Tag: Special Intensive Revision

  • West Bengal Elections 2026: নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে বাংলায় হবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    West Bengal Elections 2026: নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে বাংলায় হবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে এবার সব চেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে (West Bengal Elections 2026) বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এমন এক রাজ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটার তালিকায় এসআইআর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে (Central Forces)।

    ২,০০০-এর বেশি কোম্পানি (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “ব্যাপক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও ধরনের অশান্তি রোধ করতে সাহায্য করবে।” প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২,০০০-এর বেশি কোম্পানি প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে। এই মোতায়েনের পরিমাণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সেই নির্বাচনে ভোটের আগে এবং ভোটের সময় মোট প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫০-৩৭০ কোম্পানি ছিল সিআরপিএফ। আধিকারিকদের মতে, এবার বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর কারণ হল আরও ভালো পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘ্নহীন হয়।

    ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে নজরদারি

    বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণ ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকবে, যাতে আধিকারিকরা রিয়েল-টাইমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। আধিকারিকদের মতে, এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে (Central Forces)।আরও একটি বড় পার্থক্য রয়েছে ভোটগ্রহণের ধাপের সংখ্যায়। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। এবার নির্বাচন হবে মাত্র দু’দফায়। কর্তাদের ধারণা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির জেরে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ (West Bengal Elections 2026)।

     

  • Assembly Election 2026: “ভোটের সময় বাংলায় এত হিংসা কেন?” রাজ্যকে প্রশ্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

    Assembly Election 2026: “ভোটের সময় বাংলায় এত হিংসা কেন?” রাজ্যকে প্রশ্ন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Election 2026) সময় বাংলায় এত কেন হিংসা হয়? রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই প্রশ্ন করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোট হবে অহিংস, শান্তিপূর্ণ! তা না হলে কারওর রেয়াত নেই। সোমবার বাংলায় এসে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ রাজ্য়ের উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের ‘ক্লাস’ নিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আরও বেশি কড়া হাতে নির্বাচন সামাল দিতে হবে বলেই মত তাঁর। এদিন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠকে বসেছে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে।

    রাজ্য প্রশাসনকে ধমক নির্বাচন কমিশনের

    কমিশনের তরফে বেআইনি অস্ত্র, মদ ও বেআইনি অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সতর্ক করেছে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, “অন্য রাজ্যে এত হিংসা দেখা যায় না। বাংলাতেই কেন ভোটের সময় এত অশান্তি? সব রাজনৈতিক দলগুলি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। এবার এই সব চলবে না।” কোনও রকম বোমা-পিস্তলের খবর যেন না থাকে, বারেবারে জেলাশাসকদের সতর্ক করা হয়। পদের ‘মোহ’ ভুলে বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি আরও বলেন, “জেলাশাসক হন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে রেয়াত নেই। কেউ পালাতে পারবেন না। নির্বাচনের পর দোষী সাব্যস্ত হলে পদক্ষেপ তাঁদের বিরুদ্ধে অনিবার্য।” এমনকি নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ এলেও ‘শেষ দেখে ছাড়বেন’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এ দিন যখন এসপি-ডিএম ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক চলছিল, সেখানে এডিজি আইন-শৃঙ্খলা বীনিত গোয়েলকে কড়া ধমক দেন তিনি। একেবারে প্রথমের সারিতেই বসেছিলেন বিনীত গোয়েল। কথা হচ্ছিল নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নিয়ে। জ্ঞানেশ জানতে চান, অন্য রাজ্যের মতো বাংলায় কেন নার্কোটিক্স অ্যাডভাইজারি বোর্ড নেই? সূত্রের খবর, এই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন বিনীত গোয়েল। আর তখনই ধমক দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

    বিজেপি’র ১৬ দফা দাবিপত্র

    সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে মোট ১৬ দফা দাবিপত্র পেশ করে বিজেপি। বাংলায় নির্বাচনকালীন হিংসা, কারচুপি-সহ নানাবিধ ইস্যুতে সুর চড়ায় তাঁরা। বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কমিশনের কাছে ভয়মুক্ত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।” এছাড়াও ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদ্ব্যবহার’ করতে হবে কমিশনের কাছে আর্জি করেন বিজেপি নেতা।

    নবান্নে জরুরি বৈঠক মুখ্যসচিবের

    নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর নবান্নে জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। ওই বৈঠকে জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের বৈঠকে যে নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কমিশনের বৈঠকের পর মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট দেওয়ার প্রথা থাকায় এই বৈঠক ডাকা হয়। জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

  • Final Phase Of SIR: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড়সড় সংশোধন! এপ্রিল থেকেই শুরু শেষ পর্যায়ের এসআইআর

    Final Phase Of SIR: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড়সড় সংশোধন! এপ্রিল থেকেই শুরু শেষ পর্যায়ের এসআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আরও ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Final Phase Of SIR) সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এই নতুন পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। কমিশন (Election Commission Of India) সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কোন কোন রাজ্যে শুরু হবে এসআইআর

    বৃহস্পতিবার কমিশন অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, লাদাখ, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, দিল্লি, ওড়িশা, পাঞ্জাব, সিকিম, ত্রিপুরা, তেলঙ্গানা ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, গত বছরের জুন মাসেই সারা দেশে এসআইআর চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে বিহারে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রায় ৬০ কোটি ভোটারকে নিয়ে কাজ চলছে। বাকি প্রায় ৪০ কোটি ভোটারকে এই ১৭টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অসমে এসআইআর-এর বদলে ‘বিশেষ সংশোধন’ প্রক্রিয়া ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

    বাংলায় কোন পর্যায়ে এসআইআর

    এসআইআর-এর (Final Phase Of SIR) এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। তবে, বিহারে প্রস্তুতি চলাকালীনই কমিশনের কিছু আধিকারিক দাবি করেছিলেন, তৃণমূল স্তরে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশ, নেপাল ও মায়ানমারের কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধরনের নাগরিকের খোঁজ মিলেছে। সীমান্তে ভিড়ও চোখে পড়েছে। যদিও পরবর্তীতে কমিশন এই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সংখ্যা বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি। পশ্চিববঙ্গ-সহ ১২ রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের দিন নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সূত্রের খবর, নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই তালিকা প্রকাশ নাও হতে পারে। বাড়তে পারে সময়সীমা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘যদি অভিযোগ নিষ্পত্তি শেষ না হয়, যদি কাজ না শেষ হয় সেক্ষেত্রে সময় বাড়বে। আগে তো ইআরও এইআরও, জেলাশাসকরা বলুক কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সময় বাড়বে।”

  • Bengal Assembly Polls: ১ মার্চ রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, বাংলায় ভোট কবে?

    Bengal Assembly Polls: ১ মার্চ রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ, বাংলায় ভোট কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি, এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তারপরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly elections 2026) দামামা বেজে যাবে। আগামী ১ মার্চ দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছে নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই)-র পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার (Bengal Assembly Polls) তালিকা প্রকাশের পরদিনই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও), পশ্চিমবঙ্গ মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বৈঠকে এই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

    মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা

    সিইও দফতরের এক সূত্র জানিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছে কমিশনের (Election Commission Of India) সদস্যরা সিইও-র পাশাপাশি অতিরিক্ত সিইও, যুগ্ম সিইও, ডেপুটি সিইও এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসআইআর-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই হবে এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এর পরপরই রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রের খবর। সিইও দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “নয়াদিল্লির বৈঠকে কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে যে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।”

    কত দফায় ভোটগ্রহণ রাজ্যে

    বৈঠকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কত দফায় ভোটগ্রহণ (Bengal Assembly Polls) হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, সিইও একদফায় নির্বাচন করার পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন এবং জানিয়েছেন যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা গেলে রাজ্য প্রশাসন একদফা ভোটের জন্য প্রস্তুত। যদিও কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে তিন দফার বেশি ভোট হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে শেষ একদফা বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০০১ সালে। এরপর লোকসভা ও বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই ছয় থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। সিইও দফতরের মতে, একদফা ভোটের ক্ষেত্রে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে চ্যালেঞ্জও। একদফা ভোট হলে বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থক জড়ো করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কমতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলি তাদের সমর্থকদের এক পকেট থেকে অন্য পকেট পর্যন্ত একত্রিত করতে পারবে না এবং এর ফলে ভোটের দিন বা তার আগের দিন বহিরাগতদের একত্রিত করতে পারবে না। তবে একই দিনে গোটা রাজ্যে ভোট করতে গেলে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। কমিশন সেই ব্যবস্থা করতে পারলে একদফা নির্বাচন বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেই মত প্রশাসনিক সূত্রের।

  • SIR in Bengal: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ শুনানি

    SIR in Bengal: রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ শুনানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-পর্বের (SIR in Bengal) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। মঙ্গলবার এসআইআরের নতুন সূচি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে বৈঠক করার পরেই ওই নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, “লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি” বা যৌক্তিক অসঙ্গতি এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনওভাবে সংযুক্ত না থাকার অভিযোগে যাঁদের ডাকা হয়েছে, তাঁদের শুনানি ও মামলার নিষ্পত্তি ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে। জমা দেওয়া নথির যাচাই প্রক্রিয়া চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগে শুনানির শেষ দিন ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।

    কীভাবে হচ্ছে নথি যাচাই

    ইসি (Election Commission Of India) সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাইয়ের আওতায় থাকা ১.৫১ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১.৪০ কোটির শুনানি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০-১২ লক্ষ ভোটার, যাঁরা চার থেকে পাঁচটি জেলায় ছড়িয়ে রয়েছেন, তাঁদের শুনানি আগামী দু’দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক আধিকারিক জানান, “শুনানি শেষ হলেই ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির কাজে জোর দেওয়া যাবে।” সূত্রের খবর, শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রায় ১ কোটি ভোটারের নথি ইতিমধ্যেই আপলোড করা হয়েছে। তবে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও সহকারী ইআরও-রা নথি আপলোড না করলে জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা তা যাচাই করতে পারবেন না। সাধারণত এই যাচাই প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। যাচাই শেষে নথি ফেরত পাঠানো হবে ইআরওদের কাছে, যাতে তারা মামলার নিষ্পত্তি করতে পারেন। ইতিমধ্যে যাচাই হওয়া মামলাগুলিতে ইলেক্টোরাল রোল অবজারভাররা তাঁদের মন্তব্য নথিভুক্ত করেছেন, যা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরওরা।

    একাধিক স্তরে ‘সুপারচেকিং’

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের (SIR in Bengal) সময়সীমা বেড়েছে। স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইআরও-রা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের জেরেই এই সিদ্ধান্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে একাধিক স্তরে ‘সুপারচেকিং’ হবে বলেও জানানো হয়েছে। ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার ও বিশেষ রোল অবজারভারদের পর্যবেক্ষণের পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) তালিকা খতিয়ে দেখবেন। এরপর তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে নির্বাচন সদনে। সেখানেও আরও এক দফা সুপারচেকিংয়ের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

    নির্ভুল তালিকা প্রকাশে বিশেষ সতর্কতা

    ইসি (Election Commission Of India) জানিয়েছে, ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্ভুল তালিকা প্রকাশে তারা বিশেষভাবে সতর্ক। এক আধিকারিকের কথায়, “একাধিক দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। কমিশন সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হলে তালিকা প্রকাশ করা হবে না।” এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকার যে ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম ইসিকে পাঠিয়েছে, তাঁদের বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে কমিশন। অভিযোগ উঠেছিল, তালিকাভুক্তদের মধ্যে অনেকে গ্রুপ-সি কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত। এই আধিকারিকদের এসআইআর ডিউটিতে নিয়োগ করা হবে। ইসি সূত্রে জানানো হয়েছে, “শুধুমাত্র গ্রুপ-বি কর্মীরাই যাতে এই দায়িত্ব পান, তা নিশ্চিত করতেই বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।”

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটার তালিকা তৈরির সময় নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ECI) রয়েছে, তবে সেই ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটার তালিকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এর সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের নির্বাসন বা বহিষ্কারের ক্ষমতার কোনও সংঘাত নেই। সুপ্রিম কোর্টকে (Supreme Court) এ কথাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গুচ্ছের মামলা (ECI)

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় আবেদনকারীদের মূল যুক্তির জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, তবে শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে কাউকে দেশছাড়া করা হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, “নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র ভোটার তালিকার উদ্দেশ্যে যাচাই করে দেখবে কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক কি না। এর ফল শুধু এতটুকুই হবে যে, তিনি ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্য থাকবেন কি না। এর সঙ্গে নির্বাসনের কোনও সম্পর্কই নেই (Supreme Court)।”

    কী বললেন দ্বিদেবী?

    বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিবেদী বলেন, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদ ও বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং ভোটার হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল ভারতের নাগরিক হওয়া (ECI)। তিনি জানান, ১৯৪৯ সালে সংবিধান সভা একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি ভারতের নাগরিক না হন, তবে তাঁকে কোনও নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। দ্বিবেদী এও বলেন, “ভারতের সংবিধানের আলোকে সংসদীয় আইন ব্যাখ্যা করতে হয়। নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষেত্রে আমাদের কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।”

    এই বিষয়ে আদালতের বেঞ্চে থাকা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, “আপনাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করার আগেই নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে। কারণ, নাগরিক নন এমন কেউ ভোটাধিকার পান না (ECI)।” এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৯(২) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারেরই রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সেই বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানের ৩২৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৬ ধারার মাধ্যমেই কমিশনের এই ক্ষমতা এসেছে (Supreme Court)। ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা দেয়, আর ১৬ ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব-সহ একাধিক কারণে কোনও ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার অযোগ্য ঘোষণা করা যায় (ECI)। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর ধারা এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ ওই ধারা স্বেচ্ছায় বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের কথা বলে, যা এসআইআরের আওতায় পড়ে না। কমিশনের আইনজীবী জানান,  এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার মূল লক্ষ্য যারা নাগরিক নয়, তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা। সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা ডিপোর্ট করার অধিকার কমিশনের নেই। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না।

    দ্বিবেদীর বক্তব্য

    দ্বিবেদী আরও জানান, সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১০২ ও ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিতে পারেন। একইভাবে ১৯১ ও ১৯২ অনুচ্ছেদে বিধানসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে অনুরূপ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে (ECI)। আদালত এই (Supreme Court) মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বৃহস্পতিবার। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য মৃত ভোটার বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তবে আবেদনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের (ECI) মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

     

  • SIR in Bengal: ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ! এসআইআর শুনানিতে আরও ২৪ লক্ষ ভোটারকে ডাকল কমিশন

    SIR in Bengal: ৪ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ! এসআইআর শুনানিতে আরও ২৪ লক্ষ ভোটারকে ডাকল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর সময় (SIR in Benga) ভোটার তালিকায় (Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দিল কমিশন (ECI)। মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর- এই রকম সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অন্তত ৫০টি বিধানসভার ক্ষেত্রে প্রজেনি ম্যাপিংয়ের শতাংশ অস্বাভাবিক হারে বেশি বলে কমিশন সূত্রে খবর। এর আগে ৩০ লক্ষ ভোটারকে ডাকা হয়েছে শুনানিতে, যাঁরা ‘নো ম্যাপড’, এবার ডাকা হচ্ছে আরও ২৪ লক্ষকে।

    এফআইআর করার নির্দেশ কমিশনের

    কমিশন (Election Commission) সূত্রে খবর, এর আগে রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও এবং এইআরও বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। কমিশনের নতুন নির্দেশ, ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ডিইও/জেলাশাসক-কে এফআইআর দায়ের করতে হবে। শুধু তাই নয়, সেই বিষয়ে রিপোর্টও দিতে হবে। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে গত বছর ৫ অগাস্ট ওই চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে হবে। অভিযোগ, এই চার অফিসারকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করলেও তাদের বিরুদ্ধ এফআইআর করেনি নবান্ন। কয়েকমাস কেটে গেলেও কোনও কঠিন পদক্ষেপ করা হয়নি। ই আর অপেক্ষা না করে এবার সরাসরি জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। আইন বা নিয়ম মোতাবেক, নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মী, আধিকারিক ও পুলিশের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের।

    ‘প্রজেনি ম্যাপড’দের নোটিস

    এসআইআর (SIR in Benga) শুনানি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এক ব্যক্তির সঙ্গে ৬ জনের লিঙ্ক করানো হয়েছে এরকম সংখ্যা ২৪ লক্ষ। নাম মিলছে না ৫১ লক্ষ। বাবার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম এমন ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার। বাবার বয়সের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি ৮ লক্ষ ৪১ হাজার। ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের অসঙ্গতি ৩ লক্ষ।এখনও পর্যন্ত ডেকে পাঠানো হচ্ছিল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই। এরকম বহু ভোটারের তথ্যও সামনে এসেছে, যাঁদের ২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল, তবুও তাঁরা শুনানিতে এসেছেন। এবার গত পরশু থেকে কমিশন ‘প্রজেনি ম্যাপড’দের নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যেই নোটিস পৌঁছে যাবে।

  • Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’ সাফ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) বিরুদ্ধে পুলিশে দায়ের করা অভিযোগগুলির তীব্র নিন্দাও করেছে কমিশন (Intimidatory Tactics)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের পুলিশি অভিযোগ প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনও রকম ভয় বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

    কমিশনের সাফ কথা (Intimidatory Tactics)

    কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এবং সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে কোনও প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা হবে কঠোরভাবে।নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই এবং সংবিধান অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন (Intimidatory Tactics) কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কমিশনের মতে, এই অভিযোগগুলি ‘পরিকল্পিত, ভিত্তিহীন এবং ভীতিপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা’।

    অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একাধিক সরকারি পোস্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এমন সংবাদ প্রতিবেদন লক্ষ্য করেছে যেখানে বলা হয়েছে (Election Commission), ২০২৬ সালের জন্য যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাকে কেন্দ্র করে দুই শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযোগ (Intimidatory Tactics) দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ২০২৬ সালের এসআইআর সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে দমন করার এক স্থূল প্রচেষ্টা।” কমিশনের সাফ কথা, “নির্বাচনী যন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এবং সংবিধানস্বীকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই (Election Commission) ধরনের ভীতিপ্রদর্শনমূলক কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য (Intimidatory Tactics)।”

    নিরপেক্ষতা রক্ষার অঙ্গীকার

    কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী আধিকারিকরা সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে যে এসআইআর প্রক্রিয়াটি চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন ও প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের ইঙ্গিত, তারা এই অভিযোগগুলিকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখছে না, বরং এগুলিকে একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কোন পরিস্থিতিতে এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের কড়া বার্তা, “এই ধারাবাহিক ও মনগড়া অভিযোগগুলির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে চেষ্টার কসুর করা হবে না। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে আইনের শাসন এবং সত্যই (Intimidatory Tactics)।” নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়ে দিয়েছে আরও একবার (Election Commission)।

    জনস্বার্থেই কাজ

    রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা ভয়ভীতির মুখেও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও নৈতিকতার সঙ্গে, সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে কাজ করে যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রবীণ ভোটারের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ওই দুই প্রবীণ ভোটার শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরের মারা যান। এই নোটিশগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর নিয়ে বিতর্ক

    পুরুলিয়া জেলার বছর বিরাশির দুর্জন মাঝির ছেলের অভিযোগ, তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের সময় প্রস্তুত করা কাগজে থাকা ভোটার তালিকায় থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা সংশ্লিষ্ট তালিকায় সেই নাম নেই। অভিযোগ, এই অসঙ্গতির কারণেই ওই প্রবীণ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয় (Election Commission)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত শুনানির সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই প্রবীণ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগকারীরা এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-কে দায়ী করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগ

    ভোটার তালিকার ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় প্রায় ১.৩ লাখ ভোটারের নাম রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাঁদের নাম অনলাইন ডেটাবেসে প্রতিফলিত হয়নি, তাঁদের কোনও শুনানিতে হাজির হতে হবে না (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের মতে, পুরানো ভোটার তালিকার ডিজিটাল রূপান্তরের সময় সৃষ্ট প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যাতে কোনও ভোটার হয়রানি বা অযথা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য

    কমিশনের আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো, যার মধ্যে রয়েছে দ্বৈত নাম বাদ দেওয়া, ভুল সংশোধন করা এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা। প্রকৃত বা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া বা ভয় দেখানো এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখ্য, এসআইআর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত রাজ্যগুলিতে, যেখানে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়মিত কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশন একাধিকবার জানিয়েছে যে, এসআইআর ২০২৬ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং আইনি বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এই প্রক্রিয়ায় একাধিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের (Intimidatory Tactics)।

  • SIR In Bengal: রাজ্যে ৮৫ লক্ষের বাবার নামে গলদ! দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে নামছে কমিশন

    SIR In Bengal: রাজ্যে ৮৫ লক্ষের বাবার নামে গলদ! দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে নামছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শেষ হয়েছে এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এনুমারেশন ফর্মের তথ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে কমিশনের। কোথাও ভোটারের চেয়ে তাঁর বাবা বা মা মাত্র ১৫ বছরের বড়। কোথাও আবার ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার চেয়ে ভোটার ৪০ বছরেরও ছোট নয়। মাঝে এক প্রজন্ম ব্যবধানের পরেও বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম। কোথাও ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক ৫০ বছরেরও বেশি। আবার অনেক জায়গায় বদলে গিয়েছে বাবার নামই। দেখা গিয়েছে রাজ্যে ৮৫ লক্ষ ভোটারের বাবার নামে গলদ। সাড়ে ১৩ লক্ষ ভোটারের বাবা-মায়ের নাম এক।

    বাবার নামে গলদ

    কমিশন সূত্রে খবর, মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের তথ্যে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ওই তথ্যগুলি যাচাই করে দেখা হবে। যেমন, বহু ক্ষেত্রে ৬ জনেরও বেশি ভোটার এনুমারেশন ফর্মে বাবার নাম একই উল্লেখ করেছেন। এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজারেরও বেশি ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। বর্তমান সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে এনুমারেশন ফর্মের তথ্যগুলি সন্দেহজনক ঠেকছে কমিশনের। ১৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন, এরকম সংখ্যা ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার। ৪০ বছরেরও কম বয়সে ঠাকুরদা হয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার। বিস্তারিত যদি তথ্যগুলো যাচাই করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে সাড়ে ১৩ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম বাবা – মা হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ পরিবারে একজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম যা ওই পরিবারে, আরেকজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম মায়ের জায়গায় এসেছে। এরা প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।

    ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই কেন

    কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে এমন বহু ভোটার রয়েছেন যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, অথচ ২০০২ সালের তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। এমনও ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এই ভোটারদের বয়স এখন যদি ৪৫ বছরও হয়, তা-ও ২০০২ সালে তাঁদের বয়স হওয়ার কথা অন্তত ২২ বছর। সে ক্ষেত্রে তাঁদের নাম কেন ওই সময়ের ভোটার তালিকায় ছিল না, তা খতিয়ে দেখতে চায় কমিশন। যদিও কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নামের বানান ভুল থাকলে সেগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যে সব ফর্মে উল্লেখ্যযোগ্য বদল দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকেই মূলত যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের এক বুথে কোনও এক ভোটারের বাবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল নিরঞ্জন। এখন তা বদলে হয়ে গিয়েছে নিরাপদ। এই ধরনের বদলগুলিকেই বেশি করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    লিঙ্গের তথ্যেও অমিল

    ১৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারের লিঙ্গের তথ্যেও অমিল ধরা পড়েছে এনুমারেশন ফর্মে। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন নিযুক্ত বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এরা এই তথ্য যাচাই করার জন্য পুনরায় সন্দেহের তালিকায় থাকা এই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাবেন। সূত্রের খবর, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরেও কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকলে ওই ভোটারদের কমিশনের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে রোল অবজারভারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সরব বিরোধীরা

    এই তথ্য সামনে আসার পরই স্বাভাবিকভাবে সরব বিরোধীরা। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “পুরোটাই আসলে ভেজাল। ভোটে জেতার জন্য বিভিন্ন সময়ে বামেরা, তারপর তৃণমূল সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন। আসল ভোটারদের ভোট দিতে দেননি। ১৫ বছরে যারা বাবা হয়েছে, তারাই আসলে ভূতুড়ে ভোটার হয়ে এইসব লোকদের জিতিয়ে এসেছে।” কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে ৯৯.৯৬ শতাংশ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, রাজ্যে অনুপস্থিত, মৃত, স্থানান্তরিত বা একাধিক স্থানে তালিকাভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষের বেশি। আপাতত এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তথ্য যাচাই শেষ হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখার জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সকল তথ্য খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বুধবার দিল্লি গেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে। শাহের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও (Election Commission) যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে।

    অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাত

    বুধবার দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। সংসদে অমিত শাহের অফিসে তাঁদের বৈঠক হয়। মিনিট ২৫ কথা হয়। তবে কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে শুভেন্দুর।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু

    সেইসঙ্গে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, কমিশনে একাধিক অভিযোগ জানান তিনি। দলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন বলে বিরোধী দলনেতা জানান। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২৬, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর বিএলও-দের কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে যেভাবে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম ডিজিটাইজড করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক গতিবিধি। অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর বাবার নাম, মায়ের নাম পাল্টে দিয়ে এটা করা হয়েছে। একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এটা দেখবেন।”

    কমিশনকে চিঠিতে শুভেন্দুর দাবি

    এসআইআর এর প্রথম দফার কাজকর্মে বাংলায় বুথ লেবেল অফিসারদের নানাভাবে তৃণমূল ম্যানেজ করেছে বলে বিজেপির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) এর দ্বিতীয় দফা প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিশনকে মঙ্গলবার চিঠি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে শুভেন্দু সতর্ক করেছেন, “এই পর্যায়ে কোনও আপস হলে চিরস্থায়ী ক্ষতি হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সততায়।” চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর দ্বিতীয় ধাপ পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, এই ধাপেই দাবি-আপত্তি, নথি জমা ও খতিয়ে দেখার কাজ হয়। সেই কাজেই নাকি ‘অতিমাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব’ খাটানো হচ্ছে বলে “নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক রিপোর্ট” পাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই অভিযোগগুলির কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এসআইআর-এর নিরপেক্ষতা।

    মাইক্রো অবজার্ভারের তত্ত্বাবধানে স্ক্রুটিনি

    শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর এর দ্বিতীয় ধাপকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে দু’টি ব্যবস্থা নিতে হবে। এক, পুরো প্রক্রিয়াই রাখতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারের কঠোর তত্ত্বাবধানে। এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হওয়া জরুরি। দুই, দাবি-আপত্তি শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ ১০০ শতাংশ সিসিটিভি–র আওতায় রাখতে হবে। এবং সেই সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে এসআইআর-এর শেষ দিন পর্যন্ত। তাঁর দাবি, এটা না হলে কারচুপি আটকানো অসম্ভব। চিঠিতে আরও লেখা আছে, ভোটার তালিকা দ্রুত ত্রুটি মুক্ত না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে “অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কঠোর নজরদারি” নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

LinkedIn
Share