Tag: Separate Electorates

  • Bhim Army: “অনগ্রসর সম্প্রদায়, নারী ও দলিতদের শক্তিশালী করতে চাইলে আলাদা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রবর্তন করা উচিত”, বললেন চন্দ্রশেখর রাবণ  

    Bhim Army: “অনগ্রসর সম্প্রদায়, নারী ও দলিতদের শক্তিশালী করতে চাইলে আলাদা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রবর্তন করা উচিত”, বললেন চন্দ্রশেখর রাবণ  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সরকার যদি সত্যিই অনগ্রসর সম্প্রদায়, নারী ও দলিতদের শক্তিশালী করতে চায়, তাহলে পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রবর্তন করা উচিত।”  ভীম আর্মি (Bhim Army) এবং আজাদ সমাজ পার্টির নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ শুক্রবার লোকসভায় তাঁর বক্তৃতা চলাকালীন এমনই দাবি করেন। তাঁর আরও দাবি, সরকার যদি সত্যিই অনগ্রসর সম্প্রদায়, নারী ও দলিতদের শক্তিশালী করতে চায়, তাহলে পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রবর্তন করা উচিত।

    আজাদের বক্তব্য (Bhim Army)

    তিনি বলেন, “সংরক্ষণ ব্যবস্থা এই গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে এটি কেবলমাত্র একটি স্লোগানে পরিণত হয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার অর্জনের জন্য অর্ধেক মনোভাবের স্লোগানের পরিবর্তে সাহসী, প্রত্যক্ষ এবং সম্পূর্ণ সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি (Bhim Army)।” নাগিনা লোকসভা কেন্দ্রের এই সাংসদ বহুজন নেতা কাঁশিরাম এবং তাঁর বই ‘চামচা যুগে’র উল্লেখ করে (Chandra Shekhar Ravan) বলেন, “সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হন এবং তাঁরা নিজেদের সম্প্রদায়ের চেয়ে দলের প্রতি বেশি অনুগত থাকেন।” এর পরেই তিনি বলেন, “অতএব, পৃথক নির্বাচনই একমাত্র কার্যকর সমাধান।”

    উত্তাল লোকসভা

    এক সাংসদের এহেন বক্তব্যে উত্তাল লোকসভা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাঁর এই মন্তব্য কেবল অবৈধই নয়, ভারতের সংবিধানের মৌলিক নীতিমালা এবং প্রতিষ্ঠাতাদের কল্পিত ‘ভারতের ধারণা’র পরিপন্থী। বিশেষ করে, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৫ ধারায় এই ধরনের সুপারিশকে পত্রপাঠ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে (Bhim Army)। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একটি সাধারণ ভোটার তালিকা থাকবে এবং ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়া বা আলাদা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা যাবে না (Chandra Shekhar Ravan)।

    এক ব্যক্তি, এক ভোট

    ১৯৪৮ সালের খসড়া সংবিধানে এই অনুচ্ছেদটি ছিল না। ১৬ জুন ১৯৪৯-এ খসড়া প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান এটি প্রবর্তন করেন, যেখানে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একক ভোটার তালিকার কথা বলা হয়। এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় এবং এর মাধ্যমে পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়। সংবিধানের অন্যতম প্রধান স্থপতি বিআর আম্বেডকর এই নীতিটি সমর্থন করেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয় (Chandra Shekhar Ravan)।সংবিধান প্রণয়ন সভার আলোচনায় বারবার বলা হয় যে গণতন্ত্রের ভিত্তি হবে “এক ব্যক্তি, এক ভোট” (Bhim Army)।

    পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার শেকড়

    পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার শেকড় প্রোথিত ছিল ব্রিটিশ আমলে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট ১৯০৯ মুসলমানদের জন্য আলাদা নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করে, যা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে উৎসাহ দেয়। এই ব্যবস্থা পরবর্তী কালে বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালের বিভাজনের দিকে নিয়ে যায়, যার ফলে জন্ম হয় পাকিস্তান নামের একটি আস্ত রাষ্ট্রের (Bhim Army)। ১৯৩২ সালের কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড” বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয়। মহাত্মা গান্ধী দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন, শুরু করেছিলেন অনশন।

    সামাজিক সমস্যাগুলির সমাধান

    এদিকে, আম্বেদকর প্রথমে (Chandra Shekhar Ravan) দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৩২ সালের পুনা প্যাক্টের (পুনা চুক্তি) মাধ্যমে একটি সমঝোতা হয়, যেখানে পৃথক নির্বাচনের বদলে সংরক্ষিত আসন-সহ যৌথ নির্বাচনী ব্যবস্থা গৃহীত হয়। পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা ভারতের অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতে প্রাসঙ্গিক নয়। এটি জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে এবং বিভাজন সৃষ্টি করে। সামাজিক সমস্যাগুলির সমাধান জরুরি হলেও তা সংবিধান বা দেশের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে করা যায় না (Bhim Army)।

     

     

LinkedIn
Share