Tag: Shyaam Steel Plant

  • Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্যাম স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটলে ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পের উদ্বোধনে শুক্রবার বাঁকুড়ায় গিয়ে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ফের রাজ্যের বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পকে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে। তারা কিছুই করে যায়নি শিল্পের জন্য। এমনকী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।”

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে

    বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা এলাকার জমি সব বৃষ্টিনির্ভর ও একফসলি। সেখানেই মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিলের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আগেই হয়েছে। এখন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কারখানার সম্প্রসারণ করতে চলেছেন। কোম্পানি সূত্রে খবর, কোম্পানির ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টকে আরও বৃহৎ ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে বাঁকুড়া জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে বিনিয়োগের জন্য এসেছি। প্রচুর মানুষের কাজ হবে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম— এই সব জায়গায় শিল্প না আনতে পারলে, এখানকার উন্নয়ন হবে না। অনুসারী শিল্পের প্রসারও ঘটবে না। এখানকার প্রত্যেকটা গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছেন কাজের জন্য। তারাও ফিরে আসবেন না। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা বাংলার পক্ষে ভালো উদ্যোগ।’

    মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তর প্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।” এদিন তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, দশকের পর দশক ধরে বাংলা বঞ্চনার শিকার। আগের সরকার শিল্পকে অবহেলা করেছে। বর্তমান সরকার শিল্প আনতে চায়। এই সরকারের সঙ্গে শিল্পপতিদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক নয়। বাংলার যে শিল্পায়নের কথা বলছি আমরা, তার তো পার্টনার শিল্পপতিরা। এত দিন যে বিজ়নেস সামিট হয়েছে, সে সব বোগাস। ও সব ঢক্কানিনাদ। আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখলাম, আমিই তো স্টার্ট আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা কিছুই রেখে যাননি, কিছুই করে যাননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

    কারাখানা বন্ধ করলেই কড়া পদক্ষেপ

    কারখানায় তালা বন্ধ করলেই হাজতবাস। কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। এজন্য গুন্ডা দমন আইন আনা হয়েছে। কারখানার গেটে তালা লাগালে গ্রেফতার হবে। কারখানা ভেঙে দিলে তিনগুণ আদায় করব। কারখানায় ভাঙচুর করলেই অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব।”

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “৩৪ বছর বামেদের আমলে গুলি করে জমি নিয়েছে। তৃণমূল গত ১৫ বছরে বলেছে আমরা জমি দিতে পারব না, শিল্পপতিরা নিজেরা জমি কিনে নিক। আমরা জমি কিনে শিল্পপতিদের দেব। রাজ্য সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। পঞ্চায়েত পুরসভায় অনুমতি নিতে হলে আগে শুনতে হত আমাদের একটু দেখুন। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভায় আপনাদের যেতে হবে না। এবং প্রথম ২ বছর জল, বিদ্যুৎ সব দেব। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে কেউ আসবে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। এই সরকার পরিকাঠামোর জন্য এয়ারপোর্ট, রেল, সি-পোর্ট সব করে দেবে।”

LinkedIn
Share