Tag: sir

  • Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘কারচুপিমুক্ত’ রাখার দাবি তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সমর্থনে সরব হলেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও আধিকারিক। গত (SIR) ১০ অক্টোবর, শনিবার, প্রাক্তন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা, ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আধিকারিকেরা দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি (Election Commission) খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললে তার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণও দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের। গত ৭ অক্টোবর ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতিও নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে একই ধরনের একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধীদের তরফে কমিশনকে নিশানা করার প্রবণতার সমালোচনা করে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

    অতীতের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা (Election Commission)

    খোলা চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, একসময় বুথ দখল, হিংসা, ব্যালট বাক্স লুট এবং ভুয়ো ভোটদানের মতো ঘটনা ছিল নির্বাচনের পরিচিত সমস্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বুথ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

    এই প্রসঙ্গে বিহারের ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ১৯৫১ সালের পর বিহারে ওই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছিল। বিশেষ করে, রেকর্ড সংখ্যক মহিলা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি, রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, “কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন, তা আমরা জানি। এমন সময়ে আমরা কাজ করেছি, যে সময়ের কথা আপনারা শুধু সিনেমায় দেখেছেন—বুথে আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুগামীদের দৌরাত্ম্য, ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া বা লুট করা এবং ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া। বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা ছিল যে ১৯৮৯ সালে সংসদ একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যখন হিংসা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।”

    ভোটে কারচুপি ঠেকাতে একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে চিঠিতে ভোটগ্রহণের বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ভোট গণনার পর স্বাক্ষরিত নথিও তাঁরা পান। ভোটযন্ত্র সিল করার সময় নির্বাচনী প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং যন্ত্রগুলি নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন (Election Commission)।

    এ ছাড়া, ভোটযন্ত্রে গণনা করা ভোটের সঙ্গে কাগজের ভোট-স্লিপ মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে বহাল রেখেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের কথায়, “কর্মকর্তারা সাধু হয়ে গিয়েছিলেন বলে এই পরিবর্তন ঘটেনি। বরং নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা ব্যবস্থা কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি প্রার্থীর প্রতিনিধি প্রতিটি বুথের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রদত্ত ভোটের গণনার স্বাক্ষরিত নথি সঙ্গে নিয়ে যান। ভোটযন্ত্রগুলিতে প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর-সহ সিল করা হয় এবং সেগুলিকে নিরাপদ কক্ষে পাহারার মধ্যে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের নজরদারির সুযোগ থাকে।”

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হলে হাজার হাজার সরকারি আধিকারিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে একযোগে নীরব থাকতে হবে। অথচ এমন কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি বলে দাবি তাঁদের।

    নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনকে একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনও এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়। ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই কাঠামো বহাল রেখেছিল। তিন নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করেন। ফলে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেই তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না।

    ভোটার তালিকা পরিষ্কারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন জরুরি

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, বিহারে ২০০৩ সালের পর থেকে ভোটার তালিকার এমন নিবিড় সংশোধন হয়নি। সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ লাখ মৃত ভোটারের নাম, সাত লাখের মতো দ্বৈত নাম নথিভুক্তি এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বহু মানুষের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে (SIR)।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্যের নামে ভোটদান আটকাতে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়া জরুরি। আধিকারিকদের কথায়, “পরিমার্জন না করা ভোটার তালিকা ভোটারকে সুরক্ষা দেয় না, বরং জালিয়াতকে সুরক্ষা দেয় (Election Commission)।”

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত নয়। তালিকায় কারও নাম না থাকলেই যে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে, এমন নয়। কোনও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দু’টি স্তরে আপিলের ব্যবস্থাও রয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার নতুন ভোটারের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও বুথ স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে।

    চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, “বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া আসলে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে তালিকা পরিমার্জন করা হয় এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসুবিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রকে আরও সুস্থ করে তোলার জন্য নেওয়া বড় উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের অসুবিধা স্বাভাবিক।”

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, আদালত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। তবে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ৬৫ লাখ মানুষের নাম এবং তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।

    এ ছাড়া, অনলাইনে দাবি জানানোর সুযোগ, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার গ্রহণ এবং আপিলের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোনও বেআইনি পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিললে এই সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আধিকারিকেরা আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বহাল রাখে। একই সঙ্গে ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক ফলের ভিত্তিতে কমিশনকে বিচার করা উচিত নয়

    প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নির্বাচনের ফল পছন্দসই না হলেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, একই কমিশনের অধীনে হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও শাসক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

    তাঁরা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, প্রতিবেশী এবং কর্মসূত্রে অন্যত্র বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদেরও তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারও নাম না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাবি জানিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই শিক্ষক এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভোটার তালিকার তথ্য আপডেট করতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা (Election Commission)।

    চিঠির শেষে তাঁরা লিখেছেন, “সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যার পক্ষে তিনি শপথ করে দাঁড়াতে পারবেন।”

    তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ থাকা জরুরি এবং তা আইনি পথে জানানো উচিত। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো কিংবা হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন দাখিল করার মতো বৈধ পথও রয়েছে।

    চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া বারবার নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুললে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। কোনও দল জিতলে যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ বলা হচ্ছে, সেই একই ব্যবস্থাকে পরাজয়ের পর (SIR) অসৎ বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা।

     

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Supreme Court: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত, নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত, নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরাসরি নির্দেশ দিতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কি এককভাবে এমন কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, যা সাংবিধানিকভাবে গোটা বহু-সদস্যের নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত—এই অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের জবাব প্রয়োজন বলে স্পষ্ট জানাল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন (Election Commission)।

    শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন (Supreme Court)

    পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিংয়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিকভাবে যে ক্ষমতা রয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তা এককভাবে প্রয়োগ করছেন কি না, তা নির্ধারণ করা হোক। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে ওই সিদ্ধান্তগুলিকে অননুমোদিত ঘোষণা করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়ার কথা। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা ধরে নিচ্ছি, সমস্ত সিদ্ধান্ত এইভাবেই নেওয়া হয়েছে। যদি দেখা যায়, কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা যেতে পারে।”

    একই সঙ্গে আদালত সতর্ক করে বলেছে, “আমরা একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি না যে সমস্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়েছে।” আগে তথ্য যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না বলেই আদালত কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে।

    এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, ভোটার নথিভুক্তিকরণ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন সেই আপত্তিগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ হিসেবে দেখানোর দাবি খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরির পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন, মতামত এবং পরামর্শ দেওয়া তাদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারই অংশ। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা অভিযানের সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে কমিশন।

    সুপ্রিম কোর্টের সাফ কথা

    সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছিল, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে—এ বিষয়ে প্রত্যয়িত তথ্য প্রয়োজন (Supreme Court)। মামলাকারীর উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন, “আপনি কি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করছেন?”

    জবাবে মামলাকারী বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেনি।”

    এরপর আদালত স্পষ্ট করে দেয়, “সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ সঠিক হতে পারে, আংশিক সঠিক হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আজ আমরা তার ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইব। যদি দেখা যায়, এমন কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করা হয়নি, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারি (Election Commission)।”

    অর্থাৎ, সংবাদপত্রে প্রকাশিত অভিযোগকে আপাতত চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করছে না শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)।

     

  • SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়া শেষ হওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে (SIR) যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ (Voter List Name Deleted) পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকেও বিষয়টি ফের জানানো হয়েছে।

    কেন বিশেষ উদ্যোগের নির্দেশ? (SIR)

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ নাম, অর্থাৎ ৭১ শতাংশেরও বেশি অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য শ্রেণিতে পড়েছে।

    প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ পড়েছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মৃত্যুর কারণে। এই সংখ্যা মোট বাদ পড়া নামের ২০ শতাংশের সামান্য বেশি। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ১ লাখ নাম একাধিকবার থাকার কারণে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৭.৬ শতাংশ।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধনের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ভোটার নিবন্ধন আধিকারিকদের বলা হয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্য হওয়া তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদেরও ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে।

    এর জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে এবং পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকার তুলনা করতেও বলা হয়েছে। যাঁদের নাম সংশোধনের সময় বাদ পড়েছে, কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক কোথায়?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬-এর ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার এমন কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি তাঁদের অজ্ঞাতসারে কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত পরিবর্তনও ছিল।

    জুলাই মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে ফর্ম ৬-এর কাগজের সংস্করণে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়। সেখানে আবেদনকারী অথবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

    অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল (SIR)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে সান্ধু এই পরিবর্তনকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফর্ম ৬ ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর সঙ্গে সংযুক্ত এবং ওই বিধিমালায় সংশোধন করার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে (Voter List Name Deleted)।

    পরে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের জন্যও তা অনুমোদিত হয়।

    অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তার কারণ হিসেবে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের করা কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের যাতে দু’বার বৈদ্যুতিন স্বাক্ষর করতে না হয়, সেই কারণেই ওই পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে আধিকারিকরা জানান।

    অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে?

    না। ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি শুধুমাত্র বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায়ে প্রযোজ্য ছিল।

    যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, সেখানে প্রথমবার ভোটার হতে চলা যোগ্য নাগরিক এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রচলিত সরকারি ফর্ম ব্যবহার করতে হবে (SIR)।

    তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়কও স্পষ্ট করেছেন, ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় কার্যকর থাকবে। সংশোধনবহির্ভূত সময়ে প্রচলিত সরকারি ফর্মই ব্যবহার করা হবে।

    নাম বাদ পড়েছে কি না, কীভাবে জানবেন?

    নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইনে নিজের নাম ও নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা যায়।

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবায় যেতে হবে। এরপর “ভোটার তালিকায় অনুসন্ধান” বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নাম খোঁজার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে—

    ১. ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে—নিজের ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।

    ২. ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে—নিজের নাম, আত্মীয়ের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে।

    ৩. মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে—নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এককালীন গোপন সংকেতের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।

    ভোটার তালিকায় নাম দেখা গেলে ধরে নিতে হবে, নিবন্ধন সক্রিয় রয়েছে। নাম না থাকলে যোগ্য ভোটার ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    নাম ফের যোগ করবেন কীভাবে?

    সাধারণত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

    যোগ্য ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে কিন্তু ভোটার হিসেবে থাকার সব যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরাও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    তবে কোনও ভোটার একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অথবা অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে চলে গেলে এবং নিজের ভোটার নিবন্ধন স্থানান্তর করতে চাইলে ফর্ম ৬ নয়, ফর্ম ৮ ব্যবহার করতে হয় (SIR)।

    কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম ৬?

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা পোর্টালে যেতে হবে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপ খুলতে হবে (Voter List Name Deleted)।

    এরপর নতুন ভোটার নিবন্ধন বা ফর্ম ৬-এর বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নির্ধারিত ব্যক্তিগত ও বাসস্থানের তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মতারিখের প্রমাণ-সহ অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে।

    আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রাপ্ত স্বীকৃতি বা আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে।

    বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা বিদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬এ ব্যবহার করবেন।

    অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পদ্ধতি

    ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক অথবা বুথস্তরের আধিকারিকের কাছ থেকে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করা যায়। নির্বাচন কমিশনের সরকারি মাধ্যমেও এই ফর্ম পাওয়া যায়।

    প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি-সহ পূরণ করা ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক বা সহকারী আধিকারিকের কাছে সরাসরি জমা দেওয়া যায়। ডাকযোগেও পাঠানো যায়। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র এলাকার বুথস্তরের আধিকারিকের কাছেও ফর্ম জমা দেওয়া যায়।

    প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভোটার সহায়তা নম্বর ১৯৫০-এ যোগাযোগ করা যাবে।

    কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন?

    ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হলে সাধারণত চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

    ১. আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।

    ২. ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখগুলির মধ্যে—১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই অথবা ১ অক্টোবর—যে কোনও একটি তারিখে তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

    ৩. যে বিধানসভা কেন্দ্র বা ভোটকেন্দ্রের এলাকার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চাইছেন, সেখানে তাঁকে সাধারণভাবে বসবাস করতে হবে।

    ৪. অন্য কোনও কারণে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য তিনি অযোগ্য না হয়ে থাকেন।

    আধিকারিকদের কী করতে বলেছে কমিশন?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রথমত, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে থাকা ভোটার তালিকার সঙ্গে সংশোধনের পরে তৈরি চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে।

    এছাড়াও এমন ঘটনাগুলি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনও ভোটারের নাম অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তিনি একাধিকবার তালিকাভুক্ত নন এবং তাঁর মৃত্যুও হয়নি—তবুও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে (SIR)।

    এই ধরনের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই বিশেষ উদ্যোগে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথস্তরের প্রতিনিধিদের সাহায্য নেওয়ার জন্যও রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

    এর মূল লক্ষ্য হল, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটার যাতে নির্ধারিত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা।

    নাম না থাকলে ভোটারদের কী করা উচিত?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করতে হবে।

    যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম না থাকলে ভোটার পরিষেবা পোর্টাল, ভোটার সহায়তা অ্যাপ অথবা সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক কিংবা বুথস্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়াই লক্ষ্য। তবে (Voter List Name Deleted) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি প্রক্রিয়াই কার্যকর থাকবে (SIR)।

     

  • RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    RSS: আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, নভেম্বরে ইন্দোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী নভেম্বরে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আরএসএস (RSS)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক। সেখানে সঙ্ঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন কার্যকর করা হবে। শতবর্ষ উদযাপনের অগ্রগতি, সংগঠনের প্রসার এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) নিয়ে (Indore Meet) বিরোধীদের সমালোচনা এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কও বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ (RSS)

    তিনদিনের এই বৈঠক, যা ‘অখিল ভারতীয় কার্যকারি মণ্ডল’ নামে পরিচিত, শুরু হবে ২ নভেম্বর। প্রতি বছর এই বৈঠক হলেও এবারের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আগামী বছরের মার্চে অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় সাংগঠনিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার মাস আগে এই বৈঠক হচ্ছে। প্রতিনিধি সভাই আরএসএসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী মঞ্চ এবং প্রতি তিন বছর অন্তর সেখানে নির্বাচন হয়।

    সঙ্ঘের এক পদাধিকারী জানিয়েছেন, “শতবর্ষ উদযাপন এবং সেই উপলক্ষে নেওয়া জনসংযোগ কর্মসূচির প্রভাব আমরা পর্যালোচনা করব। তবে প্রতিনিধি সভা এবং নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচনের আগে এই বৈঠকে সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।”

    আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে আরএসএস ‘প্রান্ত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক কাঠামো চালু করছে। এর ফলে প্রান্ত প্রচারকদের বদলে সম্ভাগ প্রচারক নিয়োগ করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় প্রচারকের সংখ্যা ৪৬ থেকে বেড়ে ৮৫ হবে। এদিকে, রাজ্যস্তরের কেন্দ্রের সংখ্যা ১১ থেকে কমে ৯ করা হবে।

    নভেম্বরের বৈঠকের পর রাজ্যস্তরে নতুন কার্যকারিণী, সম্ভাগ সঙ্ঘচালক এবং ক্ষেত্র সঙ্ঘচালকদের নির্বাচন হবে। তাঁরাই পরবর্তীতে নতুন সরকার্যবাহ নির্বাচন করবেন। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালে, যখন দত্তাত্রেয় হোসেবল দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার্যবাহ নির্বাচিত হন। প্রতিটি মেয়াদ তিন বছরের এবং একজন ব্যক্তি কতবার এই পদে থাকতে পারবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে। এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন জনসংখ্যা নীতি এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পক্ষে সওয়াল করে আসছে (RSS)।

    মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের প্রচার বিভাগের প্রধান সুনীল আম্বেকর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির মতো ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি সমাজে এমন আইন থাকতে পারে না, যেখানে এক শ্রেণির মানুষ চারটি বিয়ে করতে পারবেন, অথচ একই কাজের জন্য অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এসআইআর নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে আম্বেকর বলেন, “যদি নির্বাচনী তালিকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও নাম থাকে, তবে আইনসম্মত উপায়ে সেই অসঙ্গতি দূর করার ব্যবস্থা থাকতে হবে (Indore Meet)।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার পথ রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যদি ভুল ব্যক্তিদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তা সঠিক নয়।”

    উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না। আবার বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবমুক্ত নয়। এই আবহেই আরএসএসের (RSS) আসন্ন বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

     

  • EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনা খারিজ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC)। দেশজুড়ে এসআইআর কার্যকর করা-সহ এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠকের পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয় (SIR)। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁদের শুনানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও ঘোষণা করেছে কমিশন।

    সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, দাবি কমিশনের (EC)

    কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার দিয়ে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর পরিচালনার নির্দেশ সর্বসম্মতিক্রমে জারি করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টও ওই নির্দেশ বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে।

    কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নীতি সংক্রান্ত ছিল না। সেটি নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত এক আধিকারিকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    কমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকির দায়িত্বও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

    গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৮১ জনের আবেদন

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)।

    কমিশনের দাবি, গোয়ায় সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন (EC)।

    আপত্তি জমার সময়সীমা বৃদ্ধি

    দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের অনুরোধ বিবেচনা করেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    বাড়িতেই যাবেন বিএলও

    এসআইআর চলাকালীন যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা নথিতে যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

    এই ধরনের ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হলেও সাধারণত তাঁদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) দফতরে শুনানির জন্য হাজির হতে হবে না।

    পরিবর্তে বুথ লেভেল অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলি ইসিআইনেট পোর্টালে আপলোড করবেন। ওই নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও।

    কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইআরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রেও অনলাইন শুনানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভোটার তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে নিজের হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবেন। অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।

    পাশাপাশি, রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষ, শ্রমিক, দরিদ্র ও গৃহহীনদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী (EC) আধিকারিকদের।

    ২০টি অঞ্চলে এসআইআর সম্পূর্ণ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নিয়মিত তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে পারবেন।

    একই সুযোগ পাবেন নতুন এবং প্রথমবারের ভোটাররাও। সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন জানাতে হবে তাঁদের। বাদ পড়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অবিলম্বে বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (SIR)।

    পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটি

    নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইসিআইনেটের কার্যকারিতা ও আইনি বিধি মেনে পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি আইআইটি বা আইআইআইটি থেকে একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকেও কমিটিতে রাখা হবে।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী আধিকারিকরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পরামর্শের ভিত্তিতে পোর্টালে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তন করা হবে।

    ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনও নতুন মডিউল বা পোর্টাল চালু করার আগে আধিকারিকদের কমিটিতে আলোচনা হবে। তার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে (EC)।

    কমিশনের বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজেও নতুন নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগাম সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। বৈঠকের কার্যবিবরণীও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    পাশাপাশি, কমিশনের সমস্ত আধিকারিকের বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে হবে আধিকারিকদের।

    এর আগে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কমিশন জানিয়েছিল, এটি একটি বহুসদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (SIR)। লিখিত পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিশনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে শনিবারের বৈঠকের পর এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়ার কথা পুনরায় জানাল কমিশন (EC)।

     

  • Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের সংখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে (EC) চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন সেই ভোটাররা, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য জানায়। কমিশনের বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে থাকা মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অন্যদিকে, ১৬.১০ লাখ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ওই আবেদনগুলির উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আরও বাদ দেওয়ার দাবি জানানো। এই ১৬.১০ লাখ আবেদন কারা করেছেন, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি। তবে কোনও ভোটার বা নির্বাচনী আধিকারিক কোনও ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য বলে মনে করলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব (Supreme Court)

    আপিলের বিপুল সংখ্যা সামলাতে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    কমিশনের বক্তব্য, “বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে বিচারাধীন আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।”

    ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের যোগ্যতা যাচাই

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬০.০৬ লাখ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মধ্যে একটি অংশের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা বিচার করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর দেয়। সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের যাচাইয়ের পর ২৭.১৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাকিদের নাম বহাল রাখা হয় (Supreme Court)।

    এর পর ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে সেগুলি কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ করছিল।

    ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফেরানো সম্ভব

    নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জন ভোটারের নাম সময়মতো ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহু আবেদনকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

    তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি আবেদনের মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭,৩৩৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (EC)।

    বর্তমানে অবশ্য আবেদনের বড় অংশই এখনও বিচারাধীন। ১৮ সেপ্টেম্বরের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আবেদনের মধ্যে ১,০২,২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,১৮,৪৫২টি আবেদন তখনও বাকি ছিল (Supreme Court)।

     

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    CM Suvendu Adhikari: জনগণনা শুরু রাজ্যে, অনলাইনে ৩৩ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ‘স্ব-শুমারি’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজ্যে শুরু হল জনগণনার কাজ। দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এ রাজ্যেও প্রথম বার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করা হচ্ছে। এই পর্বে অনলাইনে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে স্ব-শুমারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নবান্নে বসেই তিনি নিজের পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করেন। পাশাপাশি রাজ্যবাসীকেও (Census) স্ব-শুমারির সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    স্ব-শুমারি প্রথম বার (CM Suvendu Adhikari)

    এ বারের জনগণনায় স্ব-শুমারি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ—এই দুই বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাজ্যবাসীর দেওয়া তথ্য গোপন এবং আইনগত ভাবে সুরক্ষিত থাকবে। একমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য তা ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই।”

    ‘জনগণের জনকল্যাণ’

    এ বারের জনগণনার মূল বার্তা ‘জনগণের জনকল্যাণ’। জনগণনা সফল ভাবে সম্পন্ন হলে উন্নত ভারত গঠনের পরিকল্পনায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ১৫ অগস্ট স্ব-শুমারি পর্ব শেষ হওয়ার পর শুরু হবে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের কাজ। ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখবেন। কোথাও ভুল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ বার গোটা জনগণনা প্রক্রিয়াই ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য গণনাকারীদের বিশেষ মোবাইল ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে তথ্য সংগ্রহের কাজ আগের তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কাগজের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে (CM Suvendu Adhikari)।

    মিলবে জাতিগত সুবিধা

    স্ব-শুমারির ৩৩টি প্রশ্নে নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বসবাসের ধরন-সহ নানা তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই জনগণনায় প্রথম বার জাতিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতিগত ভিত্তিতে স্থায়ী পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “এর ফলে সাধারণ মানুষ জাতিগত সুবিধা পাবেন। আলাদা করে তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জাতিগত তথ্যে স্থায়ী পরিসংখ্যান থাকবে।” জনগণনার প্রস্তুতি নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার সময়মতো কাজ শুরু করেনি। বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন যাঁরা

    এ দিকে, যাঁদের নাম বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার তালিকায় এখনও বিবেচনাধীন, তাঁরা স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। এর মধ্যে কিছু নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে, ট্রাইবুনালও হয়েছে এবং প্রায় সাত লাখ মানুষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের তরফে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা মানুষদের নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে একাংশ অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন এবং অন্য অংশ শরণার্থী। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)।

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী

    শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যেরা হলেন শরণার্থী। সিএএর আওতায় হিন্দু, শিখ, জৈন পারসিরা কিন্তু শরণার্থীর পর্যায়ে পড়েন। ২০১৯ সালের আইন, ২০২৪ সালের রুলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁরা শরণার্থী। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাণ, ধর্ম বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না। পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না।” জনগণনার (Census) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এখন নজর আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত চলা স্ব-শুমারি পর্বে রাজ্যের মানুষ কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, তার দিকে (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)

    এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case)  মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।

    অভিযোগের নেপথ্যে

    তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

    কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

LinkedIn
Share