Tag: Sheikh Hasina

Sheikh Hasina

  • Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) ভারত সরকার দু’বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।

    নয়াদিল্লিতে (India) গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও ভারত সফরে যাননি তিনি। তাঁর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত বার্তাও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারত।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তিনি দু’টি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।” তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু শুনিনি।”

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য (Tarique Rahman)

    ভারতের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে।

    হুমায়ুন কবিরের কথায়, “আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

    ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।

    এর আগে জুলাই মাসেও বাংলাদেশের (Tarique Rahman) বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    দ্বিপাক্ষিক সফরেই জোর ঢাকার

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে না হয়ে দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

    আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হলেই সফরটি হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তারেক রহমান

    ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাঁর। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

    সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রসংঘ”।

    নিউইয়র্ক সফরে তারেক রহমান বাংলাদেশের (Tarique Rahman) দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করার কথা (India) রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ আলোচনা হবে বলেও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

     

  • Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পিছনে ফেলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, বহুপাক্ষিক মঞ্চের পরিবর্তে সরাসরি (BRICS Summit) দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায় বাংলাদেশ।

    এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এসব চুক্তির কোনগুলি বহাল থাকবে, কোনগুলি সংশোধন করা হবে এবং কোনগুলি বাতিল করা হতে পারে, তা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ চায় ঢাকা (Bangladesh)

    হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের উচিত নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা।

    তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগোতে চাই। এই সম্পর্ক বহুপাক্ষিক মঞ্চের মাধ্যমে নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতকে নিয়ে এই অতিরিক্ত মোহ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত অন্য সব দেশের মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা উচিত।”

    ভারতকেন্দ্রিক অতিরিক্ত মনোযোগ বোঝাতে তিনি বলেন, “ভারতে প্রাতরাশ, ভারতে মধ্যাহ্নভোজ, ভারতে নৈশভোজ—তা হলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?”

    হুমায়ুন কবির আরও জানান, শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসন কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক “অস্বস্তিকর” হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোতে চায় (Bangladesh)।

    ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে ঘিরে টানাপোড়েন

    সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের এই বার্তার ঠিক আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষের আমন্ত্রণ ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকেই দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণও ছিল (BRICS Summit)।

    দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০১টি সমঝোতা স্মারক-সহ চুক্তিগুলি পর্যালোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানতে পারবেন (Bangladesh)।”

    চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও ওঠে। নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি জাহাজ বন্দরে এলে বিদেশি জাহাজ সুবিধা পেত। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন বা বাতিল করার কথাও জানান তিনি।

    তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

    হাসিনা প্রসঙ্গ এখনও সম্পর্কে বড় বাধা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে (Bangladesh)।

    এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ঢাকা অতীতের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যেতে চাইছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক

    এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারেকের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এই ধরনের বৈঠক অনেক ক্ষেত্রেই শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয় (BRICS Summit)।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখা। পার্শ্ববৈঠকগুলির বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে (Bangladesh)।

    সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার সম্পর্ক পুনর্গঠনের স্পষ্ট বার্তা এল। তবে সেই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি হবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং (BRICS Summit) দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা (Bangladesh)।

     

  • Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান, সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। মুজিব কন্যা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হলেও আদালতের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সি আওয়ামি লিগ নেত্রী। তবে একইসঙ্গে শেখ হাসিনার দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনও পূর্বনির্ধারিত রায়ের ভিত্তিতে বিচার হলে তা ন্যায়বিচার হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    ‘বাংলাদেশ আমার দেশ, দায়িত্বও আমার’

    বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা (Hasina on Returning Bangladesh) বলেন, বাংলাদেশই তাঁর দেশ এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছি। আমার মা, ভাই এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে বাংলাদেশের মাটিতেই হত্যা করা হয়েছিল। আমার শিকড় সেখানে, আমার মানুষ সেখানে, আমার দায়িত্বও সেখানে।’’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, এমন সময়ে দেশের বাইরে থেকে তিনি রাজনীতি করতে চান না। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘‘আমি ফিরতে চাই। এই কঠিন সময়ে আমি আমার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি আদালতের মুখোমুখি হতে এবং নিজের পক্ষে সওয়াল করতে প্রস্তুত। কিন্তু বিচার মানে পূর্বনির্ধারিত রায় নয়।’’

    ক্ষমতা দখল নয়, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দাবি

    দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ক্ষমতা পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগের সমর্থকদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকেই নিতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ভারতের বন্ধুত্বকে তিনি সবসময়ই মূল্য দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। ভারত তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। হাসিনার বক্তব্য, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং প্রত্যর্পণের বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঠিক হবে।

    মৃত্যুদণ্ড নিয়েও ‘ভয় নেই’

    নিজের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া কোনও মৃত্যুদণ্ডকে সত্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজের বক্তব্য পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসিনার কথায়, ‘‘আদালতে আমাকে হাজির হতে দিন। আমাকে প্রমাণ পেশ করতে দিন। আমার আইনজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। সাক্ষীদের জেরা করতে দিন। প্রমাণকেই কথা বলতে দিন।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আদালত, আইন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ‘আমার বিরুদ্ধে ১৯ বার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা’

    বাংলাদেশে ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত বলেও জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার দাবি, তাঁর জীবনে ১৯ বার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হত্যার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ২০০৪ সালের আগস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সেই হামলার লক্ষ্য ছিল তাঁকে এবং আওয়ামি লিগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। তিনি বলেন, ‘‘আমি কারাবাস, সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং বারবার হুমকির মুখোমুখি হয়েছি। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই সবকিছু হতে পারে না। মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে যা আসবে, তার মুখোমুখি হওয়াই আমি বেছে নেব।’’

    নিজের সরকারের কাজের সাফাই

    নিজের দীর্ঘ শাসনকালের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণই তাঁর সরকারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, ভূমিহীনদের জন্য ঘর ও জীবিকার ব্যবস্থা, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। হাসিনার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল।

    আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়নের’ অভিযোগ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামি লিগের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হামলা ও ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামি লিগের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিককে এমনভাবে দেখা হচ্ছে যেন নিজেদের দেশেই তাঁদের কোনও রাজনৈতিক অধিকার নেই। তবে আওয়ামি লিগ বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাসিনার কথায়, ‘‘আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ছেড়ে যাব না। আওয়ামি লিগ মানুষের কাছে ফিরে আসবে, কারণ আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্যই।’’ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েও আদালতে নিজের বক্তব্য রাখার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে।

     

     

     

     

     

  • Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিজের দেশে ফিরতে চান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তে নয়, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দেশে ফিরতে চান। ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই হাসিনা ভারতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দেশে ফেরার ইচ্ছা, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।

    হাসিনার সাফ কথা (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি। তিনি কেন এতে আপত্তি করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাব। আমি কি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার নিজের মানুষের কাছে ফিরতেই হবে।”

    হাসিনার উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লি থেকে ৫ অগাস্ট তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় বাংলাদেশ ও ভারত তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    এমনকি তারেকের ভারত সফরের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকেও শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। ভারত ইতিমধ্যেই তারেককে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ যোগাযোগমূলক অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

    বিএনপি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

    হাসিনা অবশ্য বিএনপি সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি সরকার ভারতে বসে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের বিরোধিতা করলেও অতীতে তারেক নিজেই লন্ডনে থাকাকালীন বিএনপির বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে বসবাসের সময় রাজনীতিতে অংশ নেবেন না বলে অঙ্গীকার করার পরেও, তারেক বিএনপির ভার্চুয়াল রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থান এবং অতীতের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সত্য কথা বলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থান ঘটলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহার করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি হয় (Sheikh Hasina)।

    সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ

    হাসিনা বলেন, “সত্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থানের সুযোগ দেওয়া হলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন বোধ করলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করা হলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দেশে যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Tarique Rahman)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই সময়েই দেশের জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে হাসিনা সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

    যুদ্ধবিমান কেনায় প্রশ্ন

    তিনি বলেন, “এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য এত অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন আপনারা বিএনপি সরকারকেও করুন।”

    বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে “আর একটি পাকিস্তানে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে (Sheikh Hasina)।

    হাসিনা আরও বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে (Sheikh Hasina)।”

    হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর দেশে ফেরা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই তিনটি বিষয়ই আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    তবে হাসিনার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্নটিকে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্য কোনও নেতার বিদেশ সফরের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত এবং সেই কারণেই তিনি ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন (Tarique Rahman)।

    হাসিনার বার্তা

    এদিকে, তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, উগ্রপন্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার—এই সব প্রশ্নকে সামনে রেখে হাসিনা বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর বক্তব্যে একটি বার্তা রয়েছে। সেটি হল, দুই দেশের সম্পর্কের স্থায়িত্ব কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে না, বরং গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলিও তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত (Sheikh Hasina)।

     

  • Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র (Direct Action Day) ৭৮তম বার্ষিকী মনে করিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কত দ্রুত একটি সভ্যতাকে গ্রাস করতে পারে। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট মুসলিম লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই উপমহাদেশের ইতিহাসে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহতম হিংসার অন্যতম ঘটনায় পরিণত হয় (Calcutta Horrors History)। আজ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নতুন করে হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায়, ১৯৪৬-এর সেই অন্ধকার দিনের স্মৃতি ফের আলোচনায় এসেছে।

    পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ (Direct Action Day)

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্টের ঘটনাকে আকস্মিক দাঙ্গা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমনটাই দাবি করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে। মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আহ্বানকে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পাকিস্তান গঠনের দাবি মেনে নিতে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    রমজানের ১৭তম দিনের সঙ্গে কর্মসূচিটির সময় মিলে যাওয়াকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে এই দিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিটির মধ্যে ধর্মীয় বিজয়ের ঐতিহাসিক বয়ানের রাজনৈতিক ব্যবহার ছিল।

    কলকাতায় কর্মসূচির আগে ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে আসে। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৬ অগাস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসলিমের সমাবেশ নিশ্চিত করেছিলেন।এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    কলকাতা ময়দানের বিশাল সমাবেশে প্রায় এক লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের হাতে ছিল লোহার রড, লাঠি এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সংগঠিত দলগুলি কলকাতার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত।

    ৭২ ঘণ্টার ভয়াবহতা

    পরবর্তী তিন দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে হিন্দুদের দোকানপাট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর আবাসিক এলাকাগুলিতেও হামলা শুরু হয়। আমহার্স্ট স্ট্রিট, বোরতলা ও জোড়াসাঁকোর মতো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম হিসাবেও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, আবার কিছু সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। মাত্র তিন দিনের মধ্যে এক লাখেরও বেশি হিন্দু গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।

    হামলার নৃশংসতার বিবরণ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা, হত্যা, অঙ্গহানি এবং মৃতদেহের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপ ট্যালবট সেই সময়ের কলকাতার রাস্তায় বিকৃত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ, ঠেলাগাড়িতে স্তূপ করে রাখা মৃতদেহ এবং নর্দমায় পড়ে থাকা মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা করেছিলেন (Direct Action Day)।

    হামলার লক্ষ্য শুধু মানুষ বা সম্পত্তি ছিল না। হিন্দু মন্দিরে হামলা, ধর্মীয় প্রতীক অপবিত্র করা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। কলকাতা ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হতে পারে—এই ধারণা থেকেই হিন্দুদের উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হিন্দু প্রতিরোধ

    এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত, হিন্দুদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী, এবং ‘ভারতীয় জাতীয় বাহিনী’র নেতা ছিলেন। তাঁর সংগঠনে ৭০০ থেকে ৮০০ জন সদস্য ছিলেন (Calcutta Horrors History)।

    স্থানীয় কুস্তিগির ও মাংসের দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত গোপাল পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্ন শ্রেণির হিন্দু যুবকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক, দুধওয়ালা, কামার এবং মারওয়াড়ি ব্যবসায়ীরা। আর্থিক সাহায্যও মিলেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অস্ত্র এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় জোগাড় করা অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর বাহিনী ১৮ অগাস্ট পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে। প্রথমে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল তাঁদের কৌশল।

    এই পাল্টা প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়। তিন দিনের মধ্যে মুসলিম পক্ষের হতাহতের সংখ্যা হিন্দুদের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর সোহরাওয়ার্দী গোপালের কাছে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দূত পাঠান। ২১ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দী সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক প্রশমিত হয় কলকাতার হিন্দু জনসংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি।

    সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র ঘটনাপ্রবাহে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য দফতরের দায়িত্বও ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রচারের ওপর তাঁর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল।

    জানা গিয়েছে, ভয়ঙ্কর হিংসার সময়ও পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কার্যত হামলাকারীদেরই সাহায্য করেছিলেন। দাঙ্গার সময় তিনি পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষগুলিতে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

    মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানকে অসম্ভব করে তুলে দেশভাগের পক্ষে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করা। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই হিংসার ভূমিকা ছিল।

    কলকাতার বাইরে বাংলার গ্রামাঞ্চলেও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে নোয়াখালির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড একই ধরনের সংগঠিত হিংসার উদাহরণ (Calcutta Horrors History)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ১৯৪৬-এর সঙ্গে তুলনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দু’হাজারেরও বেশি হিন্দুবিরোধী হিংসার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫২টি মন্দিরে হামলা এবং ২৩ জন হিন্দুর মৃত্যুও রয়েছে (Direct Action Day)।

    এই ঘটনাগুলিকে ১৯৪৬ সালের কলকাতার হিংসার সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলার ধারা এখনও দেখা যায়।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাতের পরিবর্তনকেও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৪০ সালে যেখানে হিন্দুদের অনুপাত প্রায় ২৮ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং দেশত্যাগের মতো কারণ।

    ২০২১ সালে দুর্গাপুজোর সময় হামলা, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর জামাত-সমর্থিত হিংসার অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা-পরবর্তী হামলাকে একই ধারার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই ধরনের হামলা আরও দ্রুত সংগঠিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন

    হিন্দুদের ওপর হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছে বারংবার। পশ্চিমি সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি হিন্দুবিরোধী হিংসাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের নীরবতা হামলাকারীদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ করে দেয়।

    বীর সাভারকরের পুরনো সতর্কবার্তাকেও এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আনা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কংগ্রেসের তোষণনীতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত হিন্দুদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। পরবর্তী ইতিহাসের আলোকে সেই আশঙ্কাকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে (Direct Action Day)।

    ইতিহাসের শিক্ষা কী?

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখনও পুরোপুরি গ্রহণ করা হয়নি—এমনটাই এই বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য (Calcutta Horrors History)। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সংঘাত যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন একটি সমাজে সহাবস্থান গুরুতরভাবে বিপন্ন হতে পারে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন—এমন দাবিও করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় আদর্শগত নেটওয়ার্কগুলির ভূমিকা নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও বলে অভিমত প্রতিবেদন লেখকের। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট কলকাতার রাস্তায় সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন জ্বলেছিল, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিধ্বনি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতীতের ঘটনাগুলিকে স্বীকার করা, বিশ্লেষণ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা (Direct Action Day)।

     

  • India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Talks)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে হবে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই হল এই বৈঠক। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়াদিল্লিতে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত ব্রিকসের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে বলেই আশা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংগঠনে বর্তমানে ১১টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেকের বৈঠক (India Bangladesh Talks)

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখা যায় তারেককে একটি শাল উপহার দিতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে, রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমাতেও এই বৈঠকের ভূমিকা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আলোচনায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা

    তারেকের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনও বড় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই কূটনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়েই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেককে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। অর্থাৎ শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেকের পৃথক রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়েও ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে (Tarique Rahman)।তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেকের নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি

    বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। গত বুধবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (India Bangladesh Talks)। হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও, পিছিয়ে যাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে দিতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। তবে আমি আমার জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য দেশে ফিরে যাব।” হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই ওই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তারপরেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার ওই বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

    ভারতকে ‘মহান বন্ধু’ আখ্যা হাসিনার

    তবে একই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকটের সময় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন হাসিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা নয়। বরং বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য (India Bangladesh Talks)। হাসিনার এই বক্তব্যের পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক (Tarique Rahman) পর্যবেক্ষকেরা।

    সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা কি মিলছে?

    পরপর দু’দিনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ—এই দু’টি বিষয়ই এখন ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে (India Bangladesh Talks) করা হচ্ছে। আবার তিনি সম্মেলনে না গেলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ, ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার তরফে এখনও কোনও ঘোষণা করা আসেনি। আবার, ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে হাসিনা এবং তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে (Tarique Rahman) কূটনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে এগোয় এবং ব্রিকস সম্মেলনে তারেক যোগ দেন কি না, এখন সেটাই দেখার (India Bangladesh Talks)।

     

  • India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ৫ অগাস্টের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক (India)। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে করা কোনও মন্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। এতে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। ওই মঞ্চে যা বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে করা মন্তব্যগুলিকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।” ৫ আগস্ট হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার নয়, একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছিল।

    কী বললেন হাসিনা (India)

    বুধবারের ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা জানান, জেলবন্দি হওয়া কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর কথায়, দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। তার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা। শুধু অডিওর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁর বক্তব্য শুনতে পান। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে পাঠাতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। কিন্তু আমি আমার মানুষের সঙ্গে থাকতে দেশে ফিরব।”

    পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ

    তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা নয়। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ পুনরুদ্ধার করাই তাঁর লক্ষ্য (India)। হাসিনার কথায়, “আমার জন্য যে পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছেন, তখন আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পারি না।” বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও গোপন আলোচনা বা পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    ভারত মহান বন্ধু

    ভারতকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, “কঠিন সময়ে নয়াদিল্লি সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।” গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়নের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের যে আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি ওই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছিল।বাংলাদেশে জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষত নিরাময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, যারা অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড

    ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে তাঁর সরকারের দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য (Sheikh Hasina) রাখেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং ভারতের (India) পূর্ব সীমান্তে দেশটি আরও একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের অভিযোগ, ভারতের মাটি ব্যবহার করে হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়েছেন। ঢাকার দাবি, এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও, নয়াদিল্লির (India) কাছ থেকে এখনও কোনও জবাব না পাওয়ায় দুঃখপ্রকাশও করেছে বাংলাদেশ।

  • Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) মাগুরার বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগ। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে (Bangladesh) কেউ ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। হামলায় কেউ আহতও হননি।

    শাকিবের বাড়িতে হামলা (Shakib Al Hasan)

    স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শাকিবের বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে, পরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় বাড়িতে পেট্রলবোমাও ছোড়া হয়। যদিও পুলিশ পেট্রলবোমা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বাড়িতে ইটের টুকরো ছুড়ে জানালা ভাঙচুর করেছে। তারা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে।” হামলার সময় শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো বিকট শব্দ শোনা যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকেও প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো শব্দ। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।  শাকিব মাগুরা-১ কেন্দ্রের প্রাক্তন আওয়ামি লিগ সংসদ। ঘটনার পর তাঁর বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীরা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ

    শাকিবের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণে অংশ নেওয়া একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে শাকিবের যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই। দক্ষিণ এশিয়ার বিদেশি সংবাদদাতাদের সংগঠনের উদ্যোগে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন মোকাবিলায় তাঁর সরকারের ভূমিকার পক্ষে সাফাই দেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না, ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সরকার পরিবর্তনের একটি ছক। অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছিল।আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণের কারণেই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও হামলার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানের কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ পায়নি। হামলাকারীদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি (Bangladesh)।

    রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিতর্কে শাকিব

    বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত শাকিব দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগ থাকায় তিনি একই সঙ্গে বিতর্কিতও হয়ে উঠেছেন (Shakib Al Hasan)।২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামি লিগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হন শাকিব। বিরোধী একাধিক দল ওই নির্বাচনকে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হিসেবে সমালোচনা করেছিল। ওই বছরের অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়। বুধবারের বক্তব্যে হাসিনা তাঁর দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও, বাংলাদেশে ফেরার আসার ইচ্ছার কথাও ফের জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণ আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে এনেছে।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেননি শাকিব

    হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শাকিব আর বাংলাদেশে ফেরেননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায়ও তাঁকে একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক একাধিকবার বলেছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় বসবাস করছেন শাকিব। সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলছেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।বাংলাদেশ (Bangladesh) ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য আগে একবার জানিয়েছিল, জাতীয় দলে শাকিবের ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি (Shakib Al Hasan)।

     

  • Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছর পরে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বুধবার এক প্রকাশ্য ভাষণে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে কবুল করেছেন হাসিনা। তবে কোনও ভয়ই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।

    ‘হত্যাও করা হতে পারে’ (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি এবং ছ’বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ফের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘আমি ফিরতে চাই’

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ফিরতে চাই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং শান্তির অধিকারী। তারা এমন একটি রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারী, যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিল এবং এমন একটি অর্থনীতি পাওয়ার অধিকারী, যা তাদের সামনে সুযোগ তৈরি করবে। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে ফিরতে চাই। সমস্ত ক্ষমতার উৎস হল জনগণ।” দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেও দাবি করেন হাসিনা। বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি… এ সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এ সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।”

    ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

    ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে হাসিনা জানান, তাঁর সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই (Bangladesh) আন্দোলন কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সামনে রেখে হিংসা ও সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। হাসিনা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের সত্যটা আমি আপনাদের জানাতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র প্রতিবাদও ছিল না।” আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sheikh Hasina)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন পুলিশ ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং সেগুলি লুট করা হয়, তখন মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার কি রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব নেই?” হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই হিংসার ঘটনার তদন্ত এবং প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য তিনি একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা।”

    ভারতকে ‘চিরকালের বন্ধু’ বললেন হাসিনা

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে হাসিনার বক্তব্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তিনি “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান—এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই ভারতের সকলেই এ বিষয়ে জানবেন।” গত দু’বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে একজন সরকারপ্রধানকে যে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে (Sheikh Hasina)। তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দিচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করছে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মতো পূর্ণ নিরাপত্তায় এখানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে (Bangladesh)।”

    বাংলাদেশের ক্ষোভ

    হাসিনার এই বক্তব্যের পর দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে হাসিনাকে “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তাঁকে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে “বিষোদ্গার” করেছেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি প্রকাশ্যে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে (Sheikh Hasina)।

    ভারতের বক্তব্য

    তবে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যে যোগাযোগের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই (Bangladesh)। ওই মঞ্চে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, সরকার তার (Sheikh Hasina) কোনওটিই সমর্থনও করে না।”

     

  • Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার দু’বছর পর বুধবার প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা! দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক

    Sheikh Hasina: দেশ ছাড়ার দু’বছর পর বুধবার প্রকাশ্যে আসছেন হাসিনা! দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশে ফেরার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন। এবার দিল্লির গোপন বাসভবন ছেড়ে প্রকাশ্যে আসছেন মুজিব কন্যা। আগামী বুধবার দিল্লির দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেটস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেই সম্মেলনের পুরোটাই ভার্চুয়াল মাধ্যমে হবে। সূত্রের খবর, ৫ আগস্ট ক্লাবের স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়ামে সন্ধে ৬টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই সাংবাদিক সম্মেলন হবে। সেখানে হাসিনা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেশ ছাড়ার পর প্রথম গণমাধ্যমের সামনে

    ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসেন। সেই সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ভারতে আসার পর শেখ হাসিনা লিখিত ও ই-মেইল সাক্ষাৎকার এবং দলীয় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে এটিই হবে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ। এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও তৎকালীন সাংসদ সাকিব আল হাসান, প্রাক্তন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন এবং মানবাধিকারকর্মী মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক ও শাহ মো.বখতিয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি দক্ষিণ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।

    বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা

    শেখ হাসিনা এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনার বক্তব্য, দেশে ফিরে তিনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এসব মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ব্রিকস সম্মেলন-এর আগে কী ইঙ্গিত

    আগামী সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, এই আমন্ত্রণ তারা খতিয়ে দেখছে। কয়েকদিন আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকে বলা হয়, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জল্পনা চলছিল, ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করলে তারেক দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আসবেন। হাসিনার আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে, দেশে ফেরার আগে এই সাংবাদিক সম্মেলন। এর ফলে জল্পনা তুঙ্গে যে, সব পক্ষের ‘ব্যাক চ্যানেল’ আলোচনার পর ঠিক হয়েছে, ভারত হাসিনাকে ফেরত পাঠাচ্ছে, এই বার্তা না দিয়ে হাসিনাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন—এই বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

    দেশে ফিরলেই গ্রেফতার!

    অন্যদিকে, বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তাঁকে ভারতে থেকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদনও করেছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

LinkedIn
Share