Tag: Scott Bessent

  • US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    US: ট্রাম্প-আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা মার্কিন শীর্ষ আদালতের, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন (US) সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এরপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই রায়ের প্রভাব কী হতে পারে তা তারা খতিয়ে দেখছে। মন্ত্রক বলেছে, “আমরা গতকাল (শুক্রবার) শুল্ক সংক্রান্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় লক্ষ্য করেছি। এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।” তারা আরও জানিয়েছে, “মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের করার কথা ঘোষণা করেছে। এই সব পদক্ষেপের প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করছি।”

    সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য (US)

    শুক্রবার, রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ছয়–তিন ভোটে রায় দেয় যে ১৯৭৭ সালের যে আইনের ভিত্তিতে ট্রাম্প পৃথক পৃথক দেশের ওপর হঠাৎ শুল্ক আরোপ করেছিলেন—যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল—সেই আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অনুমোদন দেয় না। ট্রাম্প এই রায় দেওয়া বিচারকদের মধ্যে দু’জনকে মনোনীত করেছিলেন। এদিনের ঘটনার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া, আদালত বিদেশি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস না দেখানোয় আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত—পুরোপুরি লজ্জিত।” ট্রাম্প আরও বলেন, “দেশকে রক্ষা করার জন্য একজন প্রেসিডেন্ট অতীতে আমার আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।” তিনি বলেন, এই রায় তাঁকে আরও শক্তিশালী করেছে (US)। ডালাসের ইকোনমিক ক্লাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “বিকল্প পদ্ধতিতে ২০২৬ সালে শুল্ক আয়ে কার্যত কোনও পরিবর্তন হবে না (Supreme Court)।”

    নয়া শুল্ক আরোপ

    ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ করেন। এই ধারা প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক পরিশোধ-সংক্রান্ত মৌলিক সমস্যার মোকাবিলায় অতিরিক্ত শুল্ক ও বিশেষ আমদানি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়। ১২২ ধারা অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বড় ও গুরুতর পরিশোধ-ঘাটতি অর্থাৎ যখন আমদানি রফতানির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়—মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর তিনি আমেরিকায় আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন। এর ফলে ভারতের ওপর শুল্কহার ১৮ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন শুল্ক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, “এটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে (US)।”

    হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, নয়া শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর হবে। তবে পৃথক তদন্তাধীন খাত—যেমন ফার্মাসিউটিক্যাল—এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা চুক্তির আওতায় (Supreme Court) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় বহাল থাকবে (US)।

     

  • S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal)। এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা সফরে গিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই সফরের মাধ্যমে তিনি একটি স্পষ্ট বার্তা দেন, দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস্ (Critical Minerals) একটি মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    আমেরিকায় জয়শঙ্কর

    ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকায় রয়েছেন জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই পর্বে তিনি একের পর এক বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে। এই সময় নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকে অগ্রসর হয়। তাঁর এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের দিনই ট্রাম্প মোদির সঙ্গে আলোচনার পর ভারতের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) কথা ঘোষণা করেন। ওই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। এই শুল্কছাড়কে বিশেষ করে উৎপাদন, ওষুধ শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে । ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির আধিকারিকরা এই চুক্তিকে বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

    জয়শঙ্করের বার্তা

    জয়শঙ্কর (S Jaishankar) এই চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে। তিনি একে সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভারতের উৎপাদন খাতকে আরও মজবুত করবে এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধিকে সাহায্য করবে। সফরের শুরুতেই তিনি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। আধিকারিকদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতাকে বাস্তব নীতিতে রূপ দিতে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রবিবার ঘোষিত বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) লেখেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, বৈঠকে বাণিজ্য সরলীকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নিয়ন্ত্রক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে নতুন চুক্তি কার্যকর নিশ্চিত করা যায়।

    জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক

    ট্রেজারি দফতরের সঙ্গে এই যোগাযোগকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরের দিনেই জয়শঙ্কর (S Jaishankar) মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়, “আজ বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “রুবিও এবং জয়শঙ্কর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা লক্ষ্যে অগ্রসর হতে দুই গণতান্ত্রিক দেশের একসঙ্গে কাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।”

    অভিন্ন স্বার্থ

    দু’পক্ষই কোয়াডের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে তাঁরা একমত হন যে সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল আমাদের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়, এবং ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বের বিভিন্ন স্তম্ভ, যেমন, বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই যৌথ অগ্রাধিকারগুলি এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় দ্রুত বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।” রুবিও তাঁর পোস্টে জানান, আলোচনার মূল ফোকাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতা এবং নয়া অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচন, এবং তিনি বাণিজ্য চুক্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর বাড়তি গুরুত্ব

    অপরিহার্য খনিজের (Critical Minerals) ওপর বাড়তি গুরুত্ব উভয় রাজধানীতেই কৌশলগত উদ্বেগের প্রতিফলন—বিশেষ করে সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর, প্রধানত চিনের ওপর নির্ভরতার কারণে। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় করতে চান রুবিও। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়ালে’র আয়োজন করছে। এতে ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য ও সমন্বয় বাড়ানো। সফরের অংশ হিসেবে জয়শঙ্করেরও (S Jaishankar) এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। সম্প্রতি মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব ডাগ বার্গাম জানান, খনিজ  সরবরাহে চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রস্তাবিত একটি জোটে যোগ দিতে প্রায় ৩০টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, এবং আরও অন্তত ২০টিও দেশ এতে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের আধিকারিকদের মতে, জয়শঙ্করের ওয়াশিংটন সফর ভারত–আমেরিকার সম্পর্ককে কেবলমাত্র বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোচনায় অর্থনৈতিক সংযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, পারমাণবিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলিও উঠে আসে। বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতার উদ্যোগ যুক্ত করে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক (India-US Trade Deal) স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে চাইছে।

     

LinkedIn
Share