Tag: Sharodotsav

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বড় পরিসর। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। তাদের নথিতে দুর্গাপুজোকে ধর্ম, শিল্প, কারুশিল্প ও সমবেত সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    তবে গত এক দশকে দুর্গাপুজোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় পুজোমণ্ডপ বা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে উৎসবের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শারদোৎসব না দুর্গাপুজো? (Durga Puja)

    ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যে সব বামপন্থী বইয়ের স্টলে “দুর্গাপুজো”র পরিবর্তে “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহার করা হবে, সেই স্টলকে পুজো কমিটিগুলির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎসবের ধর্মীয় চরিত্রকে খাটো করা হচ্ছে।

    সিপিআই(এম)-এর তরফে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির সঙ্গে যুক্ত বইয়ের স্টলগুলির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে এই ধরনের প্রথম বামপন্থী-সংযুক্ত বইয়ের স্টল বসেছিল। সেখানে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সাহিত্য ও অন্যান্য বই বিক্রি করা হয়েছিল।

    সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “গণতন্ত্র মানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবনার সহাবস্থান।” দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের বইয়ের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ব্যক্তিত্বের উপর বইও থাকে।

    ফলে বিতর্কটি কেবল একটি শব্দ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুর্গাপুজোকে প্রধানত ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখা হবে, নাকি ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও তার পরিচয় থাকবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মতপার্থক্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

    হাওড়ার শ্যামপুরে অশান্তি

    অক্টোবর ২০২৪-এ হাওড়ার শ্যামপুরে একটি ছবি নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি পরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে গড়ায়। পুলিশের তরফে ৬৭ জনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একই ঘটনায় পুজো কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

    গার্ডেনরিচের পুজোমণ্ডপে উত্তেজনা

    ১১ অক্টোবর কলকাতার গার্ডেনরিচের নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপে একদল যুবকের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার চলাকালীন বাজানো শব্দ নিয়ে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ, ৫০-৬০ জন সেখানে এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করে তদন্ত শুরু করে।

    তবে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য আলাদা। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের নমাজের সময়ে পুজোর শব্দ নিয়ে আপত্তি থেকে বচসার সূত্রপাত এবং পরে স্থানীয় প্রবীণদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি (Durga Puja) নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বিসর্জনকে ঘিরে সংঘর্ষ

    নরকেলডাঙায় কালীপুজোর বিসর্জনের সময় সংঘর্ষ, পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ঘটনাটির সূত্রপাত একটি মোটরবাইক পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে এবং নির্দিষ্ট কোনও বিসর্জন মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরে নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারও রাজ্যপালের কাছে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

    আরজি কর আন্দোলন এবং পুজোর সময় পুলিশের পদক্ষেপ

    ২০২৪ সালের পুজোর সময় আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদও দুর্গাপুজোর পরিসরে এসে পড়ে। ৯ অক্টোবর জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচিকে কলকাতা পুলিশ আটকে দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকদের উত্তেজনা তৈরি হয়।

    ১৫ অক্টোবর সরকারি দুর্গাপুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তপোব্রত রায়কে প্রতিবাদী ব্যাজ পরার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তে কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাজে লেখা বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে করে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল।

    বস্তুত, আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদ, প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত এবং উৎসবের সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    ১১২ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে বিতর্ক

    নদিয়ার রানাঘাটে ২০২৪ সালে ১১২ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা স্থাপনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আয়োজকদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় পুজো বন্ধ রাখতে হয়। পরে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল। এখানে প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আয়োজকদের পুজো আয়োজনের অধিকার—দুই দিকই আলোচনায় আসে।

    সাংবাদিক গ্রেফতারির ঘটনায় বিতর্ক

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক অনন্য গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা অনন্যর গ্রেফতারির সমালোচনা করেন।

    ২০১৪-র বর্ধমান বিস্ফোরণ

    দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত কিছু প্রতিবেদনে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে ২ অক্টোবর ২০১৪ সালে; কিন্তু ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২৮ অগাস্ট ২০১৯ সালে। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। মামলাটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তদন্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল।

    অতএব, ঘটনাটিকে “২০১৪ সালের ২৮ আগস্টের মামলা” বলা সঠিক নয়; ২৮ আগস্ট ২০১৯ ছিল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ।

    দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ইউনেস্কোর নথিতে কলকাতার দুর্গাপুজোকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, শিল্পী, কারিগর, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, উৎসবের সময়ে শ্রেণি, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজন অনেকাংশে অতিক্রম করে মানুষ পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে অংশ নেয়।

    এই কারণেই পুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কিংবা মতপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ—প্রতিটি ঘটনাই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

    তবে ঘটনাগুলির প্রকৃতি এক নয়। কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ, কোথাও ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদ, কোথাও রাজনৈতিক আন্দোলন, আবার কোথাও প্রশাসনিক অনুমতি বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সব ঘটনাকে একই ধরনের “পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে দেখার আগে প্রত্যেকটির প্রেক্ষাপট, পুলিশের বক্তব্য, মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    সুমুখে যেসব প্রশ্ন

    ২০২৬ সালের বইয়ের স্টল-বিতর্ক এই পুরনো আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয়কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলি দীর্ঘদিনের বই বিক্রির ঐতিহ্য এবং মতাদর্শগত প্রকাশের অধিকারের কথা বলছে।

    একই সঙ্গে, দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) ইউনেস্কোর স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ—সবক’টিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো তাই একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক উৎসব, সামাজিক সমাবেশ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র। ২০২৬-এর পুজোর আগে বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখিয়ে দিল, উৎসবের পরিচয় ও জনপরিসরে তার অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও যথেষ্ট তীব্র। সামনে (West Bengal) প্রশাসন, পুজো কমিটি, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এই মতপার্থক্য সামলান, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে উৎসবের পরিবেশ।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’, স্টলে নাম বদলের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর ‘শারদোৎসব’ নয়, এবার থেকে ‘দুর্গাপুজো’ (Durga Puja) বলা ও লেখার উপরেই জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুজোর পরিবর্তে কোনও পুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে তা বাতিল করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুজোর নামকরণ নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দু বলেন, দুর্গাপুজোয় ‘পুজো’ শব্দটি এড়িয়ে তথাকথিত বামপন্থীরা যদি কোনও স্টল করেন এবং সেখানে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, তা বাতিল করা হবে। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্গাপুজোকে দুর্গাপুজোই বলতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকলে সেই স্টল বাতিল করা হবে।”

    বৈষম্য বরদাস্ত নয় (Suvendu Adhikari)

    এদিন বিধানসভায় নিজের বক্তব্যে বারবার দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। দুর্গাপুজোকে ‘সার্বজনীন উৎসব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।

    রাজনৈতিক বিক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেও একাধিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে নিশানা করা উচিত নয়।

    বিক্ষোভ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশই পালন করবে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিদের হাতে লাঠি নিয়ে রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়ার প্রয়োজন নেই।

    ‘হিংসা ছড়াবেন না’

    অতীতের কয়েকটি আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রসঙ্গও এদিনের বক্তব্যে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে হিংসা বা উত্তেজনা ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন (Suvendu Adhikari)।

    ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিশানা করার অভিযোগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেউ গেরুয়া পোশাক পরলে, মাথায় শিখা রাখলে কিংবা ধর্মীয় মালা পরলে তাঁকে আলাদা করে নিশানা করা যাবে না। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা অন্য যে কোনও ধর্মের মানুষকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বক্তব্যের শেষাংশে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন কমিটির (Durga Puja) উদ্দেশে পুজোর আয়োজন এবং সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share