Tag: Shantanu Sinha Biswas

  • Shantanu Sinha Biswas: প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ সুবিধা নয়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ ওয়ার্ডেই প্রাক্তন ডিসি শান্তনু!

    Shantanu Sinha Biswas: প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ সুবিধা নয়, অন্য বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ ওয়ার্ডেই প্রাক্তন ডিসি শান্তনু!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে কোনও বিশেষ সুবিধা বা পৃথক বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের মতোই জেলের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

    আদালতে ‘লাইফ থ্রেট’-এর দাবি শান্তনুর

    বৃহস্পতিবার ইডি হেফাজত শেষে শান্তনুকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। শুনানির সময় শান্তনুর আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বহু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলেই রয়েছেন। আদালতে শান্তনুর আইনজীবী বলেন, “আমার মক্কেলের লাইফ থ্রেট রয়েছে। তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করেছেন। বর্তমানে জেলে থাকা কিছু অভিযুক্ত তাঁর তদন্তের জেরেই গ্রেফতার হয়েছিল। ফলে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে রাখলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।” এই কারণে তাঁকে ‘গ্রেড ওয়ান’ বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দিয়ে পৃথক সেলে রাখার আবেদন জানানো হয়। আইনজীবীরা দাবি করেন, জেলবিধি মেনেই এই আবেদন করা হয়েছে।

    প্রবল বিরোধিতা ইডির

    তবে ইডির আইনজীবীরা সেই আবেদনের বিরোধিতা করেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কোন ভিত্তিতে শান্তনুকে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইডির আইনজীবী আদালতে বলেন, “জেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট থেকেই বোঝা উচিত আদৌ এমন কোনও পরিস্থিতি রয়েছে কি না।” শুনানির পর আদালত শান্তনুকে আগামী ১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। যদিও প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার আবেদন খারিজ করা হয়নি, তবে সেই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশও দেয়নি। ফলে আপাতত সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

    প্রেসিডেন্সি জেলে কীভাবে রাখা হয়েছে শান্তনুকে

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পৌঁছনোর পর প্রথমে শান্তনুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর নিয়ম মেনে তাঁর নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাঁকে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে পাঠানো হয়, যেখানে অন্য বন্দিরাও রয়েছেন। সংশোধনাগার সূত্রে দাবি, তাঁর জন্য কোনও আলাদা কক্ষ, বিশেষ খাবার বা অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়নি। জেলের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্য বন্দিদের মতোই তাঁকেও খাবার গ্রহণ, বিশ্রাম এবং অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।

    কোনও বিশেষ সুবিধা নয়…

    জেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুরুতে কিছুটা মানসিক চাপে ছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। দীর্ঘদিন পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কারণে সংশোধনাগারের পরিবেশ তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। যদিও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে খবর। একইসঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখছে জেল কর্তৃপক্ষ। তবে সংশোধনাগার প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও বন্দিকেই অযথা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় না এবং এই ক্ষেত্রেও সেই নীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।

    কী এই ‘সোনা পাপ্পু’ মামলা?

    উল্লেখ্য, গত ১৪ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর কলকাতা পুলিশও তাঁর বর্ধিত দায়িত্বের মেয়াদ বাতিল করে। ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় আর্থিক তছরুপ এবং তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের সূত্রে ১৯ এপ্রিল শান্তনুর বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বাড়িতে অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। জানা যায়, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় সেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ইডির একাধিক তলব এড়িয়ে যাওয়ায় শান্তনুর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। অবশেষে ১৪ মে তিনি ইডি দফতরে হাজির হন। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সেই রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    তোলাবাজি ও বিদেশে সম্পত্তির অভিযোগ

    তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ‘সোনা পাপ্পু’র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শান্তনু। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এছাড়াও তদন্তকারীদের সন্দেহ, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুবাইয়ে সম্পত্তি থাকতে পারে। সেই সম্পত্তির উৎস, বিদেশে অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

    প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা

    একসময় কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে থাকার ঘটনা প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং ইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

  • Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোনা পাপ্পু মামলার তদন্তে আরও সক্রিয় হল ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবা, চক্রবেড়িয়া এবং রয়েড স্ট্রিট-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। নিউটাউনের CRPF ক্যাম্প থেকেও অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি

    শুক্রবার সকাল থেকে পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ প্লেস এবং ভবানীপুর-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায় ইডির একাধিক দল। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় আশু বিশ্বাস রোডে প্রোমোটার অতুল কাঠারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। ইডি সূত্রে দাবি, অতুল কাঠারিয়ার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর আর্থিক যোগাযোগ ছিল এবং মামলার কালো টাকা তাঁর মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, কসবার বালিগঞ্জ প্লেসের একটি বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডির আরেকটি দল। সেখানে কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগসূত্র ছিল কি না। পাশাপাশি, মধ্য কলকাতার ৪ রয়েড স্ট্রিটে ‘The Corporate’ নামে একটি ক্যাফেটেরিয়া-কাম-হোটেলেও হানা দেয় ইডি। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তল্লাশি শুরু হয় এবং হোটেলের মালিককে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    কেন এই অভিযান?

    সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত করছে ইডি। সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার তথ্য। পাশাপাশি, সেই টাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই অর্থ বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগও করা হয়েছিল। এই সমস্ত তথ্যের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে নতুন করে তল্লাশি অভিযান। উল্লেখ্য, গত ১৮ মে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং গুণ্ডাগিরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁকে খুঁজছিল তদন্তকারীরা। একাধিকবার তলব করা হলেও দীর্ঘদিন অধরা ছিলেন তিনি। পরে নিজেই ইডি দফতরে হাজির হলে প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা

    কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈত্রিক বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই বাড়িতে বর্তমানে থাকেন তাঁর বোন তথা কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তবে বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে সমস্যার মুখে পড়েন তদন্তকারীরা। সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সঙ্গে সঙ্গে ঢোকা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হয় তল্লাশি। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সোনা পাপ্পু মামলার জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, কলকাতা ও কান্দিতে একযোগে চলা এই তল্লাশির পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

  • Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার বহুল চর্চিত ব্যবসায়ী (প্রকারম্তরে সমাজবিরোধী) তথা ‘কসবার ত্রাস’ বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু অবশেষে গ্রেফতার হলেন। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর্থিক প্রতারণা, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং হাওয়ালা লেনদেন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল বহুদিন ধরেই।

    কাঁকুলিয়ার বোমাবাজি ঘটনায় উঠে আসে নাম

    ভোটের আগেই নানা বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল কসবার এই ব্যবসায়ীর। বিশেষ করে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া এলাকা এবং রবীন্দ্র সরোবর থানা সংলগ্ন এলাকায় বোমাবাজি, গুলি চালানো, ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই অশান্তির নেপথ্যে ছিলেন সোনা পাপ্পু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা। যদিও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁকে খুঁজে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, তিনি ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যেই দু’বার ফেসবুক লাইভে এসে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি পলাতক নন এবং কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত থেমে থাকেনি।

    হঠাৎ ইডি দফতরে হাজিরা, সঙ্গে স্ত্রী

    সোমবার সকালে আচমকাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের ইডি অফিসে পৌঁছে যান সোনা পাপ্পু। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তিনি কোনও নতুন নোটিস ছাড়াই নিজে থেকে হাজিরা দেন বলে জানা গিয়েছে। অতীতে একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ইডি সূত্রের দাবি, হাজিরা দেওয়ার পর তদন্তকারীরা তাঁকে জমি দখল, আর্থিক লেনদেন, নগদ টাকার উৎস, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তদন্তে অসহযোগিতা, অসংলগ্ন উত্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    বাড়িতে তল্লাশি: নগদ, অস্ত্র, গয়না উদ্ধার

    এর আগেই সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না, সম্পত্তির নথি এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অস্ত্রটি ব্যবসায়ী জয় কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। পরে অস্ত্রটি গড়িয়াহাট থানায় জমা করা হয়। শুধু নগদ বা অস্ত্র নয়, উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থা ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হত এবং সেই অর্থ একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যেত।

    জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যোগ

    এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন বেহালার ব্যবসায়ী তথা সান কনস্ট্রাকশন-এক মালিক জয় কামদার। প্রোমোটার জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তদন্তে উঠে আসে, সোনা পাপ্পু, জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, জমি দখল এবং আর্থিক লেনদেনে এই চক্র সক্রিয় ছিল। গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পরে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। যদিও সিজিও-তে হাজিরা দিয়ে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে চেনেন না এবং কোনওদিন দেখেননি। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, ফোন রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণে তাঁদের যোগসূত্র মিলেছে।

    তদন্তে হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও

    ইডি সূত্রে খবর, মামলার তদন্তে হাওয়ালা চক্রের যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনা পাপ্পুর আর্থিক নেটওয়ার্ক কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, নির্মাণ সংস্থা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী মহলের মতে, এই গ্রেফতার শুধু একজন ব্যবসায়ীর গ্রেফতার নয়—কলকাতার রিয়েল এস্টেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের একটি বড় নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁসের সূচনা হতে পারে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য

    ভোটপর্ব শেষ হতেই সোনা পাপ্পুর গ্রেফতার রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অধরা থাকার পর তাঁর আচমকা হাজিরা এবং তারপর গ্রেফতার—এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সোনা পাপ্পুর জেরা থেকে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই মামলায় নতুন গ্রেফতার বা আরও তল্লাশির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন আদালতে পেশ করে সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে ইডি। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ার পূর্ণ ছবি সামনে আনা।

  • Shantanu Sinha Biswas: বারবার তলব এড়িয়ে শেষমেশ ইডি দফতরে হাজির কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

    Shantanu Sinha Biswas: বারবার তলব এড়িয়ে শেষমেশ ইডি দফতরে হাজির কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডির দফতরে অবশেষে হাজির হলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DCP) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির অফিসে পৌঁছন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই আইনজীবী। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলায় তাঁকে তলব করলেও হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।

    লুকআউট নোটিস জারি করেছিল ইডি…

    বুধবারই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের খোঁজ পেতে নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এর পরেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ইডি দফতরে হাজিরা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়। উল্লেখ্য, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুকে এর আগে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। গত ২৮ এপ্রিলও তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি বলে সূত্রের খবর। বারবার তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করে। যাতে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, সীমান্তবর্তী বিএসএফ আউটপোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।

    একাধিক অভিযোগ বিদ্ধ কলকাতা পুলিশের ডিসি…

    শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি একাধিক মামলাকে ঘিরে বিস্তৃত। দক্ষিণ কলকাতার গ্যাংস্টার ‘সোনা পাপ্পু’-র বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর নাম উঠে আসে বলে ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও এনআরআই কোটায় ভর্তি দুর্নীতি মামলাতেও তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি বালি পাচার মামলাতেও তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তলব করা হয়। অন্যদিকে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বেহালার নির্মাণ ব্যবসায়ী তথা সান কনস্ট্রাকশনের মালিক জয় কামদার গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে নতুন তথ্য হাতে আসে বলে দাবি ইডির। সেই সূত্র ধরেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার চেষ্টা আরও জোরদার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ইডির দফতরে হাজিরা দিলেন কলকাতা পুলিশের এই শীর্ষ কর্তা। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারী মহলের।

  • DCP Shantanu Sinha Biswas: এবার বালি পাচার মামলায় ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব ইডির, কিন্তু কোথায় তিনি?

    DCP Shantanu Sinha Biswas: এবার বালি পাচার মামলায় ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব ইডির, কিন্তু কোথায় তিনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দুর্নীতির তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আগেই তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার বালি পাচার মামলাতেও কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তবে গত রবিবার ফার্ন রোডে তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশির পর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফা ভোটের দিন বুধবার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। একই মামলায় ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকেও তলব করা হয়েছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের সূত্রে তলব!

    সাম্প্রতিক সময়ে বালি পাচার কাণ্ডে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েছে ইডি। যদিও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সুনীল আগরওয়ালকে ঠিক কোন মামলায় ও কী প্রেক্ষিতে তলব করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে ইডি জানিয়েছে, তদন্তে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের সূত্র পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, জয় কামদার শান্তনুকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসের একটি ছবি মুছে ফেলতে বলেন। প্রথমে মেসেজ পাঠিয়ে ‘ডিলিট’ করার অনুরোধ, পরে তাঁকে দু’বার হোয়াটসঅ্যাপ কলও করেন কামদার।

    প্রোমোটার জয় কামদারকে জমি পাইয়ে দিতেন শান্তনু!

    কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, ধৃত জয় কামদারের সঙ্গে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন স্তরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই তালিকায় রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার শান্তনুও। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে প্রোমোটার জয় কামদারকে জমি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতেন তিনি। এমনকি কামদারের কাছ থেকে একটি বেআইনি নির্মাণও নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে ২০১১ সাল থেকে মামলা চলছে। ইডির মতে, জয় কামদারদের মূল লক্ষ্য ছিল তিন ধরনের জমি— যৌথ মালিকানাধীন জমি, ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত জটিলতায় জড়ানো জমি এবং যেসব জমির মালিক রাজ্যের বাইরে থাকেন। এই সংক্রান্ত অভিযোগ আগেও কালীঘাট, ফুলবাগান, রবীন্দ্র সরোবর ও উল্টোডাঙা থানায় দায়ের হয়েছিল।

    ২ ছেলেরও যোগ!

    এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, শান্তনুর দুই পুত্র সায়ন্তন ও মনীশের সঙ্গেও জয় কামদারের যোগাযোগ ছিল। অভিযুক্তের ডায়েরি থেকে পুলিশ আধিকারিকদের দেওয়া বিভিন্ন উপহারের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যেখানে ‘শান্তনু স্যার’-এর নামও রয়েছে। ফার্ন রোডের ৫এ নম্বর প্লটে জয় একটি বেআইনি নির্মাণ করছিলেন বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ইডি জানিয়েছে, ‘সান পাওয়ার রিয়েলটি এলএলপি’ নামের একটি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সংস্থার মাধ্যমেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুই পুত্রের নামে দুটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। যার মূল্য যথাক্রমে ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৫ টাকা এবং ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৬১ টাকা।

    ‘নিখোঁজ’ শান্তনু সিনহা!

    এদিকে, রবিবার থেকে কার্যত ‘নিখোঁজ’ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ওই দিন ভোরে বালিগঞ্জে তাঁর বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালালেও তাঁকে খুঁজে পায়নি তদন্তকারীরা। যদিও তল্লাশির সময় তাঁর পুত্র দাবি করেছিলেন, তিনি বাড়িতেই রয়েছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিন্তু ইডি সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। সোমবার তাঁকে ও তাঁর দুই পুত্রকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলেও কেউই হাজির হননি। প্রভাবশালী পুলিশ কর্তার এই আকস্মিক অন্তর্ধান ও তলব এড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে— তবে কি সত্যিই গা ঢাকা দিয়েছেন কলকাতা পুলিশের এই ডেপুটি কমিশনার?

LinkedIn
Share