Tag: South 24 Parganas

South 24 Parganas

  • Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের ‘প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ’ হিসেবে পরিচিত ম্যানগ্রোভ (Mangroves) অরণ্য ধ্বংস এবং নদীর চর বেআইনিভাবে ভরাট করে কোটি কোটি টাকার ভূমি কেলেঙ্কারির এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং (Canning) থানা এলাকার মাতলা সেতুর সন্নিকটে এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের সন্ধান মিলেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ (Mangroves)

    স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ের (Canning) মাতলা ব্রিজে যাওয়ার পথের ডান দিকে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ (Mangroves) জঙ্গল সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর নদীর চরটি বেআইনিভাবে মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করে সেখানে একটি বিশাল আবাসিক কলোনি বা জনবসতি গড়ে তোলা হয়েছে।

    • নতুন জনবসতি: পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে গড়ে ওঠা এই নতুন কলোনিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেতাজি পল্লি’। বর্তমানে এখানে কয়েকশো পরিবার বসবাস করছেন।
    • দলিলের নামে জালিয়াতি: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনও বৈধ সরকারি নথি বা সরকারি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দলিল ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে ‘প্রান্তিক সঙ্ঘ’ নামের একটি স্থানীয় ক্লাবের লেটারহেড বা প্যাডকে ‘দলিল’ হিসেবে ক্রেতাদের দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জালিয়াতির শামিল।

    প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ও কোটি টাকার লেনদেন

    স্থানীয় (Canning) বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য (Mangroves) ধ্বংস করে নদীর জমি বিক্রি করার নেপথ্যে এলাকার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জড়িত রয়েছেন। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ফুসফুস বলে পরিচিত এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য কেটে এভাবে জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। মানবিকতার দোহাই দিয়ে এবং গৃহহীনদের পুনর্বাসনের আড়ালে মূলত একটি পরিকল্পিত ভূসম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট চক্র চালানো হচ্ছিল।

    বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তর

    ক্যানিং এবং সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে কীভাবে নদীখাত ও ম্যানগ্রোভের (Mangroves) জমি বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তার বাস্তব চিত্র নিয়ে পরিবেশবিদরা এখন ভীষণ ভাবে চিন্তিত। রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আর্থিক দুর্নীতি জনজীবন এখন বিপন্ন হওয়ার মুখে। এই সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতি এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শাসক দল বিগত সরকারের তৃণমূল নেতাদেরদিকেই আঙুল তুলেছে। তবে তৃণমূলের তরফে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য পরিবেশ দফতর এবং জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

  • NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    NIA: ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার বাড়িতে হানা এনআইএ-র, আটক ছেলে, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর বিপাকে ভাঙড়ের হেরো তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লা (Saokat Mullah)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গিয়ে (NIA) ঘরে সেঁধিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা! একা হয়ে গিয়েছেন সওকত। মাথার ওপর থেকে ‘মমতা ব্র্যান্ডে’র ছাতাটা সরে যেতেই ফোঁসফাঁস করা বন্ধ করে দিয়ে সওকত এখন মিউমিউ করছেন! এহেন ‘ভাঙড়ের ত্রাসে’র আস্তানায় হানা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। নির্বাচনোত্তর হিংসা এবং বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সওকতের খোঁজে ক্যানিংয়ে পৌঁছয় এনআইএ। এদিন প্রথমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও আধাসেনা। তার পরেই জীবনতলা এলাকার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় এনআইএর বিশেষ দল৷ এদিন অবশ্য আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে সওকতকে পাননি। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা।

    সওকতের বাড়িতে এনআইএ (NIA)

    এদিন সাত সকালেই এনআইএর দু’টি দল জীবনতলা এলাকায় সওকতের বাড়িতে পৌঁছয়। তদন্তকারীরা অনেকক্ষণ ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খবরাখবর নেওয়া হয় সওকত কোথায় রয়েছেন, সেই ব্যাপারে। তৃণমূলের রাজত্বে ‘কেউটে’ থেকে পদ্ম-রাজে ‘হেলে’ হয়ে যাওয়া সওকত বাড়িতে নেই বলেই দাবি করেন পরিবারের লোকজন। তখনই তদন্তকারীরা ইমরান নামে তাঁর এর ছেলেকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান (NIA)। তাঁকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে৷ এনআইএর একটি দল সওকতের হোটেল এবং অন্যান্য ‘ঠেকে’ তল্লাশি চালায়, জানার চেষ্টা করে তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে।

    নির্বাচনোত্তর হিংসায় এল সওকতের নাম

    গত ১৮ মার্চ ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া-বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। নির্বাচনোত্তর হিংসার একাধিক ঘটনার তদন্তেও নাম জড়িয়েছে সওকতের। সেই সূত্রেই তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, সওকত বর্তমানে কলকাতা কিংবা তার আশপাশের কোনও এলাকায় রয়েছেন (Saokat Mullah)। রাজনৈতিক মহলে সওকত পরিচিত মুখ। ভাঙড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দাপিয়ে ‘রাজ’ করছিলেন তিনি। একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের। যদিও সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ (NIA) অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷

    সওকতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ 

    সওকতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। কয়লাপাচার মামলার তদন্তে একাধিকবার সওকতকে তলব করেছিল আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই৷ সেই সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ ধরে। যদিও ওই মামলায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। এবার ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এনআইএ হানা দিয়েছে সওকতের (Saokat Mullah) ডেরায়। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়কের পরিণতি কী হয়, তা জানতে রাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন (NIA)।

     

  • Dilip Mondal: তৃণমূলের দিলীপ মণ্ডলের ‘রাজপ্রাসাদে’ পুলিশি অভিযান, নিখোঁজ বিধায়ক, এলাকায় চাঞ্চল্য

    Dilip Mondal: তৃণমূলের দিলীপ মণ্ডলের ‘রাজপ্রাসাদে’ পুলিশি অভিযান, নিখোঁজ বিধায়ক, এলাকায় চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল (TMC MLA) বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের (Dilip Mondal) পৈলানের বিলাসবহুল বাসভবনে মঙ্গলবার সকালে এক বিশাল পুলিশ বাহিনী হানা দেয়। সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও হুমকির জেরে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও বাড়ির ভেতরে বিধায়কের হদিস পাওয়া যায়নি। তল্লাশির সময়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী আর সাজজ্জা দেখে স্তুম্ভিত পুলিশ। বিশাল বাগান, প্রসাদ, সুইমিং পুল থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মূর্তি— এ যেন ফাইভ স্টার রিসর্ট।

    প্রাসাদে তল্লাশি ও আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাত্রা (Dilip Mondal)

    পুলিশ যখন পৈলানের সেই সুউচ্চ পাঁচিল ঘেরা বাড়িতে প্রবেশ করে, তখন বিধায়কের (Dilip Mondal) আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাত্রার এক অভূতপূর্ব চিত্র সামনে আসে। বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সেই বাসভবনটি যেন কোনও রাজপ্রাসাদ। তার ভেতরে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, বাহারি ফোয়ারা এবং অত্যন্ত পরিপাটি লন নজর কেড়েছে তদন্তকারীদের। বাগানের সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ ও ময়ূরের প্রমাণ সাইজ মূর্তি। বাড়ির কর্মীদের দাবি, শপথ গ্রহণের পর থেকে বিধায়ক আর এই প্রাসাদে ফেরেননি।

    অভিযানের কারণ ও আইনি প্রেক্ষাপট

    ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি তৃণমূল (TMC MLA)  বিধায়কের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে সরাসরি হুমকি দিতে শোনা যায়। ভিডিওটিতে দিলীপ মণ্ডল (Dilip Mondal) বলেন, “অনেক সংযম দেখিয়েছি, ১৫ বছর শান্তিতে রেখেছিলাম। আর হবে না।” এই মন্তব্যকে উস্কানিমূলক হিসেবে গণ্য করে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি ধারায় মামলা রুজু করেছে, যার মধ্যে দুটি ধারা অত্যন্ত কঠোর ও জামিন অযোগ্য।

    রাজনৈতিক জল্পনা ও বর্তমান পরিস্থিতি

    তৃণমূলের (TMC MLA) একজন গুরুত্বপূর্ণ বিধায়কের বাড়িতে পুলিশের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, আইনি পদক্ষেপ এড়াতেই তিনি বর্তমানে আত্মগোপন করেছেন। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে আইন তার নিজের পথেই চলবে। তবে বিধায়কের বক্তব্য এলাকায় ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেছে তাই বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এরপরই পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে পৈলানের দিলীপ মণ্ডলের বিলাসবহুল বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

    বর্তমানে দিলীপ মণ্ডলের (Dilip Mondal) পৈলানের বাড়িটি পুলিশি বেষ্টনীতে রয়েছে। নিখোঁজ বিধায়কের সন্ধানে পুলিশ রাজ্যজুড়ে তল্লাশি শুরু করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুরো ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও কৌতূহল বিরাজ করছে।

  • West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল জনমানসে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে প্রাণ হারানো এক বিজেপি (BJP Bengal) প্রার্থীর পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছরের নীরবতা ভেঙে এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী ছিলেন ধূর্জটি সাহা ওরফে মানস সাহা। তাঁকে ২ মে ২০২১ সালের ভোটের ফল ঘোষণার পর পিটিয়ে হত্যা করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিজেপির সরকার গড়ার প্রেক্ষাপটে নিহতের কন্যা এবার প্রশাসনের কাছে খুনিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (West Bengal Election 2021)

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমে সেই সময় নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রার্থী মানসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ (BJP Bengal) ছিল, তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। সেই সময় দেশজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গিয়েছিল।

    ভয় ও নীরবতা ভেঙে প্রতিবাদ

    নিহত প্রার্থীর কন্যা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিগত বছরগুলিতে (West Bengal Election 2021) প্রাণের ভয়ে এবং পরিস্থিতির চাপে আমরা মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর তাই আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা শুধু বিচার চাই। আমার বাবার খুনিরা আজও খোলা আকাশে নীচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ন্যায্য তদন্তের দাবি

    বিজেপি প্রার্থীর (BJP Bengal) পরিবারটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পুনরায় তদন্ত শুরু করা হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোরতম সাজা দেওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

    রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

    রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই পরিবারের (BJP Bengal)  পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি পুনরায় সামনে আসায় তৎকালীন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি আবারও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভোটের রাজনীতিতে (West Bengal Election 2021) মানুষের জীবনের মূল্য ঠিক কতটুকু, সেই প্রশ্নই আবার তুলে দিল এই ঘটনা। ন্যায়বিচারের আশায় থাকা এই পরিবারটির লড়াই এখন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

  • South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) ক্যানিং পূর্বের মঠেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (OT) ভেতর থেকে একটি সুটকেস উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।  যার কাছে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে তিনি তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজি (TMC Leader) বলে জানা গিয়েছে।

    সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার (South 24 Parganas)

    নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে একটি পরিত্যক্ত সুটকেস লক্ষ্য করা যায়। খবর পেয়ে জীবনতলা (South 24 Parganas) থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কার, বেশ কিছু আধার কার্ড এবং একটি গাড়ির চাবি উদ্ধার করে। সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে কীভাবে এই বিপুল সম্পত্তি পৌঁছাল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসককে আটক

    হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শাহরুখ হোসেন বলেন, “স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে সভাপতির ছেলেই এই ব্যাগটি আমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন।” বিজেপির দাবি, ডাক্তার শাহরুখ হোসেন এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত অত্যন্ত প্রভাবশালী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ পালনেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

    পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালেরই (South 24 Parganas) এক অ্যাম্বুলেন্স চালক ওই সুটকেসটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের এক চিকিৎসকের জিম্মায় রাখতে দিয়েছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক সংযোগ ও অভিযোগ

    বিজেপির অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সম্পত্তি স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজির। ভোটের ফল প্রকাশের পর লুটের আশঙ্কায় বা আইনি জটিলতা এড়াতে ওই নেতা তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপদ স্থানে সম্পদ গচ্ছিত রেখেছিলেন। বর্তমানে ওই তৃণমূল নেতা (TMC Leader) এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা (South 24 Parganas) হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

  • West Bengal Elections 2026: নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশনের

    West Bengal Elections 2026: নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। ভোট গণনার ঠিক পূর্বমুহূর্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত বুথ অর্থাৎ মোট ২৮৫টি কেন্দ্রেই ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) হবে, ফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।

    কেন কমিশন ফের ভোট করবে (West Bengal Elections 2026)?

    বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের তদন্তে দেখা গিয়েছে, একদিকে বুথের ভিডিও ফুটেজ সম্পূর্ণ নয়। পরে সম্পূর্ণ ভিডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে এসেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেকর্ড ইচ্ছাকৃত ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৩টি বুথের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বড়সড় তথ্য লোপাটের ঘটনা সামনে এসেছে। ভোটকক্ষে বারবার একাধিক অনুমতি নেই এমন লোকজনের অবাধ প্রবেশও দেখা গিয়েছে। ভোটারদের (West Bengal Elections 2026) ওপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করতে দেখা গিয়েছে। একই ভাবে স্ক্রুটিনির নোটিশ রাজনতিক দলের প্রার্থীদের দেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র ইমেলে বা মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হয়েছে। এই কাজ নির্বাচনী বিধিভঙ্গের শামিল। তাই এবার পর্যবেক্ষকরা (Election Commission India) ফলতায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন।

    কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলতার বহু ভোটকেন্দ্র থেকে গুরুতর নির্বাচনী বিধিভঙ্গ (West Bengal Elections 2026) এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ মিলেছে। বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টে ইভিএমে কারচুপি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে আসায় বাতিল করা হয়েছে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, “এটি একটি সাহসী ও সময়োচিত পদক্ষেপ। যে সব ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি ছিল।”

    শাসক দলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে গণনা স্থগিত রেখে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে।

    গণনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব

    ৪ মে রাজ্যের অবশিষ্ট ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট (West Bengal Elections 2026) গণনা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে। কমিশনের মতে, একটি মাত্র কেন্দ্রের গণনা স্থগিত থাকায় সামগ্রিক ফলে (Election Commission India) তেমন কোনও বড় প্রভাব পড়বে না। তবে গণনা ও ফল প্রকাশের এই অন্তর্বর্তী সময়ে ফলতাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে।

  • West Bengal Elections 2026: ইভিএম সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম পাহারায় নামছেন মহিলা-পদ্ম কর্মীরা, জানালেন শমীক ভট্টাচার্য

    West Bengal Elections 2026: ইভিএম সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম পাহারায় নামছেন মহিলা-পদ্ম কর্মীরা, জানালেন শমীক ভট্টাচার্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট গণনা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ইভিএমের (West Bengal Elections 2026) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা। লক্ষ্য, গণনার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ইভিএমের সুরক্ষা তদারকি করা।

    বাইরে অতন্দ্র প্রহরী (West Bengal Elections 2026)

    বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান চলবে সোমবার সকাল পর্যন্ত। যতক্ষণ না দলের প্রার্থীদের কাউন্টিং এজেন্টরা গণনা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করছেন, ততক্ষণ মহিলা কর্মীরা স্ট্রংরুমের (West Bengal Elections 2026) বাইরে অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবস্থান করবেন। প্রতিটি জেলার নেতৃত্বকে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কমিশনকে (Election Commission India) সময়ে সময়ে অভাব অভিযোগ জানাবেন মহিলা কর্মকর্তারা।

    ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’

    সম্প্রতি কলকাতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুম— ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ এবং সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিছু অভিযোগ সামনে আসে। শাসক ও বিরোধী (West Bengal Elections 2026)— উভয় পক্ষই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার রেশ টেনেই বিজেপি এবার তাদের মহিলা বাহিনীকে স্ট্রংরুম পাহারার গুরুদায়িত্ব দিয়েছে।

    তৃণমূল ও কমিশনের ভূমিকা

    এর আগে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজাও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন। তবে কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তাঁরা সেই অবস্থান তুলে নেন। এবার বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ত্রিস্তরীয় বলয়ে মোড়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সর্বেক্ষণ নজরদারি (West Bengal Elections 2026) চালানো হচ্ছে।

  • Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Assembly Elections 2026)। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে অশান্তি ঠেকাতে এবার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়ি নিয়ে এল নির্বাচন কমিশন। বুধবার ডায়মন্ড হারবার ও ভবানীপুরের রুট মার্চেও এই গাড়ি দেখা গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সীমান্তবর্তী বসিরহাট, বাগদা, দেগঙ্গা ও আমডাঙ্গা এলাকায় এই যান মোতায়েন করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের সময় কোথাও গুলি চললে বা পাথর ছো়ড়া হলে এই গাড়ি ব্যবহার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যক্তি (ভিআইপি) অশান্তির মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়লেও এই গাড়ি তাঁকে উদ্ধার করতে কাজে লাগানো হবে। কোনও এলাকায় জমায়েত বেশি হলে এই গাড়ি থেকে ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভবানীপুরে এই গাড়ির টহলদারি দেখতে রাস্তার পাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর। ডায়মন্ড হারবারে নামানো হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি। ‘মার্কসম্যান’ (Marksman From Kashmir) মূলত একটি লাইট আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, যা সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের জন্য তৈরি। শক্তিশালী বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বি-৬ স্তরের ব্যালিস্টিক প্রোটেকশন থাকায় ৭.৬২ মিমি পর্যন্ত গুলির আঘাত প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই গাড়ি। এমনকি গ্রেনেড বিস্ফোরণের ধাক্কা থেকেও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এর তলার অংশ।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বাংলায় আনা হয়েছে ওই গাড়ি, যার মাথায় মেশিন গান বসানোর জায়গাও রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি ব্যবহৃত হয়। এই গাড়ি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। সম্পূর্ণ রূপে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিও প্রতিরোধ করতে পারে। রাস্তার নীচে পোঁতা বিস্ফোরক থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে বিশেষ ভাবে তৈরি গাড়িটি। ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চালাতে সক্ষম। চারপাশ পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে ভিশন পোর্ট, ফায়ারিং স্লট। চড়াই-উতরাই পেরোতে সক্ষম গাড়িটি। গাড়িতে একসঙ্গে সাত-আটজন সওয়ার থেকে অভিযান চালাতে পারেন।

    কোথায় কোথায় নামল ওই বিশেষ গাড়ি

    বুধবার, বাহিনীর বিশেষ এই গাড়ির টহলদারি ভবানীপুর থানা থেকে শুরু হয়েছিল। তা পদ্মপুকুর, চক্রবেড়িয়া, শরৎ বোস রোড হয়ে হাজরায় গিয়ে শেষ হয়। খাকি রঙের চারচাকা গাড়িটি আদ্যোপান্ত বুলেটনিরোধক। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফ এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। এই গাড়িগুলির নম্বরপ্লেটও জম্মু ও কাশ্মীরেরই। ভবানীপুরের পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় ওই ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি নিয়ে এরিয়া ডমিনেশনের কাজ শুরু করেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। মূলত সন্ত্রাস অধ্যুষিত এলাকা, দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা এবং ভিআইপি-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ওই গাড়ি ব্যবহার করে ভারতীয় সরকার। এদিন গাড়ির পিছনে দুই জওয়ান ছিলেন। একজন রাইফেল নিয়ে ছিলেন উপরে। গাড়িটি গ্রেনেড হামলা সহ্য করতে পারে। কোনও ক্ষতি হয় না গাড়ির। একে-৪৭ থেকে গুলি চালালেও কিছু হয় না। গাড়ির ভিতরে বসে গুলি চালাতে পারেন জওয়ানরা। উপরে মেশিনগান বসানোর জায়গাও রয়েছে। গাড়ির ভিতর থেকেই নজরদারি চালানো যায়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, হাই রিস্ক বা স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ওই গাড়ি ব্য়বহার করা হবে। পাশাপাশি, মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র বাহিনী। এদিন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন জায়গা এরিয়া ডমিনেশনে বেরোতে দেখা যায় সিআরপিএফ জওয়ানদের।

    শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    অনেক আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে তারা রুট মার্চ করছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশও। ভবানীপুরে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ থেকে মাইকে প্রচার চালানো হয়। নির্ভয়ে সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানায় বাহিনী। বলা হয়, ‘‘আপনারা সকলে সকাল সকাল ভোট দিন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি মেনে চলুন। ভবানীপুর থানা, সিআরপিএফ এবং কমিশন সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে। যে কোনও সমস্যায় বা প্রয়োজনে থানায় ফোন করুন। আমরা কেবল একটি ফোনকলের দূরত্বে রয়েছি। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব।’’ কমিশন আগেই জানিয়েছে, যে কোনও মূল্যে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করা হবে। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য এর আগে একাধিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। এ বার কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়িও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হল। খাস কলকাতায় সেই গাড়ি টহলদারি শুরু করে দিয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে গাড়ি থেকে।

    কোথায় কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। তার আগে জেলায় জেলায় প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ে মোতায়েন থাকবে ৬১ কোম্পানি বাহিনী, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে ৪৪ কোম্পানি, কালিম্পংয়ে ২১ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে যথাক্রমে ৭৭ ও ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী, ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ৬১ ও ৭১ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী, মালদায় ১৭২ কোম্পানি বাহিনী, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে ৩১৬ কোম্পানি,পূর্ব ও পশ্চিম, ২ মেদিনীপুরে ৪৪৪ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ৭৪ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ১৯৩ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ১৫১ কোম্পানি, বীরভূমে ১৭৬ কোম্পান, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় মোতায়েন থাকবে ১২৫ কোম্পানি বাহিনী।

  • Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

    Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলা, যা দীর্ঘকাল ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার একটি বড় অংশের পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা শাসক দল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (Bharatiya Janata Party) যোগদান করেছেন। এদিন বিজেপির কার্যালয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই যোগদান সম্পর্কে বলেন, “কেউ আমার সঙ্গে, কেউ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে, কেউ বিপ্লব দেবের সঙ্গে, কেউ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমরা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের মতামত নিয়ে স্থির করেছি যে, কাদের দলে স্বাগত জানানো যায়।”

    দলবদল করে বিজেপিতে যোগদান (Bharatiya Janata Party)

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) বিভিন্ন ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পদাধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে (Bharatiya Janata Party) নাম লিখিয়েছেন। মূলত সাংগঠনিক স্তরে ক্ষোভ এবং উন্নয়নের নিরিখে মতপার্থক্যের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। শুভেন্দু আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমন ব্যক্তিদেরকেই দলে যোগদান করানো হয়েছে।

    যাঁরা যোগদান করলেন…

    • শৈবাল লাহিড়ী— বর্তমান ব্লক প্রেসিডেন্ট (তৃণমূল) ক্যানিং ১ ব্লক, প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ২০১৩-২০১৮ এবং বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ ২০১৮ থেকে ২০২৩, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ।
    • সিরাজউদ্দিন দেওয়ান— প্রাক্তন উপ-প্রধান
    • প্রতিমা সর্দার—প্রাক্তন প্রধান ২০১৩ থেকে ২০২৩, হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত
    • রফিক শেখ— বর্তমান জয়েন্ট কনভেনর, নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত
    • আসমত মোল্লা— বর্তমান অঞ্চল প্রেসিডেন্ট, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • নন্দকিশোর সর্দার— প্রাক্তন প্রধান, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • বদরুদ্দোজা শেখ— প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ, ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি
    • অর্ণব রায়— প্রাক্তন প্রধান, দিঘিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • সঞ্জয় নস্কর— গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য।

    এঁরা ছাড়াও পদ্ম শিবিরে যোগ দেন— সালাউদ্দিন সর্দার, শম্ভু বৈদ্য, গণেশ মণ্ডল, কালীচরণ সর্দার, মদন নস্কর, বিষ্ণু নস্কর, কার্তিক মণ্ডল, অসিত মণ্ডল, ধনঞ্জয় সাঁপুই, দীপঙ্কর মণ্ডল, মনোরঞ্জন দাস, ফণীভূষণ সর্দার।

    বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার

    এদিনের যোগদান সভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যোগদান সম্পর্কে বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বরাবরই এ রাজ্যের ভোটের প্রবণতা বুঝিয়ে দেয়। পূর্ব মেদিনীপুরে তো আমরা এমনিতেই জিতে রয়েছি। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনাও বার্তা দেওয়া শুরু করল। গোসাবা ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেল বলতে পারি। গোটা সুন্দরবনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা খাতা খুলতে দেব না। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল পাবে না। আজ তার সূচনা করলাম।”

    এই যোগদানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির  (Bharatiya Janata Party) সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এবং ক্যানিং মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই যোগদানকে ‘মানুষের মোহভঙ্গ’ এবং ‘পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের প্রতি আস্থা হারিয়েই নিচুতলার কর্মীরা সরব (Bharatiya Janata Party) হচ্ছেন।

    দুর্বল হয়ে পড়বে তৃণমূল কংগ্রেস

    শাসক দলের জেলা (South 24 Parganas) নেতৃত্বের মতে, এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারছেন না, তারাই দল ছাড়ছেন। সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশেই আছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের শক্তিক্ষয় তৃণমূলের সাংগঠনিক সংহতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • Suvendu Adhikari: মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তৃণমূল! ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তৃণমূল! ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআরের (SIR) কথা ঘোষণা হতেই ফুঁসে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। সৌজন্য তো বটেই, হেটো রাজনীতি করতে গিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে (বিরোধীদের অভিযোগ) এসআইআরের প্রতিবাদে পথে নেমে পড়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন (Suvendu Adhikari), ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের বাঁচিয়ে রেখে দিব্যি গদি আঁকড়ে পড়ে রয়েছে তৃণমূল। এসআইআর হলে বাদ পড়বে এদের নাম। স্বাভাবিকভাবেই গদি খুইয়ে পথে বসতে হবে তৃণমূলেশ্বরীকে। রাজ্যের বিরোধী দল প্রথম থেকেই এই দাবিটাই করে আসছে।

    হাতে গরম প্রমাণ (Suvendu Adhikari)

    তাঁদের অভিযোগ, ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের কার্ড কাজে লাগিয়ে ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে চাইছে তৃণমূল। তাই এই বিরোধিতা। বিরোধীদের এহেন দাবি যে নিছক গল্পগাছা নয়, তার ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটি ছবিও দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিডিওদের দিয়ে অপকর্ম করানো হচ্ছে। প্রশাসনকে অপব্যবহার করে প্রভাবিত করা হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়াকে। শুভেন্দুর দাবি, “কুলতলি, জয়নগর বিধানসভা-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিএলওদের চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।”

    কথোপকথনের নমুনা

    কুলতলির বিডিও যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রয়েছেন তার কথোপকথন নমুনা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মৃত ব্যক্তিদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিধেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। যে ভোটাররা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের তথ্যও অপরিবর্তিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে (SIR)।” বিধায়কের (Suvendu Adhikari) প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অমান্য করে প্রশাসন আদৌ কি এই রকম নির্দেশ দিতে পারে?” এই ইস্যুটি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিধায়কের পোস্টের পর এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

    আইপ্যাককে নিয়ে প্রশ্ন

    সোমবারই সিইও অফিসে গিয়ে মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন শুভেন্দু। সিইও-র সঙ্গে বৈঠকের সময় আইপ্যাককে নিশানা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আইপ্যাকের সাহস হয় কীভাবে, ডেটা এন্ট্রিতে ঢুকছে?” এজন্য সিবিআই তদন্তও দাবি করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। আইপ্যাককে নিয়ে আগেও বোমা ফাটিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল আইপ্যাকের সাহায্য নিয়ে ভোটার তালিকায় ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের নাম রাখছে (SIR)। তাঁর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশন কি এই প্রশাসনিক অন্তর্ঘাত উপলব্ধি করতে পারছে না?”

    দলদাস প্রশাসনের কীর্তি

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, “দলদাস প্রশাসনের কীর্তি দেখুন। এই ভয়েস ক্লিপিং ফলতারই একজন বিএলওর যিনি পরিষ্কার অভিযোগ করেছেন, ফলতার বিডিও এবং এআরও গতকাল বিকেল তিনটের পর সব বিএলওদের ফোন করে নির্দেশ দেন, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনও মৃত ব্যক্তির নাম কাটা যাবে না। অথচ পরিবারের লোক মৃতদের এনুমারেশন ফর্মে ডিক্লিয়ারেশন স্বাক্ষর করেছেন (Suvendu Adhikari)। বিএলওদের বলা হচ্ছে, ফর্মগুলি আপলোড না করে, অ্যানিম্যাপিং করে ছেড়ে দিতে, কেন যাতে পরে জোচ্চুরি করা যায়!” শুভেন্দু বলেন, “ফলতা নিয়ে অডিও ট্যুইট করেছি। তার পরে কুলতলিতে স্ক্রিনশট দিয়েছি। বলছে, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া মৃত ভোটারের নাম কাটা যাবে না। অথচ তাঁর বাড়ির লোক লিখে দিচ্ছেন ডেড। তবুও রাখতে হবে। এরা হাইকোর্ট, কাউকে মানে না। এদের কপালে অনেক দুঃখ আছে (SIR)।”

    অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছিল সিপিএমও

    এদিকে, মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে তৃণমূল। এমন মারাত্মক অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছিল সিপিএমও (Suvendu Adhikari)। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক্স হ্যান্ডেলে একটি অডিও ক্লিপ পোস্ট করে কার্যত একই অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, এই অডিও ক্লিপে একটি কণ্ঠস্বর এক বিএলওর। যিনি ফলতার বিডিও এবং এআরওর নামে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করছেন। সোমবার সিইওর দফতরে সিপিএমের তরফে যে অডিও ক্লিপ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানেও শোনা গিয়েছে, মৃতদের নাম ভোটার লিস্টে রেখে দিতে, ডেথ সার্টিফিকেট না দেওয়ার প্রসঙ্গ।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে ১০০ শতাংশ পূরণ করা এনুমারেশন ফর্ম ফেরত এসেছে। অর্থাৎ এই পোলিং স্টেশনগুলিতে না কোনও মৃত ভোটার আছে, না কোনও স্থানান্তরিত ভোটার। এমনটা কি আদৌ সম্ভব? এই পরিসংখ্যান নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই বারংবার প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভোটার তালিকায় মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে রাখার মরিয়া (SIR) চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল (Suvendu Adhikari)?

LinkedIn
Share