Tag: Sri Aurobindo

Sri Aurobindo

  • Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসংখ্য আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বের অবদানে সমৃদ্ধ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সেই সব মহাপুরুষদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনন্য। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। সশস্ত্র বিপ্লবী থেকে শুরু করে অহিংস জাতীয় আন্দোলনের কর্মী—সবার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে এই গান, যা ভারতবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছিল।

    বঙ্কিমচন্দ্রের দেশপ্রেম (Bankim Chandra Chattopadhyay)

    ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন (কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে অবশ্য ২৬ জুন উল্লেখ রয়েছে) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সমৃদ্ধ ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারের সদস্য। মা দুর্গাদেবী ছিলেন ভারতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধে গভীরভাবে আস্থাশীল। শৈশব থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের মনে রোপিত হয় দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক চেতনার বীজ। প্রথমে হুগলি কলেজ এবং পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষালাভ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় তিনি স্নাতক স্তরের ছাত্র ছিলেন। ব্রিটিশদের নির্মম দমননীতি এবং গণহত্যার খবর তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। বিদ্রোহের কারণ ও ব্যর্থতার পেছনের বাস্তবতা তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। একই বছরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় স্নাতক হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দেন। পরে বঙ্গ সরকারের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৬৯ সালে আইনশাস্ত্রে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে সমাজের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন।

    ‘বঙ্গদর্শন’

    ভারতের গৌরবময় অতীত এবং ঔপনিবেশিক শাসনের কাছে অনেক ভারতীয়ের আত্মসমর্পণের মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তাই সাহিত্যকে তিনি জাতীয় চেতনা জাগরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা ‘Rajmohan’s Wife’ ইংরেজিতে লেখা হলেও, সেখানে ঔপনিবেশিক সমাজের বাস্তব চিত্র উঠে আসে। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্নিহিত শক্তিকে তুলে ধরে পাঠকদের নতুনভাবে প্রাণিত করে। এরপর প্রকাশিত হয় ‘কপালকুণ্ডলা’। ১৮৭২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রভাবশালী মাসিক পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’, যা দ্রুতই জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়। ‘বঙ্গদর্শনে’ নিয়মিতভাবে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও ভারতের প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হত। এখানেই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘বিষবৃক্ষ’, যেখানে সমাজের দুর্বলতা ও সংকীর্ণতার প্রতীকী বিশ্লেষণ করা হয়। একইভাবে ‘কৃষ্ণকান্তের উইলে’ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গও ফুটে ওঠে।

    কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’

    ১৮৭৬ সালের ৭ নভেম্বর কাঁঠালপাড়ায় তিনি রচনা করেন কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দু’টি স্তবক সংস্কৃত ভাষায় এবং পরবর্তী অংশ বাংলা ভাষায় রচিত। শ্রীঅরবিন্দ এই গানের প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত ‘আনন্দমঠ’ শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং জাতীয়তাবাদ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রকাশের পর থেকেই ‘বন্দে মাতরম’ দেশজুড়ে জনসভা, আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।

    বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের প্রভাব

    বঙ্কিমচন্দ্রের শেষ উপন্যাস ‘সীতারামে’ (১৮৮৬) মধ্যযুগীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মৃণালিনী’, ‘ইন্দিরা’, ‘রাধারাণী’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ এবং ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’। ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ এবং কবিতাও লিখেছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধকে নতুনভাবে তুলে ধরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ‘কৃষ্ণচরিত্র’ গ্রন্থে তিনি আদর্শ সমাজ গঠনের নৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। ‘ধর্মশাস্ত্রে’ দেশপ্রেমকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। ‘লোক রহস্যে’  পরনির্ভরশীল রাজনীতির সমালোচনা করে আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানান। ‘আমার দুর্গোৎসবে’ বিধবা বিবাহ, নারীর স্বাধীনতা এবং অন্ধ পাশ্চাত্য অনুকরণের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, মাতৃভূমি কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং পূজার যোগ্য এক জীবন্ত জননী।

    হিন্দু সমাজের সমালোচনা

    হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—“হিন্দু সমাজ কুমারসম্ভব ছেড়ে সুইনবার্ন পড়ে, ভগবদ্গীতা ছেড়ে মিল পড়ে, আর ওড়িশার পাথরের ভাস্কর্য উপেক্ষা করে ইংরেজদের পোর্সেলিন পুতুলের প্রশংসা করে”—আজও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা ও বৌদ্ধিক স্বাধীনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল প্রয়াত হন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি জীবনের সমাপ্তি, যদিও তাঁর চিন্তা, সাহিত্য, আদর্শ এবং ‘বন্দে মাতরম’ আজও ভারতের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে রয়েছে।

     

  • Sri Aurobindo: শ্রী অরবিন্দ প্রকৃত অর্থেই ছিলেন এক বিপ্লবী ও দূরদর্শী চিন্তাবিদ

    Sri Aurobindo: শ্রী অরবিন্দ প্রকৃত অর্থেই ছিলেন এক বিপ্লবী ও দূরদর্শী চিন্তাবিদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রী অরবিন্দ ঘোষ (Sri Aurobindo) কেবল কবি, দার্শনিক এবং যোগীর গুণাবলীই ধারণ করেননি, বরং তিনি প্রকৃত অর্থেই ছিলেন এক বিপ্লবী ও দূরদর্শী চিন্তাবিদ। তিনি ছিলেন ভারতের (Bharat) পূর্ণ স্বরাজ দাবি করা প্রথম দিকের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অন্যতম। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিপ্লবী সংগ্রামের নেতৃত্বও দেন। যদিও তিনি ইংরেজি বিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেছিলেন, তবুও সেই শিক্ষাকে মানবকল্যাণে এবং ভারতের জনগণকে বোঝাতে ব্যবহার করেন যে, ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হল বিপ্লব। তবে তাঁর বিপ্লবের ধারণা ছিল ‘দিব্যত্ব’ ও মাতৃভূমির ঐক্যের ধারণার ওপর ভিত্তি করে।

    ‘সমন্বিত যোগে’র পথপ্রদর্শক (Sri Aurobindo)

    আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন ‘সমন্বিত যোগে’র পথপ্রদর্শক এবং এই নীতির এক সমসাময়িক ব্যাখ্যাতা, যা মানব চেতনাকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নিরাকার আলোর সঙ্গে সাকার আলোর সংযুক্তি ঘটায়। অরবিন্দ যোগাভ্যাসকে অভ্যন্তরীণ জাগরণ ও সচেতন মনের বিকাশের সর্বোত্তম উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেন। মহান এই দেশপ্রেমিকের ভাবনা একই সঙ্গে অতীতের এক জীবন্ত দলিল ও সংরক্ষিত নথি, যা ভারতের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতিতে অনুপ্রেরণাদায়ক দিকনির্দেশনা দেয়। সর্বোপরি, তাঁর ভারত-ভাবনা ছিল সভ্যতাকে একতার রূপে দেখা, যা সংস্কৃতির দ্বারা পুষ্ট এবং গভীরতর চেতনার দ্বারা প্রণোদিত। তিনি ভারতের উপলব্ধি ও দেশের মানুষের ঐক্যের পথে একাধিক ধারণা দিয়েছেন। কারাবাস পর্বে যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাঁকে নির্মমভাবে শোষণ করেছিল, তখন তিনি যোগ, ভগবদ্গীতা পাঠ এবং মন ও আত্মার জাগরণকে দিব্যত্ব লাভের একমাত্র (Bharat) পথ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন (Sri Aurobindo)।

    ভারতীয় ঐক্যের কথা

    অরবিন্দ যখন ভারতীয় ঐক্যের কথা বলেছিলেন, তখন তিনি কখনওই জোরজবরদস্তি বা অভিন্নতার মাধ্যমে ঐক্য বোঝাননি, বরং বৈচিত্র্যের অন্তরে নিহিত আধ্যাত্মিক ঐক্যের প্রতি জাগরণের কথা বলেছেন। ভারতীয় প্রতিভা সবসময়ই অগণিত বৈচিত্র্যকে কঠোর অভিন্নতা বা যান্ত্রিক কেন্দ্রীকরণ ছাড়াই এক জীবন্ত সত্তায় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। দ্য আইডিয়াল অফ হিউম্যান ইউনিটি গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ভারত একটি জৈবিক ঐক্য, যা সহস্রাব্দ ধরে অভিন্ন আধ্যাত্মিক আদর্শ, দার্শনিক অনুসন্ধান এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির দ্বারা লালিত হয়েছে—ইতিহাসের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া কৃত্রিম কোনও কাঠামো নয় (Sri Aurobindo)। একজন জাতীয় নেতার কাজ এবং একটি জাতির ভূমিকা হল জাতির সমষ্টিগত চেতনাকে তার প্রকৃত সত্তার প্রতি জাগ্রত করা, কেবল প্রশাসনিক সংহতি প্রতিষ্ঠা করা নয়।

    অরবিন্দের দর্শন

    অরবিন্দের দর্শন স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে, ঐক্য কেবলমাত্র ভৌতিক বন্ধনে রক্ষা করা যায় না, বরং তা হতে হবে একটি গভীর ভিত্তির ওপর, যা অভিন্ন সাংস্কৃতিক চেতনায় স্থাপিত। এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক আমাদের সময়ে, যখন মতাদর্শগত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন জাতির ঐক্যের বুনোটকে হুমকির মুখে ফেলছে। অরবিন্দর মতে, একজন জাতীয় নেতার কাজ হল জনগণের অন্তর্লোককে জাগিয়ে তোলা। এই জাগরণ আসবে মানবতার মূল ভিত্তিকে পুনরায় গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে, যার মূল রয়েছে বিশ্বাসে এবং প্রতিকূল সময়েও ঐক্যবদ্ধভাবেই থাকবে (Bharat)। অরবিন্দর মতে, একটি জাতির সংস্কৃতি হল তার সাহিত্য, শিল্প, নীতি ও চিন্তায় গভীর আত্মপ্রকাশ। ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর প্রভাবশালী প্রবন্ধসমূহে তিনি যুক্তি দেন যে ভারতের আসল শক্তি তার সেই ক্ষমতায়, যেখানে সে নতুন প্রভাবকে গ্রহণ করতে পারে নিজের মৌলিক পরিচয় হারানো ছাড়াই। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েও ভারত টিকে থাকতে ও নিজেকে পুনর্জীবিত করতে পেরেছে এই গতিশীলতার কারণে, কঠোর নিয়মানুবর্তিতার কারণে নয় (Sri Aurobindo)।

    মনের কল্পনার ফসল

    তাঁর ভবানু মন্দির বইটি দিনের আলো দেখেছিল ১৯০৫ সালে। তাতে তিনি লিখেছিলেন, “একটি জাতি কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, নয় কেবল একটি বাক্যের অলঙ্কার, নয় মনের কল্পনার ফসল। এটি এক মহাশক্তি, যা গঠিত হয় সেই কোটি কোটি মানুষের শক্তি দিয়ে, যারা মিলে জাতিকে নির্মাণ করে।” তিনি বলেন, এই শক্তি টিকে থাকে সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের দ্বারা। যখন সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও সংরক্ষণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শীর্ষে, তখন অরবিন্দের কৌশল একটি ভারসাম্য রক্ষা করে। তাঁর বক্তব্য, সভ্যতার ঐতিহ্যকে মর্যাদা দাও, কিন্তু তাকে এমনভাবে বিকশিত ও পরিবর্তিত হতে দাও যাতে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা পূরণ করে, ফলে এটি একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে থাকে, জাদুঘরের নিদর্শন না হয়ে যায় (Sri Aurobindo)।

    যখন আমরা বলি সংস্কৃতি একটি জীবন্ত সত্তা, তখন তার মানে হল আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক নিয়ম, বিধি ও প্রথাগুলি পালন করি এবং এমন নতুন পথ খুঁজি যা সমগ্র সভ্যতার ঐক্যের পথে দিশা দেখাতে পারে। সভ্যতা একদিনে তৈরি হয় না। যখন আমরা হিন্দু সভ্যতার কথা বলি, তখন আমরা সেই সভ্যতার কথা বলি যা বেদ (Bharat) ও উপনিষদের আদর্শ ও নীতির উপর নির্মিত, নীতি শাস্ত্র এবং আমাদের পুরাণকথার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা এই সামষ্টিক চেতনার ভিত্তি (Sri Aurobindo)।

  • Sri Aurobindo: ‘বিপ্লবী’ থেকে ‘ঋষি’, অরবিন্দর জীবন কেমন ছিল জানেন?

    Sri Aurobindo: ‘বিপ্লবী’ থেকে ‘ঋষি’, অরবিন্দর জীবন কেমন ছিল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১৫ অগাস্ট দেশের স্বাধীনতার ৭৮ তম দিন। দেশ জুড়ে প্রবল উৎসাহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হচ্ছে। আর আজকের দিনেই ১৮৭২ সালে জন্ম নিয়েছিলেন বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধ্যাত্মিক গুরু (Revolutionary) শ্রীঅরবিন্দ (Sri Aurobindo)। তিনি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা চাননি, চেয়েছিলেন সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় এবং আর্থিক পরিসরে ভারত মাতার পুনর্জাগরন। দেশের ‘স্ব’কে নির্মাণ করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য। আলিপুর বোমা মামলায় তাঁকে ব্রিটিশ পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত করে জেলে বন্দি করেছিল। সরকারের নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তিনি শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামী বা বিপ্লবী ছিলেন না, একাধারে ‘বন্দেমাতরম্‌’ পত্রিকার সম্পাদক আবার লেখক, দার্শনিক ও সংগঠক ছিলেন। তাঁর কথা ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয়।

    পড়াশুনা ও বিপ্লবী কর্মজীবন (Sri Aurobindo)

    বিপ্লবী (Revolutionary) অরবিন্দ ঘোষের (Sri Aurobindo) বাবা চিকিৎসক কৃষ্ণধন ঘোষ ও মাতা স্বর্ণলতা দেবী। মাতামহ ছিলেন রাজনারায়ণ বসু। শৈশব বয়স থেকে অরবিন্দ দার্জিলিংয়ের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেছিলেন। এরপর ইংল্যান্ডে বাকি পড়াশুনা করেন। সেখানে থাকার সময়ে ইতালি, আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক ঘটনাবলি দ্বারা দারুণ প্রভাবিত হয়েছিলেন। ভারতে এসে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের আবেদন-নিবেদন নীতির চরম বিরোধী ছিলেন। তিনি তাঁর লেখা দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ভীষণ ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। দেশমাতৃকার মুক্তি ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি ভারতীয় ইতিহাস, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, বেদ, উপনিষদ দ্বারা প্রভাবিত হন এবং ভারত আত্মার মুক্তির কথা যুব সমাজের কাছে তুলে ধরেছিলেন। তবে বিশেষ করে গীতার ‘নিষ্কাম কর্ম’ এবং ‘আত্মত্যাগ’-এর কথা দ্বারা ভারত মায়ের মুক্তির কথাকে বেশি করে নিজের লেখায় উপস্থাপন করতেন। তাঁর লেখা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার যে চাপের মধ্যে থাকত, তা বলাই বাহুল্য। তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ দ্বারা ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত হন। অনুশীলন সমিতির মতো গুপ্ত সমিতির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর ভবানী মন্দিরে বঙ্গজননী ভারত মায়ের মুক্তির কথা প্রচার করে বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা যোগাতেন। ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ সরকারের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বঙ্গীয় জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গড়ে তোলেন। বরোদার ৭০০ টাকার বেতন ত্যাগ করে আজকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেছিলেন। স্বদেশী শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলে রাইটার্সের গোলদীঘির গোলামখানার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম করেছিলেন তিনি।

    আলিপুর বোমা মামলা

    অরবিন্দকে (Sri Aurobindo) ১৯০৮ সালে আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলা চলে ১ বছর। টানা এক বছরের জেল জীবন কাটান। জেলের বন্দি জীবন নিয়ে ‘কারা কাহিনী’ লেখেন। ব্রিটিশ সরকার কতটা নির্মম ছিল সেই কথা বলে গিয়েছেন তাঁর লেখায়। ভারতবাসীর মুক্তির জন্য জেলে বসেই নরের মধ্যে নারায়ণকে দর্শন করেন। বিপ্লবী বিপিন চন্দ্র পালকে স্মরণ করেছিলেন। ১৯০৯ সালে মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এরপর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মতাদর্শ-ভাবাদর্শকে আধ্যাত্মিক আন্দোলনে রূপান্তর করে নিজেকে পরিবর্তন করেন। ১৯১০ সালে পন্ডিচেরিতে চলে যান। এরপর ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতা নিয়ে কাজে মনোনিবেশ করেন। এভাবেই অরবিন্দ ‘ঋষি’ অরবিন্দে পরিণত হন। ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

    আরও পড়ুনঃ “যদি আমার একঘটি জলে তৃষ্ণা যায়, পুকুরে কত জল আছে, মাপবার কি দরকার?”

    তাঁর কিছু বাণী

    অরবিন্দের (Sri Aurobindo) কিছু বাণী সাধারণ মানুষের মনকে আজও প্রভাবিত এবং অনুপ্রাণিত করে।

    ১> “দেশকে ভালোবাসা যদি অপরাধ হয়, তবে আমি অপরাধী”

    ২> “কোনও দেশ বা জাতিই এখন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না।“

    ৩> “যেমন সারা সংসারের পরিবর্তন হচ্ছে, তেমনই ভারতকেও পরিবর্তিত হতে হবে।“ 

    ৪> “ভারত বৈষয়িক সমৃদ্ধিহীন। কিন্তু আধ্যাত্মিকতার উচ্ছ্বাস তার জীর্ণ দেহে বাস করে।“

    ৫> “পড়াশোনা কর, লেখ, এগিয়ে যাও, কাজ করো, একমাত্র মাতৃভূমির জন্য, মায়ের সেবার জন্য।”

    ৬> “ভারত যদি পাশ্চাত্য সভ্যতার ভালো দিকগুলি গ্রহণ করে এবং নিজের ক্ষমতা ধ্বংস হতে না দেয়, তাহলে এর সংমিশ্রণে এখানে যে সংস্কৃতি বেরিয়ে আসবে, তা সমগ্র বিশ্বের জন্য উপকারী হবে। সেই সংস্কৃতি হয়ে উঠবে বিশ্বের পরবর্তী সংস্কৃতি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mamata Banerjee Profile Pic: মমতার স্বাধীনতা প্রোফাইলে নেহরু বাদ, এলেন সর্দার প্যাটেল, অরবিন্দ

    Mamata Banerjee Profile Pic: মমতার স্বাধীনতা প্রোফাইলে নেহরু বাদ, এলেন সর্দার প্যাটেল, অরবিন্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার বদল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপলক্ষ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবিতে সাজানো সেই প্রোফাইল ছবি। নীচে ট্রাই কালার রিবন। ৭৫তম বার্ষিকী লেখা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতে কোথাও জওহরলাল নেহরু নেই!

    গান্ধী আছেন, অথচ নেহরু নেই। ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান অব ইন্ডিয়া’ দাদাভাই নৌরজি আছেন, কিন্তু স্বাধীনতা সময়ে কংগ্রেসের নেতা জওহরলাল নেহরু নেই। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নেই অথচ আছেন দেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী। আছেন, বাল গঙ্গাধর তিলক-বিপিনচন্দ্র পাল-লালা লাজপত রাই। আছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রাসবিহারী বসু, কিন্তু কোথাও জওহরলাল নেহরু নেই। কেন নেই? জানেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ব্যাপারটা এমন নয় যে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রোফাইল পিকচার বানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নেহরুর ছবি নেই। বরং গত ৭৫ বছর ধরে যে দুজনের মুখের সঙ্গে দেশবাসী সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁরা হলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এবং জওহরলাল নেহরু। তাহলে কি শিল্পীর কাছে নির্দেশ ছিল ওই নির্দিষ্ট একজনের ছবি দেওয়া যাবে না। নইলে তিনি সেই ছবি ব্যবহার করলেন না কেন? কারণ এমন অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছবি আছে, যাদের ছবি বিরল। তাহলে কি জওহরলালের ছবি না রাখার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? তাহলে কি সচেতন বর্জন নেহরুকে? রাজনীতির মানুষ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। পিছনেও নিশ্চিত থাকবে সেই রাজনীতির ভাবনাই। কি সেই রাজনীতি…?

    কি সেই রাজনৈতিক কারণ?  
    বিশ্লেষকরা বলছেন, “সচেতন ভাবেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের পিকচারে জওহরলাল নেহরুর ছবি রাখতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোই এর পিছনের কারণ হতে পারে।”

    কেন মনে হচ্ছে এমন কথা? কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর পিছনের যুক্তি কি? 
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বক্তব্য, “অন্যান্য ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যাবে পিছনের যুক্তি। আসলে কখনও কখনও ছবিও কথা বলে।”
    তাহলে চলুন দেখি কি কথা বলল নতুন ছবি। ছবির দিকে তাকিয়ে দেখুন। কারা আছেন ছবিতে?
     
    আছেন সরোজিনী নাইডু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদেদার। আছেন, বীণা দাস, যিনি জ্যাকসনকে গুলি করেছিলেন। আছেন কল্পনা দত্ত যিনি পরে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পিসি যোশীকে বিয়ে করে কল্পনা যোশী হয়েছিলেন। আছেন চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগত সিং, বটুকেশ্বর দত্ত যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়েই সাম্যবাদী ভাবধারায় পথ খুঁজছিলেন স্বাধীনতার। রাজনৈতিক ভাবে বামেদের শেষ করেই এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছেন মমতা। সেই সিপিএমের আইকনিক স্বাধীনতার শহিদদের হঠাৎ এত গুরুত্ব কেন?  

    তাহলে কি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বামেদের সমর্থনের জমিতে হাত বাড়াতে চাইছেন মমতা? নাকি সহিংস আন্দোলনের নেতাদের সামনে রেখেই চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনী সাম্পানে উঠতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। যেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে অস্বীকার করেই নিজেই নেতা হতে চান মমতা? সেই কারণে কি, কংগ্রেসের অতীত নেতাকে অস্বীকার করে, স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকাকেই ছোট করে দেখানোর চেষ্টা। কারণ লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের যে স্বপ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখছেন সেই তরী তীরে নিয়ে যেতে হলে দেশের সব রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা কংগ্রেসকে বড়দাদা হিসেবে মেনে চলতে হবে। কংগ্রেসকে নেতা মানতে আপত্তি একাধিকবার জানিয়েছেন মমতা। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেচারি জওহরলাল নেহরুও কি মমতার “কংগ্রেস রোষে”র শিকার হলেন? 

    আরও একটা যুক্তি তাহলে পাশাপাশি এসে যাচ্ছে। সেটা হল, জওহরলাল নেহরু নেই। কিন্তু স্পষ্ট ভাবে সেন্টার স্টেজে আছেন লৌহমানব বল্লভভাই প্যাটেল। নীচ থেকে দ্বিতীয় সারিতেই। যাতে প্রথমেই চোখ যায়। আর আছেন ঋষি অরবিন্দ ঘোষ, একেবারে উপরে দ্বিতীয় সারিতে। তাহলে নীচ থেকে দ্বিতীয় সারিতে বল্লভভাই প্যাটেল আর ওপর থেকে দ্বিতীয় সারিতে ঋষি অরবিন্দ! দুজনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে। কোণাকুনি ডাইগোন্যাল। কেন? বিখ্যাত অঙ্কনশিল্পী জানাচ্ছেন, “অঙ্কন শৈলীর দিক থেকেও অরবিন্দ ও বল্লভভাই প্যাটেলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানুষ দেখার সময়, ওপরের বাঁদিক থেকে নীচের ডানদিকে দৃষ্টি চালায়। আমি আপনি সবাই তাই করি। সুতরাং অবস্থানগত ভাবেও ঋষি অরবিন্দ ঘোষ ও বল্লভভাই প্যাটেলের ছবিকেও গুরুত্ব দেওয়া। চোখে পড়ার কারণেই। 

    প্রশ্ন হল বিজেপির আইকনিক দুই স্বাধীনতা যোদ্ধা বল্লভভাই প্যাটেল ও ঋষি অরবিন্দের ছবিকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনা কেন? বিজেপিকে তো রাজনৈতিক শত্রু মনে করেন মমতা। তাঁর কেন এলেন প্রোফাইলে?

    বিশ্লেষকরা বলছেন, “বল্লভভাই প্যাটেল ও ঋষি অরবিন্দের ছবির ব্যবহারও সচেতন ভাবেই করা হয়েছে। এটা বোঝাতে মমতা হিন্দু নেশনের রাজনৈতিক ধারণায় বিশ্বাসী। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে এখনও সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী মমতা নিজেই। তাঁর আপত্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহে। যাঁরা বারবার রাজ্য সরকারকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক নিয়োগ থেকে কয়লা-বালি-গরু পাচার অবৈধ খাদান নিয়ে দুর্নীতির কথা। স্মরণ করাচ্ছেন মেলা উৎসবের নামে সরকারি অর্থের নয়ছয় না করে সময়োপযোগী উন্নয়নের পথে হাঁটতে। ফলে, মমতা বোঝাতে চাইছেন, ‘বিজেপি ভাল। এখনকার নেতারা খারাপ।’ উদ্দেশ্য হিন্দু ভোটের অংশ যাতে হাতছাড়া না হয়। বল্লভভাই প্যাটেল ও ঋষি অরবিন্দর ছবির ব্যবহার যদি ‘ভাল বিজেপি’কে প্রথম মেসেজ হয়, তাহলে দ্বিতীয় মেসেজ, অবশ্যই; দেখুন নেহরুতে আপনাদের মতই আমারও আপত্তি।”

    মমতার প্রোফাইল ঘিরে এত প্রশ্ন কেন উঠল সেটা বলি। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রোফাইল পিকচার বদলেছিলেন। তখন যেটা ব্যবহার করেছিলেন, যেটা প্রশান্ত কিশোরের টিমই বানিয়ে দিয়েছিল। বর্তমান প্রোফাইল ছবিও যদিও পিকে-র টিমেরই বানানো। পুরানোতে এই নেতারা কেউই ছিলেন না। যেখানে ‘জয় হিন্দ, জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা ছিল। কারণ সামনে নির্বাচন বাংলায়। অতএব, পুরানো প্রোফাইলে, বাংলার বাইরের মাত্র তিন জন ছিলেন। মহাত্মা গান্ধী, ভগত সিং আর বি আর অম্বেডকর। তফশিলি জাতি উপজাতি আর পঞ্জাবি ভোট টানতেই মমতার প্রোফাইলের ছবির সজ্জা। সঙ্গে বাঙালি আবেগ, রবীন্দ্র-নজরুল-নেতাজি। আর স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকীর প্রোফাইলে বাংলা তো বটেই ভিনরাজ্যের একাধিক স্বাধীনতার লড়াইয়ের নেতার ছবি। তবে, বাদ গেছেন জওহরলাল নেহরু। বাদ গেছেন আরও এক জন। তিনি, বি আর অম্বেডকর।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দাবি, অম্বেডকরের ছবি বাদ যাওয়াটা ‘মিসটেক’ হতেই পারে। কিন্তু নেহরুকে ‘সচেতন বর্জন’ করে দুই মেসেজ দিলেন মমতা। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে। এক কংগ্রেসকে পাত্তা দিচ্ছি না। বিজেপিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

  • Sri Aurobindo: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও প্রাসঙ্গিক শ্রী অরবিন্দর জীবনদর্শন!  আজ তাঁর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী

    Sri Aurobindo: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও প্রাসঙ্গিক শ্রী অরবিন্দর জীবনদর্শন! আজ তাঁর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর হয়ে আলিপুর বোমা মামলা লড়ার সময়ে সওয়াল-জবাবের সূত্রে আদালতে দাঁড়িয়ে শ্রী অরবিন্দকে ‘জাতীয়তাবাদের দ্রষ্টা এবং দেশপ্রেমের কবি’ (prophet of nationalism and poet of patriotism) বলে চিহ্নিত করেছিলেন! সত্যই শ্রী অরবিন্দ ভারতীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বলতম নাম। আজ থেকে ১৫০ বছর আগে ১৮৭২ সালের ১৫ অগাস্ট কলকাতায় তাঁর জন্ম হয়। মা স্বর্ণলতাদেবী রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। বাবা কৃষ্ণধন ঘোষ তৎকালীন বাংলার রংপুর জেলার জেলা সার্জন। বাবা সন্তানদের ভারতীয় প্রভাবমুক্ত এক সম্পূর্ণ ইংরেজি ধরনে শিক্ষাদানের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই মতো ১৮৭৭ সালে দুই অগ্রজ মনমোহন এবং বিনয়ভূষণ-সহ অরবিন্দকে দার্জিলিংয়ের লোরেটো কনভেন্টে পাঠান। পরে ইংল্যান্ড। কিন্তু কৈশোর-উত্তীর্ণ অরবিন্দের মনে তখন ভারতমাতার আহ্বান। ১৮৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি, ভারতে ফিরে বারোদায় স্টেস সার্ভিসে যোগ দিলেন অরবিন্দ। এখানেই তিনি ভারত-সংস্কৃতির উপর গভীর অধ্যয়ন শুরু করেন। শেখেন সংস্কৃত, হিন্দি, বাংলা। বরোদাতেই তাঁর সাহিত্য-প্রতিভারও উন্মেষ। বারোদা থেকেই তাঁর প্রথম কাব্য সঙ্কলন প্রকাশিত হয়।

    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হলে বরোদার চাকরি ছেড়ে তিনি বাংলায় আসেন। তৎকালীন ভারতে সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদী মতবাদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ভারতীয় যুব সমাজকে নিজের লেখা, বক্তব্যের মাধ্যমে বিপ্লবী মতাদর্শে দীক্ষিত করার কাজ  শুরু করেন অরবিন্দ। দেশমাতৃকার মুক্তিই তখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। অরবিন্দ জাতীয়তাবাদকে ধর্মের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।  দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ততদিনে বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গীতার নিষ্কাম কর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।  ১৯০৮-এ আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। ১৯০৯ সালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান অরবিন্দ। কিন্তু জেলে থাকার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক ভাবাদর্শে আধ্যাত্মিকার সংস্পর্শ ঘটে। নিভৃত কারাবাসেই তিনি নারায়ণের দর্শন পান। তাঁর জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়। আধ্যাত্মিকতার টানেই তিনি ১৯১০-এ রাজনীতি ত্যাগ করে পুদুচেরি চলে যান। বিপ্লবী অরবিন্দ পরিণত হন ‘ঋষি অরবিন্দে’।

    আরও পড়ুন: ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী, চিনে নিন ‘ভারতীয় বিজ্ঞানের মহাত্মা গান্ধী’কে

    পুদুচেরিতেই আশ্রম স্থাপন করে যোগসাধনার মাধ্যমে জীবনদর্শন পরিবর্তনের পথ বেছে নেন তিনি। পুদুচেরিতে এক নতুন শিক্ষাপদ্ধতির সূচনা করেন ঋষি অরবিন্দ। সমাজদর্শন নিয়ে তাঁর অভিমত স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও খুব প্রাসঙ্গিক। শ্রী অরবিন্দ তাঁর সময়ের প্রচলিত শিক্ষার বিরুদ্ধা-চরণ করেন। তিনি  শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে, সমাজের চাহিদা মিটিয়ে  আধ্যাত্মিকতার পথে নিয়ে যাওার কথা বলেন। তাঁর মতে শিক্ষার প্রথম উদ্দেশ্য একটি শিশুর সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটান। শ্রী অরবিন্দ বলেন যে নৈতিক এবং মানসিক বিকাশ ছাড়া মানসিক উন্নয়ন মানব অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকারক হবে। তাঁর লেখা থেকে আমরা তাঁর জীবন দর্শন ও শিক্ষা সম্পর্কে জানতে পারি। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল: Essays on the Gita, The Foundations of Indian Culture, The Life Divine (১৯৩৯), Savitri (১৯৫০), Mother India, The Significance of Indian Art, Lights on Yoga, A System of National Education, The Renaissance in India!

    দেশ স্বাধীন হওয়ার তিন বছর পর, তাঁর বয়স তখন প্রায় আটাত্তর। ১৯৫০ এর ৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে হঠাৎ করে চলে গেলেন যোগী অরবিন্দ। পাঁঁচ দিন পর তার দেহ সমাধিস্থ করা হয় পুদুচেরিতে তাঁর আশ্রমের এক গাছতলায়। যে গাছের ফুল আজও ঝরে পড়ে তার সমাধির ওপর। আর এক পুরাতন বটগাছ যেভাবে তার শাখা-প্রশাখা দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই অরবিন্দের লেখনি, তাঁর আদর্শ , তাঁর চিন্তাধারা ভারতের আগামী প্রজন্মের ধারক ও বাহক হয়ে ওঠে। 

LinkedIn
Share