Tag: School Service Commission

School Service Commission

  • Partha Chatterjee: এসএসকেএম নৈব নৈব চ, পার্থর স্বাস্থ্যপরীক্ষা জোকা ইএসআই-তে, প্রয়োজনে তৈরি সেনা হাসপাতালও

    Partha Chatterjee: এসএসকেএম নৈব নৈব চ, পার্থর স্বাস্থ্যপরীক্ষা জোকা ইএসআই-তে, প্রয়োজনে তৈরি সেনা হাসপাতালও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অতিতের ঘটনা থেকে সতর্ক এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directodate)। এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে (SSC scam) গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) নিয়মমাফিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা কোথায় করানো হবে, সেই নিয়ে সতর্ক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।

    অতীতে, সারদা হোক বা নারদ, এসএসসি হোক বা কয়লাপাচার— যে কোনও মামলায় রাজ্যের শাসক দলের কোনও নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেফতারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেই, তাঁরা সটান গিয়ে ভরতি হয়ে যাচ্ছেন এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে। যার জেরে, সবকিছু আয়ত্তের মধ্যে থেকেও শেষ মুহূর্তে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সিবিআই-ইডির (CBI-ED) মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলকে। 

    পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যায়, এসএসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ড শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। তাই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য এবার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে ইডি। 

    সূত্রের খবর, ইডি একেবারেই চাইছে না, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসএসকেএমে করাতে। তাদের পছন্দ সামরিক হাসপাতাল। যে কারণে, ইডি (ED) চাইছে, আদালতে পেশ করার আগে কমান্ড হাসপাতালে (Command Hopsital) মন্ত্রীমশাইয়ের নিয়মমাফিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে।

    তবে, এর জন্য দিল্লি থেকে অনুমতি মেলা প্রয়োজন। ইডি সূত্রে খবর, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল কলকাতা টিম। তা একবার হাতে চলে এলেই, কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো পার্থকে। যদিও, সেই নির্দেশ আসতে দেরি হওয়ায় শেষমেশ জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্যের বর্তমান শিল্পমন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিবকে। সেখানেই হয় বিধিমাফিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা।

    এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে অবশেষে শনিবার সকালে গ্রেফতার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিজিও কমপ্লেক্সে। আজই তাঁকে সম্ভবত তোলা হবে আদালতে। সেখানে পার্থকে নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারে ইডি। একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। গতকাল অর্পিতার ফ্ল্যাটে থেকে নগদ ২১ কোটির বেশি টাকা ও প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার গয়না উদ্ধার করেছন তদন্তকারীরা। 

  • ED Raid Cash Recovery: অর্পিতার ২ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার নগদ ৫০ কোটি! এটাই কি ইডি-র সর্বকালীন রেকর্ড?

    ED Raid Cash Recovery: অর্পিতার ২ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার নগদ ৫০ কোটি! এটাই কি ইডি-র সর্বকালীন রেকর্ড?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে (SSC scam) তল্লাশি চালিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) হরিদেবপুর ও বেলঘরিয়ার আবাসন থেকে যথাক্রমে ২২ কোটি ও ২৮ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছে তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। অর্থাৎ, এই দুজায়গায় হানা দিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে ইডি (ED)। 

    আর এই উদ্ধার হওয়া নগদের অঙ্ক নিয়ে এখন বিশ্লেষণ করছেন পরিসংখ্যানবিদরা। তাঁদের মতে, অতীতে ইডি একটি মামলায় এত বিপুল নগদ কখনও উদ্ধার করেনি। ফলে, অর্পিতার জোড়া ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৫০ কোটি হতে পারে ইডি-র ক্ষেত্রে একটা সর্বকালীন রেকর্ড।

    আরও পড়ুন: সোনার ‘সংসার’! গয়না থেকে সোনার বাট কী নেই অর্পিতার আলমারিতে

    অতীতে, একাধিক মামলায় হানা দিয়েছে ইডি। একাধিক জায়গায় স্থাবর-অস্থাবর সমেত বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। সাম্প্রতিককালে তেমন একটি ঘটনা হল চিনা ফোন প্রস্তুতকারী সংস্থা ভিভো মোবাইলের বিরুদ্ধে অভিযান। তাতে ১১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৬৫ কোটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিন্তু এগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ, বাড়িতে  রাখা নগদ নয়।

    বহু জায়গা থেকেই নগদ উদ্ধার করেছে ইডি। এর মধ্যে সাম্প্রতিককালে ইডি-র তল্লাশিতে বিপুল টাকা উদ্ধারের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ঝাড়খণ্ডের ঘটনা। সেখানে অবৈধ খনি মামলায় আইএএস অফিসার পুজা সিঙ্ঘলের বাড়ি ও দফতরে হানা দিয়ে প্রায় নগদ ২৫ কোটি টাকা উদ্ধার করে ইডি। সেটিই ছিল এযাবৎকালে সর্ববৃহৎ। এছাড়া, সত্যন্দ্র জৈনের বাড়ি থেকে নগদ ২.৮৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। 

    আরও পড়ুন: ডায়মন্ড সিটির পার্কিং লট থেকে ‘উধাও’ অর্পিতার ৪টে দামী গাড়ি! তাতেও ছিল টাকা?

    কিন্তু, দুর্নীতিতে ঝাড়খণ্ডকে পিছনে ফেলে ‘এগিয়ে বাংলা’। অর্পিতার ২ ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েই উদ্ধার হল ৫০ কোটি। ইডি সূত্রের খবর, অর্পিতার নামে কলকাতা ও শহরতলিতে নামে ও বেনামে প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি-বাড়ি রয়েছে। সেগুলোতে এখনও তল্লাশি চালায়নি ইডি। সেখান থেকেও আরও বিপুল নগদ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

    তবে, রেকর্ডের চেয়ে আরেকটি বিষয় আরও বেশি করে ভাবিয়ে তুলছে ইডি-কে। তা হল, মুম্বই বা দিল্লির মতো বড় শহর থেকে এই নগদ উদ্ধার হয়েছে এমন নয়। এই টাকা উদ্ধার হয়েছে কলকাতা থেকে। যা দেশের বাণিজ্য বা প্রশাসনিক রাজধানী নয়। ফলে, এসএসসি কাণ্ডে এই অর্থ উদ্ধার হওয়াটা একদিকে যেমন ইডি-র যেমন বড় সাফল্য, ঠিক তেমনই কলকাতা থেকে কেলেঙ্কারির এই বিপুল অর্থ উদ্ধার হলো— তা একটা অশনি সংকেতও বটে।

  • Partha Chatterjee: কোথায় রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কুকুরের ফ্ল্যাট? অবশেষে মিলল খোঁজ

    Partha Chatterjee: কোথায় রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কুকুরের ফ্ল্যাট? অবশেষে মিলল খোঁজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেশ কিছুদিন ধরেই সকলের মুখে ঘোরাফেরা করছিল প্রশ্নটা। তা হল— কোথায় রয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কুকুরের (Partha Chatterjee Pet Dogs) ফ্ল্যাট? এতদিনে তার খোঁজ মিলল।

    গত মে মাসে এই এসএসসি-কাণ্ডের (SSC Scam) শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly) একটি মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে। মন্ত্রীর হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বিচারপতির মন্তব্য ছিল, নাকতলায় পোষা কুকুরের জন্য ওনার একটা ফ্ল্যাট আছে জানেন তো? এত সম্পত্তির মালিক হলেন কী করে? ওনার সম্পত্তির হিসেব আদালতে পেশ করা হোক। এই সম্পত্তির পরিমাণ কত, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেই পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি।

    এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডে (Teachers Recruitment Scam) পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির তদন্ত করতে গিয়েই প্রথম সিবিআইয়ের হাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, কুকুরের নামে ওই ফ্ল্যাটের কথা। যদিও, কোথায় সেই ফ্ল্যাট রয়েছে, তা তখন প্রকাশ্যে আসেনি। এখন এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডের আর্থিক দিক খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। গতকাল, সেই সূত্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) ফ্ল্যাটে হানা দেয় ইডি। সেখান থেকে ২০ কোটির বেশি নগদ ও বিপুল গয়না উদ্ধার হয়। ইডি সূত্রে দাবি, তল্লাশিতে উঠে এসেছে একাধিক চমকপ্রদ তথ্য। কী সেই তথ্য?

    ইডি (ED) সূত্রে দাবি, শুক্রবার টালিগঞ্জের অভিজাত ডায়মন্ড সিটি সাউথ (Diamond City South) আবাসনের টাওয়ার ২ ফ্ল্যাট ১এ-তে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। এই ফ্ল্যাটেই থাকেন অর্পিতা। কিন্তু, তদন্তে উঠে এসেছে, ওই একই টাওয়ারে আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে পার্থ-অর্পিতার। সেগুলি হল— ১৮ডি, ১৯ডি ও ২০ডি। সূত্রের দাবি, এর মধ্যে ১৮ডি ফ্ল্যাটটি পার্থ চট্টোপাধ্যয়ায়ের কুকুরের জন্য বরাদ্দ। জানা গিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় মাঝেমধ্যেই এই আবাসনে আসতেন। অর্পিতার সঙ্গে দেখা করতেন। 

  • SSC Scam Partha-Arpita: ষড়যন্ত্রের শিকার! দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, কেন এমনটা বললেন তিনি?

    SSC Scam Partha-Arpita: ষড়যন্ত্রের শিকার! দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, কেন এমনটা বললেন তিনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার তিনি হারিয়েছেন মন্ত্রিত্ব। সাসপেন্ড হয়েছেন দল থেকেও। শুক্রবার, এসএসসি কাণ্ডে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করলেন তিনি নাকি ষড়যন্ত্রের শিকার। এদিকে একইসঙ্গে ধৃত তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় আবার প্রকাশ্যে রাস্তায় বসে কান্নাকাটি শুরু করে দেন।

    আদালতের নির্দেশে প্রতি ৪৮-ঘণ্টা অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা পার্থ-অর্পিতার। সেই মতো, এদিন সকালে দুজনকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে নিয়ে যাওয়া হয় জোকা ইএসআই হাসপাতালে। হাসপাতালে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামতে নামতে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পার্থ জানান, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। হুইল চেয়ারে করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ঢোকানো হল হাসপাতালে।

    আরও পড়ুন: পার্থকে সরালেও এখনও কেন বহাল পরেশ? মমতাকে আক্রমণ বিজেপির

    এদিকে, একইসঙ্গে অন্য গাড়িতে আনা হয় অর্পিতাকে। তবে, পার্থ-ঘনিষ্ঠকে নিয়ে একপ্রস্থ নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জোকা ইএসআই হাসপাতালের সামনে। অর্পিতা মুখোপাধ্যায় গাড়ি থেকে নামার সময় কেঁদে ফেলেন। কান্নায় ভেঙে রাস্তায় বসে পড়েন তিনি। পরে, তাঁকে টেনে নামিয়ে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

    নিয়োগ-দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পাঁচদিন পর, গতকাল দল ও সরকারের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁকে তিনটি দফতর থেকে সরানোর কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পার্থকে দলের সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া অবধি তাঁকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। 

    আরও পড়ুন: এবার ইডির নজরে অর্পিতার চিনার পার্ক ও নয়াবাদের ফ্ল্যাট! বাজেয়াপ্ত বেশ কিছু নথি

    এখন প্রশ্ন হল, কেন পার্থ কেন ষড়যন্ত্রের দাবি করলেন? কেন তিনি বলছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার? কীসের ষড়যন্ত্র? কারা কারা জড়িত? এটা কি স্রেফ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা? নাকি, সত্যিই এর নেপথ্যে আরও বড় নাম জড়িয়ে রয়েছে? সব দিক খতিয়ে দেখছে ইডি। তবে, বিরোধীদের মতে, একা পার্থর পক্ষে এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয়। এর পেছনে তৃণমূলের আরও অনেক তাবড় তাবড় নেতা-মন্ত্রীরা জড়িয়ে রয়েছেন। তাদের আরও দাবি, টাকা উদ্ধার হওয়ায় এখন পার্থকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হচ্ছে। 

  • Arpita Mukherjee: ডায়মন্ড সিটির পার্কিং লট থেকে ‘উধাও’ অর্পিতার ৪টে দামী গাড়ি! তাতেও ছিল টাকা?

    Arpita Mukherjee: ডায়মন্ড সিটির পার্কিং লট থেকে ‘উধাও’ অর্পিতার ৪টে দামী গাড়ি! তাতেও ছিল টাকা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঠিক এক সপ্তাহ আগে, গত শুক্রবার, এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডের (SSC scam) তদন্তে নেমে প্রথম বড় সাফল্য পায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। রাজ্যের শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Minister Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ মডেল-অভিনেত্রী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে পাহাড় প্রমাণ নগদ ও সোনা উদ্ধার করে। 

    টালিগঞ্জের হরিদেবপুর (Tollygunj Haridevpur) এলাকার ডায়মন্ড সিটি সাউথ (Diamond City South) আবাসনে টাওয়ার ২-এর ফ্ল্যাট নম্বর ১এ ফ্ল্যাটে থাকতেন অর্পিতা, যার বর্তমান ঠিকানা সিজিও কমপ্লেক্সে (CGO complex) ইডি লক-আপ। ওই ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় ২২ কোটি টাকা, ৭৯ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না এবং প্রায় ৫৪ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করে ইডি। 

    আরও পড়ুন: যকের ধন! অর্পিতার বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ২৮ কোটি নগদ, ৪ কোটি মূল্যের সোনা

    তবে, ইডি (ED) সূত্রের খবর, ওই টাওয়ারের পার্কিং লটে অর্পিতার চারটি দামী গাড়ি (Arpita luxury cars) থাকত। তদন্তে উঠে এসেছে, গাড়িগুলোর মধ্যে ছিল একটি অডি এ৪ সিরিজের মডেল যার নম্বর WB02 AB- 9561। একটি হন্ডা সিটি যার নম্বর হল WB06-T-6000। আরও একটি হন্ডার গাড়ি যার নম্বর WB06-T-6001 এবং WB02- AE- 2232 নম্বরের চতুর্থ গাড়ি।

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের মতে, স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, দুসপ্তাহ আগেও দেখ যেত গাড়িগুলো। এও দাবি, ওই গাড়িতে অনেক হামেশাই দেখা যেত অর্পিতাকে। কিন্তু, এখন আচমকা উধাও হয়ে গেছে সেই গাড়িগুলো। কোথায় গেল গাড়িগুলো, তার খোঁজ চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    আরও পড়ুন: ঘরে টাকা থাকলেও তা ছোঁয়ার অধিকার ছিল না! জানুন ইডির জেরায় কী বললেন অর্পিতা

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, চার-চারটে গাড়ি রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও, কেন ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা সরাতে পারলেন না অর্পিতা-পার্থ? নাকি, ওই চারটে গাড়ি-ভর্তি করে আরও টাকা আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে? হতে পারে, যে টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেগুলো আর সরানোর সময় মেলেনি! সবদিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

     

  • Arpita Mukherjee Properties: অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের কোথায় কী কী সম্পত্তি? উত্তর খুঁজতে দিকে দিকে হানা ইডি-র

    Arpita Mukherjee Properties: অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের কোথায় কী কী সম্পত্তি? উত্তর খুঁজতে দিকে দিকে হানা ইডি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তির (Arpita Mukherjee Properties) খোঁজ পেতে কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। বেলঘরিয়ার অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে কসবায় সংস্থার অফিস— সর্বত্র তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডের (SSC scam) তদন্তে ইডি-র (ED) কাছে এখন ‘তুরুপের তাস’ হয়ে উঠেছেন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অভিনেত্রী-মডেল অর্পিতা। বর্তমানে ইডি হেফাজতে রয়েছেন অর্পিতা। তাঁকে ক্রমাগত পালা পালা করে জেরা করে চলেছেন ইডি-র দুঁদে অফিসাররা। আর সেই জেরা থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে তদন্তকারী দল। 

    গত শুক্রবার, টালিগঞ্জে অর্পিতার ডায়মন্ড সিটি সাউথের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে সেখান থেকে নগদ ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয় প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না। এছাড়া ৫৪ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রাও উদ্ধার হয় ফ্ল্যাট থেকে। একেবারে, ২ হাজার ও ৫০০-র নোটের ২ বস্তা ভর্তি বাণ্ডিল বাণ্ডিল টাকা উদ্ধার করা হয়। 

    আরও পড়ুন: জোকা ইএসআই-তে ফের স্বাস্থ্য পরীক্ষা পার্থ-অর্পিতার, কী খেতে দেওয়া হচ্ছে মন্ত্রীমশাইকে?

    এখানেই শেষ নয়। ইডি সূত্রের দাবি, অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর নথি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট, জমি-বাড়ি ও অফিস সংক্রান্ত একাধিক দলিল। কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় অর্পিতার অনেক ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে। সেগুলিকে নিয়ে অর্পিতাকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করা হচ্ছে। ইডি-র আরও দাবি, নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তির মালিক অর্পিতা। জেরা থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সেই সম্পত্তির হদিশ পেতে তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    যার প্রেক্ষিতে, আজ অর্পিতার কোথায় কী কী সম্পত্তি রয়েছে, তার হদিশ পেতে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। একটি দল বেলঘরিয়ায় অর্পিতার ফ্ল্যাটে হাজির হয়েছে। রথতলা এলাকায় অভিজাত ক্লাবটাউন হাইটসে রয়েছে অর্পিতার ২টি ফ্ল্যাট। একটি ১১০০ ও আরেকটি ১৪০০ স্কোয়ার ফিটের। ২টি ফ্ল্যাটের একটি রয়েছে ব্লক-২ তে, আরেকটি ব্লক-৫ তে। ২টি ফ্ল্যাটই এই মুহূর্তে তালাবন্ধ। কাছেই, বেলঘরিয়া দেওয়ান পাড়ায় রয়েছে পৈতৃক বাড়ি। সেখানে থাকেন তাঁর মা মিনতি মুখোপাধ্যায়।

    আরও পড়ুন: বিধানসভায় ফিরল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি, ছাড়তে চলেছেন মন্ত্রিত্ব? জল্পনা

    ইডি-র আরেকটি দল তখন হানা দিয়েছে কসবার রাজডাঙায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) সংস্থা ইচ্ছে এন্টারটেনমেন্টের অফিসেও। সেখানেও তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। ইডি জানতে পেরেছেন, এই সংস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।

  • SSC Scam: তিনি ‘অজ্ঞ’, সব জানেন শিক্ষাসচিব, সিবিআইকে জানিয়ে এলেন পার্থ

    SSC Scam: তিনি ‘অজ্ঞ’, সব জানেন শিক্ষাসচিব, সিবিআইকে জানিয়ে এলেন পার্থ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মজার কাণ্ড সিবিআই (CBI) দফতরে। হেসেই লুটোপুটি তদন্তকারীরা। এমনও হতে পারে? কিন্তু এমনই হয়েছে। 

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt) নির্দেশে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির (SSC Recruitment Scam) তদন্তে নেমে দুদফায় জেরা করা হয় শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee)। পার্থবাবু তদন্তকারীদের জানিয়ে এসেছেন, তিনি অজ্ঞ, এসএসসি চাকরি কীভাবে হয়েছে তা কিছুই জানেন না। কারণ এসএসসি স্বশাসিত সংস্থা, মন্ত্রীকে কিছু জানানোর প্রশ্নই ওঠে না। তবে এখানেই শেষ হচ্ছে না হাসির কারণ। তদন্তকারীরা দলিল-দস্তাবেজ খুলে বসতেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, তিনি নন, সব জানেন স্কুল শিক্ষাসচিব (State education secretary)। এত কাণ্ড যে হয়েছে তা তাঁর জানাই ছিল না।

    পার্থবাবুর মুখে একথা শুনে মুচকি হাসি দেখা যায় তদন্তকারীদের মুখে। আপাতত দুদফায় জেরা করা হয়েছে তাঁকে। তার মাঝেই সিবিআইয়ের হাতে এসেছে আরও তথ্য। সে সব সামনে রেখে ফের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে জেরা করা হবে বলে তদন্তের গতি-প্রকৃতির খবর যাঁরা রাখছেন, তাঁদের একাংশ জানাচ্ছেন। শিক্ষামহলের একাংশ অবশ্য এও দাবি করছেন, এসএসসি দুর্নীতির যাবতীয় দায় শিক্ষাসচিবের উপর চাপিয়ে দিয়ে পার্থবাবু আসলে শিক্ষা দফতরের বর্তমান হর্তা-কর্তাদের দিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। 

    আরও পড়ুন: এসএসসি মামলায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিস, শান্তিপ্রসাদের বাড়িতে সিবিআই

    কারণ আদালতে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির আসা ইস্তক বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তা হল, তাঁর আমলে এসব কিছু হয়নি। এমনকি আদালতে দাঁড়িয়ে সরকার বেনিয়মের প্যানেল বাতিল পর্যন্ত করতে উদ্যত হয়েছিল। যা এক প্রকার নিয়োগে দুর্নীতি মেনে নেওয়ারই সামিল। এর অর্থ বর্তমান শিক্ষা দফতরের কর্তারা দুর্নীতির দায় পুরনো মন্ত্রী-আমলাদের উপরই চাপিয়ে দিতে চাইছেন বলে বোকাসোকা মানুষেরাও বুঝতে পারছেন। 

    সেই কারণেই কি সিবিআইয়ের সামনে গিয়ে নিজের দায় ঝেরে ফেলে শিক্ষাসচিব মনীশ জৈনের (Manish Jain) সরকারি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এসেছেন প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী? তদন্তকারীদের একাংশ সূত্রে পাওয়া গিয়েছে, নিয়োগ যে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সে কথাও ঠারেঠোরে বোঝাতে চেয়েছেন পার্থবাবু। অর্থাৎ, শিক্ষামন্ত্রী বদলানোর সঙ্গেই দায় কেউ বয়ে নিয়ে যান না, সেই পদে যাঁরাই বসে থাকেন তাঁদেরও সমান দায়ভার থেকে যায়। বিকাশ ভবনে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কানেও এ কথা পৌঁছেছে। তিনি ‘কাগজপত্র’ সামলাতে বিশেষ সতর্কতাও নিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি নিয়ে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা সমর্থনযোগ্য নয়।

    আরও পড়ুন: কয়লা, গরুপাচার, এসএসসি দুর্নীতির তদন্তরত অফিসারকে কেন সরিয়ে দিল সিবিআই?

    তবে শুধু পার্থবাবু নন, নিয়োগ সংক্রান্ত তদারক কমিটির সদস্যরাও সিবিআইয়ের ‘বন্ধু’ হওয়ার চেষ্টাই করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের সামনে তাঁদের সকলের আকুতি, সহযোগিতা করছি, কিন্তু আমাদের যেন বেশি টানাটানি না করা হয়। সরকারের আইনজীবীরা বার বার সিবিআইয়ের তলব পাওয়া অফিসারদের পাখি পড়া করে পাঠাচ্ছেন, কোনও প্রশ্নেরই যেন জবাব দেবেন না। সূত্রের খবর, কিন্তু তদন্তের শুরুতে তাঁরা সেই চেষ্টা করলেও কাগজপত্র সামনে আনতেই তাঁদের ব্যবহার হয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাধ্য ছাত্রের মতো।

    যদিও সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে আদালত থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। আদৌ কি কিছু হবে? এসএসসি দুর্নীতির তদন্তরত এক কর্তার কথায়, ‘রাজ্য পুলিশের দারোগাদের তদন্ত শুরু হয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারি দিয়ে। তার পর নথি সংগ্রহ শুরু হয়। সিবিআই তদন্তের ধারা সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে তদন্ত শেষ করে গ্রেফতারি হয়। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রতারিত পরীক্ষার্থীকে বিচার দেওয়ার ভার দিয়েছে আদালত। সেই কাজ নিখুঁতভাবে করতে একটু সময় লাগবে।’

    (স্কুল শিক্ষা সচিব মনীশ জৈন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারী কমিটির সামনে কী বলেছেন তা মাধ্যম আগামীকাল জানাবে।) 

     

  • Partha Chatterjee: অ্যারেস্ট মেমোয় মমতার নাম-নম্বর লিখলেন কেন পার্থ? জড়িয়ে দিতে নাকি বিপদের বন্ধু হিসাবে

    Partha Chatterjee: অ্যারেস্ট মেমোয় মমতার নাম-নম্বর লিখলেন কেন পার্থ? জড়িয়ে দিতে নাকি বিপদের বন্ধু হিসাবে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসএসসি কেলেঙ্কারিতে (SSC scam) ইডি’র (ED) হাতে গ্রেফতারির সময় অ্যারেস্ট মেমোয় (Arrest Memo) মুখ্যমন্ত্রী মমতা (Mamata) বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও মোবাইল নম্বর লিখে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। যা নিয়ে তোলপাড় তৃণমূলের অন্দরের রাজনীতি। শুধু নাম লেখাই নয়, গ্রেফতারির রাতে ২টো থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত চার বার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন পার্থবাবু। এখানেই শেষ নয়। পরের দিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েও দেন, মুখ্যমন্ত্রীকে ফোনে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।

    ইডির জেরার মুখে পার্থবাবু যে দিব্যি সচেতন রয়েছেন তা তদন্তকারী সংস্থা আদালতেই জানিয়েছে। তল্লাশি ও জেরা পর্বে পার্থবাবুর আইনজীবীও সঙ্গে ছিলেন। ফলে অ্যারেস্ট মেমোয় মুখ্যমন্ত্রীর নাম জুড়ে দেওয়া নেহাৎই কাকতালীয় নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ। পার্থবাবুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, স্ত্রী ও মা মারা যাওয়ার পর নাকতলার বাড়িতে একাই থাকতেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মেয়ে-জামাই বিদেশে থাকেন। ফলে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া তাঁর নিকটতম আর কেই বা আছেন? মুখ্যমন্ত্রীর ডাকেই তো তিনি চাকরি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি দলের মহাসচিব, ফলে দল এসএসসি কেলেঙ্কারির পর তাঁকে ছেড়ে দিতে চাইলেও তিনি তো দল ছাড়তে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলে তাঁর একমাত্র যোগসূত্র রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অ্যারেষ্ট মেমোয় তাঁর নাম সেই কারণেই দিয়েছেন বলে পার্থবাবুর ঘনিষ্ঠ আইনজীবীরা মাধ্যমকে জানিয়েছেন।

    আরও পড়ুন: হুইল চেয়ারে আইসিসিইউ রোগী! পার্থকে দেখে বিস্মিত হৃদরোগ চিকিৎসকদের একাংশ

    অনেকে আবার এরমধ্যে রাজনীতিও খুঁজছেন। তাঁদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিক্ষক নিয়োগ (Teacher Recruitment) নিয়ে বিধায়কদের মধ্যে যে কোটা ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল তা এখন দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। কয়েক জন বিধায়কের প্যাডে সই করা চাকরি প্রার্থীদের নামের তালিকা আদালতে পর্যন্ত জমা পড়েছে। পার্থবাবুর ঘনিষ্ঠদের দাবি, শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ নিয়ে যা হয়েছে তা দলের সর্বোচ্চস্তরের সিদ্ধান্ত ছিল। গত নভেম্বরে যখন প্রথম কলকাতা হাইকোর্ট এ নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করে তখনই পার্থবাবু অশণি সঙ্কেত দেখেছিলেন। দলও সেই সময় থেকে পার্থবাবুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকে। এমনকি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও পার্থবাবুর ভূমিকা সেভাবে চোখে পড়েনি।

    তৃণমূলের দলীয় সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে পার্থবাবু দলের অন্দরে বার্তা দেন, যদি এসএসসি কেলেঙ্কারি নিয়ে দল তাঁর পাশে না দাঁড়ায় তা হলে তিনিও মুখ খুলতে বাধ্য হবেন। এর পর দলের তরফে আইন মন্ত্রী মলয় ঘটককে বিষয়টি নিয়ে তৎপর হতে বলা হয়। ঘটনাচক্রে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ের উপর কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশ গিয়ে বিচারপতি রণজিৎ বাগ কমিটির তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দেয়। সেই কমিটির সামনে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা সচিব জানিয়ে দেন, সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও সিবিআই তদন্ত বজায় রাখে।

    আরও পড়ুন: কেন অমর্ত্য সেন নিচ্ছেন না বঙ্গবিভূষণ? বিদেশে থাকার জন্যই কি, না অন্য কারণ?

    পার্থবাবু ক্রমেই বুঝতে পারছিলেন চাকরি চুরির মামলায় তাঁর পরিণতি ভাল হবে না। ঘনিষ্ঠ মহলে বলেও রেখেছিলেন, যদি দলের সমর্থন না থাকে, তা হলে মুখ খুলতে বাধ্য হব। তাঁর কাছেও যে নবান্ন (Nabanna) থেকে পাঠানো তালিকা রয়েছে সে কথাও ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অনেককেই। গ্রেফতারির পর অ্যারেস্ট মেমোয় মমতার নাম লিখে মহাসচিব শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে জড়িয়েই নেননি, উল্টে পাল্টা চাপও তৈরি করেছেন। যার মোদ্দা কথা হল, শিক্ষক নিয়োগের কোটা পদ্ধতিতে টাকা তোলার সিদ্ধান্ত ছিল দলগত, তাই গ্রেফতারির নথিতেও সেই দাগ যেন রেখে গেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। যদিও ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, জেনে বুঝে কেউ ভুল করলে শাস্তি পেতে হবে। তবে অজান্তে ভুল করলে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অ্যারেস্ট মেমোয় মমতা জেনেবুঝে ভুল, নাকি অজান্তে ভুল তা ইডি যখন তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে তখনই স্পষ্ট হবে।

  • Arpita Mukherjee: পণ্ডিতিয়া রোডে ফোর্ট ওয়েসিস-এর বন্ধ ফ্ল্যাটে ফের হানা ইডি-র, তালা ভেঙে চলছে তল্লাশি

    Arpita Mukherjee: পণ্ডিতিয়া রোডে ফোর্ট ওয়েসিস-এর বন্ধ ফ্ল্যাটে ফের হানা ইডি-র, তালা ভেঙে চলছে তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার চেষ্টা করেও হয়নি। বৃহস্পতিবার তালা ভেঙে পণ্ডিতিয়া রোডে (Panditia Road) অভিজাত ফোর্ট ওয়েসিস (Fort Oasis)-এর বন্ধ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঢুকল ইডি (ED)। চলছে তল্লাশি।

    মঙ্গলবারও আবাসনের ৬ নম্বর টাওয়ারের ৫০৩ নম্বরের ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন তদন্তাকারীরা। কিন্তু দরজা খুলতে পারা যায়নি। শেষে একটি নকল চাবি তৈরি করে, এমন একজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল। অনেক চেষ্টাতেও শেষে তিনি দরজা খুলতে পারেননি। ওই দিন বিষয়টি রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশকে জানিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে না পেরে তা ‘সিল’ করে এসেছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। 

    বৃহস্পতিবার সকালে ফের স্থানীয় থানায় গিয়ে কথা বলে ইডি। তারপর পণ্ডিতিয়ার ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় ইডি। সঙ্গে ছিল স্থানীয় থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি দরজা, একটি স্টিল ও একটি কাঠের। স্টিলের দরজাটি ‘মেড-ইন-চায়না’। শেষে দরজা ভেঙেই এই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছে ইডি। এখনও পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেই রয়েছেন তাঁরা।

    আরও পড়ুন: ১৮ জোড়া সোনার দুল, ১১টি সোনার বালা…! অর্পিতার ফ্ল্যাটে উদ্ধার হওয়া সোনার পুরো তালিকা

    সূত্রের খবর, প্রথমে ওই ফ্ল্যাটে সরাসরি প্রবেশ করতে পাচ্ছিলেন না ইডির আধিকারিকরা। কারণ ওই ফ্ল্যাটটি সরাসরি অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নামে নেই। আগের যেকটি ফ্ল্যাটে ইডি হানা দিয়ে ছিল সেগুলি অর্পিতার নামে ছিল। এই ফ্ল্যাটটি অন্য এক মহিলার নামে রয়েছে। এই ফ্ল্যাটের মালিকের নাম স্মিতা ঝুনঝুনওয়ালা। তাঁর সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ইডি। কিন্তু যোগাযোগ করা যায়নি। 

    যদিও, এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে অর্পিতার ভালো যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তে জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা। জানা যাচ্ছে, ২০১৫ সালে ওই আবাসনের ডেভলপারের সঙ্গে কথা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee)। এই আবাসনের একটি ফ্ল্যাট পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ের নামে বরাদ্দ করার কথা হয়। ৫০৩ নম্বর ওই ফ্ল্যাটটি অন্য একজনের নামে হলেও তার দেখাশুনো করতেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee)।

    আরও পড়ুন: ফের ইডি হেফাজত! ৫ অগাস্ট পর্যন্ত CGO কমপ্লেক্সের জেলেই থাকতে হবে পার্থ-অর্পিতাকে

    ইডি ফ্ল্যাটে ঢোকার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, টালিগঞ্জ, বেলঘরিয়ার মতো অর্পিতার ‘যোগ’ থাকা এই ফ্ল্যাটেও কি মিলবে নগদ টাকা! উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

  • SSC Recruitment Scam: এসএসসি দুর্নীতিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন! গেছে কার পকেটে? তদন্তে ইডি

    SSC Recruitment Scam: এসএসসি দুর্নীতিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন! গেছে কার পকেটে? তদন্তে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  একা রামে রক্ষে নেই, সুগ্রীব দোসর!

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt) নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Teachers recruitment scam) মামলা তদন্ত করে দেখছে সিবিআই (CBI)। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) থেকে শুরু করে বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে (Paresh Adhikary) দফায় দফায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা। তাঁর মেয়ে অঙ্কিতাকে শিক্ষকতার চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এবার এসএসসি কাণ্ডে (SSC scam) তদন্তে ময়দানে নামতে চলেছে আরেক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি। ফলে, তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও যে বাড়তে চলেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    কিন্তু, ইডি কেন তদন্ত করছে? জানা গিয়েছে, রাজ্যের শিক্ষক দুর্নীতিকাণ্ডে একের পর এক যে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও নথি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে একটা বিষয় নিশ্চিত। তা হল, এই ঘটনায় কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। অন্তত এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই টাকা কার কার কাছে পৌঁছেছে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ইডির সদর দফতর থেকে কলকাতায় সিবিআই (CBI) দফতরে ইমেল করা হয়। তাতে সিবিআইয়ের কাছে এসএসসি দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) দায়ের করা ৪টি এফআইআরের কপি ও অন্যান্য নথি চাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তদন্তে যা যা উঠে এসেছে তা সিবিআইয়ের কাছে রিপোর্ট আকারে চেয়েছে ইডি। একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগের রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় যাবতীয় নথি চাওয়া হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, দু-একদিনের মধ্যেই সব নথি দেওয়া হবে ইডিকে। ইতিমধ্যেই, দুই মন্ত্রী এবং এসএসসি-র নিয়োগ কমিটির আধিকারিকদের সম্পত্তির তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করেছে সিবিআই। এবার অর্থের তছরূপ নিয়ে তদন্ত শুরু করবে ইডি (ED)। 

LinkedIn
Share