Tag: STF West Bengal

  • Howrah Terror Module: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগ! হামিম-আদিত্যদের মতো আরও অনেকেই চিহ্নিত, দাবি নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

    Howrah Terror Module: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগ! হামিম-আদিত্যদের মতো আরও অনেকেই চিহ্নিত, দাবি নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগের (Howrah Terror Module) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আরও নতুন তথ্য। জঙ্গি সন্দেহে রবিবারই ধৃত হামিম মণ্ডলের সহযোগী আদিত্য সিংকে হাওড়া থেকে গ্রেফতার (Aditya Singh Arrest) করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। এবার তদন্তকারীদের রাডারে উত্তর হাওড়ায় বিদেশি যোগাযোগ থাকা আরও একাধিক সন্দেহভাজন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে এই বিষয়ে পুলিশকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai)। তিনিও না কি জঙ্গি-নিশানায় ছিলেন বলেই অভিযোগ।

    তদন্তে নতুন দিক (Howrah Terror Module)

    গত বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) গ্রেফতার করে তদন্তকারীরা। পরে ধরা পড়ে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দু’জনেই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের (Pakistan Link) সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁদের জেরার ভিত্তিতেই রবিবার রাতে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে আদিত্য সিংকে গ্রেফতার (Aditya Singh Arrest) করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। সূত্রের খবর, বর্ধমানে যাওয়ার আগে হামিম দীর্ঘদিন হাওড়ার পিলখানায় থাকত। সেই এলাকারই বাসিন্দা আদিত্য। তদন্তকারীদের অনুমান, উমেশ রাই ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং গতিবিধির খবর হামিমের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল আদিত্যই। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অপহরণের ছক তৈরি হয়েছিল বলে সন্দেহ।

    ‘আমিই ছিলাম টার্গেট’

    পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai) বলেন, “অনেক কড়া পদক্ষেপ করেছিলাম। তাতে অনেকেরই অসুবিধা হয়েছিল। সেই কারণেই হয়তো আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। তবে আমি ভয় পাইনি। আমার কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে ফোনও এসেছিল। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে পড়ার পরই পুলিশকে সব জানানো হয়।”

    ‘হাওড়ায় আরও অনেক আদিত্য রয়েছে’

    উমেশ রাইয়ের (Umesh Rai) আরও অভিযোগ, উত্তর হাওড়ায় আদিত্যের মতো আরও অনেক ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন, যাঁদের বিদেশি যোগাযোগ রয়েছে। তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা গেলে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তাঁদের গতিবিধির উপরও নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।

    কলেজ পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা! 

    আদিত্য সিংকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উমেশ রাই (Umesh Rai)। একজন কলেজ ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা রয়েছে? যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। মন্ত্রী বলেন, “এরা টাকার বিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তা বিক্রি করে দিচ্ছে। এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। তাই সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    হামিম, অর্পিতা ও আদিত্যকে ঘিরে তদন্তে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশি যোগাযোগ, অর্থের লেনদেন, সম্ভাব্য অপহরণচক্র এবং বেআইনি অস্ত্রের যোগ- সব দিকেই সমান্তরালভাবে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • JeM Terrorist Arrest: বর্ধমানে গ্রেফতার জইশ জঙ্গি, মিলল মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য! শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? তদন্তে এসটিএফ

    JeM Terrorist Arrest: বর্ধমানে গ্রেফতার জইশ জঙ্গি, মিলল মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্টের তথ্য! শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ছক? তদন্তে এসটিএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী যোগের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরের এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে, যিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি তদন্তকারীদের। ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিআইপি মুভমেন্ট সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল তথ্য ছিল। এই তথ্য উদ্ধারের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও হামলার ছক কষা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে।

    বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে এসটিএফের অভিযান

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং বর্ধমান পুলিশ। সেখান থেকেই হামিদ মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে আত্মগোপন করে ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি কিছু সময় কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটেও অবস্থান করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।ধৃতের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে তাঁর যোগাযোগের পরিধি এবং সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার

    তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, হামিদ মণ্ডলের কাছ থেকে এমন কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন কর্মসূচি, যাতায়াতের রুট, ভিআইপি মুভমেন্ট, নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য এবং চলাচলের বিভিন্ন খুঁটিনাটি উল্লেখ রয়েছে।

    সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল—

    • ● মুখ্যমন্ত্রী কোন গাড়িতে যাতায়াত করেন
    • ● কখন গাড়িতে ওঠেন
    • ● কোন রুট ব্যবহার করেন
    • ● কোথায় পার্কিং করা হয়
    • ● গাড়ির চালক সংক্রান্ত তথ্য
    • ● ভিআইপি মুভমেন্টের সময়সূচি
    • ● লোকেশন ট্র্যাকিং এবং ফলো করার নির্দেশ সংক্রান্ত নথি
    • ● মোবাইল চার্ট-সহ একাধিক ডিজিটাল তথ্য

    এই সংবেদনশীল নথি উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, শুধুই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও হামলার পরিকল্পনা ছিল।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহ

    এসটিএফ সূত্রে দাবি, হামিদ মণ্ডলের যোগাযোগ ছিল কাশ্মীরের কুখ্যাত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি তথা পুলওয়ামা আক্রমণের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাটের গোষ্ঠীর সঙ্গে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি শুধু সংগঠনের সমর্থক নন, বরং ওই গোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগী হিসেবেও কাজ করতেন বলে সন্দেহ রয়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিদের ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং রাজ্যে তাঁর সম্ভাব্য সহযোগীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি

    ধৃত হামিদ মণ্ডলকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ হেফাজতে এনে কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্ত সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের আশা, জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক, স্থানীয় যোগাযোগ এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

    বিজেপি বিধায়কের প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক এবং প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যে সরকার বদলের পর পুলিশের মাইন্ডসেট বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। তাদের কাজ আরও ভালো হয়েছে। এই জঙ্গিরা ওভার দ্য গ্রাউন্ড সমর্থন পেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে যেমন তাদের সাপোর্ট ভাঙা হয়েছে, আমাদের এখানেও তাই করতে হবে।”

    তদন্তে এখনও একাধিক প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার কোনও নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের কথা নিশ্চিত করেনি। তবে ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সংবেদনশীল নথি, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য এবং জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগের অভিযোগ গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। হামিদ মণ্ডলের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের পরই এই ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নবগঠিত বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই “ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট” নীতির কথা তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব স্তরেও শুরু হতে চলেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” তৈরির নির্দেশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

    জেলায় জেলায় তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের সীমান্ত পার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বিএসএফ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার বা জেল থেকে মুক্তি পাওয়া যেসব বিদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, তাঁদেরও সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর করল নতুন সরকার

    ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ, আটক এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যের তরফে জেলাগুলিতে যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, তা মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতেই তৈরি।

    কারা সিএএ-র আওতায়, কারা ডিপোর্টের মুখে

    সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না—বিশেষত বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা—তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করে ডিপোর্ট করা হবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

    কেমন হবে এই হোল্ডিং সেন্টার

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলার কৃষক মান্ডি, সরকারি স্কুল বা সরকারি পরিকাঠামোকেই আপাতত হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আলাদা করে বড়সড় ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে ওই সেন্টারগুলিতে রাখা ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে চলাফেরা করতে পারবেন না। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    কীভাবে শনাক্ত করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের

    কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ধরা পড়া বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি এবং অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য। এই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে (FIP)। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অবৈধ বিদেশি শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

    কেউ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে কী হবে

    যদি কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁর তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা বা রাজ্যের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।

    অবৈধ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা

    যাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারেন।
    এছাড়া তাঁদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে এবং ইউআইডিএআই (আধার কর্তৃপক্ষ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আধার, ভোটার কার্ড বা অন্য সরকারি পরিচয়পত্র ও সুবিধা বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

    খরচ বহন করবে কে

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য প্রাথমিক পরিবহণ ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে। পরে সেই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া যাবে। অন্যদিকে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

    রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিজেপি প্রশাসনিক কঠোরতা হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে এই হোল্ডিং সেন্টার ও ডিপোর্টেশন নীতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

LinkedIn
Share