Tag: SRFTI

  • SRFTI Incident: “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা! স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা অপরাধ”, এসআরএফটিআই নিয়ে নিন্দা সুকান্তর

    SRFTI Incident: “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা! স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা অপরাধ”, এসআরএফটিআই নিয়ে নিন্দা সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর ঘটনায় (SRFTI Incident) ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। একইসঙ্গে ঘটনায় ‘বহিরাগত’ হিসেবে পরোক্ষে বামপন্থী যোগের অভিযোগ তুললেন তিনি। সমাজ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত লেখেন, “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা আর নিকৃষ্ট মানসিকতার আজ আবারও প্রকাশ্যে এল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতাদর্শগত পার্থক্যের জেরে দেশমাতৃকার প্রতি অসম্মান কিংবা বিশ্ববরেণ্য মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা, লাথি মারা ও থুতু ফেলার মতো জঘন্য আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

    বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতি অবমাননা

    বামেদের কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর তোপ, “মুখে প্রগতিশীলতা, বাঙালিত্ব ও সংস্কৃতির দাবি করলেও এমন কদর্য ও জঘন্য আচরণ সেই দাবির সঙ্গে গভীর বৈপরীত্যই প্রকাশ করে। আজকের এই অসম্মান, লাথি শুধু একজন বিশ্ববরেণ্য সন্ন্যাসী ও মনীষীর প্রতি নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতিও এক চূড়ান্ত গভীর অবমাননা।” উল্লেখ্য রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে যায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সস্টিটিউট বা এসআরএফটিআই-এ৷ জানা গিয়েছে, এ দিন এসআরেএফটিআই ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি প্রেক্ষাগৃহে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠান চলছিল৷ অভিযোগ, তখনই সেই অনুষ্ঠানে বাধা দেন এসআরএফটিআই-এর একদল পড়ুয়া৷ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং তার পর রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়৷ দু পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছে৷

    কী ঘটেছিল? দাবি-পাল্টা দাবি

    এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত৷ অভিযোগ, সেই সময় এসএফআই সদস্যরা ওই অনুষ্ঠানস্থলে যায়। কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন করা হয় আয়োজকদের। তাদের দাবি, কোনও কথা না শুনে এসএফআইয়ের তরফে ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি এবং ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। প্রথমে আয়োজকদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁদের আরও দাবি, হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সংগঠনের এক সদস্যের দাবি, নিয়ম মেনেই টাকা দিয়ে তাঁরা অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়েছিলেন। অন্যদিকে পড়ুয়াদের দাবি, একে তো তাদের অন্ধকারে রেখে আরএসএসের শাখা সংগঠনকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়েছে।  সন্ধ্যার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

    বিনা প্ররোচনায় সভা ভণ্ডুলের চেষ্টা

    ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। সকাল ১০টা নাগাদ সংঘের সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত বা এবিজিপি (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত)’ এসআরএফটিআই-এর একটি প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া করে কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতিপত্র নিয়েই সভা করছিল। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি সংগঠন সভা করবে কেন, তা নিয়ে আপত্তি তোলেন পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। স্লোগানও দেওয়া হয়। এবিজিপি-র দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা সভা করছিল। কিন্তু পড়ুয়াদের একাংশ বিনা প্ররোচনায় তাদের সদস্যদের মারধর করে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় বলেন, “১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা সভা করছিলাম। আমাদের সংগঠন মূলত ক্রেতাসুরক্ষা, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে। কিন্তু আমাদের সভা বানচাল করার চেষ্টা করা হয়। ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। হাসপাতালে ইতিমধ্যেই চারজন ভর্তি হয়েছেন। এরা ছাত্র? সব পড়ুয়ারা নেশাগ্রস্ত ওইখানে।”

    মহাপুরুষদের ছবিতে কালি বরদাস্ত করা হবে না

    বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল। প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় বেঁচে ছিল। তারা একে একে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং পরম্পরা বিরোধী এইসব কার্যকলাপ মানুষ আর মানবে না। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের ছবিতে কালি লাগিয়ে দেওয়া হত। মূর্তি ভেঙে দেওয়া হত। সেইসব দিন চলে গেছে। তাদের কিছু উত্তরসূরি এখনও বেঁচে আছে। যারা করেছে সেটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। এটা বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে রবিবারের চরম গণ্ডগোলের পর সোমবার সকালেও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূল গেটের সামনে বাইরে থেকে কেউ ঢুকলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মোট ৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে পঞ্চসায়র থানায়। ক্যাম্পাসের ভিতরে গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আবার অনুমতি নিয়ে সভা করার পরেও হামলা কেন সেই প্রশ্ন তুলে ছাত্রদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

     

     

     

     

LinkedIn
Share