Tag: Shamik Bhattacharya

Shamik Bhattacharya

  • BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের পালটা এবার রাজপথে নামল বিজেপি (BJP)। সোমবার কলকাতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগান সামনে রেখে পদযাত্রা করে গেরুয়া শিবির। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায় গিয়ে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকও এই পদযাত্রায় অংশ নেন (Kolkata Rally)।

    সোমবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছন নীতিন নবীন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দু’জনে কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁদের ঘিরে তখন থেকেই এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ে কলেজ স্কোয়ার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় নীতিন নবীন, শুভেন্দু এবং শমীককে। কলেজ স্ট্রিট থেকে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ধরে মিছিল এগিয়ে যায় ধর্মতলার দিকে।

    গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা (BJP)

    কর্মসূচি শুরুর আগে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদযাত্রার আয়োজন। তিনি বলেন, “সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে রয়েছেন মানুষ।”

    একই সুর শোনা যায় বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের গলায়ও। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই কাজে বিদেশি শক্তির আর্থিক মদত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী শিবির। বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন। এই আন্দোলনের পালটা হিসেবে দেশজুড়ে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    মমতা-রাহুলকে নিশানা

    সোমবার কলকাতার পাশাপাশি বিহারের ভাগলপুরেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন নীতিন নবীন। সেখানে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হায়দরাবাদে জাতীয় পতাকা কাঁধে পদযাত্রায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (BJP)।

    তবে কলকাতায় বিজেপির এই পদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির। সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই কর্মসূচির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের আন্দোলনের তেমন কোনও প্রভাব এ রাজ্যে পড়েনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মাত্র ছ’মাস হয়েছে। তাহলে এখনই কলকাতায় এই ধরনের মিছিলের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের আবহে বিজেপির এই পদযাত্রা নিছক একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং পালটা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টাও (Kolkata Rally)। একদিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলা, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং জনসমক্ষে নিজেদের (BJP) অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিহার থেকে কলকাতা, পরপর দুই রাজ্যে নীতিন নবীনের কর্মসূচি ঘিরে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

     

  • Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর এ বার রাজ্যের পুরসভাগুলিকে (Suvendu Adhikari) পাখির চোখ করল বিজেপি। সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত আয়োজিত বিজয় মিছিলের শেষে জনসভা থেকে আসন্ন পুরভোটের রণকৌশল স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, এ বার পুরসভাগুলিতেও ফুটবে পদ্ম। রাজ্যে উন্নয়নের ‘ত্রিশক্তি’ সরকার গড়তে কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভা দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে হবে দলীয় কর্মীদের (Municipal Elections)। পুজোর মরশুম শেষ হলেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর আপাতত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কমিশনার। হাওড়াতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দুই শহরের পুরসভা দখলের ডাক দিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন শুভেন্দু।

    উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা (Suvendu Adhikari)

    ভিক্টোরিয়া হাউসের সভায় তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা রেখে আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছিলেন। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে আপনাদের পুরসভাগুলিতে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে। তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

    এ দিনের বিজয় মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখারভ সরকার, নন্দীগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানী রথ-সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে জয়

    রেজিনগরের মতো প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে বিরোধীদের প্রচারকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হবে এবং বেছে বেছে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে বিরোধীরা প্রচার চালিয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, “মানুষ দেখেছেন, মোদিজির নেতৃত্বে জয়ের রথ থামানো যায়নি। বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক সুরক্ষিত।”

    তিনি আরও বলেন, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা বুঝতে পেরেছেন যে মিথ্যা ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা হয়েছে। তাই আজ তাঁরা তোষণের রাজনীতি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণ ও প্রগতির মূলস্রোতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন (Suvendu Adhikari)।”

    পুরভোট ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর বিজেপির নজর এখন রাজ্যের বকেয়া পুরভোটের দিকে। বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের পুরসভা দখলকে সামনে রেখে দলীয় নেতৃত্বের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে যোগ করেছে (Municipal Elections) নতুন মাত্রা।

    উপনির্বাচনের ফলকে হাতিয়ার করে পুরসভা নির্বাচনেও সাফল্যের আশা করছে গেরুয়া শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কোন দল কতটা সুবিধা পায়, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচার, নাগরিক পরিষেবা নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের রায়ের উপর (Suvendu Adhikari)।

     

  • Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা পূর্তির অনুষ্ঠানে গুজরাটের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Elections 2029) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনই বিজেপির দখলে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদির নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি (Suvendu Adhikari) যে পথে গুজরাটের উন্নয়ন করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলার উন্নয়ন করতে চান তিনি।

    সলতে পাকানোর কাজ শুরু বিজেপির (Lok Sabha Elections 2029)

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলার কোন কোন আসনে বিজেপির জয় তুলনামূলক ভাবে নিশ্চিত এবং কোথায় লড়াই কঠিন হতে পারে, তা নিয়েও দলের সাংগঠনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

    এই আবহেই বুধবার শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বাংলার সব আসন মোদিজিকে উপহার দেব।”

    মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিজেপির তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে মোদির প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সেই যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষেই বিজেপির তরফে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় এতদিন তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছিল। মোদিজি না-থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। তাই মোদিকে কোটি কোটি প্রণাম। মোদিজি বাংলার সনাতনী এবং রাষ্ট্রবাদী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” এর পরেই মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২০২৯ সালের ভোটে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    ‘গুজরাটের মতো বাংলার উন্নয়ন করতে চাই’

    শুধু লোকসভা নির্বাচনের আসন জয়ের অঙ্গীকার নয়, বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুজরাটকে অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় গুজরাটে যে ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বাংলাতেও সেই ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে যে রকম কাজ করেছেন, সে রকম কাজ আমি পশ্চিমবঙ্গে করার চেষ্টা করছি (Lok Sabha Elections 2029)।”

    ভাডনগরে পৌঁছে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভাডনগরের হেলিপ্যাডে নেমে প্রথমে এই মাটিকে প্রণাম করেছি। কপালে সেই মাটি ঠেকিয়েছি।”

    মোদি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের উন্নয়নকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। সেই উন্নয়নধারাকেই বাংলায় অনুসরণ করার কথা এ দিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।

    ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’র ডাক ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ

    তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কার্যত বিরোধীশূন্য করার যে বার্তা শুভেন্দু দিয়েছেন, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন বিরোধীরা।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মাত্র দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখলাম, পুলিশকে দিয়ে পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে। বিরোধী-শূন্য করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আগে যেভাবে পঞ্চায়েত দখল করতেন, এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তা আরও চরমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলার সব লোকসভা আসনে জেতার আশ্বাস তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভরসায় দিয়েছেন। কিন্তু জল অতদূর গড়াবে না। কেন্দ্রে বিজেপির সরকার হবে না। রাজ্যেও ওদের আসন কমবে।”

    কলকাতা থেকে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা

    এর আগে বুধবার সকালে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানে মোদির কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন না। বলেন প্রধান সেবক। শুধু বলেন না, সেভাবেই নিজের কাজ করেন। আমাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা মোদিজি।”

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এ দিন কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নেন। তিনি বলেন, “মোদিজির দীর্ঘ সেবাময় জীবনের এই অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা একটাই— সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন কর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন। তাই আগামী দিনের পথেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, সমাজের জন্য কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা পালন (Suvendu Adhikari) করা।”

    ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বছর তিনেক দূরে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসন জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই ‘৪২-এ ৪২’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে (Lok Sabha Elections 2029) আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি কী কৌশল নেয়।

     

  • PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সমাপ্তি কর্মসূচি হিসেবে ৭ অক্টোবর, বুধবার ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র আয়োজন করবে বিজেপি (PM Modi)। সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরেও এই কর্মসূচি পালিত হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান (Seva Jyoti Yatra) রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ (PM Modi)

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই কর্মসূচির আয়োজন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হয়েছিল ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। ৭ অক্টোবর তার সমাপ্তি হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র মাধ্যমে। শমীক বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ৭ অক্টোবর সারা দেশে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরে বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।”

    তিনি জানান, বিভিন্ন জেলা সদরে বড় পর্দায় সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে। তাঁদের বক্তব্যের পর শুরু হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। মশাল হাতে পদযাত্রায় অংশ নেবেন বিজেপি কর্মীরা।

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। টানা প্রায় ১৩ বছর ওই পদে থাকার পর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে ভোটে লড়ে বিজেপি। ওই নির্বাচনে প্রথম বার লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় পদ্মশিবির। এরপর টানা ১২ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি। ৭ অক্টোবর সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হবে।

    বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন

    শমীক জানান, কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরেও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সেখানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক সাফল্য, গুজরাটের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে (PM Modi)।

    একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ থেকে ১৪০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সাফল্যও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজনীতির প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এসেছে এবং উন্নয়নকে রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শমীক বলেন, “আজকের ধর্ম গণতন্ত্র এবং আজকের রাজনীতি উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনীতির গতানুগতিক পরিভাষা বদলে উন্নয়নকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত (Seva Jyoti Yatra) করেছেন।”

    তাঁর কথায়, “আজকের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক জীবনযাত্রা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চায়। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশাকেই বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন (PM Modi)।”

     

  • Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নাম বদলে ‘বাংলা’ করতে চেয়েছিল তৃণমূল সরকার। বিলও পাস করিয়েছিল বিধানসভায়। কিন্তু কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। তৃণমূলের চাওয়ায় যে তাদের আপত্তি আছে, ক্ষমতায় আসার আগে জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি (BJP)। তারা রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ (Paschim Banga) রাখার পক্ষপাতী। বাংলাতে তো বটেই, ইংরেজিতেও। বিধানসভার পরের অধিবেশনেই এই মর্মে বিল (West Bengal Assembly Bill) আসতে চলেছে, সোমবার জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে দলের রাজ্যসভার সাংসদ শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এখন থেকে আর কোনও ওয়েস্ট বেঙ্গল, কোনও বাংলা বা কোনও পশ্চিম বাংলা নয় (West Bengal Name Change)। এবার থেকে সব ভাষাতেই কেবল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম হবে।”

    ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’

    সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ই লেখা হবে। সম্প্রতি কেরল রাজ্যের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার বিল যখন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য আসে, তখনও শমীক সংসদের কক্ষে দাঁড়িয়ে সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার দাবি তুলেছিলেন। প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজ থেকে শুরু করে ইংরেজি নথিপত্র- সর্বত্রই লেখা হবে একই নাম।

    নামের পেছনে ইতিহাস ও আবেগ

    রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার পেছনে ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং শহীদদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসছি, তাদের নির্দিষ্ট একটা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গলের বদলে শুধু ‘বাংলা’ করলে সেদিন দেশভাগের সময়ে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, যারা রক্তস্নান করেছিলেন, তাঁদের সেই অপরিসীম অবদান বিস্মৃত হয়ে যাব। পশ্চিমবঙ্গের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে এই নামের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী নামই যাতে স্থায়ী হয়, তার জন্যই আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিল আনা হচ্ছে।” আইনি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করাতে হয়, সেই প্রক্রিয়াই শুরু করতে চলেছে দল।

    নাম বদলে প্রশাসনিক জটিলতা

    প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা নতুন নয়। দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারি বৈঠকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে (Alphabetical Order) রাজ্যগুলোর নাম ডাকা হয়। ফলে ‘West Bengal’-এর ডাক আসে একেবারে শেষের দিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ বক্তা হিসেবে বলতে গিয়ে নির্ধারিত সময় অনেকটাই কমে যায়। তাই বাম জমানাতেই ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই বিধানসভায় প্রথম প্রস্তাব আসে সব ভাষাতে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার। তবে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলা’ নামটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

    তিনটি ভাষায় তিনটি নাম

    ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ফের তৎপরতা বাড়ে। সেবছর ২ অগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া প্রস্তাবে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ – এই তিনটি নাম রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু বামেদের আপত্তি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সেই চেষ্টা বাতিল হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, তিনটি নয়, রাজ্যের নাম হতে হবে একটিই। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় নতুন করে প্রস্তাব পাস করিয়ে কেবল ‘বাংলা’ নামটি চূড়ান্ত করে কেন্দ্রকে পাঠানো হয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সাযুজ্যের কারণে এই নামে অনেকে আপত্তি জানালেও বিধানসভায় এ বার সর্বসম্মতিতেই গৃহীত হয় প্রস্তাব। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করলেও বিষয়টি এগোয়নি।

    রাজ্যের নাম বদলের প্রক্রিয়া

    কোনও রাজ্যের নাম বদলের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ আছে । প্রথমত, নাম বদল সংক্রান্ত বিল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভায় পাশ করিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠাতে হয় । সেখান থেকে বিল যায় রাষ্ট্রপতির কাছে । বিল নিয়ে চর্চার পর তিনি যদি মনে করেন কোনও অংশ স্পষ্ট নয় বা তাঁর যদি অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকে তবে সে ব্যাপারে তিনি ওই রাজ্যের বিধানসভার কাছে জানতে চাইতে পারেন । উত্তরে সন্তুষ্ট হলে রাষ্ট্রপতির থেকে বিল যাবে সংসদে । লোকসভা বা রাজ্য়সভায় বিল পেশ করে সেটিকে পাশ করাতে হবে । এরপর শেষ ধাপ । সংসদ থেকে বিল যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে । তিনি চূড়ান্ত মান্যতা দিলে তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নাম পাল্টে যাবে ।

    কেন নাম পশ্চিমবঙ্গ

    ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম “পশ্চিমবঙ্গ” রাখার মূল কারণ হলো ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক দেশভাগ এবং অবিভক্ত বাংলার ভৌগোলিক বিভাজন। বাংলা একটি একক ও বৃহৎ অঞ্চল ছিল, যার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলা প্রদেশটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। পূর্ববঙ্গ (যা পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ হয়)। অন্যদিকে, বাংলার পশ্চিম দিকের অংশটি ভারতের সঙ্গে থেকে যায়। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। অর্থাৎ, এটি ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হলেও মূলত ঐতিহাসিক ‘বঙ্গ’ ভূমির সাপেক্ষে পশ্চিম অংশ বোঝাতেই এই নাম ব্যবহৃত হয়।

    ভারতীয় সংবিধানে নাম বদল নিয়ে সমস্যা

    ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের নাম বদলাতে হলে বিধানসভার পাস হওয়া প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রেল, ডাক বিভাগ ও গোয়েন্দা দফতরের অনুমোদন শেষে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে পেশ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই তা আইনি রূপ পায়। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সংসদে নাম বদল সংক্রান্ত কোনও বিল পেশ হয়নি। রাজ্যের পাল্টে যাওয়া প্রেক্ষাপটে আড়াই দশক পরে নামবদলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত আকার নেয় কি না, সেটাই এবার দেখার।

     

     

     

     

  • Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও নিবিড় করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে দলের নেতা-কর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে দলের সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বকে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে একাধিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে দলীয় সংগঠনকে। পাশাপাশি, সংগঠনের (BJP) অন্দরে দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নিতিন নবীনকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মা কালীর মূর্তি উপহার দেন। সেখান থেকে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে পৌঁছে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনেন তিনি। এরপর দিনভর দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা (Nitin Nabin)

    রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও সমান্তরালভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়েও দলের অন্দরে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন নিতিন নবীন।

    দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সংগঠনকে উপেক্ষা করা চলবে না। ক্ষমতায় আসার পর যাঁরা সংগঠনের গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছেন, তাঁদের আচরণও মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দলে নতুন যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজকর্মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। শুভেন্দু সরকারের গত কয়েক মাসের উন্নয়নমূলক কাজ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর বার্তা, সরকার ও সংগঠনকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘উন্নত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে লক্ষ্য বিজেপি নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংগঠনের প্রত্যেক স্তরকে সক্রিয় হতে হবে (Nitin Nabin)।

    সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এবং আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন নিতিন নবীন। সম্প্রতি রাজ্য ও জেলাস্তরে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। কাউকে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা যাতে না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে নেতাদের।

    আসন্ন দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরশুমে জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তবে কোনও পুজো কমিটির নেতৃত্ব বা পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব জোর করে নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে তবেই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (Nitin Nabin)।

    জনসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ

    বৈঠকে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়মিত নিজেদের কার্যালয়ে সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। প্রতিদিন কত মানুষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, কী কী সমস্যা জানাচ্ছেন এবং সেগুলির সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব রাখতে বলা হয়েছে।

    নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে কেউ যাতে সেই পরিচয়কে অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভাভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে (BJP)।

    ‘মন কি বাত‘ শুনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরলেন নবীন

    এদিন নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৮তম পর্ব শোনেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

    নবীন তাঁর বার্তায় ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সেনার বীরত্বের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রকৃতি সংরক্ষণ, যুবসমাজকে নেশামুক্ত করার সংকল্প এবং জনগণনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ও তুলে ধরেন।

    তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের উদ্যোগ, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার কাহিনি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ‘মন কি বাত’। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে (Nitin Nabin)।

    সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই লক্ষ্য

    পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে নিতিন নবীনের বৈঠকগুলিতে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, সরকারের কাজের প্রচার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। দলের রাজ্য পদাধিকারী, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

    দলীয় নেতৃত্বের কাছে (BJP) নবীনের বার্তা, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মসূচির সমন্বয় ঘটিয়ে তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (Nitin Nabin)।

     

  • Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা থেকে কোনও যোগ্য মহিলা বঞ্চিত হবেন না। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই দাবি করেন তিনি। তিনি সরকারের প্রতিনিধি নন জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এও বলেন, ‘‘মানুষের অভিযোগ, দুঃখ কষ্টের কথার পাশাপাশি আমাদের দলের সংকল্পপত্রের কথা সরকারকে স্মরণ করানো আমার দায়িত্ব। ভরসা রাখুন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় ৫০ লক্ষ আরও মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি। সকলেই টাকা পাবেন।’’

    কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প পর্যালোচনার পর নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। যোগ্য উপভোক্তাদের বাছাই করতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয় এবং অনলাইন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার পরই উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কথা। তবে টাকা পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় যখন বিক্ষোভ চলছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য মহিলাদের টাকা পেতে দেরি হওয়ার জন্য তিনি ‘সিস্টেমের সমস্যা’র পাশাপাশি কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সিস্টেমে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এবং সমস্যা রয়েছে। কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’

    তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা

    এদিন শমীক ভট্টাচার্য আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছিল। এমনকি পুরুষেরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গ পদ্ম সেনাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন আরও পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এটা কাঙ্খিত নয়। দুর্গাপুজোর মধ্যেই সমস্ত যোগ্য মহিলারাই তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে যাবেন।’’

    কারা পাবেন অন্নপূ্র্ণার টাকা

    যাঁরা ইনকাম ট্যাক্স দেন না, সরকারি কর্মচারী নন, যাঁদের সরকারের থেকে অন্য কোনও রোজগার নেই, এই ধরনের একজন মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে থাকবেন না বলেও বার্তা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘সরকার কাউকে বঞ্চিত করবে না। এই সরকার সকলের সরকার। বিভাজনের সরকার নয়। বাংলার প্রকৃত যোগ্য মহিলারা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা করে পাবেন।’’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সংখ্যাই আরও বাড়তে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক।

    ফের খুলেছে অন্নপূর্ণা পোর্টালও

    অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় বহু মহিলা যেমন সরকারকে ধন্যবাদও জানাচ্ছে, তেমনই কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসন্তোষ। এই আবহে রাজ্য বিজেপি সভাপতির আশ্বাসে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনার স্ট্যাটাস (Annapurna Yojana Status) নিয়ে নানা জায়াগায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভ্রম দূর করতে ২০ অগাস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল (Social Registry Portal) ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। আবারও দেখা যাচ্ছে স্ট্যাটাস। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নামের পাশে কারণ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণ দেখে আবার ক্লেইম ও অবজেকশন করতে পারবেন। কিন্তু, স্ট্যাটাস চেক (Annapurna Yojana Status Check) করতে গিয়ে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন ‘আন্ডার প্রসেস’ (Under Process)।

    ‘আন্ডার প্রসেস’-এর পরে অ্যাপ্রুভড

    মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে,বিজেপির তরফে একটি অন্নপূর্ণা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের আন্ডার প্রসেস দেখাচ্ছে, তাঁদের কিছুই করতে হবে না। অর্থাৎ তাঁদের নতুন করে কোথাও কোনও আবেদন করতে হবে না। যাঁদের ফার্দার ভেরিফিকেশন, রিজেক্টেড মে বি ফার্দার ভেরিফিকেশন ইত্যাদি দেখাচ্ছে, কেবলমাত্র তাঁরা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে গিয়ে ক্লেম করবেন। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগস্ট মাসে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু, দেখা গিয়েছে ২০ আগস্টের পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। মূলত, যাঁদের স্ট্যাটাস আন্ডার প্রসেস রয়েছে, তাঁদের আবেদন অ্যাপ্রুভড হচ্ছে। তারপরই ঢুকছে তিন হাজার টাকা। এই প্রক্রিয়া গোটা আগস্ট মাসজুড়ে চলতে পারে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্যরা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন।

  • Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর কাণ্ডে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তের আশঙ্কা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অশান্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও যাদবপুরের আঁচ দেখা যায়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। এই আবহে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সরাসরি বিজেপির কোনও ছাত্র সংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি কলেজে চলা গন্ডগোল এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক লোগো বা শতদল প্রতীক ভেঙে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, এবিভিপি-র মূল লক্ষ্য, আদর্শের সঙ্গে লোগো ভাঙচুরের মতো ঘটনা কখনওই মেলে না। এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি। এছাড়া, যাদবপুরের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিজেপির এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা সাফাই দেন। তিনি জানান, গেটের বাইরে বা সংলগ্ন এলাকায় কোনও গন্ডগোল বা পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। কোচবিহার হোক কিংবা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত—জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনে যেতেই পারেন।

    জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হবে

    সাংবাদিকদের সামনে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে শমীকবাবু বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একমাত্র কাজ হল প্রতি পদে কেবল বিরোধিতা করে যাওয়া। এ রাজ্যেও ঠিক একই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, শিক্ষানীতি নিয়ে অতীতে বহু বুদ্ধিজীবী ও পন্ডিত মানুষ নানা সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘গৈরিকীকরণ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই সমস্ত বিতর্ক এবং অপপ্রচারকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের সরকারে জায়গা করে দিয়েছে। তাই রাজ্যে এই নীতি রূপায়ণের ক্ষেত্রে আর নতুন করে বলার কিছু নেই বলেই তাঁর মত। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি অবশ্যই লাগু হবে এবং এই নিয়ে বিরোধীরা যে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে।

  • Suvendu Adhikari: শিল্প ফেরাতে মাস্টারপ্ল্যান! বন্ধ কারখানার জমি ফিরিয়ে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’, সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাবের প্রস্তাব

    Suvendu Adhikari: শিল্প ফেরাতে মাস্টারপ্ল্যান! বন্ধ কারখানার জমি ফিরিয়ে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’, সিঙ্গুরে কেমিক্যাল হাবের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাতে জমির অভাব বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা শিল্প কারখানার জমি চিহ্নিত করে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে নতুন আইন এনে সেই জমি পুনরুদ্ধার করে শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এমন সময় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) কেন্দ্রের ‘ভব্য রসায়ন’ (BHAVYA Rasayan) প্রকল্পের আওতায় বাংলায় একটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ার আবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সিঙ্গুর-সহ চারটি সম্ভাব্য জায়গারও প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি প্রস্তুত রাখার সরকারি উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীকের

    কেন্দ্র সরকারের নতুন ‘ভব্য রসায়ন’ (BHAVYA Rasayan) প্রকল্পের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার আর্জি জানালেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) লেখা একটি চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, এই প্রকল্প বাংলার শিল্পায়নের জন্য একটি বিরল সুযোগ। অন্য রাজ্যগুলি আবেদন করার আগেই দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত বলেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

    কেন্দ্রের ৩,০৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে বাংলার সুযোগ

    গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক ‘চ্যালেঞ্জ রুট’-এর মাধ্যমে তিনটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র সর্বোচ্চ ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে। গোটা প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,০৩০ কোটি টাকা। শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্প?

    চিঠিতে সাংসদ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে রাজ্য নির্বাচিত হলে শুধু কেন্দ্রীয় অনুদানই নয়, ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাংলায় আসতে পারে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধাগুলি হল-

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১,৫০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো গড়ে উঠবে
    • ● কেমিক্যাল, নির্মাণ, লজিস্টিক্স এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-এ বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে
    • ● বস্ত্র, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং কৃষি-সহ একাধিক শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবে
    • ● আধুনিক কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (CETP) এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে

    সিঙ্গুর-সহ চারটি জায়গার প্রস্তাব

    কেমিক্যাল পার্ক তৈরির জন্য রাজ্যের চারটি সম্ভাব্য স্থানের নামও উল্লেখ করেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। সেগুলি হল- সিঙ্গুর, হলদিয়া, রঘুনাথপুর ও দুর্গাপুর। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি জমি নিয়ে কোনও বিতর্ক না থাকে, তাহলে সিঙ্গুর একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার চাইলে পরিকাঠামো ও সুবিধা বিচার করে অন্য কোনও বিতর্কমুক্ত জমিও নির্বাচন করতে পারে।

    প্রকল্পের জন্য কী কী শর্ত মানতে হবে?

    চিঠিতে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলিও তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- অন্তত ২,০০০ একর নিরবচ্ছিন্ন জমি চিহ্নিত করতে হবে। রাজ্য সরকারকে ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক অংশীদারিত্ব দিতে হবে। জমির মালিকানা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

    রাজ্যকে চারটি পরামর্শ

    প্রকল্পে সফল হতে রাজ্য সরকারের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপেরও পরামর্শ দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

    • ● শিল্প দফতর ও WBIDC-কে নিয়ে দ্রুত একটি আন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করে আবেদনপত্র প্রস্তুত করা
    • ● ২,০০০ একর বিতর্কমুক্ত জমি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা
    • ● আগামী রাজ্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা রাখা
    • ● কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও পেট্রোরসায়ন মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও জোর দিতে চায় রাজ্য

    চিঠিতে কেমিক্যাল পার্কের পাশাপাশি শিল্পায়নের বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্র যেমন কেমিক্যাল পার্ক গড়ার পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় বিনিয়োগ টানতে উৎসাহ দিচ্ছে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari) এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগের জন্য টাটা গোষ্ঠীকে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ে সহযোগিতার আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি এই প্রকল্পে এগিয়ে আসে, তাহলে কেন্দ্রীয় স্তরে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাঁর লেখা চিঠির অনুলিপি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta), শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Ray) এবং শিল্প সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

    বন্ধ শিল্প জমি ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত একটি শিল্প-সভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) জানান, ‘‘বহু শিল্প সংস্থার হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি বছরের পর বছর ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই জমিগুলিকে পুনরুদ্ধার করে নতুন শিল্প স্থাপনের কাজে লাগাতে চায় সরকার। প্রয়োজন হলে নতুন আইন আনার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় শিল্প কারখানার দখলে থাকা জমি পুনরুদ্ধার করে নতুন শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে।’’

    তৈরি হচ্ছে রাজ্যের ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’

    শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবার গোটা রাজ্যজুড়ে অব্যবহৃত শিল্প জমির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু কলকাতার আশেপাশে নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পড়ে থাকা শিল্প জমিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, এই জমিগুলিকে একত্রিত করে একটি ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ তৈরি করা, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্রুত শিল্প স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমি দেওয়া যায়।

    বিনিয়োগ না হলে ফিরিয়ে দিতে হবে জমি

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিল্পের জন্য বরাদ্দ হলেও বহু জমিতে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকল্প শুরু হয়নি। তাই প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থা বা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য বলা হবে। যদি কোনও সংস্থা শিল্প গড়তে আগ্রহ না দেখায়, তাহলে তাদের সেই জমি সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের।

    দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানাই লক্ষ্য

    রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী নয়, বিদেশি বিনিয়োগও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা। সেই কারণে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা, দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘদিন অচল থাকা জমিকে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, শিল্পায়নের পথে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে আনতে পারলে আগামী দিনে বড় শিল্প, কেমিক্যাল পার্ক, সেমিকন্ডাক্টর, উৎপাদন শিল্প এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।

    শিল্পায়নে একের পর এক পদক্ষেপ

    নবগঠিত বিজেপি সরকারের বয়স এখনও মাত্র ১২ সপ্তাহ। তার মধ্যেই শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রের ভব্য রসায়ন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি নিশ্চিত করতে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির উদ্যোগও শুরু হয়েছে। সরকারের আশা, এই দুই পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে বড় শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে।

  • BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পপতিদের ফের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে নতুন করে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মুম্বইয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    কী বললেন শমীক? (BJP)

    শমীক জানান, গত চার দশকে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে যাঁরা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন শিল্পনীতি ও নতুন জমিনীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। যাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বাংলার নাড়ির যোগ রয়েছে, তাঁরা আবার বাংলায় ফিরে আসতে আগ্রহী। আমি সরকার নই, আমি দলের প্রতিনিধি। আমি তাঁদের জানিয়েছি, সরকার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্পায়নের সুফল দেখতে পাবেন।’’

    শিল্পপতিদের আশ্বাস শমীকের

    মুম্বই সফরে বস্ত্র, ইস্পাত, কাচ, অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ-সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একাধিক নয়া উদ্যোগের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন তিনি। তাঁদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, শিল্পপতিদের আর কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হবে না। সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা বিনিয়োগের বিষয়ে এগোতে পারবেন। তাঁর কথায়, ‘‘মুম্বইয়ের শিল্পপতিদের বলেছি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্প গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাঁরা সেই পরিবর্তন অনুভব করবেন।’’ তিনি এও (BJP) বলেন, ‘‘শুধু শিল্পের কথা বললেই শিল্পায়ন হয় না। শিল্প গড়ে তুলতে সুস্পষ্ট শিল্পনীতির প্রয়োজন। আমাদের সরকার সেই নীতির ওপর কাজ করছে।’’

    শিল্পায়ন নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিল্পায়নকে রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা সম্মেলন কেন্দ্রে নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর তিনি জানান, রাজ্যে একটি হোসিয়ারি কারখানা এবং একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে (Samik Bhattacharya)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’হাজার একশো কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে একটি শিল্প সম্মেলনের আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন

    মুম্বই সফর প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক লেখেন, ‘‘মুম্বইয়ের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’’ তিনি (Samik Bhattacharya) আরও লেখেন, ‘‘শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার, শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতাই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি (BJP)।’’

     

LinkedIn
Share