মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার নামে এক আদিবাসী ব্যক্তিকে নির্বীজকরণের অভিযোগ উঠল নদিয়ার শান্তিপুর (Santipur) ফুলিয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ? (Santipur)
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার শান্তিপুর (Santipur) থানার চাঁদরা রায়পাড়া এলাকার মাধব রায় নামে এক ব্যক্তিকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার নাম করে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেকে নিয়ে যায় ওই এলাকারই দুই আশাকর্মী। সেখানে গিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করে এন এস ভি অপারেশন অর্থাৎ নির্বীজকরণের অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই হয় এই অপারেশন। এরপরই ওই দুই আশাকর্মী ওই ব্যক্তিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নাম করে রাস্তার মাঝখানে ছেড়ে দেন। পরিবারের লোকজন দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। দেখা যায়, গোপনাঙ্গ দিয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এই ঘটনার পরে পরিবারের তরফ থেকে শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় ওই আশাকর্মী এবং ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে। প্রশাসন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পূজা মৈত্রকে অপসারণ করতে এলাকায় পোস্টার দেওয়া হয়। এই একই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন খোকন দেবনাথ। বয়স ৬২ বছর। তিনিও শান্তিপুর থানায় মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিঃসন্তান তিনি আবার মানসিকভাবে ভারসাম্যহীনও। লোকের বাড়িতে কিংবা কোনও অনুষ্ঠান বাড়িতে টুকটাক কাজ করে দু’মুঠো অন্নের সংস্থান করেন। তাঁর চল্লিশ বছরের বিবাহিত জীবনে কোনও সন্তান হয়নি। এই ব্যক্তিকেও নির্বীজকরণ করা হয়েছে অভিযোগ পরিবারের। তাঁর দিদি শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গ্রামবাসীদের কী বক্তব্য?
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, পরিবারকে অবগত না করে এইভাবে অপারেশন করা হয়েছে। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে লক্ষ্যপূরণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই, এসব করছে। অবিলম্বে এই ঘটনায় যারা দোষী তাদের গ্রেফতার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনা না ঘটে সেই কারণে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পূজা মৈত্রকে অপসারণ করতে হবে। না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কী বললেন?
শান্তিপুর (Santipur) ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক পূজা মৈত্র বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং তাঁর সম্মতি নিয়েই অপারেশন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কাগজপত্রে ওই ব্যক্তির সই রয়েছে। যাঁরা অপসারণের কথা বলছেন তাঁরা রাজনৈতিক চক্রান্ত করছেন।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কী বক্তব্য?
এবিষয়ে আবার নদিয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, আমাদের এখানে তো ভ্যাসেকটমির কেস খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তার সঙ্গে আমরা টিউবেকটমি করছি। যাতে আমাদের পারফরম্যান্সটা ভালো থাকে। গ্রামীণ হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল হাসপাতালে একটি ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন, এই লক্ষ্যপূরণ করতে গিয়েই কি এভাবে ধরে ধরে ‘নির্বীজকরণের প্রক্রিয়া’ শুরু হয়েছে। স্পষ্ট করে স্বাস্থ্য আধিকারিক তা বলেননি।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।