Tag: Sawan 2022

Sawan 2022

  • Manasa Puja 2022: কেন গ্রাম বাংলায় পালিত হয় মনসা পুজো, এর তাৎপর্য জানেন কি? 

    Manasa Puja 2022: কেন গ্রাম বাংলায় পালিত হয় মনসা পুজো, এর তাৎপর্য জানেন কি? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতবর্ষে সর্প পুজো একটি প্রাচীন অনুষ্ঠান। মনসা সাপের দেবী। তিনি মূলত লৌকিক দেবী। পরবর্তীকালে পৌরাণিক দেবী রূপে স্বীকৃত হন। শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে মনসা দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

    অনেকের মতে, সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে মাটির সরায় দুধ-কলা দিয়ে দেবী মনসাকে পুজো করা হয়। সারাদিন উপোস করে পুজো শেষে সাবু-দুধ-কলা দিয়ে মনসার পুজো সম্পন্ন করে তবে উপবাস ভাঙেন মহিলারা। সমাজে এই পুজোর প্রচলিত হওয়ার জন্য রয়েছে প্রচলিত পুরাণ কাহিনি।

    মনসা দেবীর মাহাত্ম্য

    পুরাণ অনুসারে, মনসার হলেন শিবের স্বীকৃতকন্যা ও জরৎকারুর পত্নী। জরৎকারু মনসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মনসার মা চণ্ডী (শিবের স্ত্রী পার্বতী) তাঁকে ঘৃণা করতেন কিন্তু পরবর্তীতে মাতা চণ্ডী মনসাকে নিজের মেয়ের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কোনও কোনও ধর্মগ্রন্থে বলা আছে যে শিব নয়, ঋষি কাশ্যপ হলেন মনসার পিতা। মনসাকে ভক্তবৎসল বলে বর্ণনা করা হলেও, যিনি তাঁর পুজো করতে অস্বীকার করেন, তাঁর প্রতি তিনি নির্দয় হয়ে থাকেন।

    মনসার উৎপত্তি বিষয়ে নানা কাহিনি শোনা যায়। সর্পদংশনের ভয় থেকে মানুষের পরিত্রাণের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা কশ্যপমুনিকে একটি মন্ত্র বা বিদ্যাবিশেষ আবিষ্কার করার আদেশ দেন। ব্রহ্মার আদেশ পেয়ে কশ্যপ যখন মনে মনে এই বিষয়ে চিন্তা করছিলেন, তখন তাঁর মননক্রিয়া থেকে আবির্ভূত হন এক স্বর্ণবর্ণা দেবী। যেহেতু তিনি মানসজাতা, মন থেকে তাঁর জন্ম, তাই তিনি ‘মনসা’। এই দেবী ‘কামরূপা’, অর্থাৎ ইচ্ছানুযায়ী রূপধারণ ও রূপপরিবর্তন করতে পারেন।

    মনসা পুজোর প্রতিমাতেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। সিজ বৃক্ষের শাখায়, ঘটে বা সর্প-অঙ্কিত ঝাঁপিতে মনসার পুজো হয়। তবে কেউ কেউ মনসা প্রতিমা বানিয়ে পুজো করে থাকে। আবার কেউ কেউ পঞ্চ সর্পের ফণা যুক্ত প্রতিমার পুজো করেন। গোত্র ও অঞ্চল ভেদে প্রথার ওপর ভিত্তি করে মনসা দেবী বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রূপে তার ভক্তদের দ্বারা পূজিত হয়ে থাকেন। সরস্বতীর মতো দেবী মনসার বাহনও হংস। বাহনকে দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে মনসাও জ্ঞানযুতা, জ্ঞানলক্ষণা। মনসার ১২টি নাম আছে। এগুলি হল— জরৎকারু, জগদেগৌরি, মনসা, সিদ্ধ যোগিনী, বৈষ্ণবী, নাগ ভগিনী, শৈবী, নাগেশ্বরী, জরৎকারু-প্রিয়া, আস্তিক-মাতা, বিষহরী, মহাজ্ঞানযুতা।

    মনসা পুজোর তাৎপর্য

    বাংলা অঞ্চলেই মনসার পুজো সর্বাধিক জনপ্রিয়। এই অঞ্চলে অনেক মন্দিরেও বিধিপূর্বক মনসার পুজো হয়। বর্ষাকালে যখন সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়, তখন মনসার পুজো মহাসমারোহে হয়ে থাকে। নিম্নবর্ণীয় হিন্দুদের কাছে মনসা একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন দেবতা। তাঁরা বিবাহের সময় ও সন্তানকামনায় মনসার পুজো করেন। 

    আষাঢ় মাসের পূর্ণিমার পর যে পঞ্চমী তিথি (শ্রাবণ) তাকে নাগপঞ্চমী বলে। নাগপঞ্চমীতে উঠানে সিজ গাছ স্থাপন করে মনসা পুজো করা হয়। ভাদ্রমাসের কৃষ্ণা পঞ্চমী পর্যন্ত পুজো করার বিধান আছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে একমাস যাবত্‍ পুজো করা হয়। শুধুমাত্র শেষ দিনে পুরোহিত দ্বারা পুজো করা হয়।

    পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে পুরো শ্রাবণ মাস মনসা পুজো হয়। পুজো উপলক্ষে হয় পালাগান ‘সয়লা’। এই পালার বিষয় হল — পদ্মপুরাণ বা মনসামঙ্গল। সারা রাত ধরে গায়ক দোয়ারপি -সহ পালা আকারে ‘সয়লা’ গান গায়। পুরুলিয়ায় মনসা পুজোয় হাঁস বলি দেওয়া হয়। রাঢ়বঙ্গ বাঁকুড়ায় জ্যেষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে দশহরা ব্রত পালন করে মনসা পুজো করা হয়। তখন এখানে ঘুড়ি ওড়ানো হয়।

    মনসা পুজার অঙ্গ হল অরন্ধন। রাঢ়ে চৈতন্য দেবের সময়ে মনসাকে মা দূর্গার এক রূপ মনে করা হত। তাই কোনও কোনও জায়গায় পুজোয় বলি দেওয়া হত। আজও অনেক পুজোয় পাঁঠা বলি হয়।

    ২০২২ সালের মনসা পুজোর দিন-তারিখ

    মা মনসা পুজো পড়েছে শ্রাবণ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ, বুধবার ১৭ অগাস্ট।

    মনসা পুজোর উপকরণ:

    সিঁদুর, ঘট, মনসা গাছ বা তাহার ডাল, পুজোর শাড়ি ১, মধুপর্কের বাটি ১, দুধ, মধু, ঘৃত, দধি, তিল, হরিতকি, পুষ্প, দূর্বা, তুলসী, বিল্বপত্র, ধূপ, দীপ, বড় নৈবেদ্য ১, অষ্টনাগের নৈবেদ্য ৮, কুচা নৈবেদ্য ১, উচ্ছে, ফল।

     

  • Jhulan Purnima 2022: ঝুলন উৎসব পালন করছেন? দোলনা কোন দিক করে রাখতে হবে, জানেন তো?

    Jhulan Purnima 2022: ঝুলন উৎসব পালন করছেন? দোলনা কোন দিক করে রাখতে হবে, জানেন তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝুলন পূর্ণিমাকে শ্রাবণী পূর্ণিমাও বলা হয়। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তারপর থেকে যুগ যুগ ধরে এই পর্ব চলে আসছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করে দ্বাপরযুগে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তার বয়ঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃন্দাবন তথা নন্দালয়ে নানারকম লীলাসাধন করেছিলেন। বয়ঃসন্ধিতে কিশোর কৃষ্ণ ও রাধারানীর যে মধূর প্রেমের পরিপূর্ণ প্রকাশ বৃন্দাবনে স্থাপিত হয়েছিল তারই লীলা স্বরূপা এই ঝুলনযাত্রা।

    দোলনা কেন রাখতেই হবে পূর্ব-পশ্চিম দিকে?

    ঝুলনযাত্রায় রাধাকৃষ্ণের মূর্তি দোলনায় স্থাপন করে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঝোলানো হয়। এখানে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন প্রকৃতি আর রাধারানী হলেন তার পরম ভক্তস্বরূপিনী। সূর্য হলেন পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস, পূর্ব দিকে উদয় ও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। এই উদয়অস্ত-এর দিক স্বরূপ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে রাধাকৃষ্ণকে দোলানো হয়ে থাকে। রাধাকৃষ্ণের মূর্তিকে দোলনায় স্থাপন করে মূর্তিযুগলকে ঝোলানো থেকে শুরু করে পাঁচদিন তাদের নানারকম সাজে সাজানো, প্রেমভক্তি, নামগান— বৃন্দাবনে তাঁদের বিশুদ্ধ প্রেমপর্ব সমস্তকিছু ভক্তগনের সামনে ঝুলনযাত্রার মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। এককথায় রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার পাঁচদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান ঝুলন উৎসব নামে পরিচিত।

    আরও পড়ুন: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঝুলন উৎসব, জানুন ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    ঝুলনযাত্রার তাৎপর্য

    ঝুলনযাত্রা শুরুর দিন সহজ কিছু উপায়ের মাধ্যমে মনের বাসনা পূর্ণ করুন। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের জন্য ঝুলনযাত্রা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভূলোকে রাধাকৃষ্ণের লীলা উৎসবই হল ঝুলনযাত্রা। শ্রীকৃষ্ণ পুজোর মাধ্যমে মানুষ শান্তি পেতে পারেন এবং মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন। ঝুলনযাত্রার দিন সঠিক নিয়মে রাধাকৃষ্ণের পুজো করে এবং সহজ কিছু উপায়ের মাধ্যমে অত্যন্ত শুভ ফল লাভ করতে পারবেন।

    পুজোর নিয়ম

    রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি বা ছবি প্রতিষ্ঠা করুন। সঙ্গে অবশ্যই গণেশের মূর্তি বা ছবি রাখবেন। প্রথমে গণেশের পুজো করবেন, তার পর রাধাকৃষ্ণের পুজো করবেন। যথাসাধ্য মিষ্টান্ন নিবেদন করুন এবং হলুদ রঙের ফুল ও ফল অর্পণ করুন। একটা কথা বিশেষ করে মনে রাখতে হবে, এই পুজোর স্থানটি যেন খুব শান্ত হয়।

    • রাধাকৃষ্ণকে হলুদ বস্ত্র দিয়ে সাজান।

    • শ্রীকৃষ্ণের মন্দিরে ময়ূরের পালক ও মুকুট দান করুন।

    • পুজোর সময় ঘিয়ের প্রদীপ অবশ্যই জ্বালতে হবে।

    • পুজো শেষে গীতা পাঠ ও গায়ত্রীমন্ত্র জপতে হবে।

    • রাধাকৃষ্ণের চরণে তুলসীপাতা অর্পণ করতে হবে।

    • দরিদ্রদের দান করতে হবে।

    • বাড়িতে নারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

    • পুজো হলুদ বস্ত্র পরে করতে হবে।

    • পুজোর জায়গায় এক টুকরো চন্দন রাখুন। এতে বাড়িতে শুভ শক্তি প্রবেশ করে।

    • এই দিন জল দান করলে জীবনে সুখ সমৃদ্ধি লাভ হয়।

  • Raksha Bandhan 2022: এবছর রাখি পূর্ণিমা ঠিক কবে ও কখন? রাখি বাঁধার সময় মাথায় রাখবেন এই নিয়মগুলো

    Raksha Bandhan 2022: এবছর রাখি পূর্ণিমা ঠিক কবে ও কখন? রাখি বাঁধার সময় মাথায় রাখবেন এই নিয়মগুলো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয় রাখি বন্ধন। হিন্দু ধর্মে ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্ক ও ভালবাসার প্রতীক হল রাখি বন্ধন উৎসব। যদিও শুধুমাত্র ভাই-বোন নয়, ভারতবর্ষে প্রতিটি মানুষের মধ্যে সমস্ত রকম ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে সূচনা হয় এক শক্তপোক্ত সম্পর্কের বুনিয়াদ। প্রতিবছর রাখি বন্ধনের সময় বহু মানুষ একে অপরের অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়ে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হন। অপরদিকে বোনেরা অপেক্ষা করেন তাদের ভাই কিংবা দাদাদের হাতে রাখি পরিয়ে দেবেন।

    রাখি নিয়ে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনী

    মহাভারত অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণের নিজের বোন ছিলেন সুভদ্রা। কিন্তু তিনি দ্রৌপদীকেও নিজের বোনের মতো স্নেহ করতেন। একবার শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে যায় এবং সেখান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। তখন সেখানে সুভদ্রা এবং দ্রৌপদী দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। সুভদ্রা তখন সেই রক্ত বন্ধ করবার জন্য কাপড় খুঁজছিলেন। কিন্তু দ্রৌপদী একটুও দেরী না করে নিজের পরিহিত মূল্যবান রেশমী শাড়ি ছিঁড়ে শ্রীকৃষ্ণের সেই কেটে যাওয়া স্থানটি বেঁধে দেন তাড়াতাড়ি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য। এবং শ্রীকৃষ্ণ তখন দ্রৌপদীকে বলেন, তার বেঁধে দেওয়া কাপড়ের প্রতিটি সুতোর প্রতিদান দেবেন তিনি। এরপর শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রাজসভায় বস্ত্রহরণের চরম কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করেন। এই রাখি বন্ধন উৎসবের ৫ দিন আগে ঝুলনযাত্রা এবং ৭ দিন পরে জন্মাষ্টমী পালিত হয়।

    আরও পড়ুন: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    রাখিবন্ধনের ঐতিহাসিক ঘটনা

    বর্তমান যুগে রাখি বন্ধন উৎসবের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে গোটা বাংলায় জ্বলছে আগুন। ব্রিটিশদের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের জন্য হিন্দু-মুসলিমদের ঐক্য বা একতার প্রতীক হিসেবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন উৎসব পালন করেন। তিনি ঢাকা ও সিলেট থেকে মুসলিম ভাই-বোনদের কলকাতায় আহ্বান করেন এবং রাখি বন্ধন উৎসব পালন করেন। ভারতের ইতিহাসে চরম ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সময় এই রাখি বন্ধন হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে একতা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে যা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

    রাখি বন্ধনের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য

    এই রাখি মূলত কোন সুতো বা কাগজের জিনিস নয়, এটি এক ধরনের রক্ষাকবচ যা ভাইদের সমস্ত রকমের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করে। অপরদিকে এই দিন দাদারা প্রতিজ্ঞা করেন জীবনের সব কঠিন পরিস্থিতিতে বোনের পাশে দাঁড়ানোর। প্রত্যেক বোনের কাছে এই রাখি বন্ধন অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন, যাকে ঘিরে বহু প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। যেগুলি অনেকেই মনে-প্রাণে মেনে চলেন।

    আরও পড়ুন: প্রদীপের মুখ কোনদিকে থাকা উচিত? নিয়মগুলি না জানলে হতে পারে অমঙ্গল!

    এবছর রাখি পূর্ণিমা কবে ও কখন?

    হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, এবছর শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি ১১ অগাস্ট সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে শুরু হচ্ছে এবং ১২ অগাস্ট সকাল ৭টা ০৫ মিনিটে শেষ হবে। ফলত, আগামী ১১ অগাস্ট পালিত হবে রাখি বন্ধন উৎসব। বোনেরা ওইদিন ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে পারেন। তবে, ১১ তারিখ সকাল ১০.৩৮ থেকে রাত ৮.২৪ পর্যন্ত ভদ্রা তিথি থাকবে। শাস্ত্র অনুযায়ী, ভদ্রা তিথিতে কোনও শুভ কাজ করা যায় না। আবার সূর্যাস্তের পরও রাখি বাঁধার নিয়ম নেই। তাই ভদ্রা তিথি পড়ার আগেই রাখি বন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নয়তো, ১২ তারিখ ভোরে পূর্ণিমা তিথি থাকাকালীন করতে হবে।

    রাখি বন্ধনে কী করবেন ও কী করবেন না—

    •রাখির উপহারের তালিকায় তোয়ালে কিংবা রুমাল রাখবেন না।

    •ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়ার সময় কালো রঙের পোশাককে অনেকে এড়িয়ে যাওয়া শুভ বলে মনে করেন।

    •বোনকে উপহার দেওয়ার সময় ভাইদের খেয়াল রাখতে হবে সেই তালিকায় যেন কোনও ধারালো জিনিস না থাকে।

    •বহু জায়গা প্রচলিত রয়েছে, যতক্ষণ না ভাইদের হাতে রাখি পরানো হয় ততক্ষণ বোনেরা নুন জাতীয় কোনও খাবার খান না।

    •রাখির মঙ্গল থালায় জ্বলন্ত প্রদীপ, কুমকুম এবং চন্দন রেখে তারপরেই রাখি পরাবেন।

    •রাখি বন্ধন শেষে কোনওভাবেই ভাইদের কালো রঙের কোনও উপহার দেবেন না।

    •রাখি পরানোর সময় নোনতা খাবারের পরিবর্তে যতটা সম্ভব মিষ্টি জাতীয় খাবার দেবেন।

    •ভাইদের উদ্দেশ্যে আনা রাখি, হাতে বাঁধার আগে অবশ্যই কিছুক্ষণ বাড়ির ইষ্ট দেবতার চরণে রেখে দেবেন।

    •আসনে ভাইদের পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসাবেন। তারপর হাতে রাখি বেঁধে দেবেন। দক্ষিণ দিকে বসিয়ে রাখি বাঁধাকে অশুভ বলে মনে করা হয়।

  • Jhulan Purnima 2022: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঝুলন উৎসব, জানুন ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    Jhulan Purnima 2022: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঝুলন উৎসব, জানুন ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসে শুক্লা একাদশী থেকে পূর্ণিমা, এই পাঁচদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব ঝুলন উৎসব। রাখি পূর্ণিমার মাধ্যমে ঝুলন যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। মথুরা-বৃন্দাবনের মতোই বাংলার ঝুলন উৎসবের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। এটি দোল পূর্ণিমার পর বৈষ্ণবদের আর একটি বড় উৎসব। 

    ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য

    শাস্ত্রমতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সমস্ত ভক্ত নির্বিশেষে সকলকে অনুগ্রহ করবার জন্য গোলকধাম থেকে ভূলোকে এসে লীলা করেন। ঝুলন শব্দটির সঙ্গে ‘দোলনা’ শব্দটি রয়েছে। তাই এই সময় ভক্তরা রাধাকৃষ্ণকে (Radha – Krishna) সুন্দর করে সাজিয়ে দোলনাতে বসিয়ে পুজো করেন।

    বৃন্দাবন, মথুরা আর নবদ্বীপের ইসকন মন্দিরে এই উৎসব মহাসমারোহে পালন করা হয়। এই পবিত্র তিথিতে বাড়িতে নানারকমের শুভ কাজ করা যায়। পুরাণ মতে, ঝুলনযাত্রার দিন শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার প্রেমের পূর্ণ প্রকাশ ঘটে । তাই এই দিন বাড়িতে বিশেষ কিছু কাজের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের পুজো করতে পারেন। তার ফলে আপনার মনের ইচ্ছেও পূর্ণ হবে।

    আরও পড়ুন: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    ঝুলন পূর্ণিমাকে শ্রাবণী পূর্ণিমাও বলা হয়। ঝুলন যাত্রা সমাপন হয় রাখির দিন। তাই ঝুলন পূর্ণিমাকে রাখি পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর শৈশব-স্মৃতি, বিশেষতঃ সখা-সখীদের সঙ্গে দোলনায় দোলার প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এর পর থেকে এখনও গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের এটা প্রিয় অনুষ্ঠান। এক এক অঞ্চলে দোল বা দুর্গোৎসবের মতো ঝুলন উৎসবের আকর্ষণও কিছু মাত্র কম নয়। ঝুলনেও দেখা যায় নানা আচার অনুষ্ঠান ও সাবেক প্রথা।

    ঝুলনযাত্রার সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য

    শুধুমাত্র রাধাকৃষ্ণের যুগলবিগ্রহ দোলনায় স্থাপন করে হরেক আচার অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। এই উৎসব হয় মূলত বনেদি বাড়ি এবং মঠ-মন্দিরে। তবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছোটদের ঝুলন সাজানোও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। 

    নানা ধরনের মাটির পুতুল, কাঠের দোলনা আর গাছপালা দিয়ে ঝুলন সাজানোর আকর্ষণ ছোটদের মধ্যেও রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝুলন উপলক্ষে চলে নাম-সংকীর্তন। এই সময় প্রতি দিন ২৫-৩০ রকমের ফলের নৈবেদ্য, লুচি, সুজি নিবেদন করা হয়। বহু বাড়িতে ঝুলন পূর্ণিমার পবিত্র দিনে সত্যনারায়ণ পুজোও অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রীকৃষ্ণের দ্বাদশ যাত্রার কথা শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, কিন্তু আমরা সবগুলো পালন করি না। কিছু কিছু বিশেষ উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়, যেমন- রথযাত্রা, রাসযাত্রা, দোলযাত্রা, স্নানযাত্রা, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদি। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা এসব যাত্রাগুলোকে বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত ও তত্ত্বসমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন। অনাদি কাল থেকেই শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহ রূপে মন্দিরে, দেবালয়ে, ভক্তের গৃহে স্থায়ীভাবে পূজিত হয়ে আসছেন।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে তুলসী মঞ্চ সঠিক নিয়মে রেখেছেন তো? নয়তো হতে পারে অমঙ্গল!

    ২০২২ সালের ঝুলনযাত্রা কবে?

    আগামী ২১ শ্রাবণ ১৪২৯, ইংরেজি ০৭ অগাস্ট ২০২২, রবিবার সন্ধে ৭টা ৩৪ মিনিটে ঝুলনযাত্রা আরম্ভ হচ্ছে। আর ২৫ শ্রাবণ, ১১ অগাস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬টা ১১ মিনিটে ঝুলনযাত্রার সমাপ্তি। সেই সঙ্গে শেষ হবে শ্রাবণী পূর্ণিমার উপবাস ও নিশিপালন।

     

  • Nag Panchami 2022: নাগ পঞ্চমী তিথি কবে, কখন? এই দিনের তাৎপর্য জানেন কি?

    Nag Panchami 2022: নাগ পঞ্চমী তিথি কবে, কখন? এই দিনের তাৎপর্য জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে শ্রাবণ মাসে পড়া উত্‍সবগুলির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে নাগ পঞ্চমী পালিত হয়। ভগবান শঙ্করকে উত্সর্গীকৃত, শ্রাবণ মাসে এই উত্‍সবটি হিন্দু ধর্মে আড়ম্বর সহকারে পালিত হয়। এই পবিত্র দিনে আচার-অনুষ্ঠানের সাহায্যে সাপের দেবতার পুজো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, সর্পদেরও দেবতা হিসাবে পুজো করা হয়। সাপও ভগবান শিবের খুব প্রিয়। এই পবিত্র দিনে সর্প দেবতার পুজো করে ভগবান শঙ্করও খুশি হন। জেনে নিন নাগ পঞ্চমীর তিথি, শুভ সময় ও পূজা পদ্ধতি—

    হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, এবছর পঞ্চমী তিথি ২ অগাস্ট ভোর ৫:১৪ মিনিট থেকে শুরু হবে, যা চলবে ৩ অগাস্ট ভোর ৫:৪২ পর্যন্ত। নাগ পঞ্চমী পুজোর মুহূর্ত ০২ অগাস্ট সকাল ০৫:২৪ থেকে ০৮.২৪ পর্যন্ত হবে। মুহূর্তের সময়কাল হবে ০২ ঘন্টা ৪১ মিনিট।

    নাগ পঞ্চমীর তাৎপর্য

    এই দিনে নাগ দেবতার পুজো করলে কাল সর্পদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নাগ দেবতাকে বাড়ির রক্ষকও মনে করা হয়। এই দিনে নাগ দেবতার পুজো করলে ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।

    আরও পড়ুন: ভরা শ্রাবণ মাস, শিবপুজোর নিয়ম জানেন তো?

    নাগ পঞ্চমী পুজো – পদ্ধতি

    সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। এর পর বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান। এই পবিত্র দিনে শিবলিঙ্গে জল নিবেদন করুন। সাপের দেবতার পুজো করুন। সাপের দেবতাকে দুধ নিবেদন করুন। ভগবান শঙ্কর, মাতা পার্বতী এবং ভগবান গণেশকেও নৈবেদ্য নিবেদন করুন। সম্ভব হলে এই দিনেও উপোস রাখুন।

    নাগ পঞ্চমী পুজোর উপকরণ-

    সাপের দেবতার মূর্তি বা ছবি, দুধ, ফুল, পাঁচটি ফল, পাঁচটি বাদাম, রত্ন, সোনা, রৌপ্য, দই, খাঁটি দেশী ঘি, মধু, চাল, গঙ্গাজল, সুগন্ধি, পঞ্চ মিষ্টান্ন, রোলী, বিল্বপত্র, দাতুরা (ধুতুরা), গাঁজা, আমের মঞ্জরি, তুলসীর ডাল, কর্পূর, ধূপ, দীপ, তুলা, মলয়গিরি চন্দন এবং শিব-পার্বতীর ছবি।

    নাগ পঞ্চমীর দিনে কী করবেন

    এদিন সূর্যোদয়ের আগে উঠে স্নান করে পুজোর সংকল্প গ্রহণ করুন। পুজোর স্থানে নাগদেবতার ছবি লাগান বা মাটি নাগ দেবতা তৈরি করুন এবং চৌকির ওপর লাল কাপড় বিছিয়ে সেখানে স্থাপন করে দিন। হলুদ, রোলী, চাল, কাঁচা দুধ ও ফুল অর্পণ করে নাগ দেবতার পুজো করুন। এর পর কাঁচা দুধ, চিনি, ঘি মিশিয়ে তাঁকে অর্পণ করুন।

    নাগ পঞ্চমীর দিনে অনন্ত, বাসুকী, পদ্ম, মহাপদ্ম, কুলীর, কর্কট ও শঙ্খ নামক অষ্টনাগের ধ্যান করে পুজো করা উচিত। এবার নাগদেবতার আরতি করে সেখানে বসেই নাগ পঞ্চমীর ব্রতকথা পড়ুন। এর পর সুখ-শান্তির প্রার্থনা করুন।

    এদিন মহিলারা নাগ দেবতাকে নিজের ভাই জ্ঞানে পুজো করে পরিবারের রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রার্থনা করতে হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী নাগ পঞ্চমীর দিন নাগেদের দুধ অর্পণ করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ করা যায়।

    নাগ দেবতার পুজো করলে বাড়িতে ধন আগমনের উৎস বৃদ্ধি পায়। শাস্ত্র মতে নাগ দেবতা গুপ্তধনের রক্ষা করেন। এঁদের পুজো করলে আর্থিক অনটন দূর হয় ও বংশবৃদ্ধির পথে বাধার অবসান ঘটে। তাই এ দিন ধন বৃদ্ধির জন্য নাগ দেবতার পুজোকরা উচিত। 

    গৃহ নির্মাণ, পিতৃদোষ ও বংশের উন্নতির জন্য নাগ পুজো করা উচিত।

    আরও পড়ুন: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    এদিন কী করবেন না

    এদিন জমি খুড়তে নেই। মনে করা হয় সাপ বা নাগ জমির ভিতরে বাস করেন। ফলে জমি খুড়লে তাঁদের ক্ষতি হতে পারে।

    নাগ পঞ্চমীর দিন কৃষকদের জমিতে লাঙল চালাতে নেই।

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী সুচের মধ্যে সুতো পরানো, কাঁচি বা ছুরি দিয়ে সবজি কাটার কাজও করা উচিত নয়।

    নাগ ও সাপকে দুধ অর্পণ করুন, তবে পান করাবেন না। জীব হত্যা করবেন না এবং সাপের ক্ষতি করবেন না।

     

  • Sawan 2022: শুরু হয়েছে পবিত্র শ্রাবণ মাস, শিবপুজোর নিয়ম জানেন তো?

    Sawan 2022: শুরু হয়েছে পবিত্র শ্রাবণ মাস, শিবপুজোর নিয়ম জানেন তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু (Hindu) শাস্ত্রে শ্রাবণ মাসের (Shravan Maas) গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রাবণকে (Sawan 2022) বলা হয় দেবাদিদেব শিবের (Lord Shiva) মাস। মহাদেব (Mahadev) পুজিত হন এই মাসে। ভগবান শিবের উপাসনা করার শ্রেষ্ঠ সময় কাল-প্রদোষ বলে মনে করা হয়। পুণ্যার্থীরা শ্রাবণের প্রতি সোমবার, (Sawan Sombaar) শিবের জন্যে ব্রত পালন করেন। সাধারণত মাসভর চলে নানা ধর্মীয় রীতি পালন। 

    শিব মন্দির ছাড়াও, বাড়িতে বাড়িতেও পুজো হয় মহাদেবের। ‘হর হর মহাদেব’ (Har Har Mahadev) উচ্চারণ করে দেশের ভিন্ন প্রান্তে ভোলেবাবার মাথায় জল ঢালতে ভক্তদের সমাগম হয়। শিবের পুজায় গঙ্গাজল দিয়ে শিবকে অভিষেককে ‘রুদ্রাভিষেক’ (Rudravishek) বলে। একেই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করা হয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে জলাভিষেক করলে পুজোর সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। 

    মনে করা হয়, শ্রাবণ মাস শিবের অত্যন্ত প্রিয় মাস। তাই তাঁকে সন্তুষ্ট করে ভক্তরা কোনও ত্রুটি রাখেন না। উপবাস করে শিবের মাথায় গঙ্গার জল বা দুধ ঢালেন শিবভক্তরা। বিশ্বাস করা হয়, এই মাসে ভক্তি মনে মহাদেবকে ডাকলে তিনি তুষ্ট হন ও মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। 

    আরও পড়ুন: এবছর কবে কামিকা একাদশী? এদিনের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    বিশ্বাস, পবিত্র এই মাসে শিবের আরাধনায় সকল সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। শিবের কৃপা পেতে মেনে চলতে হবে বিশেষ নিয়ম। শ্রাবণ মাসের প্রথম দিন এই নিয়ম মেনে শিব পুজো করতে হবে। তাতে জীবনের সকল দুর্ভোগ কেটে যাবে, তেমনই সর্ব ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটবে। জেনে নিন কীভাবে আরাধনা করবেন শিবের। 

    এবছর শ্রাবণ মাসে মোট পাঁচটি সোমবার পড়েছে—

    * ১৮ জুলাই ২০২২ – প্রথম সোমবার
    * ২৫ জুলাই ২০২২- দ্বিতীয় সোমবার
    * ১ অগস্ট ২০২২- তৃতীয় সোমবার
    * ৮ অগস্ট ২০২২ – চতুর্থ সোমবার
    * ১৫ অগস্ট ২০২২ – পঞ্চম সোমবার

    শ্রাবণ মাসে শিব পুজোর পদ্ধতি- 

    শ্রাবণ মাসে বিশেষ নিয়ম মেনে শিবের আরাধনা করুন। প্রতিদিন, বিশেষ করে সোমবারে সকালে তাড়াতাড়ি উঠে স্বচ্ছ পোশাক পরে নিন। বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান। শিবের আরতি করুন এবং ভোগ নিবেদন করুন। মনে রাখবেন যে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক জিনিস ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করা হয়। ডান হাতে জল নিয়ে শ্রাবণ মাসের সোমবারের ব্রতর সংকল্প করুন। এর পর সমস্ত দেবতাদের ওপর গঙ্গাজল অর্পণ করুন। ওম নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করে শিব শঙ্করের অভিষেক করুন। 

    আরও পড়ুন: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    ভোলানাথকে সাদা ফুল, সাদা চন্দন, ভাঙ, ধুতুরা, গরুর দুধ, পঞ্চামৃত, সুপুরি, বিল্ব পত্র (বেলপাতা) ও জল অর্পণ করুন। পুজো সামগ্রী অর্পণ করার সময় ওম নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করতে ভুলবেন না। শ্রাবণ সোমবারের পুজোয় সোমবার ব্রতকথা অবশ্যই পাঠ করা উচিত। শেষে আরতি করতে ভুলবেন না। প্রসাদ হিসেবে শিবকে ঘি ও চিনির ভোগ অর্পণ করুন। তার পর সেই প্রসাদ বিতরণ করুন ও নিজেও তা গ্রহণ করুন।

    শাস্ত্র মতে, বিল্বের মূলে স্বয়ং শিব বসবাস করে। এই নিয়ম মেনে পুজো করতে সকল জটিলতা থেকে মুক্তি মিলবে। শ্রাবণ মাসে এই নিয়ম মেনে পুজো করুন। সকল দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। সারা বছরই অনেকে শিব পুজো করে থাকেন। সোমবার করে দেবাদিদেব মহাদেবের বিশেষ পুজো করা হয়। শাস্ত্র মতে, যে কোনও সোমবার পুজো করলে মহাদেব তুষ্ট হন।

    কি কি নিবেদন করলে মিলবে সুফল? 

    বিশেষভাবে শিবলিঙ্গে (Shivling) রৌপ্য বা পিতলের পদ্ম দিয়ে দুধ নিবেদন করা উচিত। এ ছাড়া জল, বিল্ব পাতা , আকন্দ ফুল, ধুতুরা যা শিবের প্রিয় ফুল, গাঁজা, চন্দন, মধু, ছাই নিবেদন করুন। এছাড়া শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন— চিনি, জাফরান, গব্য ঘি।

LinkedIn
Share