Tag: Skyroot’s Vikram-1

  • PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথগামী রকেট ‘বিক্রম-১’-এর সফল উৎক্ষেপণের পর এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi On Vikram-1 Launch)। ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রা ইতিহাস গড়ল। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) শনিবার যাত্রা শুরু করল। এটি শুধু সংস্থাটির জন্যই নয়, গোটা দেশের জন্যও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত। এরপরই হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ স্কাইরুট (Skyroot’s Vikram-1) অ্যারোস্পেস-কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এই সাফল্যকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্য এক অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন।

    ‘বিক্রম-১’ -এর সফল উৎক্ষেপণ

    মহাকাশে পাড়ি দিল দেশের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। শনিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সেটির উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রাথমিক ভাবে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্রম-১ লঞ্চ করার কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক ৫ মিনিট আগেই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট নয়। তার পরে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রকেটটি শেষপর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাই-এর নামে এই রকেটের নামকরণ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা

    শনিবার উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবন চন্দনা, ভারত ডাকাসহ পুরো স্কাইরুট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের এই সাফল্য দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেবে। উৎক্ষেপণের পুরো অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। তোমাদের দলের অধিকাংশ সদস্যের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে—এটাই ভারতের নতুন শক্তি।” মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ খাত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সময় নানা সংশয় ও আপত্তি উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন মহাকাশ খাতকে বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজ আমার দলকেও স্বীকার করতে হবে যে ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়।”

    ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করল। এর ফলে স্কাইরুট বিশ্বের সেই সীমিত সংখ্যক সংস্থার তালিকায় স্থান করে নিল, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে কক্ষপথগামী রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার আগে আরও এক বা দুটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা হবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিক্রম-১ টেস্ট ফ্লাইট-১-এর পেলোডগুলির মধ্যে রয়েছে একটি অত্যন্ত বিশেষ স্মারক—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের হাতে লেখা একটি পোস্টকার্ড, যাতে লেখা রয়েছে “বন্দে মাতরম”। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্মারকটি ‘মিশন আগমন’-এর অংশ। স্কাইরুটের ভাষায়, “মিশন আগমন হলো এমন এক উদযাপন, যা অসংখ্য মানুষের হাত ধরে মহাকাশে পৌঁছেছে এবং যার গর্ব ভাগ করে নিচ্ছে গোটা দেশ।”

    ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানে বড় পদক্ষেপ

    স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি বিক্রম-১ একটি ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণকারী কক্ষপথগামী রকেট। এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্ষুদ্র উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘মিশন আগমন’ নামে পরিচিত এই উৎক্ষেপণটি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC-SHAR)-এর প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষামূলক এই অভিযানে দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের একাধিক পেলোড বহন করা হয়েছে।

    ‘প্রথম চেষ্টাতেই কক্ষপথে পৌঁছানো অবিশ্বাস্য’

    সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পবন চন্দনা বলেন, “এটি শুধু স্কাইরুটের জন্য নয়, ভারতের এবং বিশ্ব মহাকাশ শিল্পের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথম প্রচেষ্টাতেই আমরা কক্ষপথে পৌঁছাতে পারব, তা আমি ভাবিনি।” তিনি আরও জানান, “বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থাকে উৎক্ষেপণের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে কোনও বিলম্ব হয়নি।”

    ইসরোর সাম্রাজ্যে বিক্রম-১-এর থাবা!

    ‘বিক্রম-১’ সফল হলে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে ভারত। এর ফলে ভারত প্রথমবার কোনও বেসরকারি সংস্থার তৈরি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাবে। এতদিন শুধুমাত্র সরকারি সংস্থা ইসরো মহাকাশে রকেট পাঠাত। কিন্তু এ বার সেই ধারায় বদল আসতে চলেছে। তবে এই অভিযানে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে ইসরো (ISRO)। সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত লো আর্থ অরবিট (Low Earth Orbit)-এর উদ্দেশে যাত্রা করল। আমেরিকা ও চিনের পর ভারতই হল বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনও বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণ সম্ভব হল। স্কাইরুটের দাবি, তারা এমন একটি পরিষেবা চালু করতে চায়, যাকে তারা ‘মহাকাশে ক্যাব সার্ভিস’ বলে অভিহিত করছে। অর্থাৎ, ঠিক যেমন সহজে একটি ক্যাব বুক করা যায়, তেমনই ভবিষ্যতে সংস্থাগুলি একটি রকেট ভাড়া করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপন করতে বা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছতে পারবে।

LinkedIn
Share