজন লোক একটি গাছের ডালের ডগায় বসে তার গোঁড়ার দিকটা কুড়ুল দিয়ে কাটছে। কিন্তু কাটার পর ডালটা যে তাকে নিয়েই মাটিতে পড়বে, সেটা বোঝার মতো জ্ঞান তার নেই। ইনিই কালিদাস।
    এরপর কোনওভাবে রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হল লোকটির। চরম প্রতিশোধ নিলেন পণ্ডিতরা। বিছানায় মশারির দরজা খুঁজে না পেয়ে কালিদাস  ঝাঁপ দিলেন রাজকন্যার গায়েই। এবার রাজকন্যা বুঝে গেলেন, দেশের পণ্ডিতরা তাঁর সঙ্গে এক নির্ভেজাল বোকার বিয়ে দিয়েছে!
     কালিদাস স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। মনের জ্বালায় শুরু হল কালিদাসের অনিশ্চিত পথ চলা। চলতে চলতে একটি সরোবরের ধারে এসে বিশ্রাম। ঠিক করলেন, এখানকার জলে ডুবেই প্রাণ বিসর্জন দেবেন। কিন্তু তার আগেই অবাক হয়ে কালিদাস দেখলেন, সরোবরের ঘাটের পাথরের ওপর গর্ত। মেয়েরা জল নিতে এসে ওই পাথরের ওপরেই কলসি রাখে আর তাতেই ক্ষয়ে গেছে কঠিন পাথর। দেখে কালিদাস ভাবলেন, শক্ত পাথর যদি ক্ষয় হতে পারে, তবে তার বুদ্ধি হবে না কেন! ওখানেই শুরু হলো কালিদাসের সরস্বতী তপস্যা।
    তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja) কালিদাসকে দেখা দিয়ে শ্রেষ্ঠ কবি হবার বর দিলেন। বর পেয়েই সরস্বতীর (Saraswati Puja) বরপুত্র মুখে মুখেই রচনা করে ফেললেন সরস্বতী বন্দনা।

    অনেকেই বলেন, তাঁর সাধনস্থল বীরভূম জেলার নানুরের “সরস্বতী তলা।” কেউ বলেন, তাঁর সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের ব‍র্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায় মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকার সমুদ্র উপকূল। তাই তিনি মেদিনীপুরের কাঁথির লোক। 
    আরেকটি মতবাদ প্রচলিত আছে, বীরভূম জেলার নানুরের কাছে বেলুটি গ্রামে মহাকবি কালিদাসের আবির্ভাব ও সরস্বতী সাধনায় সিদ্ধিলাভ ঘটে। এখানে আজও রয়েছে কালিদাসের স্মৃতিবিজড়িত “সরস্বতী তলা।” 

    অপর একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী সতীর আত্মদাহের পর শিবের মনে কাম ও প্রেম জাগৃত করার জন্য দেবতারা কামদেবের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। যাতে শিবের ধ্যানভঙ্গ হয় এবং পার্বতীর সঙ্গে তাঁর পুনরায় মিলন হয়। এ কারণে রতির সঙ্গে মিলে কামদেব শিবের ধ্যান ভঙ্গ করেন। তখনই রেগে গিয়ে শিব কামদেবকে তৃতীয় চক্ষু দিয়ে ভস্ম করে দেন। এর পর রতি বিলাপ করেন। তখন শিব রতিকে আশীর্বাদ দেন যে কামদেব আবেগ রূপে বিরাজ করবেন। শিব জানান যে, কামদেবের মৃত্যু হয়নি, তিনি অনঙ্গ। কারণ তাঁর শরীর নষ্ট হয়েছে এবং তিনি কোনও শরীরে বাস করবেন না। কামদেবকে কৃষ্ণের পুত্র প্রদ্যুম্ন রূপে শরীর লাভ করার আশীর্বাদ দিয়েছিলেন শিব। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বসন্ত পঞ্চমীর দিন তাই কামদেবেরও পুজো করা হয়ে থাকে।

    বসন্ত পঞ্চমী হোক বা সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja) এদিন হলুদ পোশাককে শুভ মানা হয়। এতে দেবী সরস্বতী সন্তুষ্ট হন বলেই ভক্তদের বিশ্বাস।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

     

  • Saraswati Puja: কোথাও খাঁচায় বন্দী, কোথাও আবার দাঁড়িপাল্লায় সরস্বতী! দেবী বন্দনায় নিয়োগ দুর্নীতির ছোঁয়া শহরের মণ্ডপে

    Saraswati Puja: কোথাও খাঁচায় বন্দী, কোথাও আবার দাঁড়িপাল্লায় সরস্বতী! দেবী বন্দনায় নিয়োগ দুর্নীতির ছোঁয়া শহরের মণ্ডপে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদ্যার দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja 2023)। বাগদাত্রী দেবী শ্বেত পদ্মের উপর আসন পেতে থাকেন। মাঘী পঞ্চমীতে তাঁর আরধনায় মাতে ছোট থেকে বড়রা। বিদ্যা বিনয় দান করে। ন্যায়-অন্যায় বুঝতে শেখায়। কিন্তু বাংলায় এখন শিক্ষা বিক্রি হয়। অর্থের বিনময়ে শিক্ষক কেনা-বেচা হয়। বিদ্যাকে ছোট করে অর্থের বিনময়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ বাংলার অলি-গলিতে।  অভিযোগ উঠেছে,অযোগ্যরা চাকরি পেয়েছেন। ফেল করেও শিক্ষকতা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই শহর কলকাতায় এবার সরস্বতী পুজোর থিমে কোথাও খাঁচায় বন্দি বাগদেবী কোথাও আবার দাঁড়িপাল্লায় তোলা হয়েছে তাঁকে।

    দাঁড়িপাল্লায় সরস্বতী

    সাধারণত এ রাজ্যে বিভিন্ন পুজোর থিমের মাধ্যমেই তুলে আনা হয় সাম্প্রতিক কালের আলোচিত-চর্চিত বিভিন্ন ঘটনাকে। বাংলায় সাম্প্রতিককালের সবথেকে আলোচ্য বিষয় শিক্ষক নিয়োগে ‘দুর্নীতি’। তাই এবার শহরের বুকে সরস্বতী পুজোর থিম শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। অভিনব এই থিমের নাম ‘বঙ্গে বিক্রি শিক্ষা’। কাকুড়গাছি রেল ব্রিজ সংলগ্ন এই পুজোর প্যান্ডেলে দেখা যাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যারের মডেল। সামনে টাকার ৫০০ ও ২ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল। ঠিক যেমনটা ইডির তল্লাশি অভিযানে দেখা গিয়েছিল। এই প্যান্ডেলে দেখানো হবে, দাঁড়িপাল্লায় রাখা হয়েছে সরস্বতীর মূর্তি ও টাকা। অর্থের ভারে হেলে গিয়েছে সরস্বতী। খাঁচায় বন্দি রাখা হয়েছে বইপত্র ও মা সরস্বতীকে। যার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে, এ রাজ্যে শিক্ষাকে বন্দি রেখেই অর্থের বিনিময় অযোগ্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ।

    আরও পড়ুন: মাঘেও উধাও শীত! গরমেই কাটবে সরস্বতী পুজো, জানিয়ে দিলেন আবহবিদরা

    পৌষ পেরিয়ে বাংলার গায়ে এখন মাঘের আমেজ। স্কুলে স্কুলে বাণী বন্দনার প্রস্তুতি তুঙ্গে। এরই মধ্যে এই ধরনের থিম এনেছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। সঙ্গে শিক্ষা নিয়ে যে অশিক্ষা বঙ্গে দেখা গিয়েছে, তাঁর জন্য ধিক্কার জানানো হয়েছে। থিমের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ও তাঁদের দাবিদাওয়াও তুলে ধরা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের মডেল তৈরি করে তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দাবি দেওয়া সম্মিলিত প্ল্যাকার্ড। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।    

  • Saraswati Puja: সরস্বতীপুজোয় থিমের ছোঁয়া, কলকাতার কোন প্যান্ডেলে কী থিম, জানুন

    Saraswati Puja: সরস্বতীপুজোয় থিমের ছোঁয়া, কলকাতার কোন প্যান্ডেলে কী থিম, জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন কেবল কালীপুজো (Kali Puja), দুর্গাপুজোতেই (Durga Puja) দেখা যেত থিমের ছড়াছড়ি। এবার থিমের ছোঁয়া চলে এল সরস্বতী পুজোয়ও (Saraswati Puja)। দুর্গাপুজো গোটা বঙ্গদেশজুড়ে হলেও, কালী সহ অন্যান্য দেবদেবীর পুজো একেকটা অঞ্চলে হয় জাঁকজমক সহকারে। যেমন গোটা বাংলায় কালীপুজো হলেও, বারাসতে কালীপুজো হয় থিমের, কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে। কাটোয়ায় কার্তিক পুজো হয় থিমের। নদিয়ায় রাস উৎসব হয় ঘটা করে। সেখানেও থিমের ছড়াছড়ি।কালনার সরস্বতী পুজোও হয় জাঁকজমক সহকারে। এখানেও থিমের ছড়াছড়ি।

    থিমের পুজো…

    হাওড়ার খালনায় কয়েক লক্ষ টাকা করে খরচ করে হয় লক্ষ্মীপুজো। সেখানেও দেখা যায় নানান থিম। এবার তার রেশ এসে লাগল সরস্বতী পুজোয়ও। দুর্গাপুজোর মতো সরস্বতী পুজোয় থিম করা হয়েছে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে। তবে দুর্গাপুজোয় যেমন অনায়াসেই স্পনসর মেলে সরস্বতী পুজোয় তা হয় না। তাই সরস্বতীপুজোয় যাঁরা থিমের কথা ভাবেন, তাঁদের ভরসা করতে হয় দাতাদের ওপর। কোনও কোনও উদ্যোক্তা আবার দুর্গাপুজোর বাজেট কিছুটা কাটছাঁট করে তুলে রেখে দেন সরস্বতীপুজোয় খরচ করবেন বলে।

    ঘটা করে দু্র্গাপুজো করে টালা প্রত্যয়। তারা সরস্বতীপুজোও (Saraswati Puja) করে জাঁকজমক সহকারে। এবার বাণীবন্দনায় তাঁদের বাজেট ১৫ লক্ষ টাকা। এদের এবারের থিম, চলো ভালবাসার বর্ণমালায় ফেরা যাক। এখানে মণ্ডপের উচ্চতা ৪৬ ফুট। প্রতিমা ১৪ ফুটের। এই মণ্ডপে এলে নল্ট্যালজিক হয়ে পড়বেন দর্শক। উদ্যোক্তাদের তরফে ধ্রুবজ্যোতি বসু বলেন, এই মণ্ডপে এলে অতীতের সরস্বতী পুজোর সকালে ফেরা যাবে। দর্শক হয়ে পড়বেন নস্ট্যালজিক। তিনি জানান, দুর্গাপুজোর ফান্ডের একটা অংশ সরিয়ে রাখা হয়েছিল সরস্বতীপুজোর জন্য।

    আরও পড়ুুন: মুখোমুখি জেরায় একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তাপস-কুন্তল, একে অপরকে দোষারোপ

    আমহার্স্ট স্ট্রিটের বিদ্যাসাগর সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja) কমিটির এবারের বাজেট ৫ লক্ষ টাকা। এই পুজোর মাথায় রয়েছেন তৃণমূল নেতা পিয়াল চৌধুরী। তিনি জানান, পুরো খরচই এসেছে ডোনেশন থেকে। পিয়াল বলেন, সরস্বতী পুজোয় স্পনসর মেলে না। তাই আমরা ডোনেশনের ওপরই নির্ভর করেছিলাম। মানুষ দিয়েছেন দেরাজ হস্তে। আমরা বাইরে কোথাও চাঁদা তুলতে যাইনি।   

    উত্তর কলকাতার হাতিবাগান সংহতির এবারের সরস্বতীপুজোর (Saraswati Puja) বাজেট ৯ লক্ষ টাকা। ২৮ ফুটের অতিকায় প্যান্ডেলে রয়েছে ১৫ ফুটের দেবী প্রতিমা। ক্লাবের সম্পাদক রাজদীপ পাত্র বলেন, গত দুবছর ধরে আমরা থিমের পুজো করে আসছি। আমরা আগের থেকে অনেক কর্পোরেট স্পনসরও পাচ্ছি।

     

      দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share