Tag: Siberia

Siberia

  • PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    PM Modi: তীব্র গরমে পুড়ছে ভারতের একাধিক শহর, প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন বিরোধীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখনও মে মাস শুরুই হয়নি। তার আগেই তীব্র গরমে পুড়ছে (Heatwave) ভারতের বেশ কয়েকটি শহর। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশ-সহ ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিরোধী শিবির ও তাদের সমর্থকরা দেখাতে চাইছে, এই ঘটনা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (PM Modi)। যদিও একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কিছু কারণ থাকলেও, বেশি করে রয়েছে প্রাকৃতিক কারণ।

    সুপার এল নিনো (PM Modi)

    পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে সুপার এল নিনোর কারণে। এটি সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত তাপ সংগ্রহ করে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ঘটনাবলী আগামী বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়াতে পারে এবং নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে ভারতের সমতলভূমিকে গ্রাস করা তীব্র গরম বৃহত্তর এক আবহাওয়াগত ধাঁচের অংশ, যা ছ’সপ্তাহ আগে উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়ায় শুরু হয়েছিল।

    তাপমাত্রা মোকাবিলায় পদক্ষেপ

    এদিকে, এপ্রিলের শুরুতে বিভিন্ন অংশীদার একজোট হয়ে গ্লোবাল হিট হেল্থ ইনফর্মেশান নেটওয়ার্ক (GHHIN)-এর সাউথ এশিয়া হাব (South Asia Hub) গঠন করেছে। এর কারণ হল ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় সহযোগিতা ও উদ্ভাবন বাড়ানো যায়। এটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি (IITM) এবং ইন্ডিয়া মেটিওরোলজি (India Meteorological Department)-এর সঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য, জলবায়ু তথ্যকে স্বাস্থ্যসেবামূলক পদক্ষেপে রূপান্তরের জন্য একটি অভিন্ন আঞ্চলিক পরিকাঠামো তৈরি করা। বিশ্ব এই পরিবর্তনের সঙ্গে লড়ছে এবং সমাধান খুঁজছে। অন্যদিকে, ভারতীয় বিরোধী দল ও বাম-উদারপন্থীরা অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সরকারকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত।

    মোদি সরকারকে দোষারোপ

    সমালোচকেরা নানা অদ্ভুত অজুহাত খাড়া করে মোদি সরকারকে দোষ দিচ্ছেন। ‘এপিক ম্যাপস’ ভারতের বাড়তে থাকা তাপমাত্রার একটি মানচিত্র প্রকাশ করে এটিকে কেবল ভারতের অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখায়, অথচ পাকিস্তান, ইয়েমেন, থাইল্যান্ড, মায়ানমার-সহ আশপাশের দেশগুলির তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি গোপন রাখে (Heatwave)। কংগ্রেস নেতা শ্রীনিবাস বিভি এই অসম্পূর্ণ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেন। দিয়া মির্জা একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তাতে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (Forest Conservation Amendment Act)-এর মাধ্যমে বন ধ্বংস ত্বরান্বিত হয়েছে। কারবারি আনসারির অভিযোগ, মোদি শুধু হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি করে ভোট কুড়োতে চান, জলবায়ু পরিবর্তন বা গরম নিয়ে তিনি উদাসীন।

    নিট-জিরো এমিশন

    যদিও বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ঘন বনভূমি বৃদ্ধি, ২০৭০ সালের মধ্যে নিট-জিরো এমিশন (net-zero emission) অর্জনের অঙ্গীকার করেছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে (PM Modi)। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এআইসিসির সম্পাদক গৌরব পান্ধির দাবি, কংগ্রেস আমলে পরিস্থিতি ভালো ছিল, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। দীনেশ ওয়াদেরা বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নয়নের ‘কংক্রিট উদ্যোগ’ই সমস্যার কারণ।” সুধীর যাদবের অভিযোগ, আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত জমি ও বন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ায় কাটা হয়েছে লাখ লাখ গাছ।

    “হিট ডোম”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে গরমের প্রকৃত কারণ বহুস্তরীয়। কম বাতাস, উচ্চচাপ বলয় এবং মেঘের অভাবের কারণে তাপ ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকে। ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন্স (Indo-Gangetic plains) ও পূর্ব ভারতের ওপর তৈরি হওয়া “হিট ডোম” একটি বড় কারণ। এ বছর পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও দুর্বল হয়েছে। তাই কম বৃষ্টি হয়েছে (Heatwave)। বাম-উদারপন্থীরা দাবি করলেও, ভারত বিশ্বের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, এ কথা পুরোপুরি ঠিক নয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাটা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের গড় পৃষ্ঠতাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেড়েছে ধীরে (PM Modi)।

    ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেন

    দূষণ থেকে উৎপন্ন এরোসলস (aerosols) সূর্যালোক ছড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় ভূমির ওপর সৌর বিকিরণ। এগুলি দক্ষিণ এশিয়ার ওপর এক ধরনের প্রতিফলক আবরণ তৈরি করে। এছাড়া, ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক প্লেনে (Indo-Gangetic plain) ব্যাপক সেচ বাষ্পীভবন বাড়িয়ে প্রাকৃতিক শীতলতা তৈরি করে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের ইআরএ৫ ডেটাসেট অনুযায়ী, নয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপ প্রতি দশকে প্রায় ০.৫৩°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হয়েছে, যা একে পরিণত করেছে দ্রুততম উষ্ণ হওয়া মহাদেশে। আর্কটিক আরও দ্রুত, প্রতি দশকে প্রায় ০.৬৯°সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের বড় অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, প্রতি দশকে ০ থেকে ০.২°সেলসিয়াস।

    বস্তুত, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহ একটি বাস্তব ও গুরুতর সমস্যা। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও আন্তরিক প্রচেষ্টা দরকার। কিন্তু বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকেরা বাস্তব সমাধানের বদলে রাজনৈতিক আক্রমণে বেশি (Heatwave) মনোযোগী। সরকার বদলালেই বিশ্বের জলবায়ুগত বাস্তবতা বদলে যাবে না (PM Modi)।

     

  • Sunlight: দিনেও অন্ধকারাচ্ছন্ন গোটা গ্রাম! কীভাবে প্রবেশ করানো হল সূর্যের আলো?

    Sunlight: দিনেও অন্ধকারাচ্ছন্ন গোটা গ্রাম! কীভাবে প্রবেশ করানো হল সূর্যের আলো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানুষের কারিগরি প্রতিভা ও চিন্তাধারা কতটা উন্নতমানের হতে পারে, তা ইতালির ভিগানেলা গ্রামের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। পৃথিবীর মানচিত্রে এই গ্রামের নাম খুঁজে না পাওয়া গেলেও এর এক বিশেষত্ব বর্তমানে ইন্টারনেট জগতে খুবই চর্চিত হয়েছে। ইতালিতে অবস্থিত মিলান থেকে প্রায় ১৩০ কিমি উত্তরে গভীর উপত্যকায় অবস্থিত এই ভিগানেলা গ্রাম। এই গ্রামের নিকটবর্তী পাহাড়গুলি প্রায় ১৬০০ মিটার উঁচু হওয়ার কারণে গ্রামে ৬ মাস পর্যন্ত সূর্যালোকের (Sunlight) দেখা মেলে না। ফলে নানান রোগের প্রাদুর্ভাব সেখানে দেখা দিতে থাকে। প্রত্যেক বছরের ১১ ই নভেম্বর থেকে সূর্যালোক প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায় বললেই চলে। ফলে গোটা গ্রাম সব সময় অন্ধকার হয়ে থাকে। এই গ্রামটিকে তাই সাইবেরিয়ার সঙ্গে অনেকে তুলনা করে থাকেন। দিনের বেলাতেও অন্ধকার হয়ে থাকে গোটা গ্রাম। এর ফলে যে শুধু রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে তা নয়, চাষ-আবাদের ক্ষেত্রেও বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয় গ্রামবাসীরা। বিভিন্ন ধরনের বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে সূর্যালোক প্রবেশ করানোর কথা ভাবলেও প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সেই উদ্যোগ বিফলে যায়। পরবর্তীতে এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যাতে গোটা গ্রামে বর্তমানে দিনের বেলার অন্ধকার সময়েও সূর্যালোক প্রবেশ করানো সম্ভব হয়েছে।

    কী এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে? (Sunlight)

    ২০০৬ সালে এই সমস্যার সমাধান করে গ্রামবাসীরা গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এক কথায় বলতে গেলে গ্রামবাসীরা তাদের নিজস্ব সূর্য (Sunlight) তৈরি করে ফেলেছিল। আর এই ধারণাটি হল, সূর্যের আলোকে প্রতিবিম্বের মাধ্যমে গ্রামের মধ্যে ফেলা। আর এটি সফল করার জন্য একটি কম্পিউটার পরিচালিত আলোকে প্রতিবিম্বিত করে একটি আয়না স্থাপন করা হয় পাহাড়ের চূড়াতে। ২০০৬ সালে এটিকে বাস্তবায়িত করা হয়।

    কীভাবে আয়নাটি স্থাপন করা হয়? (Sunlight)

    ২০০৫ সালে ১০ লাখ ইউরো ব্যয় করে আয়নাটি তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন ভিগানেলারের মেয়র পিয়েরফ্র্যাঙ্কো মিডালি। আর ২০০৬ সালে এটি সম্পূর্ণ হয়। আয়নাটি ৪০ বর্গমিটার ও যার ওজন ১.১ টন। সূর্যের আলোকে সঠিকভাবে প্রতিবিম্বিত করে গ্রামে প্রবেশ করানোর জন্য সেটিকে পাহাড়ের ১১০০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। আর আয়নাটি সম্পূর্ণরূপে কম্পিউটার পরিচালিত হওয়ায় এটি সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে সেই মতো সূর্যালোককে (Sunlight) প্রতিফলিত করে গ্রামের উপর ফেলে। প্রতিটি আয়না হিলিওস্ট্যাটস, কম্পিউটার চালিত মোটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তারা দিগন্ত জুড়ে সূর্যের গতিপথ ট্র্যাক করে। এই আয়নাটি দিনে অন্তত ছয় ঘণ্টা গ্রামের আড়াইশো বর্গমিটার অঞ্চল আলোকিত করে। গ্রামে রোগের প্রাদুর্ভাব কমতে থাকে এবং চাষ-আবাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। মানসিক ও শারীরিক দিক থেকেও অনেক পরিবর্তন আসতে থাকে।

    গ্রামে উদযাপিত হয় আলোর দিন (Sunlight)

    ২০০৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভিগানেলায় এই বিশাল আকারের আয়নাটির প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এই দিনটিকে তারা “আলোর দিন” হিসাবে উদযাপন শুরু করে।  প্রাচীন মধ্যযুগীয় গ্রাম ভিগানেলা নিজস্ব সূর্যের দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। নিজস্ব তৈরি সূর্যের (Sunlight) কারণে এই গ্রাম এখন অনেক ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share