Tag: Sourav Ganguly

Sourav Ganguly

  • PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াতেই বিশেষ আয়োজন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার হাজার ঢাকির পরিবেশনা, পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন শো—সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের (Eden Gardens Mahalaya) শীর্ষ আধিকারিকরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মহালয়ার অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি ও সামগ্রিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রেড রোডে রোড শো (PM Modi)

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা পৌঁছবেন স্টেডিয়ামে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইডেনের হোম ড্রেসিংরুম এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মাঠে প্রবেশ করবেন তাঁরা। গলফ কার্টে চেপে প্রধানমন্ত্রীর মাঠ প্রদক্ষিণের কথাও রয়েছে।

    পাঁচ পুজোর উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও বক্তব্য রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    ঢাকের তালে…

    মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সংগীত পরিবেশনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও কৌশিকী চক্রবর্তী। অংশ নেওয়ার কথা বাংলা লোকসংগীতের দল দোহারেরও।

    অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন শান্তনু মৈত্র। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ঢাকির একযোগে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে (Eden Gardens Mahalaya)।

    শ্রেয়া ঘোষাল ও সুরকার প্রীতম এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই আপাতত খবর। দু’জনেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।

    ড্রোন শো ও আতসবাজি

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ইডেন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশেষ ড্রোন শো ও আতসবাজির প্রদর্শনীর।

    আমেদাবাদের টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ধাঁচে আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হতে পারে ড্রোনের মাধ্যমে।

    দর্শক, ভিভিআইপির ভিড়

    ইডেনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই হাজার আসন ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

    ক্লাব হাউসের দু’পাশের গ্যালারি সংলগ্ন এলাকায় মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চলে যেতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাব হাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সঞ্জয় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের আয়োজন আগে কখনও করিনি আমরা। তাই অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে প্রশাসন চাইবে আমরা সেরকমই ব্যবস্থা করে দেব। প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ইডেনে আসছেন।”

    মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে (PM Modi) রাজ্য সরকারের। মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অস্থায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো সরানোর জন্যও অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে (Eden Gardens Mahalaya)।

     

  • Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের সরকারি নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমান সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। গত তিন বছর ধরে রাজ্য সরকারের ‘জেড ক্যাটাগরি’ (Z Category)-র নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর সুরক্ষাবলয় কমিয়ে এবার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ (Y Category) করা হয়েছে। এই বিষয়ে সৌরভের (Sourav Ganguly) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    সরকারি নিরাপত্তার বিভিন্ন স্তর (Sourav Ganguly)

    সাধারণত কার জীবনের ঝুঁকি (Threat Perception) কতটা, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করেই সরকারি নিরাপত্তার স্তর নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি এবং শীর্ষ আমলাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র তারকা, শিল্পপতি ও খেলোয়াড়দেরও এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। সুরক্ষার এই বিন্যাস মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত—‘এক্স’, ‘ওয়াই’ (Y Category) এবং ‘জেড’। এর মধ্যে ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ (Plus) নামক আরও একটি উচ্চতর ক্যাটাগরি থাকে— ‘ওয়াই প্লাস’ এবং ‘জেড প্লাস’। অর্থাৎ, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের মাঝে থাকে ‘ওয়াই প্লাস’। সেই দিক দিয়ে ‘মহারাজ’-এর নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হল।

    সৌরভের নিরাপত্তার বিবর্তন

    ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র (Y Category) নিরাপত্তাই পেতেন। সে সময় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিনজন কর্মী (যার মধ্যে দুজন সশস্ত্র) তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন। এরপর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরি করে। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ থেকে ১০ জনে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং রাস্তায় চলাচলের জন্য দেওয়া হয় পাইলট কার। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশকর্মী তাঁর সুরক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন।

    রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কার এক নজরে নিরাপত্তা কাটছাঁট

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া কাউকে অতিরিক্ত সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই পর্যালোচনা শুরু হয়। তৃণমূল জমানায় রাজ্যে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পেতেন মূলত তিনজন— রাজ্যপাল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও উচ্চস্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই চিত্রে বড় বদল এসেছে:

    • ● মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কালীঘাটের বাড়ি থেকে বাড়তি পুলিশ পাহারা সরানো হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আইনত তিনি যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, তাঁকে ঠিক ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।
    • ● অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুরক্ষাই বহাল রাখা হয়েছে।
    • ● অন্যান্য: একাধিক তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিরাপত্তার পরিধিও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে।

    নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’

    সৌরভের (Sourav Ganguly) নিরাপত্তা হ্রাসের এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পারদ ওঠানামার চশমায় দেখছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভকে ‘মুখ’ করে বাংলায় বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সক্রিয় ভূমিকায় সৌরভ বিসিসিআই (BCCI) সভাপতি হন। ২০২০ সালে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত পুজোয় সৌরভ-পত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিবেশন কিংবা ২০২১-এর নির্বাচনের ঠিক আগে সৌরভের বেহালার বাড়িতে অমিত শাহের নৈশভোজ— এই সমস্ত ঘটনাকে সেই রাজনৈতিক অঙ্কেরই অংশ মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌরভ রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় বিজেপি নেতৃত্ব একে একপ্রকার ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবেই দেখেছিল।

    শালবনী নিয়ে কটাক্ষ শমীকের

    সৌরভ বরাবরই উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার নীতি বা ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’ পছন্দ করেছেন। একদিকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যেমন তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, অন্যদিকে অমিত শাহের সঙ্গেও তিনি সম্পর্ক তিক্ত করতে চাননি। তবে অতি সম্প্রতি শালবনি কারখানার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সৌরভকে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান শাসক দল সৌরভকে ঠিক কোন নজরে দেখছে, সেই কটাক্ষেই তা স্পষ্ট ছিল। আর এবার নিরাপত্তার বহর কমিয়ে নবান্ন সেই রাজনৈতিক বার্তাই প্রশাসনিকভাবে কার্যকর করল বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Shamik Bhattacharya: ‘কোনও দলকে টাকা দিতে হবে না’! শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান শমীক ভট্টাচার্যের

    Shamik Bhattacharya: ‘কোনও দলকে টাকা দিতে হবে না’! শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প করতে গেলে আর কোনও রাজনৈতিক দলকে টাকা দিতে হবে না। বাংলায় নতুন সরকার ভয়মুক্ত শিল্পের পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। রাজ্য তথা দেশের শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার শহরে একটি বণিকসভার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শমীক। তিনি জানান, এই রাজ্যে যে সরকার তৈরি হয়েছে, সেটা পশ্চিমবঙ্গের সরকার হবে, বিজেপির নয়। রাজনৈতিক দল এবং সরকারে মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করতে হবে বলেও দাবি রাজ্য বিজেপি সভাপতির।

    শিল্পপতিদের আহ্বান

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের ‘দুরবস্থার’ কথা বলতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, ‘‘এখানে মেধার বিকাশের কোনও সুযোগ নেই।’’ পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে শিল্পের কী অবস্থা হয়েছে, তার উদাহরণ তুলে ধরেন শমীক। তৃণমূল সরকারের আমলে ফি বছরই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্লোবাল বিজনেস সামিট’-এর আয়োজন করা হত। সেই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের পাশাপাশি রাজ্যের অনেক শিল্পপতিও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মঞ্চে থাকতেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে শমীক বলেন, ‘‘যাঁরা বিবৃতি দিতেন, তাঁদের ১০ বছরের ব্যালেন্স সিটগুলি খুলে দেখুন। প্রায় সকলেই তাঁদের মূলধন অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পপতিদের জন্য নতুন গন্তব্য হয়ে গিয়েছে উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ।’’

    জমিনীতির বদল চাই

    পূর্বতন সরকারে জমিনীতিরও সমালোচনা করেছেন শমীক। জমি অধিগ্রহণের নীতি বদলের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। আশ্বস্ত করেন, নতুন সরকার নতুন ভাবে সব কিছু ভাবছে। রাজ্যে শিল্প আসার পথে যে যে বাধা, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর হবে। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় যে পন্থা নেওয়া হয়, পশ্চিমবঙ্গে তা চালু হবে। তার পরেই শিল্পপতিদের বার্তা, ‘‘আপনারা এখানে নির্ভয়ে বিনিয়োগ করুন। কোম্পানি তৈরি করুন। পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প আনতে হবে। আমরা নতুন জমি নীতি নিয়ে আসব। আগামী দিনে কেউ এখানে কোনও ফ্যাক্টরি করতে গেলে কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী আপনাদের কাছে টাকা চাইতে আসবে না।’’

    ভয়মুক্ত পরিবেশ

    শমীক আরও বলেন, ‘‘ভারতের বহু বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না।’’ শিল্প নিয়ে বিজেপির যে ‘সংকল্প’ ছিল, তা পূরণ হবে বলেও আশ্বাস দেন শমীক। তাঁর বার্তা, শিল্প বা কারখানা তৈরি করতে কেউ যদি কোনও বাধার সৃষ্টি করেন, তবে সরাসরি পুলিশকে জানান।

    শমীকের নিশানায় সৌরভ

    প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম না করে এদিন তাঁকে খোঁচা দেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এক ভদ্রলোককে চিনতাম। আমরা জানতাম উনি স্টেপ আউট মেরে ওভার বাউন্ডারি মারতেন। তার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। আমরা দেখলাম তিনি বাউন্ডারির বাইরে থেকে বল থ্রো করছেন। স্পেন থেকে ঘোষণা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের। কোনও মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’’ উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মমতার স্পেন সফরে সঙ্গী ছিলেন সৌরভও। মাদ্রিদের বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শালবনিতে নতুন করে ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠবে। শমীকের স্পষ্ট বার্তা, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে এ রাজ্যের জন্য বিনিয়োগ হোক। কোনও বিনিয়োগের ঘোষণার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

  • India-W World Cup Champion: ‘একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন শচিন, ‘গোটা দেশকে গর্বিত করেছ’, লিখলেন কোহলি

    India-W World Cup Champion: ‘একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন শচিন, ‘গোটা দেশকে গর্বিত করেছ’, লিখলেন কোহলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মত মহিলা বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস রচনা করেছে ভারতের মেয়েরা। মুম্বইতে ফাইনালে ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফর্ম করে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। এই ঐতিহাসিক জয় ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে উৎসবের আমেজ। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে “উইমেন ইন ব্লু”-দের উদ্দেশে অভিনন্দন বার্তা আসছে। বিরাট কোহলি, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, যুবরাজ সিং স বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটাররা সকলেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতীয় মহিলা দলকে।

    একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক: শচিন

    এক্স হ্যান্ডেলে শচিন লিখলেন, ‘১৯৮৩ সালের ঐতিহাসিক জয় যেমন বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পিছনে দৌড়াতে একটা গোটা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিল, আজ আমাদের মহিলা ক্রিকেট দল সত্যিকারের সেই ইতিহাস করল। তারা সারা দেশের অসংখ্য তরুণীকে ব্যাট-বল হাতে তুলে মাঠে নামতে এবং বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করেছে যে তারাও একদিন এই ট্রফি তুলতে পারবে। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জার্নিতে এটা একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক। সাবাস, টিম ইন্ডিয়া। তোমরা গোটা দেশকে গর্বিত করেছ।’

    ভীষণ গর্বিত… বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন: সৌরভ

    ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও মহিলা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ও তাদের জন্য গর্বিত বলে জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘‘মেয়েদের অসাধারণ সাফল্য! গত ৬ বছরে তারা অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত… বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।”

    তোমরা গোটা দেশকে গর্বিত করেছ: কোহলি

    অভিনন্দন জানালেন বিরাট কোহলিও। এক্সে পোস্ট করে তিনি লিখলেন, ‘ভারতের মেয়েরা ইতিহাস গড়লেন! তাঁদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গর্বে ভরে উঠেছে গোটা দেশ। বহু বছরের পরিশ্রম ও অধ্যবসায় আজ বাস্তবের রূপ নিয়েছে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর এবং গোটা দলকে আন্তরিক অভিনন্দন। শুধু খেলোয়াড়রা নয়, দলের সঙ্গে যুক্ত সমগ্র সাপোর্ট স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টকেও ধন্যবাদ জানানো উচিত, যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এই জয়। দারুণ খেলেছ টিম ইন্ডিয়া। এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপভোগ করো হৃদয়ভরে। দেশের অসংখ্য কন্যা এই জয় দেখে অনুপ্রাণিত হবে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।’ ট্রফি হাতে ভারতীয় দলের ছবি দিয়ে লেখেন, “তোমরা পরের প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে তোমরা গোটা দেশকে গর্বিত করেছ। তোমাদের এই শুভেচ্ছা প্রাপ্য। এই মুহূর্তটা তোমাদের। উপভোগ করো। হরমন ও তার দল দুর্দান্ত খেলেছো। জয় হিন্দ।”

    আবেগপ্রবণ রোহিতের চোখে জল

    এদিকে, টিম ইন্ডিয়াকে সাপোর্ট করার জন্য ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। টিম ইন্ডিয়ার জয় তিনিও উদযাপন করেন এবং যথেষ্ট আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। হরমনপ্রীতের ক্যাচে ভারত ম্যাচ জেতার পর ক্যামেরা ধরে রোহিতকে। দেখা যায়, আকাশের দিকে তাকিয়ে হাততালি দিচ্ছেন তিনি। বোঝা যাচ্ছিল, রোহিতের চোখে জল। কোনও রকমে আবেগ সামলানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। ২ বছর আগে এমনই এক নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের পুরুষ দল বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছিল। স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল দেড় কোটি ভারতবাসীর। সেদিন কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন রোহিত। তবে সেই কান্না লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আর গতকাল রাতে চোখের সামনে হরমনপ্রীতদের বিশ্বকাপ জয় দেখে চোখ ছলছল হয়ে গিয়েছিল রোহিত শর্মার। যেন, তিনি যে না করতে পারেননি, তা হরমনরা করতে পারায় বুকের ওপর থেকে কিছুটা হলেও বোঝা কমল। বা হয়ত, সেই ২০২৩ সালের নভেম্বরের রাতের কথাটাই তাঁর মনে পড়ছিল।

    ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা: যুবরাজ

    আর এক বিশ্বকাপজয়ী যুবরাজ সিং গোটা দল তো বটেই, বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দীপ্তি শর্মা, শেফালি ভার্মা, রিচা ঘোষকে। তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা হল। ইতিহাসের পিছনে রয়েছে আমাদের উইমেন ইন ব্লু–র অদম্য মনোবল, দৃঢ়তা এবং অতুলনীয় দক্ষতা। অদম্য জেদে গড়া এই দল একসঙ্গে মিলিত হয়ে এমন এক মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে, যা গোটা বিশ্ব কখনও ভুলবে না। স্বপ্ন পূরণের জন্য তাঁরা নিজেদের সমস্তটুকু উজাড় করে দিয়েছেন, শরীর-মন এক করে খেলেছেন শেষ বল পর্যন্ত। ব্যাট হাতে দুরন্ত শুরু করে ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন শেফালি ভার্মা। অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল দীপ্তি শর্মা ব্যাটে-বলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিকতা, সৌন্দর্য ও দৃঢ়তায় ভারতের ব্যাটিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। রিচা ঘোষের আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ইনিংস ভারতকে রানের গতি বাড়াতে সাহায্য করেছে। বিশেষ অভিনন্দন হরমনপ্রীত কৌর এবং কোচ অমল মজুমদারকে। ভারত এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!’

LinkedIn
Share