Tag: Sleep Health

  • Brain Health: ভুলে যাচ্ছেন সব কিছু? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন মানুন এই ৪ অভ্যাস

    Brain Health: ভুলে যাচ্ছেন সব কিছু? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন মানুন এই ৪ অভ্যাস

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ জীবন যাপনের অনেকটাই নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপরে।‌স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকলে, মস্তিষ্ক ভালো থাকলে, শরীর ভালো থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের একাধিক সমস্যাও সমাধান করা সহজ হয়। কিন্তু আধুনিক জীবনে চাপ বাড়ছে। তাই মস্তিষ্কের উপরে তার প্রভাব পড়ছে। নানান শারীরিক সমস্যা এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চারটি অভ্যাসে নজর দিলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। জটিলতা কমবে। জুলাই মাসে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া জরুরি।‌ নিয়মিত কয়েকটি অভ্যাসের মাধ্যমেই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে এমন একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যার সঙ্গে সরাসরি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য জড়িয়ে আছে। স্নায়ুর একাধিক রোগের অন্যতম কারণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ‌্য। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ, দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। স্নায়ুতন্ত্রের উপরে যার প্রভাব পড়ে। ফলে, হাত-পায়ে খিঁচুনি, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ, যেকোনো কাজে মনোযোগ না করার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে পেশাগত জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও জটিলতা আসে। যার ফলে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, একটা চক্রের মতো সমস্যা বাড়তে থাকে।

    বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা 

    তাছাড়া বিশ্বজুড়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে। প্রৌঢ় বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে পারছেন না। এর ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়‌। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা বাড়বে। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রয়েছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে নানান অভ্যাস রপ্ত করা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য মস্তিষ্কের সুস্থ থাকা এবং সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। সেটা না হলেই নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আচরণগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এমনটাই মত চিকিৎসকদের একাংশের।‌

    কোন চার অভ্যাসে বাড়তি নজর বিশেষজ্ঞদের?

    নিয়ম মাফিক ঘুমের অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। আধুনিক জীবনের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে থাকছে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোয় না। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে মস্তিষ্কের স্নায়ু এবং হরমোনের উপরে গভীর চাপ পড়ে। ভারসাম্য নষ্ট হয়‌। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নিয়ম মাফিক পর্যাপ্ত ঘুমোয় না। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো কিংবা অনেক সময় অফিসের কাজ করার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস !

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ঠিকমতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে যেমন ভিটামিন,‌ প্রোটিন জরুরি। তেমনি মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খনিজ পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শরীরে পর্যাপ্ত মিনারেল পৌঁছলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই তাঁরা নিয়মিত কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোটের মতো খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান থাকে। এই খনিজ পদার্থগুলো মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।

    নিয়মিত মেডিটেশন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন‌ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন নিয়মিত তিরিশ মিনিট মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমবে। আবার আচরণগত জটিলতা দেখা দেবে না। অনেকের সব সময় মেজাজ খিটখিটে থাকে। অকারণেই রাগ বাড়ে। নানান ছোটো বিষয়েও উদ্বেগ বাড়ে। সেগুলো তাঁদের আচরণে প্রভাব‌ ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোন গত সমস্যার কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে তবেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

    ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ জরুরি!

    ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশপাশি মস্তিষ্কের অসুখের নেপথ্যেও থাকে ধূমপান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ধূমপান। আবার মস্তিষ্কের নানান রোগের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের অভ্যাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার ধূমপান করলে স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। মস্তিষ্কেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ নিয়মিত লাগাতার ধূমপান। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ধূমপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

  • Diabetes Causes Beyond Sugar: শুধু চিনি নয়! তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়াচ্ছে এই ৪ দৈনন্দিন অভ্যাস, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

    Diabetes Causes Beyond Sugar: শুধু চিনি নয়! তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়াচ্ছে এই ৪ দৈনন্দিন অভ্যাস, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিনি বিপজ্জনক। কিন্তু শুধু চিনিই সমস্যা তৈরি করছে না। বরং, চিনির সঙ্গে বিপদ বাড়াচ্ছে প্রতি দিনের কিছু অভ্যাস। ভারতে ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের দাপট বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের অন্যতম শর্ত রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকতে হবে। কিন্তু আধুনিক জীবন যাপনের জেরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। ডায়াবেটিস রুখতে অনেকেই চিনিকে খাবারের তালিকা থেকে বাদ রাখছেন। কিন্তু তারপরেও বিপদ আটকানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের ডায়াবেটিস আক্রান্তের কারণ শুধুই চিনি নয়। বরং, তার নেপথ্যে রয়েছে আরও কয়েকটি কারণ। এমনটাই সাম্প্রতিক গবেষণায় জানিয়েছেন একদল গবেষক-চিকিৎসক।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা? ডায়াবেটিসের নেপথ্যে কোন কারণ দায়ী?

    সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, তাঁদের জীবন যাপনের অভ্যাস এবং খাদ্যাভাস।

    ব্যালেন্স খাবার নিয়ে ধারণার অভাব!

    গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চিনি খাওয়া নিয়ে সতর্ক। কিন্তু তাঁরা সুষম খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত নন। তাঁদের খাবারে নিয়মিত প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ব্যালেন্স থাকছে না। সকাল থেকে রাত, প্রত্যেকদিন একাধিকবার তাঁরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজন মাফিক প্রোটিন এবং ভিটামিন শরীর পাচ্ছে না। সকালের জলখাবারে পরোটা, দুপুরে ভাত কিংবা রাতে রুটি বা ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থাকছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব্জি, ডাল, ডিম, পনীর খাওয়া হয় না। সকালের জলখাবার হোক বা দুপুরের খাবার, ভাত কিংবা রুটির সমান পরিমাণ সব্জি, ডাল খাওয়া জরুরি। এই সম্পর্কে এখনও অধিকাংশ মানুষ সচেতন নন। এই অসচেতনতা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম!

    তরুণ প্রজন্মের একাংশের দিনের বেশিরভাগ সময় চেয়ার কিংবা সোফায় বসে কাটাতে হয়। গবেষক চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কাজের ধরণ বদলে গিয়েছে। আধুনিক জীবনে অধিকাংশ পেশায় চেয়ার কিংবা সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করার রেওয়াজ। দিনের ৯-১০ ঘণ্টা বসেই কাটছে। আবার বাড়ি ফিরে অবসর যাপন বসেই হয়। সোফায় বা বিছানায় বসে মোবাইলে সময় কাটানো হলো দিন শেষের নিজেস্ব সময় কাটানোর পথ। আর এই সবটাই অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শারীরিক পরিশ্রম না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

    খাবারের সময়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কখন খাবার খাওয়া হয়, তার উপরে একাধিক রোগের দাপট নির্ভর করে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ অনেক রাতে খাবার খায়। এমন অনেকেই রাত বারোটার পরে খাবার খায়। এই অতিরিক্ত রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

    অনিদ্রা!

    তরুণ প্রজন্মের একাংশের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হলো অনিদ্রা। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ঘুম হলে মস্তিষ্ক, পেশি এবং স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। কার্যক্ষমতা বাড়ে। তেমনি পর্যাপ্ত ঘুম হলে শরীরের একাধিক হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম হলে ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বজায় থাকে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে চিনি খাওয়া বাদ দেওয়ার পাশপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি। শুধু চিনি বাদ দিলেই হবে না। ডায়াবেটিস রুখতে চিনির পাশপাশি অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাবার, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা হতে পারে এমন খাবার খাওয়া চলবে না।‌ তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করতে হবে। নিজস্ব সময় কাটানো শুধুই মোবাইল দেখায় আবদ্ধ করলে চলবে না। বরং যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটাহাঁটির জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ করতে হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অল্প পরিমাণে খাওয়া, অতিরিক্ত রাতে খাবার না খাওয়ার মতো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পাশপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আর দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া দরকার বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share