Tag: Shah Mohammad Reza Pahlavi

  • Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদ বেশিদিন মানুষের নিত্য প্রয়োজনকে চাপা দিয়ে রাখতে পারে না। তার স্পষ্ট উদাহারণ ইরান। গত এক সপ্তাহ ধরে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃ্দ্ধি, অর্থনৈতিক সঙ্কট ঘিরে আন্দোলন মাথাচারা দিয়ে উঠেছে ইরানের (Protest in Iran) রাজপথে। বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার জনতা। এরইমধ্যে গত তিন-চারদিনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এরমধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

    আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা শীর্ষ ধর্মনেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণবিদ্রোহ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের দিন। নিউইয়ার (New Tear) ইরানে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা ইরান জুড়ে বিক্ষোভকারী পথে নেমে পড়েন। তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক স্লোগান মুখে মিছিল বের করে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মুখে রেজা পহলভির (Reza Pahlavi) সমর্থনে স্লোগান দিতে শোনা যায়। রেজা হলেন প্রয়াত শাহ মহম্মদ রেজা পহলভির (Shah Mohammad Reza Pahlavi) ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের সময় তাঁকে অপসারিত করে চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তগত করেন আয়াতুল্লা। তারপর থেকেই আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় ইরানের। শাহ জিন্দাবাদ— স্লোগান শোনা যায় তেহরানের সর্বত্র। রেজা পহলভি বর্তমানে আমেরিকায় নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। জয় আমাদের নিশ্চিত। কারণ আমাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যতক্ষণ এই জমানা সিংহাসন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলতে থাকবে। আরও দুর্দশা নেমে আসতে চলেছে।

    কেন বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে

    ইরানের (Protest in Iran) সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সঙ্কট। ডিসেম্বর মাসে দেশে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশে। তার উপর ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু পরিকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল-আমেরিকার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারকে প্রতিবাদীদের ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া’ শোনার পরামর্শ দেন। ঘটনার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন রাজধানী তেহরানের কিছু দোকানদার মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেছিলেন। এরপরেই আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্তে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারাও। রাজপথে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফলে সব মিলিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকার।

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতি

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানী তেহরানে (Tehran) ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। ফলে এই অবস্থায় দেশের মানুষের জীবন ও শান্তি রক্ষায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। এই মুহূর্তে ৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দেশ ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে এর মূল কারণ, মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়ালের (IRR) মূল্য। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ। পেজেশকিয়ান কার্যত মেনে নিয়েছেন যে, ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। আর এই মুহূর্তে রিয়ালের অবক্ষয় রোধের কোনও উপায় সরকারের হাতেও নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইরানে চলতি বছরে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

    মৌলবাদের বিরোধিতা

    ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে ক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন বিক্রেতারা এই বিক্ষোভ শুরু করে, তবে কিছু বিক্ষোভকারীকে দেশের ধর্মভিত্তিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এই পরিস্থিতির জন্য ইরানের শাসনব্যবস্থার চরমপন্থা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন, ‘এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ইরানের জনগণ ধসে পড়া অর্থনীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে… তাঁর (খামেনেই) নেতৃত্বে ইরানি শাসনব্যবস্থা চরমপন্থা ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে… ইরানের জনগণের এমন একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রাপ্য, যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে – মোল্লা ও তাঁদের সহযোগীদের নয়।’

    বাংলাদেশ-ভারত-ইরান

    বর্তমানে ইরানের (Protest in Iran) মতোই বাংলাদেশেও মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে সে দেশের একাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আপাতত নির্ধারিত নির্বাচনে জামাত অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে, এটি হবে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের দিকে ঝুঁকে পড়ার আরেকটি উদাহরণ। মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশও ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাচ্ছে ভারত। মোদি সরকারের হাত ধরে ভারতে মুদ্রাস্ফীতির হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সরকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে করছাড় দেওয়ায় গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু ভারতের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলাদেশে আসছে না। বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানে মোলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব সেদেশের মুক্তমনারা। রাজধানী তেহরান, মাশহাদ-সহ একাধিক শহরে পথে নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি, দেশে মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক। পতন হোক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে আমজনতা-ইরানের সকলের মুখে একটাই স্লোগান, স্বৈরাচারীর পতন হোক। তাঁদের দাবি, শাহ বংশের হাতে আবারও ফিরে যাক ইরানের শাসন।

LinkedIn
Share