মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও বিপাকে অরূপ বিশ্বাস। লিয়োনেল মেসিদের ই-মেল পৌঁছে গেল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে। গত ডিসেম্বরে যুবভারতীকাণ্ডের জন্য তাঁরা সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেছেন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে এই মেল করেছেন মেসির দলের এক জন। তিনি ডিসেম্বরের ‘গোট ট্যুর’-এ মেসির পরামর্শদাতা হিসেবে এসেছিলেন। সে দিন যুবভারতীতে তিনি নিজেও মেসির সঙ্গে মাঠে ছিলেন। ওই ই-মেলে লেখা হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢোকার পরেই যাবতীয় ঝামেলার সূত্রপাত। সরাসরি অরূপের নাম করে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মেসির টিম। বলা হয়েছে, মাঠে ঢুকে অরূপ যে সব কাজকর্ম শুরু করেছিলেন, তা নির্ধারিত সূচিতে ছিল না। এর ফলে ইতিমধ্যেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অরূপ কী কী করেছিলেন
ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী বার বার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন, ছবি তোলার জন্য কাঁধে এবং কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। অরূপের সঙ্গে বহু মানুষ সে দিন মাঠে ঢুকেছিলেন, যাঁদের মাঠে ঢোকার অধিকার ছিল না— এটিও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। যেখানে তিন জন আলোকচিত্রীর থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন মাঠে ছিলেন। এতেই মেসি বিরক্ত হন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এর পর মেসির পক্ষে আর ইভেন্টে থাকা সম্ভব হয়নি। মেসির দলের পক্ষে এটাও জানানো হয়েছে, ওই ট্যুরের যিনি আয়োজক, সেই শতদ্রু দত্তের নিয়ন্ত্রণে ছিল না বিষয়টি। বলা হয়েছে, মেসির তাড়াতাড়ি যুবভারতী ছাড়ার জন্য শতদ্রু কোনও ভাবেই দায়ী নন। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছে, প্রোটোকল অনুযায়ী লিওনেল মেসিকে সকলে স্পর্শ করতে পারেন না। তাঁকে দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। তবে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ছবি তুলেছিলেন। কাঁধে-কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলেছিলেন। চিঠিতে এও লেখা হয়েছে, প্রচুর মানুষ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন। যার ফলে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। নিরাপত্তার গাফিলতিরও অভিযোগ করা হয়েছে।
আগেই অভিযুক্ত অরূপ
কলকাতায় যে দিন মেসি এসেছিলেন তাঁকে দেখার জন্য হাজার-হাজার ভক্তের ভিড় হয়েছিল মাঠে। তবে আগত দর্শকদের অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে দর্শকরা এই ফুটবলারকে দেখতে পাননি। এই নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে অরূপ এবং মেসির একটি ছবি ভাইরাল। যে ছবিতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফুটবলারের পেটে-কাঁধে হাত দিয়ে রয়েছেন। মেসিকাণ্ড নিয়ে আগেই থানা পুলিশ হয়েছে। এবার খোদ ফুটবলারের টিম থেকে আসল চিঠি। মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অরূপের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছেন শতদ্রু। এই মামলায় অরূপের যে রক্ষাকবচ রয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন তিনি।
