Tag: Sebastien Lecornu

  • France: ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে মেরিন ল্য পেন, দ্বিতীয় হওয়ার দৌড়ে মেলাঁশোঁ-ফিলিপ

    France: ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে মেরিন ল্য পেন, দ্বিতীয় হওয়ার দৌড়ে মেলাঁশোঁ-ফিলিপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে (Presidential Election 2027) প্রথম দফার ভোটে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী নেত্রী মেরিন ল্য পেন। সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষাগুলিতে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ঢের বেশি (France)। এদিকে, রাজনৈতিক মেরুকরণ বৃদ্ধি, বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে ঘিরে অস্থিরতা এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর প্রশাসনের প্রতি জনঅসন্তোষের জেরে দ্বিতীয় স্থানের লড়াই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

    তবে সাম্প্রতিক হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরেও ভোটারদের মনোভাবে তাৎক্ষণিক বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ল্য পেনের নির্বাচনী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু প্রাথমিক সমীক্ষার ফলে সেই সম্ভাবনার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    ল্য পেনের জাতীয় সমাবেশ দলের সমর্থন এবং কট্টর বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবোডের নেতা জঁ-লুক মেলাঁশোঁর জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক হিংসার পরেও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ১৭ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর এই সমীক্ষা করা হয়। এর পরেই নির্বাচনে এই অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    অন্য একটি সমীক্ষায় ল্য পেনের সমর্থন ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে করা ওই সমীক্ষায় মেলাঁশোঁর সমর্থন ১৮ থেকে ১৮.৫ শতাংশ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের সমর্থন ১৭ শতাংশ এবং আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আতালের সমর্থন ১১ শতাংশ। দু’টি সমীক্ষার ফলে কিছু পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক চিত্রে জাতীয়তাবাদী ও কট্টর বামপন্থী শক্তির উত্থান এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে মেলাঁশোঁ, ফিলিপও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (France)

    একাধিক নির্বাচনী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে করা সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ল্য পেনের সমর্থন ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তাঁর তুলনায় অন্য প্রার্থীরা অনেকটাই পিছিয়ে। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় কোনও প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রথম দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার লড়াই হয়। ফলে ল্য পেনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পর্বে কে লড়বেন, তা নির্ধারণে দ্বিতীয় স্থানের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কট্টর বামপন্থী শিবিরের নেতা মেলাঁশোঁ সমীক্ষাগুলিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অথবা ওই স্থানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে কয়েকটি পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে ফিলিপ এবং মধ্য-বামপন্থী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যানের ব্যবধান খুবই কম। ফলে দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় মধ্যপন্থী শিবিরের পক্ষে একক প্রার্থীর পিছনে সমর্থন একত্রিত করা কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি জাতীয়তাবাদী এবং কট্টর বামপন্থী প্রার্থীদের সামনে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে (France)।

    ল্য পেন ২০১২, ২০১৭ এবং ২০২২ সালে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৭ ও ২০২২ সালে তিনি দ্বিতীয় দফায় পৌঁছলেও দু’বারই মাক্রোঁর কাছে পরাজিত হন। মেলাঁশোঁও ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে লড়েছিলেন, কিন্তু কোনওবারই দ্বিতীয় দফায় পৌঁছতে পারেননি।

    সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মেলাঁশোঁর বিরুদ্ধে লড়াই হলে ল্য পেন বড় ব্যবধানে জিততে পারেন। ফিলিপের বিরুদ্ধেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সে ক্ষেত্রে ব্যবধান তুলনায় কম হতে পারে।

    অশান্তি ঠেকাতে বড় পুলিশি অভিযানের প্রস্তুতি

    রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ফ্রান্সে নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর শঙ্কাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২৪ অক্টোবর আরও বিক্ষোভের ডাক অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সে যে হলুদ জ্যাকেট আন্দোলন দেশজুড়ে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, সাম্প্রতিক অস্থিরতা তেমন দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে পরিণত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু ২০ অক্টোবর আরও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন। তিনি এই মোতায়েনকে ‘বিপুল’ বলে বর্ণনা করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৌশলগত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয় এমন একটি সামরিক ইউনিটকেও কাজে লাগানো হবে। ১৯ অক্টোবর দেশের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়ভাবে নৈশকালীন কার্ফু জারি করা হয়। ২০ অক্টোবর রাতেও সেই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে কি না, তা স্থানীয় ও আঞ্চলিক প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    নতুন করে বিক্ষোভের সম্ভাবনা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। হিংসার পর প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রধান প্রার্থীদের সমর্থনে বড়সড় পরিবর্তন দেখা না গেলেও, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ভূমিকা এবং তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে নজরদারি বেড়েছে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২ মে হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে আগামী কয়েক মাস প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে নিজেদের সমর্থন সুসংহত করা এবং দ্বিতীয় দফায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা (France) বাড়ানোই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

    জনমত সমীক্ষায় ল্য পেনের ধারাবাহিক এগিয়ে থাকা তাঁকে নির্বাচনী প্রচারের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা এখনও অনিশ্চিত (Presidential Election 2027)। মেলাঁশোঁ, ফিলিপ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে সেই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই ধারণা নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের।

     

     

     

LinkedIn
Share