মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফা ভোট গ্রহণের আগে নির্বাচন কমিশনের (Assembly Election 2026) কড়া নির্দেশে বাংলার জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলো কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুর থেকে পর্যটকদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই এই সাবধানতা। অতীতে দেখা গিয়েছে, অনেক সময় পর্যটকের ছদ্মবেশে রাজনৈতিক আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সীমান্তবর্তী বা উপকূলীয় এলাকার হোটেলগুলোতে গা ঢাকা দেয় এবং ভোটের দিন গোলমাল পাকায়। সেই সম্ভাবনাকে সমূলে বিনাশ করতেই কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
দীঘা-মন্দারমণি ছাড়ার নির্দেশ
মঙ্গলবার সকাল থেকেই দিঘা এবং মন্দারমণির সৈকত সরণিতে পর্যটকদের আনন্দের বদলে বিষণ্ণতা আর উৎকণ্ঠার ছায়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই স্পর্শকাতর সময়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে নির্বাচনে কোনও প্রকার প্রভাব বিস্তার বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশন (ECI) এক কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর এবং উদয়পুর পর্যটন কেন্দ্রে কোনও বহিরাগত বা ভিন জেলার বাসিন্দা হোটেলে থাকতে পারবেন না। যারা আগে থেকেই এসে পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে হোটেল ছেড়ে নিজের গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার খাতিরেই এই ‘লকডাউন’
মূলত পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে এই পর্যটন ক্ষেত্রগুলো পড়ে। বৃহস্পতিবার এই জেলাসহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। নিরাপত্তার খাতিরেই কমিশন এই ‘লকডাউন’ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সোমবার রাত থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিঘার প্রতিটি হোটেল ও লজে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপকূলবর্তী এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর কোনও পর্যটক হোটেলে থাকলে হোটেল মালিক এবং পর্যটক উভয়ের বিরুদ্ধেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ সালের ২২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটক এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা। চৈত্র-বৈশাখ মাসের গরমে যখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকার কথা, তখন সমুদ্র সৈকতগুলো এখন কার্যত জনশূন্য।
