Tag: Sheikh Hasina

Sheikh Hasina

  • Bangladesh: বাংলাদেশে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দুই সংখ্যালঘুর, জানেন তাঁরা কারা?

    Bangladesh: বাংলাদেশে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দুই সংখ্যালঘুর, জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) বিএনপির মন্ত্রিসভায় (BNP Led Cabinet) ঠাঁই হল দুই সংখ্যালঘুরও। বিএনপির নবনির্বাচিত সাংসদরা ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বিএনপি নেতা তথা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের পথ সুগম হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যাঁরা শপথ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু নেতা নিতাই রায়চৌধুরী এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দীপেন দেওয়ান। নতুন মন্ত্রিসভা ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের সাউথ প্লাজায় শপথ নেন।

    নয়া মন্ত্রিসভা (Bangladesh)

    সংবাদ মধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ জন নেতা পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। মুসলিম-প্রধান দেশে হিন্দু ও বৌদ্ধ পরিচয়ের কারণে চৌধুরী ও দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে হিন্দুরা, বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরপর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিন্দুর বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকজন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, এবং সেই সব ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ফলাও করে। যদিও বিএনপি মন্ত্রিসভায় একজন হিন্দু ও একজন বৌদ্ধ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবুও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন কমাতে এর প্রভাব পড়বে কি না—তা সময়ই বলবে (BNP Led Cabinet)।

    পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকা

    এবার দেখে নেওয়া যাক পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকাটি (Bangladesh)। মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, খালিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, কাজি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কাইকোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরি, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, আফরোজা খানম রিতা, শহিদউদ্দিন চৌধুরি অ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মহম্মদ আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, এএনএম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং শেখ রাবিউল আলম।

    প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় ঠাঁই হয়েছে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মহম্মদ শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মির মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মহম্মদ রাজীব আহসান, মহম্মদ আবদুল বারি, মির শাহে আলম, জুনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরি, একে ইকবাল (BNP Led Cabinet) হোসেন, এমএ মুহিত, আহমেদ সোহেল মনজুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলি নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম (Bangladesh)।

  • Tarique Rahman: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তারেক রহমান, সঙ্গী আরও ৪৯ মন্ত্রী

    Tarique Rahman: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন তারেক রহমান, সঙ্গী আরও ৪৯ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মঙ্গলবার শপথ নেন তিনি। দেশের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক জয়ের পাঁচ দিন পর হল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এদিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি এদিন সকালেই ঢাকায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং অন্য আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের সাউথ প্লাজায় হয়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

    বিএনপির জয়জয়কার (Tarique Rahman)

    ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়। এক সময়ের মিত্র এবং বর্তমানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থী জামায়াতে ইসলামি (জামাত নামে পরিচিত) পেয়েছে ৬৮টি আসন। অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগকে নির্বাচনে অংশই নিতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দলের ওপর জারি করা হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা।

    শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ ৫০ জন

    এদিন তারেক ছাড়াও শপথ নিয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, বিএনপির মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন টেকনোক্র্যাট। ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৭ জনই নতুন (Bangladesh) মুখ, এবং সব প্রতিমন্ত্রীই প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রহমান নিজেও প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন (Tarique Rahman)।

    প্রসঙ্গত, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি। সম্প্রতি প্রয়াত হন তিনি। ২০০৬ এর পর থেকে বাংলাদেশের রশি ছিল দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের হাতে। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় (Bangladesh) সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গড়ল বিএনপি (Tarique Rahman)।

  • BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে তারা ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখবে। যদিও তারা নয়াদিল্লির কাছে অপসারিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তরের জন্য চাপও অব্যাহত রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। ঢাকার গুলশন এলাকায় দলের কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত করা উচিত নয়।”

    বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য (BNP)

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জনমত রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে না পাঠালেও বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক-সহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা অন্তরায় হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” আজ, মঙ্গলবারই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের অন্য প্রবীণ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। গত সতেরো মাসে ভারত এসব অনুরোধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আলমগির বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে

    তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে। ফারাক্কা সংক্রান্ত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলমগির বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা চুক্তির নবায়নের সময় ফরাক্কার জলের বিষয়টি উঠবে, তারপর রয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন—এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।” মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেন, তাঁরা উন্মাদের মতো কথা বলেন।” তুলনা টেনে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে সহযোগিতা করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলমগিরও দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। সরকার গঠনের আগে  তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় সমঝোতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধান (ইউনূস) তার বাইরে যেতে পারেননি।” আলমগির বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও কারিগরি শিক্ষায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশে চাকরি পেতে পারে।” তিনি এও বলেন, “আওয়ামি লিগ সরকারের নেওয়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিএনপি সরকার পুনর্মূল্যায়ন করবে, কারণ এতে ঋণের বোঝা বেড়েছে।এই প্রকল্পগুলির মধ্যে যেগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, আমরা কেবল সেগুলিই রাখব।”

  • Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে কী বললেন হাসিনা?

    Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে কী বললেন হাসিনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার শেষ হল বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026)। এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এবং তাঁর দল আওয়ামি লিগকে। এদিন ভোট শেষের পর তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘এই নির্বাচন অসাংবিধানিক’। এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, “অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস আয়োজিত আজকের তথাকথিত নির্বাচন ছিল মূলত সুপরিকল্পিত একটি প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনাকে উপেক্ষা করে আওয়ামি লিগকে বাদ দিয়ে এবং ভোটারবিহীনভাবে একটি প্রতারণামূলক নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।”

    হাসিনার বক্তব্য (Bangladesh Election 2026)

    তিনি আরও বলেন, “১১ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যা থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনাবেচায় অর্থের ব্যাপক ব্যবহার, ব্যালট পেপারে সিল মারা এবং ফলাফলের শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রহসন শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির সকাল থেকে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। রাজধানী-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বহু ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ভোটারশূন্য ছিল।” তাঁর দাবি, “এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল করতে হবে, খুনি-ফ্যাসিবাদী ইউনূসের পদত্যাগ চাই, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী-সহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আওয়ামি লিগের কার্যকলাপের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে হবে (Bangladesh Election 2026)।”

    ভারতের প্রতিক্রিয়া

    এদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে, ঢাকার পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও হস্তক্ষেপের ধারণা এড়াতে ভারত কোনও সরকারি পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। তবে (Sheikh Hasina) আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাইনি (Bangladesh Election 2026)।”

     

  • Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    Sheikh Hasina: গভীর খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ হাসিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস বাংলাদেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ইউনূসের (Muhammad Yunus)। দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে ‘বাঙলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক এক সভায় অডিও বার্তায় এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, সদস্য সহ বহু বিশিষ্টজন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। যদিও এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে।

    দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত

    ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হবার পর এই প্রথম অডিও বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারকে (Muhammad Yunus) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন হাসিনা। অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনুস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশ সন্ত্রাসের যুগে নিমজ্জিত। গণতন্ত্র নির্বাসনে। আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। জীবন ও সম্পত্তির কোনও নিরাপত্তা নেই।” প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় আগাগোড়া তিনি নিশানা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে কখনও ‘খুনি ফ্যাসিবাদী’, কখনও ‘সুদখোর’, কখনও ‘টাকা পাচারকারী’, আবার কখনও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আক্রমণ শানান হাসিনা।

    বিদেশিদের হাতের পুতুল ইউনুস

    শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রী। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। দীর্ঘ বক্তৃতায় ইউনূসের সরকারকে ‘অবৈধ’ এবং ‘হিংসাত্মক’ বলেও আক্রমণ শানান তিনি। ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, অরাজকতা এবং গণতন্ত্রহীন এক যুগ ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। পড়শি দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সার্বভৌমত্ব এবং সংবিধানের জন্য এক অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে ব্যাখ্যা করেন তিনি। ইউনূস সরকারকে ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল’ বলে আক্রমণ শানান তিনি। এবং ‘বিদেশিদের হাতের পুতুল হয়ে যাওয়া’ এই সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন হাসিনা। অন্তবর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ‘এক বিশাল জেলখানা, এক বধ্যভূমি এবং এক মৃত্যু উপত্যকা’য় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন হাসিনা।

    স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ

    তিনি অবসর নিতে চেয়েছিলেন! যে সময়ে তিনি দেশ থেকে উৎখাত হয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সেটাই তাঁর শেষ ‘টার্ম’ ছিল। ২৪ ঘণ্টা আগে শেখ হাসিনার ছেলে জয় এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তেমনটাই বার্তা দিয়েছিলেন। তাতে প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে এবার আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎ কী? এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর একটা অডিয়ো বার্তা! অন্তরালে থেকেই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শপথ নিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্যাসিস্ট ইউনূস প্রশাসনকে উৎখাতের ডাক দিলেন। গোটা এই পরিস্থিতির জন্য কেবল ইউনূস প্রশাসনকেই দায়ী করেননি তিনি। এর পিছনে বাংলাদেশের সম্পত্তি লুঠের জন্য বিদেশি শক্তির মদতকেও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ এখন একটি অনির্বাচিত ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত, যেখানে সন্ত্রাস চলছে। বাংলাদেশের ভূমি-সম্পদ লুঠের জন্য বিদেশি শক্তি সক্রিয়।” এই ‘অন্ধকার যুগ’ থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশবাসীকে আরও একবার মুক্তিযুদ্ধের শপথ নেওয়ার ডাক দিলেন হাসিনা।

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র

    কীভাবে তাঁকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইউনূস ও সহযোগীরা, এদিন তা-ও জানান হাসিনা। বললেন, “২০২৪ সালের ৫ অগস্ট একটা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে।” এ প্রসঙ্গেই ইউনূসকে সরাসরি বার্তা দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূসের বিরুদ্ধে বলব, নিজের দেশের লোককেই উপেক্ষা করা বন্ধ করুন।” পাশাপাশি তিনি বলেন দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা, ইউনূস প্রশাসনকে অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করুন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী-জঙ্গি শক্তি আমাকে ষড়যন্ত্র করে জোর করে উৎখাত করেছে। আমি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেদিন থেকে দেশ সন্ত্রাসের কবলে।” দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ধূলোয় মিশে গিয়েছে। দেশের মেয়ে-নারীরা নির্যাতিত। বিচারব্যবস্থা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

    হতাশ না হবার বার্তা

    এদিন শেখ হাসিনার মুখে শোনা গেছে হতাশ না হবার বার্তা। তিনি বলেছেন, “আশা ছাড়বেন না। যারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাঁদের হাত থেকে আমাদের দেশকে ফিরিয়ে আনার লড়াইতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে আমাদের সাহায্য করুন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আওয়ামি লিগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল, অবর্ণনীয়ভাবে দেশের সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের সঙ্গে মিশে আছে। এই দল রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের গর্বিত ঐতিহ্যের রক্ষক। এই সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করে উৎখাতের ডাক দেন শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির উচিত একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় শপথ নেওয়া।

     

  • India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh General Elections) প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন হিন্দু হত্যার খবর আসছে। বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ (India-Bangladesh Relations)। সেই আবহেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারকে দেশে পাঠানোর পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটমুখী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পরামর্শ বিদেশ মন্ত্রকের। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্র খোলা থাকবে। সেখানে কাজও চলবে। শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সেখান থেকে কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার, তাঁদের উপর নির্ভরশীল লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল ভারত।

    ভোটের আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। ওই দিন আবার গণভোটেরও ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেখানে ভাবী প্রধানমন্ত্রীদের কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিধিতে সম্মতি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তার আগেই পদ্মাপার থেকে নিজের দেশের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে সরিয়ে নিচ্ছে ভারত। দিল্লি সূত্রে খবর, নির্বিঘ্নে এই ‘উদ্ধারকার্য’ চালানো হবে। বাংলাদেশে স্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্য সব মিশন থেকে কূটনীতিক এবং অন্য আধিকারিকদের পরিবার ও তাঁদের উপর নির্ভরশীলদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    কবে ভোট বাংলাদেশে

    বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

    পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং

    সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য পদে অধিষ্ঠিত যাঁরা, তাঁদের কাজকর্ম আগের মতোই চলবে। ঢাকায় হাইকমিশনের পাশাপাশি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহি, সিলেটেও ভারতীয় কূটনীতিকরা মোতায়েন রয়েছেন। দিল্লি সূত্রে খবর, ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং (Non-Family Destination) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার নিয়ে গিয়ে থাকার অনুপযুক্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তান আগে থেকেই ওই তালিকায় রয়েছে।

    কেন নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছে। পদ্মাপারে কূটনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াতেও বাধা এসেছে লাগাতার। বিশেষ করে গত বছর ডিসেম্বেরে ইসলামি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সেখানকার কট্টরপন্থীদের ভারতবিরোধী মনোভাব আরও প্রকট হয়েছে। লাগাতার হুমকি-হুঁশিয়ারি উড়ে আসছিল। হাদির খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশনে যায় ‘জুলাই ঐক্য মঞ্চ’। এমতাবস্থায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ঢাকাকে বার্তাও দেয় দিল্লি। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তেমন। ওই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় সে দেশের একটি গোষ্ঠী। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। তার পরেই চট্টগ্রামের ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটে ভারতের উপদূতাবাসের কাছেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।

    নির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা

    নির্বাচন ঘিরেও অশান্তি বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি। তাই বাংলাদেশ থেকে নিজেদের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বাংলাদেশের নির্বাচন (Bangladesh Election) ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত ইসলামের ও বিএনপি (BNP) জোট নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে জামাত ও তাদের জোর শরিকদের তরফেই জোরালো অভিযোগ করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের (Yunus) সঙ্গে দেখা করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি ইঙ্গিত করেছে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে। অন্যদিকে, জামাতের বক্তব্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি এখনও দেশে তৈরি হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি নেতারাও। তারাও গুচ্ছ অভিযোগ করেছেন নির্বাচন নিয়ে। ‌যদিও এনসিপি এবং জামাতের সঙ্গে বিএনপির অভিযোগের ফারাক হলো তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম দোষারোপ করেনি। বরং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন কে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই হিংসার সম্ভাবনা বাড়ছে। দেশটিতে হামলা, হত্যার ঘটনা অব্যাহত। ভোটের আগে ভারত বিরোধিতা চরমে উঠবে বলে নানা মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংখ্যালঘু হিন্দু-হত্যা চলছেই

    সম্প্রতি দফায় দফায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলার খবর আসতে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে। ময়মনসিংহে বেধড়ক মারধরের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয় দীপুচন্দ্র দাসকে। সেই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, অসম এবং ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশও সাময়িক ভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখে। তাদের তরফেও বাংলাদেশি কূটনীতিক ও আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের বার্তা আসে।

    ইউনূসের আমলে অপরাধ বেড়েছে

    বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সে দেশে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছ। অপহরণের অভিযোগ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ডাকাতির অভিযোগও বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। আসন্ন ভোটপর্বে বড়সড় জয় নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা ফিরতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি। এমনই আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভোট মিটলে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না , সেদিকেই নজর রাখছে দিল্লি।

  • Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কট্টরপন্থী ভারতবিরোধী যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, যে আইনহীন পরিস্থিতি আমার সরকারকে উৎখাত করেছিল, তা ইউনুসের অধীনে আরও বেড়েছে। সহিংসতা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর অন্তর্বর্তী সরকার হয় তা অস্বীকার করছে, নয়তো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর ফলে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নয়, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    উনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন

    শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উগ্র ইসলামপন্থা ও চরমপন্থী শক্তির কবলে পড়ছে। তাঁর দাবি, “ইউনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্য জীবনে ভূমিকা নিতে দিয়েছেন। আমার আশঙ্কা, চরমপন্থীরা তাঁকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য মুখ দেখাচ্ছে, আর আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী করে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত এই বিশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন এবং আমরা একসঙ্গে যা গড়ে তুলেছিলাম তার ক্ষয় লক্ষ্য করছে। যখন একটি দেশ নিজের সীমানার ভেতর ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে না, তখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।” হাসিনার কথায়, “এটি শুধু ভারতের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী সব দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ছিল আমাদের অন্যতম শক্তি, যা কয়েকজন উগ্রবাদীর খেয়ালে বিসর্জন দেওয়া যায় না।”

    কেন বাংলাদেশে ভারত বিরোধী হাওয়া চলছে?

    ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জন্য ফের একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকেই দায়ী করলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূস সরকার যে চরমপন্থীদের বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেন, তাদের জন্যই এই দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরাই সেই চরমপন্থী যারা ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের অফিস জ্বালিয়েছে, সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করেছে। এরাই আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে বাধ্য করেছে। ফলে ভারত নিজেদের প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, দায়িত্ববান সরকার হলে কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিত, তবে ইউনূস নৈরাজ্যবাদীদের আরও বেশি করে ছাড় দিচ্ছেন। এমনকী তাদের যোদ্ধা হিসেবে তকমা দিচ্ছেন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ইউনূস প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিবৃতি জারি করে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ওরা ব্যর্থ। বিদেশনীতি পরিচালনা করছে চরমপন্থীরা। এরপর যখন অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে তখন মাথাব্যথা হয়। দশকের পর দশক ভারত এবং বাংলাদেশে একে অপরের বন্ধু রাষ্ট্র। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক গভীর। ফলে কোনও অস্থায়ী সরকারের কারণে তা নষ্ট হতে পারে না। আমি আশাবাদী, বাংলাদেশে স্থায়ী গণতান্তান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও দৃঢ় হবে। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

     

     

     

  • India Bangladesh Tussle: হাসিনা প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব ঢাকার! কড়া জবাব দিল্লির, ওড়াল প্রত্যর্পণের দাবিও

    India Bangladesh Tussle: হাসিনা প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব ঢাকার! কড়া জবাব দিল্লির, ওড়াল প্রত্যর্পণের দাবিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেখ হাসিনা ভারতে বসে উস্কানি দিচ্ছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে দাবি করছিল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রবিবার একটি বিবৃতিও জারি করেছিল ঢাকা। শুধু তাই নয়, ঢাকায় মিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে এই অভিযোগ করে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাল্টা কড়া বার্তা দেওয়া হয়ল বাংলাদেশকে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারত কখনোই এই ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বন্ধুসুলভ জনগণের বিরুদ্ধে কাউকে উস্কানিমূলক কাজ করার অনুমতি দেয়নি। একইসঙ্গে, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিও পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি।

    বাংলাদেশের দাবি…

    রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে তারা তলব করেছিল। হাসিনাকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তিনি ভারতে বসে বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্য উসকাচ্ছেন— এটা দাবি করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা। আওয়ামি লিগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নাকি দিল্লি এবং কলকাতায় নির্বিচারে তাঁদের দলের অফিস খুলেছেন এবং ভারত থেকে তাঁরা বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে ঢাকা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তরফে ফের একবার শেখ হাসিনা এবং সে দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের আর্জি জানানো হয়। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সমাজমাধ্যম পাতাতে তা পোস্টও করেন।

    ভারতের মোক্ষম জবাব…

    এর পরেই ঢাকাকে মোক্ষম উত্তর দেয় দিল্লি। রবিবারই ভারতের তরফে পাল্টা বিবৃতি জারি করা হয়। ভারত বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ঢাকার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভুল স্থানে উত্থাপিত’। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার রবিবার যে সব দাবি করেছে, তা স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে দিল্লি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের কাছে বন্ধুসম। বাংলাদেশের সাধারণ জনতার স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, এমন কোনও কাজে ভারতের মাটি ব্যবহার করে করতে দেওয়া হয় না। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত সবসময় বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে। বিবৃতি অনুসারে, “বাংলাদেশের বন্ধুবৎসল জনতার স্বার্থবিরোধী কোনও কাজে কখনই ভারতীয় ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।” বিদেশ মন্ত্রক আরও বলছে, “আমরা আশা করি যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” পাশাপাশি, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছে ভারত। নাম না করেই, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক স্পষ্ট বার্তায় বাংলাদেশের দাবি সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার রবিবার যে সব দাবি করেছে, তা স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে দিল্লি।

  • India on Sheikh Hasina: “আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে”, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India on Sheikh Hasina: “আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে”, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (India on Sheikh Hasina) নিয়ে বাংলাদেশের করা অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার বিদেশ-মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার মধ্যে রয়েছে শান্তি,গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তি। বুধবার ভারত নিশ্চিত করেছে, যে ঢাকা থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়ে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে কূটনৈতিক বার্তা পাঠায় ভারতকে। সেই বার্তার পর এই প্রথম সরকারি ভাবে প্রতিক্রিয়া দিল নয়াদিল্লি।

    হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি

    ফাঁসির সাজা ঘোষণার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (India on Sheikh Hasina) বাংলাদেশে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছিল, ভারতীয় হাইকমিশনার যেন দিল্লির বিদেশমন্ত্রকে চিঠিটি যথাসম্ভব পৌঁছে দেন। রবিবার সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এবার এই নিয়ে প্রথম মুখ খুলল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “হ্যাঁ আমাদের কাছে একটি অনুরোধ এসেছে। আর এই অনুরোধটি বিচারবিভাগীয় এবং আভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরোটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও অর্থাৎ ২০২৪-এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে বার্তা দিয়েছিল। সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই ভারতে কূটনৈতিক বার্তা দেয় পড়শি বাংলাদেশ।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড!

    সম্প্রতি, শেখ হাসিনা (India on Sheikh Hasina) ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশকর্তা আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়। অন্য়দিকে পুলিশকর্তা রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল। তবে, হাসিনা ও আসাদ্দুজামান বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। হাসিনা রয়েছেন ভারতে। সেই কারণে হাসিনার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। বস্তুত, ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তারপর থেকে এখানেই রয়েছেন তিনি। ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনাকে গত সপ্তাহে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ—গত বছর ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর সরকারের কঠোর দমনপীড়ন “মানবতাবিরোধী অপরাধ”-এর পর্যায়ে পড়ে।

    চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার ভারতের

    জয়সওয়াল আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভারত গঠনমূলকভাবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।” বাংলাদেশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আগের অনুরোধে ভারত “কোনও জবাব দেয়নি”, তবে বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে শেখ হাসিনার (India on Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষিত হওয়ায় পরিস্থিতি “ভিন্ন”, এবং এবার নয়াদিল্লির কাছ থেকে উত্তর প্রত্যাশিত। গত সপ্তাহে বিচারিক ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায়। নয়াদিল্লি সেই বার্তার প্রাপ্তিস্বীকার করলেও তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা প্রকাশ করেনি।

  • Sheikh Hasina: ইউনূস জমানায় রমরমা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামির, ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র

    Sheikh Hasina: ইউনূস জমানায় রমরমা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামির, ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন দুই আগেই বাংলাদেশের দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। তার পরেই ভারতের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিল জামাত-ই-ইসলামি । জামাতের (Jamaat-E-Islami) সাধারণ সম্পাদক মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, “প্রতিবেশী দেশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছে, যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইন মেনে হাসিনাকে বাংলাদেশে আইনের কাছে পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

    জামাতের বাড়বাড়ন্ত (Sheikh Hasina)

    এমন পরিস্থিতিতে পদ্মা পারে জামাতের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত ভারতের।” তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামি এখন ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি বলেন, “এই গোষ্ঠী প্রচুর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। অথচ পূর্বতন সরকার জঙ্গি কার্যকলাপের দায়ে কারাদণ্ড দিয়েছিল তাদের। হাসিনা-পুত্রের মতে, এসব মুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি জানান, ভারত সরকার এই সব ঘটনা সম্পর্কে অবগত এবং তারা এটাও বুঝতে পারছে যে এগুলির সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থেও। ওয়াজেদ এও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাজত্বে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈবার নেটওয়ার্কও আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করছে।” তাঁর দাবি, এই সংগঠন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি লস্করের বাংলাদেশ শাখা এবং দিল্লির সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

    ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের

    তিনি বলেন (Sheikh Hasina), “এই ঘটনাগুলি ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।” তাঁর মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি এসব নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। ওয়াজেদ বলেন, “পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই কার্যকলাপগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশীদারদের কঠোর নজরদারির দাবি রাখে।” ওয়াজেদ বলেন, “বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা সন্ত্রাস-সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত কড়া নজর রাখছেন। ভারতীয় নেতৃত্ব বোঝেন যে প্রতিবেশী দেশে এই উগ্রবাদী সংগঠনগুলি ভারতের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (Jamaat-E-Islami)।” হাসিনা-পুত্র বলেন, “ভারত সরকার সব সময় আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করে।”

    হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ

    এদিকে, বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ছাত্র–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশকে ক্রমেই অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দেশকে সম্পূর্ণ উগ্রবাদিতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, “দেশটি এখন এমন উগ্রপন্থীদের হাতে রয়েছে, যাদের পেছনে মদত রয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিরও।” অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতাও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। তাদের দাবি, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস একজন পুতুল। তিনি সেই অনুযায়ী কাজ করছেন, যেভাবে তাঁকে দিয়ে করানো হচ্ছে।”

    জামাতের চিন সফর

    প্রসঙ্গত, চলতি (Sheikh Hasina) বছরের জুলাই মাসে ফের চিন সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন জামাত ইসলামির একটি প্রতিনিধি দল। ৯ সদস্যের ওই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সংগঠনের প্রধান সফিকুর রহমান। মাসখানেকর মধ্যে ওটাই ছিল তাদের দ্বিতীয় চিন সফর। বাংলাদেশের ওই মৌলবাদী সংগঠনের ঘন ঘন চিনে যাতায়াতকে ভালো চোখে দেখেননি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরাও। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, চিন-জামাতের সখ্যতা বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জন্য আদৌ কোনও ভালো ইঙ্গিত দেয় না। একই সঙ্গে এটি সুখকরও নয় (Jamaat-E-Islami)।

    চিনা দূতাবাসে জামাত নেতারা

    এর আগে ঢাকায় থাকা তাদের দূতাবাসে জামাত নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চিন। ওই ঘটনাকে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ভারত। কারণ জামাত প্রকাশ্যেই নানা সময় ভারত বিরোধী মন্তব্য করে থাকে। সেক্ষেত্রে চিন জামাতকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে উসকানি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে। যদিও এনিয়ে ভারত কিংবা বাংলাদেশের সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচন হতে পারে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের ‘নৌকা’ বাদ দিয়েই। তবে এই নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব করার দাবি জানিয়েছিল জামাত। গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে এনিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে এই মৌলবাদী সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, ঢাকার ওই সমাবেশ থেকেই জামাত ইসলামি জানিয়ে (Jamaat-E-Islami) দিয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার ও সংসদকে কাজ করতে হবে ইসলামি বিধি-বিধান অনুযায়ী (Sheikh Hasina)।

    এহেন আবহে হাসিনা-পুত্রের ভারতের প্রতি এই সতর্কবার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বই কি!

LinkedIn
Share