Tag: Shehbaz Sharif

Shehbaz Sharif

  • Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। সেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েই গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করলেন এক ইরানি আইনপ্রণেতা (Iranian Lawmaker)। তার জেরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে নিরপেক্ষতা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগের।

    কী বললেন ইব্রাহিম রেজায়ি? (Pakistan) 

    দাশতেস্তানের প্রতিনিধি তথা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, “পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।” এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে তিনি পাকিস্তানকে “ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী” বলে উল্লেখ করলেও, বলেন, এটি (পাকিস্তান) উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে। রেজায়ির আরও অভিযোগ, ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সমালোচনা এড়িয়ে চলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যেমন লেবানন প্রসঙ্গ ও অবরুদ্ধ সম্পদ, সেগুলিও তুলে ধরে না। তিনি বলেন, “মধ্যস্থতাকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হয়। সব সময় এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকা চলে না।”

    আসরে আরাঘচি

    বস্তুত, রেজায়িরও এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন আব্বাস আরাঘচি অনিশ্চয়তার মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যেতে বাড়িয়েছেন কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রসঙ্গত, আরাঘচি সম্প্রতি তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাত এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা করেন (Iranian Lawmaker)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য প্রবীণ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর তিনি ইসলামাবাদ থেকে ওমানে পৌঁছন। সেখানে তিনি সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সঈদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয় (Pakistan)।

    আলোচ্য বিষয়

    ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব, ক্ষতিপূরণের দাবি, ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে (Iranian Lawmaker)। উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে সংক্ষিপ্ত সফরের পর আরাঘচির মস্কো সফরে যাওয়ার কথা। কারণ তেহরান (ইরানের রাজধানী) আলোচনার গতি ধরে রাখতে চাইছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতি হারাতে থাকায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনা চায় তবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের আগেই ওয়াশিংটন যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং পাকিস্তানে পরিকল্পিত এক দফা আলোচনাও বাতিল করে দেয় (Pakistan)।

    সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আলোচনা ফের শুরু করতে চাইলে ইরান নিজেই যোগাযোগ করতে পারে। তিনি বলেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তারা আমাদের কাছে আসতে পারে, অথবা ফোন করতে পারে। আপনি (Iranian Lawmaker) জানেন, টেলিফোন আছে। আমাদের উন্নত এবং নিরাপদ যোগাযোগ লাইন রয়েছে।”

     

  • Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়ে ইরানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূতেরা। অন্তত এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন।

    ট্রাম্পের দাবি (Donald Trump)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, দু’মাসের সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘না, তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নেবে না। আমাদের হাতে সব কার্ড আছে। তারা চাইলে যে কোনও সময় আমাদের ফোন করতে পারে। কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে বসে বসে অর্থহীন আলোচনা করবে না।’”

    আরাঘচির বক্তব্য

    এদিকে, আরাঘচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ ছেড়ে গিয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা, ওমান এবং রাশিয়ায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রেস টিভি জানিয়েছে, তিনি শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, তিনি পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে। তিনি এও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আন্তরিক কিনা, তা এখনও দেখা বাকি (Donald Trump)।”

    ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফর শেষে এবং রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আরাঘচি ফের পাকিস্তান সফর করতে পারেন (Pakistan)। বিদেশমন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তার প্রতিনিধিদলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গিয়েছে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে। তারা রবিবার রাতে ফের ইসলামাবাদে ফিরবে। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে যে কোনও আলোচনা ফোনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি লেখেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!!!” তাঁর আরও দাবি, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা কেউ জানে না এবং সেখানে চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা চলছে।

    হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

    বিশ্লেষকদের মতে, “সব কার্ড আমাদের হাতে” কথাটি সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অঞ্চলে ৫০,০০০-এর বেশি সেনার উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে, যারা প্রয়োজনে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত (Donald Trump)। এদিকে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা চলছে, তার কারণে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস শনিবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে তাদের অবরোধ এখনই তুলে নিতে চায় না। যদিও এটি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (Pakistan)। ট্রাম্প বলেন, “আমার দূতদের সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ ফের শুরু হবে না। আমরা এখনও সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি।”

    ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ওমানি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় যাবেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল (Donald Trump)।

     

  • Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    Iran: লেবাননে ইজরায়েলি হামলা, ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরেই খুলে দেওয়া হয়েছিল হরমুজ প্রণালী। যদিও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই ফের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হল ওই প্রণালীতে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। তাদের দাবি, লেবাননে হিজবুল্লাদের টার্গেট করে ইজরায়েল ১০০টি বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইজরায়েলের ওই হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস ইরানকে অবিলম্বে প্রণালী খুলে দিতে বলেছে। যদিও হরমুজ প্রণালী বন্ধের আগে দু’টি জাহাজকে প্রণালী পার হতে দেওয়া হয়েছিল।

    লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয় (Iran)

    ইজরায়েলের মতে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়, যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরান বলেছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় ইজরায়েলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর হামলা-সহ সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে। এক শীর্ষ ইরানি আধিকারিক লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস ইহুদি আগ্রাসনের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি সবার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।” ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা তথা বিদেশনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজেই এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে নৃশংস জায়নিস্ট আগ্রাসনের জবাবে এখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে হবে… লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমরা তাদের এক মুহূর্তও একা ছেড়ে দিতে পারি না। যুদ্ধবিরতি হয় সব ফ্রন্টে হবে, নয়তো কোথাও নয়।” এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে প্রণালী খুলতে হবে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছে।

    ইরানি আধিকারিকের বক্তব্য

    প্রবীণ এক ইরানি আধিকারিক জানান, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা হওয়ার আগে বৃহস্পতি বা শুক্রবারের মধ্যে ইরান অবরোধ কিছুটা শিথিল করতে পারে, যদিও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি লাগবে। হরমুজ প্রণালী ইরান এবং ওমান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে অবস্থিত একটি সঙ্কীর্ণ জলপথ। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের দৈনিক তেল এবং এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই হয় এই প্রণালী-পথে। এসবই ঘটে যখন ইজরায়েল লেবাননে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হামলা চালায় এদিন, যদিও হিজবুল্লাহ উত্তর ইজরায়েলে আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল এবং মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তির মধ্যেই ছিল ইজরায়েলি বাহিনীও।

    বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

    এদিন বেইরুটে শক্তিশালী বিস্ফোরণের জেরে শহর কেঁপে ওঠে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়ার মেঘ। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সংঘাতের সবচেয়ে বড় যৌথ হামলা চালিয়েছে, যেখানে বেইরুট, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে ১০০টিরও বেশি হিজবুল্লাহ ঘাঁটি টার্গেট করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মতে, অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের ক্ষেত্রে ছ’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননে প্রযোজ্য নয়। তাই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।” উল্লেখ্য, এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ শরিফ বলেছিলেন লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অধিকাংশ হামলা জনবহুল এলাকায় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।

    বর্বর আগ্রাসন

    এদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলাকে বর্বর আগ্রাসন বলে নিন্দে করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, “বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি কাঠামোর মধ্যে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।” ইরানের ইসলামিক রিভলুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হামলা চললে তার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তিনি একে আলাদা সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তিনি বলেন বিষয়টি সমাধান করা হবে। হোয়াইট হাউসের তরফেও একই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে ১,৫০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩০-এরও বেশি শিশু ও ১০০-এরও বেশি নারী রয়েছে। উল্লেখ্য যে, হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইজরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করেছে।

     

  • US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রেক্ষিতেই এমনতর দাবি করেছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। পাকিস্তানের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাক নেতৃত্বাধীন এমন কোনও প্রচেষ্টার (US Iran War) সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। সোমবার মুম্বইয়ে ইরানের কনসুলেট জেনারেল জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। কনসুলেট আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের যে কোনও মঞ্চ তাদের নিজস্ব বিষয়, সেখানে ইরান অংশ নেয়নি।

    কনসুলেট জেনারেলের বক্তব্য (US Iran War)

    এক বিবৃতিতে কনসুলেট জেনারেল জানান “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক কিছু দাবি এসেছে। আমেরিকার ‘কূটনীতি’ বারবার অবস্থান বদলায়। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। পাকিস্তানের মঞ্চ তাদের নিজস্ব। আমরা তাতে অংশ নিইনি। আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান স্বাগত, তবে মনে রাখতে হবে—কে এই যুদ্ধ শুরু করেছে!”  রবিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক করার পর এই ঘোষণা করেন। বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও ছিল।

    পাক মন্ত্রীর বক্তব্য

    টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “আগত মন্ত্রীরা ইসলামাবাদে সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।” দারের দাবি, তিনি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্তাদের সঙ্গে, যেমন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। রবিবারের ইসলামাবাদ বৈঠকটি কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল বা ইরানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না (US Iran War)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইসলামাবাদের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার একটি প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে (US Iran War)। এদিকে, সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর তাদের হামলা অব্যাহত রাখে। এর জবাবে ইরান কুয়েতের একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ জল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ফাটায় এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি তৈল শোধনাগারেও আঘাত হানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সময়ে, ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন রয়েছে (US Iran War) এবং সমসংখ্যক আরও একটি বাহিনী পথে রয়েছে। এর (Pakistan) মধ্যে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

     

  • Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘পবিত্র জেহাদ যুদ্ধে’র (Holy Jihad Battle) অংশ হিসেবে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান চালাল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এই হুথিরাই (Yemens Houthis) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে এখনও অবধি সর্বশেষ অংশগ্রহণকারী।

    হুথির বিবৃতি জারি (Holy Jihad Battle)

    এক বিবৃতিতে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, “আমাদের বাহিনী পবিত্র জেহাদ যুদ্ধের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে দক্ষিণের দখল করা প্যালেস্তাইনে জায়োনিস্ট শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই অভিযান ইরানে আমাদের মুজাহিদিন ভাইদের এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আল্লাহর রহমতে এটি সফলভাবে তার লক্ষ্য পূরণ করেছে।” প্রসঙ্গত, এই বিবৃতিটি জারি করা হয় ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতে যোগ দেওয়ার মাত্র একদিন পর। ওই বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা প্রথম সামরিক হামলায় ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইজরায়েলের সামরিক টার্গেটে আঘাত হেনেছে। এই আক্রমণ ইরান ও লেবাননের মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে।

    আরও ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

    হুথিদের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জেরে আরও প্রসারিত হল ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের পরিধি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বহুমুখী যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। হুথিরা ঘোষণা করেছে, তারা তাদের ভাষায় “আগ্রাসন” বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। এ থেকে স্পষ্ট, এটি এককালীন কোনও পদক্ষেপ নয়, বরং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা বাড়তে পারে (Holy Jihad Battle)। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। হাজার হাজার মেরিন ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছে এবং আরও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ করতে চায় এবং স্থলযুদ্ধ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে, তবুও এই সামরিক প্রস্তুতি সর্বোচ্চ কৌশলগত নমনীয়তা নিশ্চিত করতে করা হয়েছে।” বস্তুত, এই ঘটনাটি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে (Yemens Houthis)।

    যুদ্ধের ক্ষত

    একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সামরিক ঘটনার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যার মধ্যে (Holy Jihad Battle) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনাও রয়েছে। ইসলামাবাদ তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো। তবে দ্রুত কোনও সমাধানের লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল (Yemens Houthis) সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা (Holy Jihad Battle)।

     

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

  • ICC: ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

    ICC: ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে আইসিসি (ICC)। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে লাহোরে পৌঁছন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সূত্রের খবর, আইসিসি যখন মোহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে সমঝোতামূলক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছে। লক্ষ্য একটাই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ, অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পাকিস্তানকে সরানো।

    জুমের মাধ্যমে বৈঠক! (ICC)

    রবিবার রাতে জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতে পারে এই বৈঠক। এতে আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্ত, পিসিবি প্রধান মোহসিন নকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত থাকার কথা। টুর্নামেন্টের সূচির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় সংকট তৈরি হওয়ায় আইসিসি এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পিসিবি এমন একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে যেখানে বাংলাদেশকেও আলোচনার টেবিলে রাখা হবে। যদিও বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে না। এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি, বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে, পাকিস্তান ঘোষণা করে যে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, যখন নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে সফর করতে অস্বীকার করে বাংলাদেশ (ICC)।

    আইসিসির কাছে অনুরোধ

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সমর্থিত অবস্থান থেকে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যেন তাদের ম্যাচগুলি টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা হয়। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলেই একের পর এক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে (T20 World Cup)। বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানায়, ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থানে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে একমত। বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে ইসলামাবাদকে ধন্যবাদ জানান। ফেসবুকে আসিফ নজরুল লেখেন, “ধন্যবাদ, পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দেশ (ICC)।” আসিফ নজরুল বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণআন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত হওয়ার পর এই সরকার গঠিত হয়। কার্যত তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর ভূমিকা পালন করছেন।

    শাহবাজ শরিফের সরকারের নির্দেশ

    এদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে শাহবাজ শরিফের সরকারের নির্দেশ, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষিতে ভারতের বিরুদ্ধে যেন ম্যাচে অংশ না নেওয়া হয়। ইসলামাবাদে এক সরকারি বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি। আমরা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলব না, কারণ খেলাধুলোর ময়দানে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়।” সব পক্ষকে নিয়ে আইসিসি যখন এখন সংকটকালীন আলোচনায় বাধ্য হয়েছে, তখন লাহোরে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই ইস্যু আর শুধু ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একই সঙ্গে, উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সামঞ্জস্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত (T20 World Cup) কার্যকর করা আইসিসির জন্য কতটা কঠিন হতে চলেছে, সেটাও পরিষ্কার হয়ে উঠছে (ICC)।

  • Pakistan:‘‘মাথা নিচু করে ভিক্ষে করতে হয়’’ দেশের করুণ অবস্থার কথা মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Pakistan:‘‘মাথা নিচু করে ভিক্ষে করতে হয়’’ দেশের করুণ অবস্থার কথা মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দৈন্যদশা আর লুকোতে পারলেন না! বিদেশি ঋণের উপর পাকিস্তানের নির্ভরশীলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, এতে দেশের জনগণ ও কর্তাদের আত্মসম্মান নষ্ট হয়। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পরিচিত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের নিয়ে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘যখন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আমি দেশে দেশে অর্থ ভিক্ষা করে বেড়াই, তখন আমার অত্যন্ত খারাপ লাগে। লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায়। তারা অনেক কিছু আমাদের করতে বলে, আমরা না বলতে পারি না।’’

    আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়

    শুক্রবার ইসলামাবাদে শীর্ষ পাকিস্তানি রফতানিকারকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় শরিফ স্বীকার করে নিলেন, পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে বিদেশি আর্থিক সাহায্য এবং নানা ধরনের প্যাকেজের উপর নির্ভরশীল। ঋণ চেয়ে চেয়ে দেশের মুখ আন্তর্জাতিক স্তরে একেবারে পুড়ে গিয়েছে, এ কথাও মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। শরিফ বলেন, ‘‘আমি কীভাবে বলব আমরা কোন কোন বন্ধু দেশের থেকে ঋণ চেয়েছি! সেই দেশগুলি আমাদের হতাশ করেনি যদিও। কিন্তু ঋণ যে নিতে যায় তার মাথা হেঁট তো থাকবেই।’’ তিনি স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করেছেন, যখন কোনও দেশ আর্থিক সাহায্য চায় তখন তাকে তার আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। এক একটা সময়ে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    পাক অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পুরো অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল। তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫২.৩৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শাহবাজ শরিফের বক্তব্য প্রমাণ করে, পাকিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে ঋণের ফাঁদে আটকে পড়েছে এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাদের কাছে। শাহবাজ বলেন, তাঁর সরকার- কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং অর্থ মন্ত্রককে পুঁজির সহজলভ্যতা বাড়িয়ে শিল্প বৃদ্ধিকে সমর্থন করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গভর্নরকে ব্যবসায়িক নেতাদের কথা শুনতে হবে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত ভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশে তিনিও সফর করেছেন। আইএমএফ প্রোগ্রাম বাঁচাতে কোটি কোটি ডলার সাহায্যের অনুরোধ করেছি।’’ আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত মেনে চলার জন্য সরকার জনসাধারণের উপর ভারী কর এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। তবে, পাকিস্তান কেবল আইএণএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ঋণী নয় বরং চিন ও সৌদি আরবের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণের বোঝায় চাপা পড়ে রয়েছে।

  • Shehbaz Sharif: ৪০ মিনিট ঠায় অপেক্ষা করালেন পুতিন, ধৈর্য হারিয়ে গেটক্র্যাশ, শেহবাজের কাণ্ডে নিন্দার ঝড়

    Shehbaz Sharif: ৪০ মিনিট ঠায় অপেক্ষা করালেন পুতিন, ধৈর্য হারিয়ে গেটক্র্যাশ, শেহবাজের কাণ্ডে নিন্দার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক মিনিট-দু’মিনিট নয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Putin) সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পাক্কা ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হল পাকিস্তানের (Shehbaz Sharif) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে। শুক্রবার তুর্কিমেনিস্তানে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড ট্রাস্টের বৈঠকের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক হওয়ার কথা ছিল শরিফের। যদিও প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তার পরেও হাজির হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। অপেক্ষা করে করে দৃশ্যতই অধৈর্য শরিফ সিদ্ধান্ত নেন পাশের বৈঠককক্ষে ঢোকার। ঢুকতে গিয়ে দেখেন, সেখানে তখনও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিক্যাপ তাইয়াপ এর্ডোগানের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। শরিফকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দুই রাষ্ট্রনেতার সামনে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন শরিফ। মিনিট কয়েক দাঁড়িয়ে থেকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

    পাক প্রধানমন্ত্রীর ‘গেটক্র্যাশিং’ (Shehbaz Sharif)

    শরিফের এই অপেক্ষা ও তার পরে ‘গেটক্র্যাশিং’ পাকিস্তানের মর্যাদা ও তার আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে কূটনৈতিক মহলে। বর্তমানে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তেমন কোনও গুরুত্বই নেই দেশটির। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ‘কোর ফাইভ’ গঠন করবেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে, সেখানে ঠাঁই হয়নি পাকিস্তানের (Shehbaz Sharif)। যদিও পাঁচটি দেশের তালিকায় নাম রয়েছে নরেন্দ্র মোদির ভারতের। তুর্কিমেনিস্তানের স্থায়ী নিরপেক্ষতার ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে মিলিত হয়েছেন রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের শীর্ষ নেতারা। শুক্রবার ওই বৈঠকের ফাঁকেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের।

    নিরপেক্ষ দেশে পরিণত হয় তুর্কিমেনিস্তান

    প্রসঙ্গত, ৩০ বছর আগে স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষ দেশে পরিণত হয় তুর্কিমেনিস্তান। ১৯৯৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা সর্বসম্মতিক্রমে এর স্বীকৃতি দেয়। নিরপেক্ষ দেশ হয়ে সামরিক জোটে যোগ না দেওয়া, আত্মরক্ষা ছাড়া অন্য কোনও দেশের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িত না হওয়া এবং তুর্কিমেনিস্তানের মাটিতে অন্য দেশের ঘাঁটি স্থাপন করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় তুর্কিমেনিস্তান।

    মোদি-পুতিন সখ্যতা

    দিন কয়েক আগেই ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন (Shehbaz Sharif) পুতিন, একই গাড়িতে বসেছেন, হাসিমুখে আলিঙ্গন করেছেন, সেখানে শাহবাজের কপালে অপমান জোটায় পাক প্রধানমন্ত্রীর দিকে ধেয়ে এসেছে কাটাক্ষ-বাণ। এক নেটিজেন বলেন, “পুতিন (Putin) এরকম লোকেদের জন্য তাঁর সময় নষ্ট করতে চান না।” আর একজন বলেন, “এটা আন্তর্জাতিক অপমানে পরিণত হয়েছে।” আর এক নেটিজেন বলেন, “৪০ মিনিট ধরে পুতিনের দরজায় কড়া নাড়তে নাড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন শাহবাজ শরিফরা। তাও প্রবেশ করার সুযোগ পাননি, পরে অবশ্য প্রবেশ করেছিলেন, যেমন কোনও আত্মীয় আমন্ত্রণ ছাড়াই বিয়েতে প্রবেশ করেছিলেন।” অন্য এক ইউজার লিখেছেন, “৪০ মিনিট অপেক্ষার পর জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়টাও হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু শরিফ ছাড়েননি।” আর (Putin) একজন লিখেছেন, “ওঁকে ট্রাফিক সিগনালের ভিখারির মতোই উপেক্ষা করেছি।” আর এক নেটিজেন আবার লিখেছেন, ‘‘ভিখিরির (Shehbaz Sharif) আবার পছন্দ-অপছন্দ কীসের?’’

  • India vs Pakistan: “নির্লজ্জভাবে সন্ত্রাস ছড়ায়, লাদেনকে আশ্রয় দেয়”, কাশ্মীর-মন্তব্যে শরিফকে কড়া জবাব ভারতের

    India vs Pakistan: “নির্লজ্জভাবে সন্ত্রাস ছড়ায়, লাদেনকে আশ্রয় দেয়”, কাশ্মীর-মন্তব্যে শরিফকে কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব রাষ্ট্রসংঘে চির পরিচিত। এবার কূটনীতিবিদ তথা রাষ্ট্রসংঘে ভারতের (India vs Pakistan) প্রতিনিধি পেটাল গেহলট শরিফের কাশ্মীর-মন্তব্যকে ‘অদ্ভুত নাটক’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ এবং পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর পাকিস্তানের অবস্থান নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে পেটাল গেহলট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যকে তীব্র ভাষায় খণ্ডন করেন। এদিন শরিফের বক্তৃতায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি নিয়ে সরব হন গেহলট। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই সভায় যে নাটকীয়তা প্রদর্শন করেছেন, তা একেবারে অদ্ভুত। আবারও তিনি সেই সন্ত্রাসবাদের মহিমা কীর্তন করলেন, যা তাদের বিদেশনীতির মূল ভিত্তি।”

    কাশ্মীরে সন্ত্রাসের বীজ বপন পাকিস্তানের

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের ভাষণে কাশ্মীর নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার কড়া জবাব দিল ভারত। এ বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পেটাল গেহলট মনে করিয়ে দিয়েছেন ওসামা বিন লাদেনের কথাও। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় এর আগে ভাষণ দিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কাশ্মীর প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন, কাশ্মীরের মানুষের উপর ভারত অত্যাচার চালায়। পাকিস্তানের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ প্রয়োগ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, ‘‘সকালে এই সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কিছু অদ্ভুত নাটক করেছেন। আরও এক বার তিনি সন্ত্রাসবাদকে মহান করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, যা দেশটির বিদেশনীতির অন্যতম অঙ্গ। তবে কোনও নাটক বা কোনও মিথ্যাভাষণ সত্যকে ঢেকে রাখতে পারবে না।’’

    লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান

    পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে সে সময়ে পাকিস্তানের অবস্থান মনে করিয়ে দিয়েছেন নয়াদিল্লির প্রতিনিধি। বলেছেন, ‘‘এটাই সেই পাকিস্তান, যারা পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর গত ২৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপুঞ্জে ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) নামের পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীকে আড়াল করতে চেয়েছিল। এই দেশের সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার ইতিহাস অনেক পুরনো। ওদের কোনও লজ্জা নেই। বছরের পর বছর ধরে এই দেশেই আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল ওসামা বিন লাদেনকে, সে কথা ভুলে গেলে চলবে না।’’

    সন্ত্রাসীদের গৌরবময় ছবি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান

    গেহলট জানান, ৭ মে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস করে। তিনি বলেন, “বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকেতে সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংসের পর বহু ছবি আমরা দেখেছি — সেইসব জঙ্গিদের যাদের পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে শহিদ ঘোষণা করে। ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে তাদের সেনাবাহিনীই ভারতকে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়।”
    তিনি আরও বলেন, “৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে তাদের সেনাবাহিনীই ভারতকে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়।” গেহলট পাকিস্তান সরকারের দ্বিচারিতার কথাও তুলে ধরেন — “যে দেশ নিজেই স্বীকার করেছে যে তারা দশকের পর দশক ধরে জঙ্গি ক্যাম্প চালাচ্ছে, তাদের মুখে শান্তির কথা শুনে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।”

LinkedIn
Share