Tag: Shinkansen Technology

  • High Speed Rail Projects: দেশে হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কে বড় পদক্ষেপ, অনুমোদন পেল ৭টি নয়া বুলেট ট্রেন করিডর

    High Speed Rail Projects: দেশে হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কে বড় পদক্ষেপ, অনুমোদন পেল ৭টি নয়া বুলেট ট্রেন করিডর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক এবং দ্রুততর করতে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রকে সংযুক্ত করতে সাতটি নয়া বুলেট ট্রেন (Bullet Train Corridors) বা হাই-স্পিড রেল করিডরের (High Speed Rail Projects) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে একাধিক শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমে যাবে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

    অনুমোদন পাওয়া হাই-স্পিড রেল করিডর (High Speed Rail Projects)

    কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়া হাই-স্পিড রেল করিডরগুলির মধ্যে রয়েছে— মুম্বই–আমদাবাদ (যাত্রার সময় হবে মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট), মুম্বই–পুনে (মাত্র ৪৮ মিনিটে পৌঁছানো যাবে), বেঙ্গালুরু–চেন্নাই (সময় লাগবে ৭৩ মিনিট), বেঙ্গালুরু–হায়দরাবাদ (২ ঘণ্টা ১০ মিনিট), পুনে–হায়দরাবাদ (২ ঘণ্টা ৮ মিনিট), দিল্লি–লখনউ (মাত্র ২ ঘণ্টা), দিল্লি–বারাণসী (৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট), দিল্লি–শিলিগুড়ি (প্রায় ৬ ঘণ্টা)।রেলমন্ত্রকের মতে, এই করিডরগুলি চালু হলে সড়ক ও বিমান পরিবহণের ওপর চাপ কমে যাবে, খুলে যাবে দ্রুত, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের নয়া দিগন্ত। এদিকে, বিহারের ছাপরা জংশন থেকে আনন্দ বিহার টার্মিনাল পর্যন্ত একটি নতুন সাপ্তাহিক ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আরও দুটি নতুন ট্রেন পরিষেবারও সূচনা করা হয়, যা মৌল থেকে দিল্লি এবং জহিরঘাট থেকে বারাণসীর মধ্যে চলবে।

    কী বললেন রেলমন্ত্রী?

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশ্বিনী জানান, আগামী সাত-আট বছরের মধ্যে বিহার প্রায় ২০০টিরও বেশি নতুন ট্রেন পেতে চলেছে। রাজ্যে বর্তমানে ১.১৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তাঁর দাবি, বিহারে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন অভূতপূর্ব গতিতে এগোচ্ছে। রেলমন্ত্রী এও জানান, দিল্লি–বারাণসী–পাটনা বুলেট ট্রেন করিডর ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। এই হাই-স্পিড রেল প্রকল্প চালু হলে দিল্লি থেকে পাটনা পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই করিডরকে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর (Bullet Train Corridors) ফলে উত্তর ভারতের সঙ্গে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে (High Speed Rail Projects)।

    প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প

    উল্লেখ্য, ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প হিসেবে মুম্বই–আমদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডর ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। যদিও এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল তারও আগে (High Speed Rail Projects)। প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সফল হাই-স্পিড রেল প্রযুক্তি শিনকানসেন (Shinkansen)। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ভারত বিশ্বের সেই সব দেশের তালিকায় ঢুকে পড়বে, যেখানে চালু রয়েছে অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেন পরিষেবা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়া অনুমোদিত করিডরগুলি বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে (Bullet Train Corridors)। ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় সূচনা হবে এক নতুন যুগের (High Speed Rail Projects)।

     

  • NJP Varanasi Bullet Train: মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী, এনজেপি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেন! উত্তরবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মেগা চমক

    NJP Varanasi Bullet Train: মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী, এনজেপি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেন! উত্তরবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মেগা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক বড় অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশের বুলেট ট্রেন মানচিত্রে এবার জুড়তে চলেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির নাম। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত একটি অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেন করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হতে পারে।

    ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আবহে এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রেল সূত্রের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই প্রকল্পের ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (ডিপিআর) তৈরি হয়ে যাবে। এরপর তা রেল বোর্ডে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বোর্ডের সবুজ সঙ্কেত মিললেই শুরু হবে করিডর নির্মাণের কাজ।

    জুলাই থেকেই শুরু হতে পারে সমীক্ষা

    সূত্রের খবর, ‘ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (NHSRCL)-এর তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করা হয়েছে। এই দল আকাশপথ ও স্থলপথে সম্ভাব্য করিডর চিহ্নিত করার কাজ করবে।

    সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হবে—

    • ● চূড়ান্ত রুট নির্ধারণ
    • ● সম্ভাব্য স্টেশন চিহ্নিতকরণ
    • ● জমি ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমীক্ষা
    • ● প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন

    রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বুলেট ট্রেন চালু হলে বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে এনজেপি পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। বর্তমানে একই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে ট্রেনে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। এই করিডর পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যকে উচ্চগতির রেল যোগাযোগে যুক্ত করবে।

    জাপানের ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তিতে তৈরি হবে পরিষেবা

    ভারতে প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেই প্রকল্পের আদলেই শিলিগুড়ি-বারাণসী করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রেলের দাবি, এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে জাপানের অত্যাধুনিক ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তি। ট্রেনের নকশা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, নিরাপত্তা মানদণ্ড—সব ক্ষেত্রেই জাপানি প্রযুক্তির ছাপ থাকবে। মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের মতোই এই করিডরেও ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন ছুটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

    প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই আশাবাদী উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও পর্যটন মহল। তাঁদের মতে, বুলেট ট্রেন চালু হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, পর্যটন এবং বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বর্তমানে উত্তর ভারতের পর্যটকদের ডুয়ার্স, দার্জিলিং বা কালিম্পং পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগে। বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হলে বারাণসী ও উত্তর ভারতের অন্যান্য শহর থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিলিগুড়ি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে।

    এর ফলে—

    • ● ডুয়ার্স ও পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে
    • ● হোটেল ও পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়তে পারে
    • ● পরিবহণ ও লজিস্টিক খাতে উন্নতি হতে পারে
    • ● স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে

    শিলিগুড়ির তিন দিকে তিন আন্তর্জাতিক সীমান্ত!

    শিলিগুড়ি, যা ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের উপর অবস্থিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত সড়ক ও রেলপথ এই সরু ভূখণ্ডের উপর দিয়েই গিয়েছে। তাই একে বলা হয়ে থাকে, ‘উত্তরপূর্বের দুয়ার’। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বিদেশসচিব ও বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা শিলিগুড়ি অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদীয় কেন্দ্র, যার সঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত যুক্ত রয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে ভুটান এবং দক্ষিণে বাংলাদেশ রয়েছে। আর একটু উত্তরে গেলেই চিন সীমান্তও এসে যায়।”

    এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দোরগোড়ায় উত্তরবঙ্গ

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হাই-স্পিড রেল করিডর ভবিষ্যতে অসমের রাজধানী গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রাজ্যগুলির সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বুলেট ট্রেনে মানুষ অতি কম সময়ে বারাণসী পৌঁছে যেতে পারবেন। উত্তরবঙ্গ এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ শিলিগুড়িকে শুধুমাত্র একটি ট্রানজিট শহর হিসেবে নয়, বরং পূর্ব ভারতের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

    বাগডোগরা বিমানবন্দর ও এনজেপি স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ

    এলাকায় আরও একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনের ব্যাপক আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন সিভিল এনক্লেভ নির্মাণে প্রায় ১,৫৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে ৭০,৩৯০ বর্গমিটারের অত্যাধুনিক টার্মিনাল তৈরি হবে, যা একসঙ্গে ৩,০০০ জন পিক আওয়ার যাত্রী সামলাতে পারবে এবং বছরে প্রায় ১ কোটি যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এই প্রকল্পের আওতায় এ-৩২১ ধরনের বিমানের জন্য ১০টি পার্কিং বে-সহ নতুন অ্যাপ্রন, দুটি লিঙ্ক ট্যাক্সিওয়ে এবং মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং সুবিধাও তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে বাগডোগরা একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share