মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দৈন্যদশা আর লুকোতে পারলেন না! বিদেশি ঋণের উপর পাকিস্তানের নির্ভরশীলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, এতে দেশের জনগণ ও কর্তাদের আত্মসম্মান নষ্ট হয়। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পরিচিত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের নিয়ে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘যখন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আমি দেশে দেশে অর্থ ভিক্ষা করে বেড়াই, তখন আমার অত্যন্ত খারাপ লাগে। লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায়। তারা অনেক কিছু আমাদের করতে বলে, আমরা না বলতে পারি না।’’
আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়
শুক্রবার ইসলামাবাদে শীর্ষ পাকিস্তানি রফতানিকারকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় শরিফ স্বীকার করে নিলেন, পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে বিদেশি আর্থিক সাহায্য এবং নানা ধরনের প্যাকেজের উপর নির্ভরশীল। ঋণ চেয়ে চেয়ে দেশের মুখ আন্তর্জাতিক স্তরে একেবারে পুড়ে গিয়েছে, এ কথাও মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। শরিফ বলেন, ‘‘আমি কীভাবে বলব আমরা কোন কোন বন্ধু দেশের থেকে ঋণ চেয়েছি! সেই দেশগুলি আমাদের হতাশ করেনি যদিও। কিন্তু ঋণ যে নিতে যায় তার মাথা হেঁট তো থাকবেই।’’ তিনি স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করেছেন, যখন কোনও দেশ আর্থিক সাহায্য চায় তখন তাকে তার আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। এক একটা সময়ে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পাক অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পুরো অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল। তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫২.৩৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শাহবাজ শরিফের বক্তব্য প্রমাণ করে, পাকিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে ঋণের ফাঁদে আটকে পড়েছে এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাদের কাছে। শাহবাজ বলেন, তাঁর সরকার- কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং অর্থ মন্ত্রককে পুঁজির সহজলভ্যতা বাড়িয়ে শিল্প বৃদ্ধিকে সমর্থন করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গভর্নরকে ব্যবসায়িক নেতাদের কথা শুনতে হবে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত ভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশে তিনিও সফর করেছেন। আইএমএফ প্রোগ্রাম বাঁচাতে কোটি কোটি ডলার সাহায্যের অনুরোধ করেছি।’’ আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত মেনে চলার জন্য সরকার জনসাধারণের উপর ভারী কর এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। তবে, পাকিস্তান কেবল আইএণএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ঋণী নয় বরং চিন ও সৌদি আরবের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণের বোঝায় চাপা পড়ে রয়েছে।







